শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩৬০০ না, চাই ৮০০০ টাকা।

সম্প্রতি গার্মেন্টস শ্রমিকের নুন্যতম মুজরি ৩০০০ থেকে বাড়িয়ে ৩৬০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই দাম বারানোর ফলে হয়তো মালিকপক্ষরা অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হবে! কারন মালিকরা প্রতিযোগীতার বাজারে টিকে থাকতে পারেব না! অন্য খাতে টাকা বেসি খরচ হলে সমস্যা নাই কাঁচামাল কিনতে টাকা বেসি গেলেও সমস্যা নাই। যত সমস্যা শ্রমিকের বেতন বাড়াতে বলা হলে।

সম্প্রতি গার্মেন্টস শ্রমিকের নুন্যতম মুজরি ৩০০০ থেকে বাড়িয়ে ৩৬০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই দাম বারানোর ফলে হয়তো মালিকপক্ষরা অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হবে! কারন মালিকরা প্রতিযোগীতার বাজারে টিকে থাকতে পারেব না! অন্য খাতে টাকা বেসি খরচ হলে সমস্যা নাই কাঁচামাল কিনতে টাকা বেসি গেলেও সমস্যা নাই। যত সমস্যা শ্রমিকের বেতন বাড়াতে বলা হলে।
শ্রম শক্তির মূল্য নির্ধারণের সাধারণ একটা মাপকাঠি থাকে, আর অন্যান্য পণ্যের মতই শ্রমশক্তির দাম শ্রমশক্তির উৎপাদন ব্যায়ের উপর নির্ভরকরে। কিভাবে? মজুরকে মজুর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে খরচ পড়ে তাই হলো শ্রমশক্তির উৎপাদনের ব্যায়। কাজেই মজুরের শ্রমের দাম তার জীবনধারণের জন্য সকল প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম দিয়ে নির্ধারিত। এখানে আরেকটা বিষয় যুক্ত সেটা হল, কারখানার মালিক যখন তার পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে, তখন খরচের হিসেবের মধ্যে সে কিন্তু শ্রমের হাতিয়ারের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও ধরে। ধরা যাক, একটা যন্ত্রের দাম ১ লক্ষ টাকা আর যন্ত্রটি দশ বছর ধরে মোট ১ লক্ষ পণ্য উৎপাদন করার পর অচল হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মালিক প্রতিটি পণ্যের দামের সাথে বাড়তি ১ টাকা জুড়ে দেবে যেন ১০ বছরে ১ লক্ষ পণ্য বিক্রির পর জীর্ণ মেশিনটির বদলে আরেকটি নতুন যন্ত্র সে কিনতে পারে।
এখানে সর্বহারার মহান নেতা মার্কস বলছেন: ”ঠিক এই ভাবেই সাধারণ শ্রমশক্তির উৎপাদন-ব্যায় হিসেব করার সময় তার সঙ্গে ধরতে হবে বংশবৃদ্ধির খরচ, যাতে করে মজুরের জাত বেড়ে চলে, জীর্ণ মজুরের জায়গা নতুন মজুর নিতে পারে। এই ভাবে যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতির মতো মজুরের ক্ষয়ক্ষতিও হিসেবে ধরা হয়। সুতরাং সাধারণ শ্রমশক্তির উৎপাদন ব্যায় হলো মজুরের জীবন ধারণ ও বংশরক্ষার খরচের সমান। এই জীবনধারণ ও বংশরক্ষার খরচার দাম হলো মজুরি। এইভাবে নিরূপিত মজুরিকে ন্যূনতম মজুরি বলা হয়।”(কার্ল মার্কস, মজুরী-শ্রম ও পুজি, ১৮৪৯)
গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের ন্যূনতম মজুরী ৮ হাজার টাকা কয়েক বছর ধরে দাবী জানিয়ে আসছিলো, হিসাব করলে বুঝা যায় ৮ হাজার টাকাও প্রয়োজনের তুলনায় কম করেই ধরা হয়েছে।
টালবাহানা কেবল শ্রমিকের কাছ থেকে কেনা শ্রম-শক্তির দাম পরিশোধ করার বেলায়! লোকসান, ছাটাই কিংবা লে-অফের ভয় দেখিয়ে মালিক শ্রমিককে বাধ্য করে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে তার শ্রম-শক্তি বিক্রি করতে। নিয়মিত তেল-মবিল না দিলে ঝকঝকে মেশিনটিও যেমন কর্মক্ষমতা হারিয়ে ধীরে ধীরে জীর্ণ হয়ে যায়, নিয়মিত উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে শ্রম শক্তি বিক্রি করতে করতে শ্রমিকেরাও তেমনি হয়ে পড়ে জীণ, শীর্ণ। এরই মাঝে সময় সময় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শ্রমিকরা যখন জেগে উঠে, যখন তীব্র শ্রেণী-ঘৃণায় সবকিছু তছনছ করে দিতে চায়, তখন মালিক পক্ষ বলতে থাকে, এই দেখ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, তৃতীয়পক্ষের লেলিয়ে দেয়া মাস্তানরা কারখানা তছনছ করছে। তারা বিষ্ময় প্রকাশ করে, যে কারখানার মাধ্যমে শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে, সে কারখানা কি কখনো সে তছনছ করতে পারে! এটা নিশ্চয়ই বহিরাগতদের কাজ। এভাবে তাদের উপর পুলিশ দিয়ে নির্যাতন চালায়। আর শ্রমিকরা আসহায় হয়ে এসব সহ্য করতে হয়।
এই গার্মেন্টস শ্রমিকের অর্থের উপর দারিয়ে আছে দেশ,সমাজ,অর্থনীতি। আর তারাই আছে সবচেয়ে অবহেলায়। আন্দোলন করতে গেলে তো পুলিশের নির্যাতন আছেই।
শ্রমিকের জন্য অনেক কিছুই স্বাভাবিক ভাবে নিতে হয়,পুলিশের মার সমস্যা নাই তুমি শ্রমিক! আগুনে পুড়লে তো সমস্যা কি? তুমিতো শ্রমিক! যখন দেয়াল ধ্বসে পরে হাজার হাজার মারা যায় তখনও বলা হয় তুমি তো শ্রমিক। তুমি তো মানুষ না!!
শ্রমিকরা মানুষ হলে কি দেলোয়ার, রানারা কি এখনো জীবিত থাকতে পারে??

২ thoughts on “শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩৬০০ না, চাই ৮০০০ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *