অপারেশন জ্যাকপট…

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ এত উন্নত ছিল না যে সু-সজ্জিত সেনাবাহিনী থাকবে আর পাকিস্তানী আর্মির সাথে যুদ্ধ করবে।যা সহায় ছিল এই আমাদের বাংলাদেশের জনগণ ছাত্র,শিখক,বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ বৃদ্ধ পর্যন্তও আমাদের এই দেশকে বাচানির জন্য তারা নির্দ্বিধায় যুদ্ধে যোগদান করে।তাদের সাহায্য করে ই,পি,আর থেকে পালিয়া আসা বাঙালী অফিসাররা আর সৈনিক রা।ত আসল কথা হল একটি যুদ্ধে যেই দেশের উন্নত সেনাবাহিনী নেই তার ত উন্নত বিমানবাহিনী আর নৌবাহিনীর কথা চিন্তা করা চিন্তার বাইরে।আর এইসব বাহিনী ছাড়া ত যুদ্ধে জয় হয়া কল্পনার বাইরে।কিন্তু,বাংলাদেশ ঠিকি স্বাধীনতা অর্জন করসে বাংলাদেশের মানুষ ঠিকি যুদ্ধে জয় করসে পরাজিত করসে সু-সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারদের।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধার অনেক সাহসী কীর্তি আমরা জানি আর অনেকের জানিনা।তবে অপারেশন জ্যকপট এর কথা মনে হয় আমরা সবাই জানি।আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ঐ অপারেশন এ যেই দাবড়ানি দিছিল পাকিস্তানিদের তার কথা মনে করে এখনো আমাদের শরীরের রক্ত গরম হয়ে যায়।১৯৭১ এর ১৫ আগস্ট রাত ১২টার পর অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরে আরো কয়েকটি নদী বন্দরে একই সময়ে পরিচালিত হয়া এই অপারেশনে নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যায় পাকিস্তানী ২৬ টা জাহাজ এক নিমেষেই পুড়ে ছাই হয়।ভাইবে আরও ভালো লাগে এই ২৬ টা জাহাজে পাকিস্তানী মিত্র বন্ধু দেশগুলার জাহাজ ছিল বেসকয়েকটা।বিদেশি জাহাজ গুলর মধ্যে ধ্বংস হয় সোমালিয়ান,একটি মারকিন যুক্তরাষট্রের,২টি চায়নিজ,১টি জাপানি জাহাজ।৬টি বিদেশী জাহাজ ধ্বংস হয় এবং ৩০,০০০ হাজার টন গোলা-বারুদ ও যুদ্ধের সরঞ্জাম সহকারে ধীরে ধীরে পশুর নদীতে নিমজ্জিত হয় মংলা অপারেশন কমান্ডার আমিনুর রহমান,খসরু ও আরও ২ জন নৌ-কমান্ডো এ অপারেশনে মংলা বন্দর এর অতিরিক্ত বাধা পার হয়ে অসীম সাহসিকতার সাথে সোমালিয়ান ৭,০০০ হাজার টনের অস্ত্রসম্ভারবাহী জাহাজ এস,এস,লাইটং এ মাইন লাগান এবং এস,এস,লাইটং কে ধ্বংস করেন।ভাবতে অবাক লাগে তখন আমাদের কোন উন্নত নৌজান ছিল না,ছিল না কোন শত্রুর নৌজান সনাক্ত কারি শক্তিসালি রাডার বা তাড়াতাড়ি বার্তা প্রেরণ কারি উন্নত রেডিও।যা ছিল টা হল “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র”আর এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রর সাহায্যেই মুক্তিযোদ্ধারা এত বড় আর সুসংগঠিত অপারেশন চালায়।শুধু দুইটা বাংলা গানকে সংকেত ধরে তারা একযোগে হামলা চালায় “চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর”,”মংলা সমুদ্র বন্দর”,”চাঁদপুর নদী বন্দর” আর “নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর”এ।যেই দুটি গান সংকেত হিসেবে ব্যাবহার করা হয় সেই দুটি গান হল “আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শশুর বাড়ি”আর”আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান,বদলে চাইনি প্রতিদান”।

অপারেশন জ্যাকপটে পাকিস্তানী আর্মির ক্ষয়ক্ষতির পরিমানঃ-
১৫ আগস্টের ঐ অপারেশন গুলোতেই প্রায় ২৬টি জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং আরো অনেক নৌযান ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
আগস্ট মাসের এসব অপারেশন ছাড়াও আগস্ট-নভেম্বর মাসব্যাপী আরো অনেকগুলো নৌ-কমান্ডো অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এসব অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হলঃ
১)প্রায় সর্বমোট ৫০৮০০ টন জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিমজ্জিত।
২)৬৬০৪০ টন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত।
এবং, ৩)বেশ কিছু সংখ্যক পাকিস্তানি নৌযান বাংলাদেশী নৌ-কমান্ডোদের হস্তগত।

অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের আত্মত্যাগের ফলে সফল হয় এই অপারেশন জ্যাকপট যারা এই অপারেশনে শহীদ হনঃ-

শহীদ কমান্ডো আব্দুর রাকিব,ফুলছড়ি ঘাট অপারেশনে শহীদ হন।
শহীদ কমান্ডো হোসেইন ফরিদ,চট্টগ্রামে দ্বিতীয় অপারেশন চলাকালীন সময়ে পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন।তিনি অপারেশনের সময় পাকিস্তানী আর্মির হাতে আটক হন এবং পরবর্তীতে পাক সেনারা তাকে ম্যানহোলে দেহের নিম্নভাগ ঢুকিয়ে মেরুদন্ড না ভাঙ্গা পর্যন্ত শরীর বেকিয়ে,নির্মমভাবে হত্যা করে।
শহীদ কমান্ডো খবিরউজ্জামান,ফরিদপুরের দ্বিতীয় অপারেশনে শহীদ হন।
শহীদ কমান্ডো সিরাজুল ইসলাম,এম আজিজ,আফতাব উদ্দিন এবং রফিকুল ইসলাম অপারেশন চলাকালীন নিখোঁজ হন।

অপারেশ জ্যাকপট এ নিহত সব শহীদদের প্রতি রইল আমার হাজারো শ্রদ্ধা,স্যালুট তোমাদের এই আত্মত্যাগের যার ফলাফল আজকে আমাদের এই স্বাধীন ও সর্বভৌম বাংলাদেশ।তোমাদের এই আত্মত্যাগ যেন বিফল না যায়।আর তোমাদের এই আত্মত্যাগই যেন আমাদের আগামীর পথ চলার প্রেরনা হয়ে থাকে।

একাত্তরে নিহত সকল শহীদদের প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা…

১৮ thoughts on “অপারেশন জ্যাকপট…

  1. ধন্যবাদ, অপারেশন জ্যাকপট
    ধন্যবাদ, অপারেশন জ্যাকপট সম্পর্কে আগে শুনিনি। একাত্তরে নিহত সকল শহীদদের প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

  2. প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ এরকম
    প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ এরকম একটা কম জানা ব্যাপারে পোস্ট দেওয়ার জন্য ।
    একটা কৌতূহল ছিলো, অপারেশন জ্যাকপট নিয়ে লিখতে আপনি আগ্রহী হলেন কেন ?
    এ বিষয়ে আমার অনেক অনেক তথ্য দরকার । আপনি কোনভাবে সহযোগিতা করতে পারেন ?

  3. অনবদ্য সময়োউপযুগি
    অনবদ্য সময়োউপযুগি পোস্ট…
    অপারেশন জ্যাকপট… নিয়ে আরও জানতেঃ
    ক) উইকিপিডিয়া
    খ) ডিফেন্স ডট পিকে (পাকিস্তানি ডিফেন্সের ভাষ্য…)
    গ)Operation Jackpot (Liberation War of Bangladesh, 1) / এমাজন ডট কমে একটি বই পাওয়া যায়…

    সবশেষে বাঙলালিঙ্কের দিনবদল ব্রান্ডিং এর জন্য নির্মিত বিজ্ঞাপন
    এই বিজ্ঞাপনটির কপিরাইটার আমার বড় ভাই তাওহীদ মিল্টন

      1. রাহাত ভাই আমাকে আবার সাহেব
        রাহাত ভাই আমাকে আবার সাহেব বানালেন কেন?
        সাহেব বললে পর পর লাগে… আপনাকেও ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ:

  4. চমৎকার পোস্ট। আমাদের গৌরবের
    চমৎকার পোস্ট। আমাদের গৌরবের ইতিহাস।
    পড়তে পড়তে একটা কথাই মনে হলো, ১৫ আগস্টের এই ইতিহাসের লজ্জার শোধ নিতেই কি পরাজিত শক্তিকে ঐ দিনটিতেই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময় ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিলো? কে জানে…

  5. অপারেশন জ্যাকপট বইটার অনলাইন
    অপারেশন জ্যাকপট বইটার অনলাইন বা পিডিএফ সংস্করণ কথাও পাওয়া যাবে কিনা বলতে পারেন কেও?কারন বইতা আমার পরার বড় ইচ্ছা অনেক দিনের।কিন্তু,দেশের বাইরে কথাও খুজে পাই নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *