অনন্ত যাত্রা

” তুমি কি স্বীকার করছো খুনগুলো তুমি করেছো ” ?

কোন কথা না বলে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ে রহমত মিয়া ।

” সালাম, আলি , পাশা, কানাই , বাবুলকে তুমি নিজ হাতে হত্যা করেছো” ?

“হ”

“তোমার কিছু বলার আছে ” ?



১৯ শে মার্চ , ২০০৯দুপুর ১২.৩০

” তুমি কি স্বীকার করছো খুনগুলো তুমি করেছো ” ?

কোন কথা না বলে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ে রহমত মিয়া ।

” সালাম, আলি , পাশা, কানাই , বাবুলকে তুমি নিজ হাতে হত্যা করেছো” ?

“হ”

“তোমার কিছু বলার আছে ” ?

” না ”

“এতগুলো মানুষ তুমি কেন খুন করেছো ?

“খায়েশ হয়েছে জনাব ”

“খায়েশ হয়েছে”?

“হ , খায়েশ হয়েছে । মানুষ হত্যা করা বড়ই আনন্দ ”

রহমত মিয়ার কথা শুনে ধীরে ধীরে মাথা নাড়েন জজ সাহেব ।

“ইওর হনার , রহমত মিয়া নামের এই হায়না একই গ্রামের পাঁচ পাঁচজন নিরীহ, নিরপরাধ ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এদের প্রত্যেকের দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ।”রহমত মিয়া দাঁড়িয়ে উকিলের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসে ।সালামকে খুন করে টুকরো করার সময় গ্রামের আক্কাস আলি তাকে দেখে ফেলে এবং পরে গ্রামবাসীর সাহায্যে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে । পরে পুলিশের জেরায় সে অন্যান্য খুনের কথাও স্বীকার করে । ”

এসময় প্রচণ্ড জোরে হেসে উঠে রহমত মিয়া । তার হাসির শব্দ নিস্তব্দ কক্ষে বিস্ফোরণের মত শোনায়

৯ই ফেব্রুয়ারি , ২০১০
রাত ১ টা ।

“রহমত মিয়া,চলো , সময় হয়ে গেছে ”

জেলার সাহেবের গলার আওয়াজ শুনা গেল ।

“তুমি তো জানো তোমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে “?

“জি জনাব ”

“চলো”

সামনে জেলার সাহেব , মাঝখানে রহমত মিয়া এবং পেছনে দুজন সেন্ট্রি এগিয়ে যেতে থাকে ।

ওইতো দেখা যাচ্ছে ফাঁসির মঞ্চ !!!!!

রহমত মিয়া ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে ।

নিচে জেলার সাহেব , ২ জন সেন্ট্রি , ম্যাজিস্ট্রেট এবং একজন ডাক্তার দাঁড়িয়ে আছেন । জল্লাদ রুস্তম কালো কাপড় হাতে রহমত মিয়ার পাশে এসে দাঁড়ায় ।

” রহমত মিয়া , তোমার কিছু বলার আছে বা কোন শেষ বাস্তব ইচ্ছা যা এই মুহূর্তে পূরণ করা সম্ভব “?
” জনাব আমি একটু জ্যোৎস্না ধরতে চাই ”

” কি ধরতে চাও ” ? জেলার হতভম্ব ।

” আইজ রাইত জ্যোৎস্না রাইত , একটু জ্যোৎস্না ধইরতে চাই ”

জেলার কিছু না বুঝে ম্যাজিস্ট্রেটের দিকে তাকায়।
” ঠিক আছে , ১ মিনিট।” ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বললেন ।

রহমত তার ২ হাত এক করে সামনে বাড়িয়ে দেয় । তার হাতে জ্যোৎস্নার আলো এসে পড়ে ।

” রাবেয়া মা , মাগো , লক্ষ্মী মা আমার ,এই দেখ মা তোর বাবা তোর কাছে ফিরা আইতাসে । তুই বইসা বইসা মিটমিট কইরা হাসতাসস তাইনা ? হাস মা হাস , আজ যে আমাদের হাসির দিন । যে পশুগুলা তোরে এই সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে দিলো না , যে পিশাচগুলা তোর এই পবিত্র শরীর নষ্ট করসে তাদের তোর বাপ এই রহমত মিয়া নিজের হাতে টুকরা টুকরা করসে । মা আমি আইতাসিরে মা।কতদিন তোরে দেখি না মা , কতদিন তোর মুখে বাজান ডাক শুনি না । মা …মাগো । …………”

“একমিনিট শেষ রহমত মিয়া ” . ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের গলা শুনতে পেল রহমত মিয়া ।

“আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জনাব”

জেলার সাহেব রুস্তমের দিকে ফিরে আস্তে করে মাথা নাড়েন ।

অনন্ত যাত্রার জন্য তৈরি হয় খুনি রহমত মিয়া ।

৩ thoughts on “অনন্ত যাত্রা

  1. চমত্‍কার গল্প।কিন্তু গল্পের
    চমত্‍কার গল্প।কিন্তু গল্পের মত আমাদের তো আর আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবেনা।তাই ঐ পশুদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে যারা প্রতিনিয়ত নারীকে ভোগ্য মনে করে অত্যাচার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *