ভাই থামেনঃ ওরা সবাই গণশত্রু; কাউকেই চাইনা আমরা

ভ্রান্তি আর বিভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য কি?
ভ্রান্তি তৈরি হয় কিছুই না জানার কারণে,
আর সম্ভাব্য অনেকগুলো উত্তর সামনে রেখে তালগোল পাকিয়ে ফেলার নাম বিভ্রান্তি।
আর জেনে বুঝে ভুল করাকে স্যাবোট্যাজ বললেও খুব একটা দোষের কিছু নেই।
কিন্তু না জেনে যখন লোকে ‘অনেক বুঝি’ স্টাইলে আক্রমণাত্মক সমালোচনায় নামে তখন কি করা যায়?

তারাপদ রায়ের একটা লেখায় পড়েছিলাম বাড়ির গৃহপরিচারিকাকে যখন কোন কাপের চায়ে চিনি দিয়েছে আর কোন কাপে দেয়নি তা ভুলে গিয়েছে বলে প্রতি কাপে চুমুক দিতে দিতে আসতে দেখা যায় তখন নাকি ‘অখন্ড রবীন্দ্র রচনাবলী’ সেই পরিচারিকার মাথায় মারতে ইচ্ছা করে।


ভ্রান্তি আর বিভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য কি?
ভ্রান্তি তৈরি হয় কিছুই না জানার কারণে,
আর সম্ভাব্য অনেকগুলো উত্তর সামনে রেখে তালগোল পাকিয়ে ফেলার নাম বিভ্রান্তি।
আর জেনে বুঝে ভুল করাকে স্যাবোট্যাজ বললেও খুব একটা দোষের কিছু নেই।
কিন্তু না জেনে যখন লোকে ‘অনেক বুঝি’ স্টাইলে আক্রমণাত্মক সমালোচনায় নামে তখন কি করা যায়?

তারাপদ রায়ের একটা লেখায় পড়েছিলাম বাড়ির গৃহপরিচারিকাকে যখন কোন কাপের চায়ে চিনি দিয়েছে আর কোন কাপে দেয়নি তা ভুলে গিয়েছে বলে প্রতি কাপে চুমুক দিতে দিতে আসতে দেখা যায় তখন নাকি ‘অখন্ড রবীন্দ্র রচনাবলী’ সেই পরিচারিকার মাথায় মারতে ইচ্ছা করে।

তারাপদবাবু সাহিত্যিক মানুষ, তাঁর রবীন্দ্র রচনাবলীই লাগবে। আর আমি কম্যুনিস্ট হওয়ার নিরন্তর চেষ্টায় আছি, আমারতো তাহলে লাগবে মার্কস-এঙ্গেলস বা লেনিনের অখন্ড রচনাবলী। কিন্তু এখনো বাংলায় এক প্রচ্ছদের নিচে এরকম অখন্ড কিছু বের হয়নি, সুতরাং জবাব দিতে হয় দাঁত- মুখ খিঁচে।
এখানেও তাই করারই ইচ্ছে। দেখা যাক কতটা বা কি করতে পারি। আনিস রায়হান একবার এরকমই কিছুই না জানা সবজান্তার উপরে বিরক্ত হয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিল হরিদাস পালদের বামফোবিয়া ও হিডেন মিশন। আমার তখন মনে হয়েছিল, কি দরকার এইসব আবালদের গোণায় নিয়ে এরকম পোস্ট লেখার। কিন্তু, সাম্প্রতিক কালে এদের বাড়বাড়ন্তি দেখে মনে হচ্ছে, ফ্রিতে কিছু জ্ঞান বিতরণ না করলেই না।

একটা বিষয় আগেই ক্লিয়ার করি, অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসীদের উপর কোন ক্ষোভ নেই আমাদের। ক্ষোভ কট্টর মৌলবাদী সমর্থকদের ওপর। রাজনৈতিক মতবাদ অনেকগুলো থাকতেই পারে। এবং সেই মতবাদের জায়গা থেকে আমরা আলোচনা- সমালোচনা করতেই পারি। এবং রাজনৈতিক পরিবেশের বিকাশের ক্ষেত্রে সেটা অপরিহার্যও বটে। কিন্তু গোঁড়ামির জায়গা থেকে যখন আক্রমণগুলো আসে, তখনতো আর গান্ধীবাদ চলেনা; সেকারণেই তুমি আমারে বাঁশ দেখালে আমি যে লাঠি দেখাবনা, তার গ্যারান্টি দিতে পারিনা বাপু! আর যে ‘মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে’ বলে ঘ্যানঘ্যান করতে থাকে সে নিজে যখন মৌলবাদী আচরণ দেখায়, তার সামনেতো আরশিখানা ধরে বলতেই হয়, ‘ক্ষ্যামা দে বাপু, তুই থাম’।

এই রাজনৈতিক মৌলবাদীরা একটা জায়গায় সফল। এরা এখান থেকে-সেখান থেকে- কৈ কৈ থেকে কি কি রেফারেন্স টেনে দেখাল ‘বামেরা এই বামেরা সেই’। আর হেফাজতের ‘ধর্ম গেল, ইসলাম গেল’ আওয়াজের মত ‘চিলে কান নিছে’ শুনে বেশ কিছু লোকও সে লাইনে কথা বলতে থাকল। ভাল, খুবই ভাল! তা বামেরা কি করেছে? প্রথম উত্তর হল ‘এরা এদেশি কোন নেতারে মানেনা। সব বিদেশি নেতার চ্যালা’। ভাল কথা, সে বিদেশীরা কারা? মার্ক্স-এঙ্গেলস-লেনিন-মাও এটসেটরা এটসেটরা। ও! এইবারে বুইঝলাম কুকিল, তুমি তালি এন্টি-কমুনিস্ট গান গাইচ্চ! তো ভাইবন্ধুরা আসেন দিকি আগে বুঝে লই বাম কারা আর কম্যুনিস্ট কারা? তারপর দেশ-বিদেশ ঘোরা যাবেখন।

সাম্যবাদী, সমাজতন্ত্রী, আর বাম এই টার্মগুলোকে আমরা সবসময়েই এক করে ফেলি। একটা বাম দল সাম্যবাদী হতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু একটা সাম্যবাদী দল অবশ্যই বাম। লেফটিস্ট আর কম্যুনিস্ট যদি একার্থক না হয়, তাহলে লেফটিস্ট মানে কি? লেফটিস্ট মানে প্রগতিশীল। আর একটা প্রগতিশীল দল সাম্যবাদের কথা নাও বলতে পারে, কিন্তু প্রতিনিয়ত সামাজিক, রাজনৈতিক সংস্কারে তার ভূমিকা থাকবে। বামেরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলবে, কিন্তু, সাম্যবাদের কথা বলা বা তার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ নাও করতে পারে। সাধারণ গণ-অধিকার আন্দোলন, যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন, বা পরিবেশবাদী আন্দোলনগুলোকেও বাম আন্দোলনের কাতারে ফেলা যায়। বাম আর কম্যুনিস্টের তফাৎই যে জানেনা, তার এই সমালোচনা বা যাবতীয় রেফারেন্স আর একগাদা হাবিজাবি তারিখ বসানো যা তা কথার কোন দাম কি থাকা উচিৎ? হুঁহ! খুব জাইনা ফালাইছে ভায়েরা! এখন তাই যত্রতত্র চোয়া বালায়ে যাচ্ছে, আর মশা মাছির মত বংশ বিস্তার করেই যাচ্ছে। সিরাম প্রোডাক্টিভিটি এদের! দুলাভাই খালি বাম আর কম্যুনিজমের পার্থক্য বোঝেনাই। এবার বলেন দেখি, কম্যুনিজম মানে কি? -আমি জানিনা, যদি হাল্কার উপ্রে ঝাপসা জাইনাও থাকি কমুনা। আপ্নেরা গুগলে সার্চ দিয়া দ্যাখতে পারেন। আরো ভাল হয় যদি কিছু বই কিনে বা নেট থেকে ডাউনলোড দিয়ে পড়তে পারেন। একটু কষ্ট হবে হয়ত। এটলিস্ট না জেনে সমালোচনাটার পরিমাণ কমবে। সমালোচনাটা জেনে করতে গেলে তার গুণগত মানটাও বাড়ে।

এইবার আসি দেশি-বিদেশি নেতা মানা- না মানার প্রশ্নে। বঙ্কিমচন্দ্র মুসলমানদের এই দেশি দুরের কথা মানুষই মনে করতেন না। তাঁর মতে, এই দেশে (ভারতবর্ষে) জন্মে যারা বিদেশি ধর্ম পালন করে, এই দেশ মোটেও তাদের না। এমনকি হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময়েও তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কি বিদগ্ধ পাঠককূল! মিল পাচ্ছেন? এরা ঠেকাবে মৌলবাদ! বাবুরে বাবু! কিয়া কয় হ্যাতে? হাগল অই গেছেনি কোন?
বাম থেকে চীনা বাম। চীনা বাম থেকে চিঙ্কু বাম। ঊরে বাপ রে। কি বিবর্তন! চিঙ্কু বাম কারা? খোঁজ নিতে গিয়ে মনে হল যারা মাওবাদের সমর্থক তাদের মনে হয় চিঙ্কু বাম বলে। মাওবাদী কারা? মোটাদাগে বলতে গেলে যারা কৃষিপ্রধান সামন্ততান্ত্রিক বা আধা সামন্ততান্ত্রিক বা অনুন্নত ও অবিকশিত পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিকদের পাশাপাশি কৃষকদেরও সমাজ বিপ্লবের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে গণ্য করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুন্নত গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নির্ভর অভ্যুত্থান প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। তা, মাওবাদীদের সমস্যাটা কোথায়? মুক্তিযুদ্ধের সময় কম্যুনিজমের ধ্বজাধারী কতিপয় ব্যাক্তির বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এখন মাওবাদ মানেই চিঙ্কু বাম। তা কমরেড সিরাজ শিকদার ও তাঁর পার্টিতো মাওবাদী এবং মুক্তিযোদ্ধা দুইই। তাছাড়াও, প্রচুর মাওবাদী স্বাধীনতার জন্য লড়তে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে। আরে ধ্যাত! কি এক আজিব কথার জবাব দিতে আইলাম এখানে। কম্যুনিস্ট সে বাদীই হোক না কেন, মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করুক কি না করুক তার পরিচয় একটাই, সে চিঙ্কু বাম। কিন্তু, একটা কথা পরিষ্কার করে দেই, কম্যুনিজম মানেই চীন বা রাশিয়া না। কম্যুনিজম মানে যেখানেই নিপীড়ন, সেখানেই সংগ্রাম। কম্যুনিজম মানে দেং জিয়াও পিংএর উলটো রাস্তায় হাঁটাও না, বা গর্বাচেভের গ্লাস্তনস্ত-পেরেস্ত্রাইকার নামে স্যাবোটেজও না। কম্যুনিজম মানে মেহনতী সব হারা জনতার নেতৃত্বে চুড়ান্ত সাম্যের পথে হাঁটা। এইবার তাহলে একটা নীরিহ প্রশ্ন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুজিবনগর সরকারে অজ্ঞাতে শেখ মনির নেতৃত্বে ‘র’ এর পৃষ্ঠোপোষকতায় ‘মুজিব বাহিনী’ নামে যে বাহিনী তৈরি হয়েছিল, তাকে কি বলব? এরাতো মুজিবনগর সরকারকেও মানত না, রিপোর্ট করত ‘র’ এর জেনারেল উবান এর কাছে। ইনাদের তবে কি ‘ভাদু আম’ ট্যাগ দেব?

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কথা বলাদের ভন্ডামি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই, তাদের জাতীয়তাবাদের নাম ‘বাংলাদেশি’; কিন্তু প্রতিরাতে বাসরশয্যা পাকি দালাল জামাতিদের সাথে। এবং, তাদের মধুচন্দ্রিমার ফসল ‘ছাগবংশ’ নিয়েও সময় নষ্ট করার ইচ্ছা নাই। কিন্তু, উপায় নাই; পরবর্তী আলোচনার সাথে এদের সম্পর্ক আছে। ভালভাবেই আছে।

এদানিংকালে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোকানদারদের এক নতুন খেল শুরু হয়েছে। জিনিষটা ক্যামন, এক পরিচিত লোকের সাথে সেদিন কথা হচ্ছে; তার বক্তব্য ‘আমরা যা খুশি তাই করে বেড়াব, তবু আমাদের সমালোচনা করা যাবেনা’।
-কেন ভাই, তোমরা কি ফেরেশতা নাকি? নাকি প্রেরিত মানব পর্যায়ে ভাবা শুরু করে দিয়েছ নিজেদের, যে কিছু বললেই কবীরা গুনাহ হবে!
– আমরা না থাকলে গদিতে বসে ছাগবংশ ল্যাদাবে। তোমরা আমাদের নিয়ে কিছু বললে সব ভোট ওদের, তোমরা কি চাও ওরা আসুক গদিতে?
– না চাইনা।
– তাহলে আমরা যা মন চায় করব; তোমাদের মারব, ধরব, সন্ত্রাস করব; দেশ নিয়ে লোফালুফি খেলব; কিন্তু তোমরা কিছুই বলতে পারবেনা।
– লোফালুফি ওরাও খেলে, তবে তাদের সাথে তোমাদের পার্থক্য কি?
– ওরা ছাগবংশ।
– মারধোরতো ওরাও করতে আসে, তবে তাদের সাথে তোমাদের পার্থক্য কি?
– ওরা ছাগবংশ।
– সন্ত্রাসীতো ওরাও, তবে তাদের সাথে তোমাদের পার্থক্য কি?
– ম্যা… ম্যা… ম্যা… ম্যা…
– রামপালের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি ওরা করে, তোমরা পেশী খাটিয়ে বাস্তবায়ন কর, তবে তাদের সাথে তোমাদের পার্থক্য কি?
– ম্যা… ম্যা… ম্যা… ম্যা…
– টিকফার মত দেশ বিক্রীর চুক্তির কাজ শুরু করে ওরা, তোমরা কর বাস্তবায়ন, তবে তাদের সাথে তোমাদের পার্থক্য কি?
– ম্যা… ম্যা… ম্যা… ম্যা…

উপস্থিত ভদ্রমহোদয় এবং মহোদয়াগণ; আমাদের সবই মনে আছে। আমরা কোন কিছুই ভুলিনি। আমরা যেমন ভুলিনি শিশু নওশীনের হত্যার পর আলতাফীয় বচন, ‘আল্লার মাল আল্লায় নিয়ে গেছে’। তেমনি আমাদের মনে থাকবে, ‘সরকার কি বেডরুমে গিয়ে পাহারা দেবে নাকি?’ এ জাতীয় সুবচনও।
আমাদের বাঁশখালীর ঘটনাও মনে থাকবে, মনে থাকবে রামুর ঘটনাও। যদিও শেষোক্ত ঘটনাখানাকে সর্বদলীয় প্রয়াসই বলা চলে।

গোলাপী-নিজামী গং এর কাছে গ্রেনেড ছিল তাই ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। ছাত্রলীগের কাছে গ্রেনেড নেই, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতেই পারেন। কিন্তু, গ্রেনেড থাকলে যে তার ব্যবহার হত না, এটা বিশ্বাস করার কোন কারণ দেখিনা। যারা নিজেরা নিজেরা মারামারি করে নিজেদের কর্মীদের চার তলার ছাদ থেকে ফেলে দিতে পারে, তারা সবই পারে।

এই দুই দলের মধ্যে তফাৎ কি করে করি। এক দলের নেতা নরপশু সাকারা মানবতাবিরোধী অপরাধি, ও বাঁশখালির কসাই; আরেকদলের পীর সালমান এফ রহমান রওনা হয় ট্রাইব্যুনালে সাকার পক্ষে সাফাই স্বাক্ষী সেজে। পরে বোধহয় ল্যাঞ্জা প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে আর কষ্ট করে আদালত পর্যন্ত গেলেন না তিনি

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এদের সবার কমন বৈশিষ্ট্য। হেফাজতের উত্থানের পর থেকে সবাই মিলে কে কত বড় মুসলমান তাই প্রমাণ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। গণ-জাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চুলোয় যাক সমস্যা নেই, নিজেদের ধার্মিক প্রমাণই সবচেয়ে জরুরী হয়ে পড়ে। নচিকেতার একটা গানের কথা মনে পড়ে গেল, ‘ধর্মের হাত ধরে সাজে অমায়িক, তবু নাকি এরা নয় সাম্প্রদায়িক’। কিছু করার নেই, রাজনীতির ধারাই এই। একারণেই একজন যখন আস্তিক-নাস্তিকের সার্টফিকেট দেন, আরেকজন তখন আদর্শ মুসলিম মহিলার সার্টিফিকেট নেন তেঁতুল শফির কাছ থেকে। কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়…

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাতের মত দল টিকে থাকে কেন? -বড় দুই দলের জন্য। কেউ এদের সাথে নিয়ে আন্দোলন করে। কেউ এদের সাথে জোট করে। বিএনপি আর জামাত এখন এক কথা, কোন তফাৎ নাই। আবার, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে গোলাম আজমের পা ছুঁয়ে সালাম করার কথা সর্বজনবিদিত। সে সময়ে বিভিন্ন পত্রিকার হেডলাইনও হয়েছিল ঘটনাটা। যদিও এখন কোন লিংক খুঁজে পাচ্ছিনা, তবে লিংক খুঁজতে গিয়ে এটা আবিষ্কার করে বসলাম। এদের চুলাচুলি দেখাটাও একটা ব্যাপক বিনোদন। মাও-সে-তুং এর একটা কথা মনে পড়ে গেল, ‘পার্লামেন্ট …রের খোঁয়াড়’। কথাটা সেন্সর করলাম। আইসিটি অ্যাক্ট আছে না! কি দরকার রিস্ক নেয়ার?

রক্ষীবাহিনী থেকে র‍্যাব। এখনো চলছে রাষ্ট্রের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। রাষ্ট্রের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড আর মিডিয়ার তামাশা, সবইতো এদের হাত দিয়ে তৈরি; রাষ্ট্রের দমননীতি- নিপীড়ননীতি, কারা এর নিয়ামক?

কোন দল ক্ষমতায় থাকল কি না থাকল, তাতে এখন আর কি আসে যায়? সবইতো এক। এরা সবাই দেশবিরোধী, সবাই গণবিরোধী।

একবার এক ছোট ভাইর ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখেছিলাম, ‘যদি যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই তাহলে আমাকে বলা হয় আওয়ামী লীগ। যদি বিশ্বজিৎ, বা ফেলানী খুনের বিচার চাই; তাহলে বলা হয় বিএনপি বা জামাত। আর যখন আমি সব একসাথে চাই, তখন বলা হয়, আইছে হালায় বাম’!

তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে এই; যেখানেই আমরা যাই; দেশটাকে হয় ফুটন্ত কড়াইতে ফ্রাই করা হচ্ছে, অথবা থেকে তপ্ত উনুনে বার্বিকিউ করে পিকনিক পিকনিক খেলা হচ্ছে। উভয়েই বর্জনীয়। উভয়েই এক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। সুতরাং, এ না থাকলে ও আসবে, ও না হলে এ আসবে; এই ফালতু খেলায় সময় নষ্ট না করে চলুন যাই মানুষের কাছে। চলুন না সবাই, বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতে শিখি। মানুষের স্বপ্ন দেখতে শিখি। এই তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে বুঁর্জোয়া আমলা তন্ত্রকে অস্বীকার করি। আমাদের হাতে সময় খুব। মিডিয়ার হাত ধরে চলছে হলিউডি- বলিউডি কায়দায় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে ঘুমুতে যাবার আগ পর্যন্ত আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে বাজার অর্থনীতির মোড়কে বিশ্বায়নের নামে দখলদারদের ছদ্ম আগ্রাসন। এখনো সময় আছে, রুখে দাঁড়াই। নইলে এক সময় এসবকিছু গিলে খাবে আমাদেরকে, আমাদের ভবিষ্যৎকে।

৬ thoughts on “ভাই থামেনঃ ওরা সবাই গণশত্রু; কাউকেই চাইনা আমরা

  1. দেশটাকে হয় ফুটন্ত কড়াইতে

    দেশটাকে হয় ফুটন্ত কড়াইতে ফ্রাই করা হচ্ছে, অথবা থেকে তপ্ত উনুনে বার্বিকিউ করে পিকনিক পিকনিক খেলা হচ্ছে।

    ভালো বলেছেন।

  2. যে বিপ্লব পরোক্ষভাবে জামাতের
    যে বিপ্লব পরোক্ষভাবে জামাতের ভূতি যোগায় সে বিপ্লবের প্রয়োজন আপাতত বাংলাদেশে নাই।
    ট্রাই টু এনাদার কান্ট্রি প্লিজ…

  3. অনেক জ্ঞান দিলেন। লেখার ভাষাও
    অনেক জ্ঞান দিলেন। লেখার ভাষাও ঝগড়াটেদের মতো। এই ভাষা নিয়ে বিপ্লব করবেন? আমার তো আপনার কথা শুনতেই ইচ্ছা করছে না।
    ভাই, আন্দোলন করবেন মানুষের জন্য। মানুষের কাছে যেতে হলে তাদের মতো হতে হবে আগে।এসজিএস শাহিন ভাইয়ের মন্তব্যে , আপনার প্রতিমন্তব্য দেখে বুঝলাম, আমার মন্তব্যেও খুব ভালো রিঅ্যাকশন আসবে না। যাই হোক। দেশের ভালো হলেই সবার জন্য ভালো। সেটা যেভাবেই হোক।

    1. অনেক জ্ঞান দিলেন। লেখার ভাষাও

      অনেক জ্ঞান দিলেন। লেখার ভাষাও ঝগড়াটেদের মতো। এই ভাষা নিয়ে বিপ্লব করবেন? আমার তো আপনার কথা শুনতেই ইচ্ছা করছে না।

      – আমি কি বলিনি,

      অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসীদের উপর কোন ক্ষোভ নেই আমাদের। ক্ষোভ কট্টর মৌলবাদী সমর্থকদের ওপর। রাজনৈতিক মতবাদ অনেকগুলো থাকতেই পারে। এবং সেই মতবাদের জায়গা থেকে আমরা আলোচনা- সমালোচনা করতেই পারি।

      ?

      নারে ভাই, কারো সাথে পায়ে পা বাধিয়ে ঝামেলা করার ইচ্ছা নাই। প্রপাগান্ডা আর উগ্র সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পোস্ট ছিল এটা। সারা পোস্ট জুড়ে আমি কি বললাম, আর শাহিন ভাই এসে কি বললেন,

      যে বিপ্লব পরোক্ষভাবে জামাতের ভূতি যোগায় সে বিপ্লবের প্রয়োজন আপাতত বাংলাদেশে নাই।

      আরে ভাই, বিপ্লব করতে গেলে যেখানে জামাতের অস্তিত্বই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তারে ভূতি কি করে যোগানো হয়? নাকি আমাদের কাছে বিপ্লব মানে, সব জামাতের হাতে তুলে দিয়ে কেটে পড়া? কোনটা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *