ফেলানী, ভারতীয় পণ্য বর্জন, কিন্তু কেন?

ফেলানী হত্যার প্রহসনমূলক রায়ের পর আমাদের ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণায় অনেক সুশীলের মাঝেই তীব্র চুলকানি দেখা গেছে। ভারতীয় পণ্য বর্জনের সাথে রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-সুনীল এর সাহিত্য বর্জনের কথা বলে ত্যানা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে যারা রীতিমতো মমি তৈরি করে ফেলেছেন, তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করি। আর যারা ফেলানী হত্যার সাথে ভারতীয় পণ্য বর্জনের সংযোগ খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছেন, তাদের জন্যেও তাদের হয়ে আমি সংযোটা খুঁজে দিচ্ছি।


ফেলানী হত্যার প্রহসনমূলক রায়ের পর আমাদের ভারতীয় পণ্য বর্জনের ঘোষণায় অনেক সুশীলের মাঝেই তীব্র চুলকানি দেখা গেছে। ভারতীয় পণ্য বর্জনের সাথে রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-সুনীল এর সাহিত্য বর্জনের কথা বলে ত্যানা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে যারা রীতিমতো মমি তৈরি করে ফেলেছেন, তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করি। আর যারা ফেলানী হত্যার সাথে ভারতীয় পণ্য বর্জনের সংযোগ খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছেন, তাদের জন্যেও তাদের হয়ে আমি সংযোটা খুঁজে দিচ্ছি।

সাহিত্য একটি সার্বজনীন বিষয়। একে কখনই দেশ-কাল-সীমানার গণ্ডি দিয়ে আটকে রাখা যায় না। যায় না বলেই, জোড়াসাঁকোর রবিঠাকুর লেখেন বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীত। চুরুলিয়ার দুখু মিয়া হন বাংলাদেশ এর জাতীয় কবি নজরুল। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আমরা খুঁজি বাংলার সৌন্দর্য। পশ্চিমবঙ্গের কিংবা বাংলাদেশ এর নয়। আমরা যেমন আমাদের সবচেয়ে বড় অহংকারকে খুঁজি হুমায়ুন আহমেদের “জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প” এ ঠিক তেমনি আমাদের শেকড়কে খুঁজি সুনীলের “পূর্ব-পশ্চিম” এ। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের সাহিত্য গড়ে উঠেছে এদের নিয়েই। এরা আমাদের সাহিত্যের ও অংশ। কখনই তার ওপর আঘাত নন।

কিন্তু ভারতীয় পণ্য অবশ্যই আমাদের অস্তিত্বের ওপর আঘাত। আমাদের অর্থনীতি আর সংস্কৃতির ওপর আঘাত করছে, তাদের চলচ্চিত্র, গান, সিরিয়াল, মোবাইল, কিংবা মোটর সাইকেল। এই সবকিছু দিয়ে ভারত আমাদের দেশে রমরমা ব্যাবসা করছে। আর সেই টাকায় বুলেট কেনা হচ্ছে BSF এর জন্য। সেই বুলেট বিঁধছে ফেলানীদের বুকে। সম্প্রতি আমরা ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানী শুরু করেছি। আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা এমনিতেই করুণ। সাম্প্রতিক সময়ে যখন তা খানিকটা মাথা তুলে দাড়াতে শুরু করেছিল, তখন এই ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানী তার সমূলে কুঠারাঘাত করেছে। তাদের সিরিয়ালগুলোর কথা না হয় নাই বললাম। প্রতিদিন আধ ডজন সিরিয়াল না দেখলে আমাদের অনেকের পেটের ভাত হজম হয় না। কিন্তু, আমাদের নাটকের মান কী খারাপ? তা যে নয়, তার প্রমান ঈদের সময় আমাদের দেশীয় নাটকের প্রতি আগ্রহ। কিন্তু, বছরের বাকিটা সময়? তা কি দাড়াতে পারে ভারতীয় সিরিয়ালের সামনে? আর এর মধ্য দিয়ে আমরা পঙ্গু হচ্ছি সংস্কৃতির দিক দিয়ে। এবং পঙ্গু হচ্ছি অর্থনৈতিকভাবে।

আপনাদের কি মনে হয় BGB এর সদস্যদের দেশের প্রতি মমত্ববোধ নেই? যখন তারা কোন স্বজাতির লাশ দেখে তখন তাদের ইচ্ছে করে না, সবকিছু ছিঁড়েখুড়ে ফেলতে? ইচ্ছে করে। সেটা তারা দেখিয়েছিল ২০০১ এর ১৮ই এপ্রিল কুড়িগ্রাম এর রৌমারি সীমান্তে ১৮ জন ভারতীয় সৈন্যকে হত্যা করে। ভারতকে পিছু হঁটিয়ে। কিন্তু, সব সময়েই তা সম্ভব হয় না। তারপরই তাদের দাড়াতে হয় তীব্র বাস্তবতার মুখোমুখি। সেদিন যদি ভারত পাল্টা হামলা চালাত তাহলে আমাদের সামরিক বাহিনীর কি সামর্থ ছিল তা ঠেকানোর? ছিল না। নেই আজও। হয়তো নিজেদের ভাবমূর্তি আর আন্তর্জাতিক বিধি নিষেধের কারণে ভারত সেদিন হামলা করে নি বাংলাদেশে। কিন্তু, যদি করত তাহলে তা ঠেকাতে পারতাম না আমরা। কেন পারতাম না? দায়ী আপনার চেন্নাই এক্সপ্রেস, দায়ী রাশি, দায়ী ফেয়ার এন্ড লাভলি, দায়ী হিরো হোন্ডা। এর সবই আমাদের অর্থনীতি কে পঙ্গু করে রেখেছে। পঙ্গু করে রেখেছেন আপনি নিজে।

অনলাইনে যতই চিৎকার করি না কেন, আমাদের অর্থনীতি আর সামরিক বাহিনীকে সুসংহত করতে না পারলে এই “গণহত্যা” বন্ধ হবে না। ভারত-চীন কিংবা ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে এত রক্তপাত না হওয়ার কারণ তাদের উন্নত সামরিক বাহিনী। তারা ইটের জবাবে পাটকেল ছোড়ার সামর্থ্য রাখে। যেদিন আমরা চীন বা পাকিস্তানের মত সমানতালে ভারতের সাথে যুদ্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করব, সেদিন আমাদের আর কোন ফেলানীর হাহাকার শুনতে হবে না। তার জন্য সবার আগে সুসংহত করতে হবে আমাদের অর্থনীতিকে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ার পরও জাপান এত কম সময় এত দ্রুত কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াল এবং বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি(বর্তমানে তৃতীয়) হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করল তার কারণ জানতে চান? তাদের উন্নতির এক এবং একমাত্র কারণ হচ্ছে, নিজেদের জাতীয়তার প্রতি তাদের প্রবল অহংকার। প্রবল জাত্যভিমান তাদের রক্তে মিশে আছে।

এই প্রবল জাত্যভিমানের ভেলায় চড়েই বারবার শোষিত হয়েও পৃথিবীর প্রথম শ্রেণির কাতারে উঠে এসেছে চীন। জাপানের মতই তারা নিজেদের পণ্য ভিন্ন কিছু ব্যবহার করে না। নিজেদের ভাবে পৃথিবীতে অদ্বিতীয় এবং সেই বিশ্বাসকে তারা সত্যি করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আরেক পরাজিত শক্তি জার্মানির ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। হিটলার যতই নৃশংস হোক না কেন, এ কথা যে কেউ স্বীকার করবে তার দেশপ্রেমে কোন খাদ ছিল না। আর তাই বিশ্বযুদ্ধের পর এত বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিয়েও জার্মানি আজ বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি। ফরাসী বিপ্লবের পর মুখ থুবড়ে পড়া ফ্রান্সকে নেপোলিয়ন আবার সগৌরবে মাথা উঁচু করাতে পেরেছিলেন এই জাত্যভিমানের কল্যাণেই।

তারা যদি পারে তবে আমরা পারব না কেন? হ্যাঁ, আমরাও পারি। আমরাও পারি, আমাদের দেশটাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে। তাকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে। সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে। তাহলেই আমাদের আর শুনতে হবে না কোন ফেলানীর কান্না।

ভারতীয় পণ্য বর্জনই সেই স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রথম ধাপ।

৪৫ thoughts on “ফেলানী, ভারতীয় পণ্য বর্জন, কিন্তু কেন?

  1. ভাই
    প্রহসনের রায়ের জন্য

    ভাই
    প্রহসনের রায়ের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি বিচার না করার জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কি করা যায় বলেনতো?

    1. বিচার তো আমরা করতে পারব না।
      বিচার তো আমরা করতে পারব না। ওদেরকে দিয়েই করাতে হবে। তবে আমাদের সম্ভবত ICC তে যাবার সুযোগ আছে। বিস্তারিত লেখা খুঁজছি এ নিয়ে। এখনও পাই নি। যদি সুযোগ থেকে থাকে তাহলে না যাওয়া, পররাষ্ট্রনীতির ব্যার্থতা। এবং এর বিরুদ্ধেও জনমত গঠন করতে হবে।

    2. বিচার না করার জন্য বাংলাদেশের

      বিচার না করার জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কি করা যায় বলেনতো?

      পুরোপুরি ভিত্তিহীন প্রশ্ন।

      ক্লান্ত ভাইকে ধন্যবাদ গুছিয়ে পোস্ট লিখে বিষয়টি সবাইকে সহজ ভাষায় বুঝানোর জন্য। এই কয়দিন ব্লগে গুটিকয়েক সুশীলের সাথে ফাইট করতে করতে আমি নিজেও ক্লান্ত। এদেরকে আপনি যেটাই বলেন তারা ত্যানা প্যাঁচাবেই। ভারতীয় পণ্য বর্জনের কথা শুনলে এদের পিলে চমকে উঠে। অথচ ইতিহাসের অসহযোগ আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন নিয়ে ক্লাশ এইট নাইনে পড়ে পরীক্ষার খাতায় মুখস্ত বাক্য উদগিরণ করলেও কনসেপ্ট বুঝে না। আফসুস!!

      সুশীলদের কোনো কথাই ক্লিয়ার না। এরা সবসময় দুই ইঞ্চি বেশি বোঝার চেষ্টা করে। ভারতে আমাদের চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমতি নাই, অথচ গুটি কয়েক বিজ্ঞ মানুষ যখনি এইসব অখাদ্য সিরিয়ালের বিপক্ষে আমাদের অবস্থান দেখলো, তখন লুঙি কাছা মেরে মাঠে নেমে পড়ছে। এরা সবাই বড় বড় বুলি আওড়াতে পারে, কিন্তু সমাজের স্বঘোষিত এক্টিভিস্ট হয়ে দুইদিনে সমাজ পাল্টানোর স্বপ্ন দেখে। আবেগের কোনো মূল্য নাই। ভারত ভারত করে মুখে ফেনা তুলে ফেলে অথচ এইদিকে বাংলাদেশের ধোয়া তুলসী পাতা সবগুলো ভারতের নামে লাইসেন্স করে দিতাছে। এদেরকে দেখে আজকাল করুণা হয়।

      1. ভারতীয় পণ্য বর্জনের কথা শুনলে

        ভারতীয় পণ্য বর্জনের কথা শুনলে এদের পিলে চমকে উঠে। অথচ ইতিহাসের অসহযোগ আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন নিয়ে ক্লাশ এইট নাইনে পড়ে পরীক্ষার খাতায় মুখস্ত বাক্য উদগিরণ করলেও কনসেপ্ট বুঝে না। আফসুস!!

        :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

  2. মৌলিক দিক থেকে বিবেচনা করলে
    মৌলিক দিক থেকে বিবেচনা করলে আপনার বিশ্লেষনটি খুবই ভাল একটি বিশ্লেষন ।তবে….

    শত শত স্ট্যাটাস আর ব্লগের মূল বক্তব্য ছিলো, ‘এই রায়ের প্রতিবাদে স্টার প্লাস, জি বাংলা, স্টার জলসা বন্ধ করে দিতে হবে’, ‘আশিকী টু, চেন্নাই এক্সপ্রেস দেখে আপনার বিপ্লব করতে আইসেন না’ ব্লা, ব্লা ব্লা। একটা ব্যাপার খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, একজনও, স্রেফ একজনও লেখেনি ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস-স্টার ক্রিকেট বন্ধ করে দেন। ক্যাবল অপারেটরকে এই চ্যানেলগুলোও কাঁটতে বলেন। একটা মেয়েও লেখেনি এই কথাটা। নিদেনপক্ষে আমার চোখে পড়েনি। আপনার রাগ ঠিক কিসের উপর? মা-বোনের হাত থেকে রিমোট পাননা সেটার উপর না সীমান্ত হত্যার উপর? আমার ছোট মস্তিষ্কের উপর দিয়ে গেছে ব্যাপারটা।
    পরের প্রশ্ন, ধরে নিলাম ক্যাবল অপারেটরদের দিয়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করালেন। এই রায়ের ক্ষেত্রে আমাদের কী লাভ তাতে? ওয়েল, আমাদের লাভ না থাকুক, ওদের ক্ষতি হোক। তাহলে বলেন, ওদের কতটা ক্ষতি এতে? ওদের কয়েকটা চ্যানেলের টিআরপি রেটিং খানিকটা কমবে। কতটুকু কমবে? আর? ধরে নিলাম, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। ওদের কয়েকটা প্রদেশেই ১৬ কোটির উপরে জনসংখ্যা। কিচ্ছু হবে না, স্রেফ কিচ্ছু হবে না ওদের। উল্টো কয়েকদিন পরেই বাংলাদেশে স্পোর্টস চ্যানেল না থাকাতে আর অন্য কোনো দেশি চ্যানেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ত্ব বাই এনি চান্স কিনে না নিলে আপনি-আমিই স্টার ক্রিকেটের জন্যে চোখের পানি-নাকের পানি এক করে ফেলতে পারি।
    পরের যে ব্যাপারটা চোখে পড়লো, ভারতীয় পণ্য বর্জন। সম্ভবপর হলে নি:সন্দেহে সাধু উদ্যোগ। এখানে, কয়েকটা কিন্তু, তবে, যদিও আছে। বলি, বাজারে যান তো? এবারের ঈদের আগে পরে কোনো একটা সময়ে ভারত থেকে পেয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছিলো। তখন কী অবস্থা হয়েছিলো তা জানা আছে? একবার ভারত থেকে চিনি আমদানি বন্ধ হওয়াতে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত চিনি কিনতে হচ্ছিলো। এক বাসায় বেড়াতে গিয়ে স্যাকারিনের চা খেতে হয়েছিলো! সে স্মৃতি ভুলতে পারিনি এখনও। দু’-এক বছর আগে কোরবানী ঈদে একবার ভারতীয় গরু আসা কয়েকদিন আটকে ছিলো সে স্মৃতি মনে আছে?
    গত বছর বাংলাদেশে ভারত রপ্তানি করেছিল ৪ বিলিয়ন ডলার ।বিপরীতে বাংলাদেশ করেছে ৪০ মিলিয়ন ডলার ।প্রশ্ন হল, আমরা যদি তাদের পণ্য বর্জন করি আর তারাও বিরুধীতার খাতিরে তাদের দেশে আমাদের রপ্তানি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তখন ৪০ মিলিয়ন ডলার কোথা থেকে আসবে? মুদ্রাস্ফিতি কে সামাল দিবে? জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা কোথায় গিয়ে দাড়াবে?

    বাংলাদেশে ফেসবুক-ব্লগ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২% এরও নিচে। এই বিপ্লবের অর্থ কি আর বোঝানোর দরকার আছে?
    (প্রাসঙ্গিক বিধায় নিজে না লিখে অন্য একজনের ফেসবুক পোস্ট থেকে কপি করলাম)

    আমি ভারত প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে উপরের কথাগুলি শেয়ার করিনি ।আমি যুক্তির মাধ্যমে আমাদের অপ্রতুলতা বা দুর্বলতাগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করতেছি ।
    হ্যা, ফেলানী হত্যার প্রতিবাদ আমরা করবো ।এরজন্য সম্ভবপর ভারতীয় পণ্য(যেগুলি ভারত থেকে না আনলেও চলবে) বর্জনের উৎসাহ দানের পাশাপাশি জরুরী করণীয় হল আমাদের সরকারকে চাপ দেয়া ।কেননা বাংলাদেশ অনুরোধ বা চাপ না দিলে ভারত ফেলানী হত্যার বিচারে আপিল করবে না ।

    1. Necessity is the Mother of
      Necessity is the Mother of Invention.

      আমাদের এখন সময় হয়েছে নিজের পায়ে দাড়ানোর। হ্যাঁ, বেশি কিছু ক্ষেত্রে এখনও আমরা ভারতের ওপর খুব বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।

      আর ICC তে আমাদের সুযোগ নিয়ে ভাল কোন নিবন্ধের খোঁজ দিতে পারবেন?

    2. শাহীন ভাই, বাংলাদেশে নাটকের
      শাহীন ভাই, বাংলাদেশে নাটকের চ্যানেল আছে, কিন্তু খেলার চ্যানেল নাই। এইজন্য আমি অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, অখাদ্য চ্যানেল গুলো বন্ধ করে দেয়া হোক। কিন্তু, যতদিন আমরা দেশীয় খেলার চ্যানেল পাচ্ছিনা, ততদিন ভারতীয় খেলার চ্যানেলের প্রতি আমার আপত্তি নাই। আর মা বোনের কাছ থেকে রিমোট নেয়ার ব্যাপারটা হাস্যকর কুতর্ক। মা বোন খেলা চলাকালীন আমাদের হাতে রিমোট তুলে দেয়, খবর দেখতে দেয়, আমরাও তাদের সিরিয়াল দেখতে দিই। কিন্তু খবর বা খেলা দেখলে বিজাতীয় সংস্কৃতি আমাদের গ্রাস করেনা, অথচ হিন্দি সিরিয়ালের বিজাতীয় সংস্কৃতি আমাদের শিকড়ে পঁচন ধরাচ্ছে। অনেক শিশুরই এখন হিন্দি কথা দিয়ে বুলি শুরু হয়। সরকার বাধ্য হয়ে ডরেমন কার্টুন বন্ধ করে দিয়েছে শিশুদের অপসংস্কৃতির হাত থেকে বাঁচাতে। তাহলে ভারতীয় চ্যানেল নয় কেন? আপনি নিজেই জরিপ করে দেখেন, কয়জন মা বোন মাটির ময়না দেখছে আর কয়জন আশিকি ২ দেখছে? কয়জন সংশপ্তক নাটক দেখছে আর কয়জন হিন্দি সিরিয়ালের একটা এপিসোড না দেখতে পেলে রাতে ঘুম আসেনা?কয়জন আমাদের জাতীয় সঙ্গীত পুরো জানে আর কয়জন সারাক্ষণ গুন গুন করে তুম হি হো গাইতে থাকে? কে বলছে আমাদের শিল্পে বিনোদন নাই। আমি চ্যালেঞ্জ করতেছি, ভারতীয় সিরিয়ালে আরমান ভাই, বাকের ভাই এর মত এমন একটা চরিত্র খুঁজে পাবেননা। আশিকি ২ এর চেয়ে আমাদের মাটির ময়না, রানওয়ে, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার (ইত্যাদি) কোনো অংশে কম না। ভারতীয় সিরিয়ালের নাম না জানা অভিনেতার চাইতে আমাদের মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান, তিশা, এরা কোটি কোটি গুনে ভালো। আমাদের ফিল্ম ইডাস্ট্রিও এখন আগের চাইতে অনেক শক্তিশালি। অনন্ত জলিলকে নিয়ে যতই হাসাহাসি করিনা কেন, অনন্তই প্রথম আমাদের ঝকঝকে ফিল্ম উপহার দিয়েছে, যেটা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন বার্তা। ঐসব লুঙ্গি ড্যান্সের চেয়ে আমাদের শিরোনামহীন, এল আর বি কোনো অংশে কম না। জি বাংলা,স্টার জলসা, স্টার প্লাসের চাইতে আরো ভালো ভালো চ্যানেল আছে যারা ভারতীয় আগ্রাসনে ভালো নাটক তৈরীর ক্ষমতা থাকলেও ভয়ে বানায় না। আমাদেরও আছে মন মাতানো সব টেলিফিল্ম। কী নাই আমাদের?

      কোন শালা তাও বলে আমাদের কিছু নাই? কোন শালা তাও বলে শিল্প বিনোদনের জন্য ভারতের কাছে হাত পাতা ছাড়া উপায় নাই? কোন শালা তাও রক্তের বিনিময়ে কেনা জাতীয়তা বিসর্জন দিয়ে ভারতীয় চ্যানেলের হয়ে সাফাই গেয়ে পোস্ট ল্যাদায়? কোন শালা বলছে আমরা ফকির?? কোন শালা বলে হিন্দি বন্ধ করলে আমাদের মা বোন বাঁচতে পারবেনা?? আরে বাঙালি,ভালো কিংবা খারাপ নিজের জিনিসকে নিজে সম্মান দিতে শিখো। তারপর রাস্তায় রাস্তায় সম্মান ভিক্ষা করতে হবেনা। সম্মান নিজে এসে তোমাদের দরজায় কড়া নেড়ে বলবে,”দুইটা ভিক্ষা দেন।”

      1. আপনি অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা
        আপনি অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা করেছেন ।হিন্দি সিরিয়াল কিংবা আশিকি টাশিকি বাংলাদেশের কয়জন দেখে আর পেয়াজ চিনি কয়জন খায় তার একটা হিসাবে মনে মনে কষে নিন তবেই সব ফকফকা হয়ে যাবে ।

        মাটির ময়না অস্কার মনোনীত একটি ছবি ।আশিকি বা চেন্নাই(যদিও আমি দেখিনি) ভাব গাম্ভীর্যের দিক দিয়ে মাটির ময়নার ধারে কাছেও কোনদিন আসতে পারবে না ।আমি মনে করি মাটির ময়না বা ঐ রকম ছবিগুলোর সাথে হিন্দি ফালতু ছবির তুলনাই সাজে না, পার্থক্য কি খুজবো ।

        1. আপনার উপরোক্ত মন্তব্যের
          আপনার উপরোক্ত মন্তব্যের পোস্টমর্টেম করি:

          অপ্রাসঙ্গিক কোথায় বললাম??

          শত শত স্ট্যাটাস আর ব্লগের মূল বক্তব্য ছিলো, ‘এই রায়ের প্রতিবাদে স্টার প্লাস, জি বাংলা, স্টার জলসা বন্ধ করে দিতে হবে’, ‘আশিকী টু, চেন্নাই এক্সপ্রেস দেখে আপনার বিপ্লব করতে আইসেন না’ ব্লা, ব্লা ব্লা।

          আপনার এই কথার জবাবেই আমি ঐসব অবতারণা করেছি।

          আবার আপনি বলেছেন,

          আপনার রাগ ঠিক কিসের উপর? মা-বোনের হাত থেকে রিমোট পাননা সেটার উপর না সীমান্ত হত্যার উপর?

          এই কথার জবাবে আমার উপরোক্ত কথা অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছেনা। সবার ভাবখানা এমন যেন ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ হলে আমাদের শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

          ধরে নিলাম ক্যাবল অপারেটরদের দিয়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করালেন। এই রায়ের ক্ষেত্রে আমাদের কী লাভ তাতে?

          আফসোস! আপনি এখানে আমাদের লাভ দেখতে পাচ্ছেন না? আমাদের দেশীয় চ্যানেলগুলোর অগ্রগতি হবে, এইটা আমাদের লাভ নয়কি? ব্রান্ড ভ্যালু পেয়ে যাওয়া হিন্দি চ্যানেল গুলোর আগ্রাসন বন্ধ করতে হলে দরকার দেশীয় চ্যানেলের রিভার্স অ্যাডভান্টেজ। পেট্রোলিয়াম জেলীর ব্রান্ড নেইম হয়ে গেছে ‘মেরিল’। মেরিলের স্থলে ‘কেয়া’ অভিষিক্ত করতে হলে মেরিলের যোগান কমাতে হবে। এখানেও ঠিক সেইটা। ভারতে আমাদের চ্যানেল সম্প্রচার না হলে, আমরা কেন তাদেরটা করবো?

          ওদের কয়েকটা চ্যানেলের
          টিআরপি রেটিং খানিকটা কমবে। কতটুকু কমবে? আর? ধরে নিলাম, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। ওদের কয়েকটা প্রদেশেই ১৬ কোটির উপরে জনসংখ্যা। কিচ্ছু
          হবে না, স্রেফ কিচ্ছু হবে না ওদের।

          কিচ্ছুই যে হবেনা সেটা মানতে পারতেছিনা। আর ওদের ‘কিচ্ছু’ করাটা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হল স্বদেশের পণ্যের প্রতি সামান্যতম মূল্যায়ন।

          কয়েকদিন পরেই বাংলাদেশে স্পোর্টস চ্যানেল না থাকাতে আর অন্য কোনো দেশি চ্যানেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ত্ব বাই এনি চান্স কিনে না নিলে আপনি- আমিই স্টার ক্রিকেটের জন্যে চোখের পানি-নাকের পানি এক করে ফেলতে পারি।

          পুরোপুরি ফালতু যুক্তি। বরং আমাদের দাবী হওয়া উচিত নিজেদের দেশীয় খেলার চ্যানেল চাওয়া। টেন স্পোর্টস সবসময় বাংলাদেশ টিমের খেলা দেখায় না। স্টার ক্রিকেট তো সারাক্ষণ ভারত ক্রিকেট টিমের জয়ী হওয়া ম্যাচ হাইলাইট করে। সে হিসেবে আমাদের উচিত নিজেদের দেশিয় খেলার চ্যানেল দাবী। সরকারের পক্ষে সংসদ টিভি নামক আলাদা চ্যানেল নির্মাণ সম্ভব হলে, খেলার চ্যানেল নির্মান করতে পারবে না, এই কথা মানিনা। খেলার চ্যানেল চাই।

          এবারের ঈদের আগে পরে কোনো একটা সময়ে ভারত থেকে পেয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছিলো। তখন কী অবস্থা হয়েছিলো তা জানা আছে? একবার ভারত থেকে চিনি আমদানি বন্ধ হওয়াতে ব্রাজিল
          থেকে আমদানিকৃত চিনি কিনতে হচ্ছিলো।

          এইটা আমাদের ব্যর্থতা। বাংলাদেশের আবহাওয়া জলবায়ু আখ উৎপাদনের জন্য অনুকূল হলেও আমরা নিজেদের চাহদা মেটাতে পারছিনা। এর কারণ হল অবশ্যই আবাদী জমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত নগরায়ন। এই অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পাটশিল্পও ধ্বংসের পথে। উত্তর বঙ্গে এখনো পর্যাপ্ত আখ চাষ হয়। কিন্তু দুঃখ জনক কথা হল, সেই চিনি ভালোভাবে রিফাইনড করা হয়না। তবে, আমরা যতদিন চিনি শিল্পে নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে না পারি ততদিন ভারত থেকে চিনি আমদানি করা হোক। আমরা যে জিনিসে স্বয়ংস্মপূর্ণ না সেসব জিনিস আমদানি করা যেতে পারে। কিন্তু যেসব জিনিস আমাদের দেশেই ভালো মানে তৈরী হয় সেসব জিনিস আমদানি করে দেশীয় কোম্পানি ধ্বংসের মানে হয়না।

          গত বছর বাংলাদেশে ভারত রপ্তানি করেছিল ৪ বিলিয়ন ডলার ।বিপরীতে বাংলাদেশ করেছে ৪০ মিলিয়ন ডলার । প্রশ্ন হল, আমরা যদি তাদের পণ্য বর্জন করি আর তারাও বিরুধীতার খাতিরে তাদের দেশে আমাদের রপ্তানি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তখন ৪০ মিলিয়ন ডলার কোথা থেকে আসবে? মুদ্রাস্ফিতি কে সামাল দিবে? জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা কোথায় গিয়ে দাড়াবে?

          সাবাশ! আমরা নিজেদের দেশীয় কোম্পানি গুলোকে সুযোগ না দিয়ে একই পণ্য দেশে উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও ভারতকে ৪ বিলিয়ন ডলার আয়ের সুব্যবস্থা করে দিয়ে নিজেদের পায়েও কুড়োল মারছি? আমরা যদি ভারত থেকে কিছু পণ্য আমদানি বন্ধ করে দিয়ে দেশিয় পণ্যের যোগান বাড়াই তবে, রপ্তানির দরকার নেই। আমরা নিজেদের দেশে নিজেদের পণ্য বিক্রয় করেই ৪০ মিলিয়নের চেয়ে বেশি আয় করতে পারবো। এতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় হবে সেই সাথে আমাদের নিজস্ব ব্রান্ড তৈরী হবে। বিশ্ববাজারে আমরাও প্রতিযোগীতায় নামতে পারবো।

          বাংলাদেশে ফেসবুক-ব্লগ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২% এরও নিচে। এই বিপ্লবের অর্থ কি আর বোঝানোর দরকার আছে?

          অবশেষে এই কথা লিখার মাধ্যমে যে এই পোস্ট দিয়েছে তার মুখোশ উন্মোচিত হল। সে ধরে নিয়েছে ফেসবুক ব্লগে আমরা যারা ভারতীয় পণ্যের বিরুদ্ধে বলছি আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফায়দা আছে। সে হয়তো প্রতিবাদের ভাষা বুঝে না। সে ঐতিহাসিক স্বদেশী আন্দোলন মুখস্ত করে এসেছে কিন্তু বাস্তব প্রয়োগ জানেনা। সে দ্বিতীয় বারের মত প্রমান করে দিলো,“বাঙালি একাই একশো, কিন্তু একশো বাঙালি এক হতে পারেনা।”

      2. কোন শালা তাও বলে শিল্প

        কোন শালা তাও বলে শিল্প বিনোদনের জন্য ভারতের কাছে হাত পাতা ছাড়া উপায় নাই?

        আমি বলছি দুলামিয়া। আপনি নিজে সংবাদ আর টক শো বাদ দিয়ে বর্তমানে কয়টা চলমান নাটক অন্য অনুষ্ঠানের নাম জানেন? সততার সাথে জবাব দিবেন আশা করি?

        সমাজের বিভিন্ন স্তরের ও রুচির মানুষ আছে, আমরা টিভি মিডিয়ায় কি স্তর ও রুচি অনুসারে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারছি?

        দেশের মানুষের ঢালাও দোষ দিয়েন দেশাত্ববোধ যাতে তৈরি হয় সে দায়িত্বও রাষ্ট্র যন্ত্রের।
        হ্যাঁ, সাথে আছে আপনার, আমার মত পড়াশোনা জানা মানুষেরও।

        1. হিন্দী সিরিয়ালের আগ্রাসনে
          হিন্দী সিরিয়ালের আগ্রাসনে আমাদের দেশেও ওরকম টাইপ সিরিয়াল বানানো শুরু হয়ে গিয়েছে।। কিরন শেখর ভাই এটা কি আমাদের রুচির প্রমাণ???

          আর আমাদের মিডিয়ায় “রঙের মানুষ”, “ভবের হাট”-এর মতো সিরিয়ালও চলেছে।। যেই সিরিয়ালগুলো একদিন দেখতে না পেলে সত্যই আমার রাতে ঘুম হত না।। আমাদের মিডিয়ায়ও বিভিন্ন স্তর ও রুচি অনুসারে অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।। তা না হলে টিভি চ্যানেলগুলো সারাদিন শুধু খবর আর টকশোই দেখাত।। কিন্তু দিনের অনেকটা সময়ই ওগুলো নাটক এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে।।

          1. “রঙের মানুষ”, “ভবের হাট”-এর
            “রঙের মানুষ”, “ভবের হাট”-এর মতো সিরিয়াল এর কথা যারা ভুলে গেছে, তাদের প্রতি কিছু বলার নাই।

          2. হিন্দি চ্যানেল অনুকরণে
            হিন্দি চ্যানেল অনুকরণে “গুলশান এভিনিউ” এর মত যে সিরিয়াল শুরু হয়েছিল তা শুধু ভিন্ন সংস্কৃতি নয় বিপদজনক ও বটে।

            আর আমাদের মিডিয়ায় “রঙের মানুষ”, “ভবের হাট”-এর মতো সিরিয়ালও চলেছে।।

            এখন কি চলছে?

            আমাদের মিডিয়া যদি বিভিন্ন স্তরের দর্শক চাহিদা মেটাতে পারত তাহলে জি বাংলা, জলশা, স্টার প্লাস এর মত চ্যানেলের এত দৌড়াত্ব সহ্য করতে হত না।

          3. ভাই, এখনো তো চলছে “অলসপুর”-এর
            ভাই, এখনো তো চলছে “অলসপুর”-এর মতো সিরিয়াল।। “বাংলাভিশন”-এ যে সিরিয়ালগুলো চলে তার প্রত্যেকটাই তো অনেক ভালো।।

            আসলে আমরা করি কি, টিভি’র রিমোটটা হাতে নিয়ে আগে ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলো ঘুরে তারপর শুধু খবর দেখার জন্য দেশী চ্যানেল দেখি।। আমরা আমাদের টভি চ্যানেলে কোন নাটকটা চলছে তার খোঁজ খবরই রাখি না।। হিন্দী সিরিয়াল একটা ফ্যাশন।। কিন্তু যদি এগুলো দেখার পথটা বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে ঠিকই সবাই বাংলাদেশী নাটকই দেখবে।। আর আমাদের মানসম্পন্ন পরিচালক, নাট্যনির্মাতা সবই আছে।। ভূলে যান কেন আমাদের “বৃন্দাবন দাস”, “সালাহউদ্দীন লাভলু”, “রেদওয়ান রনি”-এর মত নাট্যনির্মাতা আছে???

      3. আপনার জন্য একটা ঘটনা উল্লেখ
        আপনার জন্য একটা ঘটনা উল্লেখ করি। এইতো এই ঈদের পর বাড়ি থেকে আসছি সেদিন ছিল ১৫ই অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস। কিছু বছর যাবত আমরা জেলা শহরের বাসিন্দা হয়েছি। আমাদের বাড়ি পুরাতন বাজারের দিকে পড়েছে। রিকশায় ওঠার দেখি প্রায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই জাতীয় পতাকা অর্ধ নমিত করে রাখা। দেখে ভাল লাগলো, আগে ছোট বেলায় গ্রামে থাকতে ২১ শে ফেব্রুয়ারী, ২৬ শে মার্চ, ১৬ই জাতীয় পতাকা উত্তোলন দেখেছি। যাইহোক, আমার রিকশা যখন পুরান বাজার ছেড়ে নতুন বাজার হয়ে বাস কাউন্টার এর দিকে যাচ্ছে দেখি একটা প্রতিষ্ঠানেও কোন পতাকা উত্তোলন করা হয় নাই। এমনি কি একটা কার্যালয় যেখানে কাল পতাকা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক সেখানেও এটা করা হয়নি? এখন আপনি কাকে দোষ দিবেন?
        আমি হলে দোষ দেব প্রশাসনকে। এটা তাদের দায়িত্ব ছিল এই দিবসের করনীয়। কিছু ইনপুট ক্ষুদ্র হতে পারে কিন্তু দিয়ে দিতে হয়। যদি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রে দেশাত্ববোধের প্র্যাকটিস না থাকে সে জাতি তো অন্য কিছুতে ঝুঁকবেই।

  3. ক্লান্ত কালবৈশাখি,
    আপনাকে

    ক্লান্ত কালবৈশাখি,
    আপনাকে প্রথমে ধন্যবাদ জানাই সময়োপযোগী চমৎকার পোস্টের জন্য ।
    দেশকে মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে হলে অবশ্যই অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরী ।
    আর সেজন্য দেশিও শিল্প , কল, কারখানা বাড়াতে হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনশীল করতে
    হবে । একটা জাতিকে স্বনির্ভর বলা যায় তখনি যখন সে মানুষের মৌলিক চাহিদার
    সিংহভাগ দেশে উৎপন্ন করতে পারে আমদানি ব্যাতিরেকে । আমাদের বাজার ভরে গেছে
    ভারতীয় পন্যে … এটা কোনভাবেই একটা দেশের উন্নতির লক্ষণ নয় । যতোই আমাদের
    প্রবৃদ্ধির কথা বলে আফিম খাওয়ানো হোক না কেন । প্রবৃদ্ধি বাড়া মানে সাধারণ মানুষের জীবন মানের
    উন্নয়ন বৃদ্ধি পাওয়া না এই সহজ অংক টা আমাদের বুঝতে হবে । অন্য দেশ থেকে আমরা তাই আমদানি করবো যা আমাদের এখানে তৈরি করা একেবারে সম্ভব না । আমরা জেনে, শুনে , বুঝে কতিপয় সরকারি, বেসরকারি ক্ষমতাশালীর মুনাফা তথা বিত্তের পাহাড় গড়ার জন্য আমাদের বাজার ভারত বা অন্য যে কোন রাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারিনা । বলা বাহুল্য, ভারতের টি ভি চ্যানেল ও কিন্তু রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে । এটাও বন্ধ করতে হবে ।

    আপনার সাথে এক জায়গায় আমার অমত আছে । আপনার লেখায় জাত্যাভিমানের ব্যপার টা অনেকটা উগ্র জাতীয়তাবাদ কে উস্কে দিচ্ছে । এটা কাম্য নয় । আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন খাঁটি দেশপ্রেম । আমাদের আশু প্রয়োজন সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন কারী সরকার । আওয়ামীলীগ – বি এন পির গোলোক ধাঁধা থেকে মুক্ত সচেতন জনগণ ।

  4. এই সংক্রান্ত যতো লেখা ব্লগ ও
    এই সংক্রান্ত যতো লেখা ব্লগ ও ফেসবুকে চোখে পড়েছে তার মধ্যে অন্যতম সেরা লেখা এটা। জাত্যাভিমান থাকাটা অন্যায় কিছু নয়। অনেকেই জাত্যাভিমানের সাথে জাতি বিদ্বেষকে এক করে ফেলেন। জাত্যাভিমানের ভদ্র শব্দই হচ্ছে দেশপ্রেম।

    আলোচনার সুবিধার্থে লেখাটা স্টিকি করা যায় কিনা ইস্টিশন মাস্টার ভেবে দেখতে পারেন।

    1. যাক অবশেষে আমার লেখায় ডাঃ
      যাক অবশেষে আমার লেখায় ডাঃ আতিকের মন্তব্য পাওয়া গেল। আমি আরও ভাবলাম, এখন কি এতটাই খারাপ লিখি, না’কি যে তার মন্তব্যই পাওয়া যায় না।

  5. নিজেদের স্বার্থ নিজেদেরই
    নিজেদের স্বার্থ নিজেদেরই উদ্ধার করতে হয় । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, স্বার্থ উদ্ধার করার মতো জ্ঞান অধিকাংশ বাংলাদেশির মধ্যে নেই । এই জন্যে আপনাকে, আমাকে আজ এই ধরণের পোস্ট লিখতে হচ্ছে । ১৮ কোটি জনসংখ্যার বিশাল জাতি আমরা; ৬ কোটি বৃটিশদেরকে দেখুন, কত পার্থক্য আমাদের আর তাদের মধ্যে । আমাদের চেয়ে কত বেশি ওজন ঐ ৬ কোটি বৃটিশের । ভারতের বাপের সাধ্য আছে বৃটিশদের বিরুদ্ধে কিছু করার ? আমরা কেন বৃটিশদের মতো হতে পারবো না ? আমরাও তো মানুষ ।

    1. ওরা কবে থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র
      ওরা কবে থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিরাজমান? আর আমরা কবে থেকে??? আমাদের বর্তমান প্রবৃদ্ধি ছয়ের ওপরে। স্বাধীনতার পর ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল তিনের কাছাকাছি। তাহলে আমরা কেন উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে একদিন আত্মপ্রকাশ করতে পারব না???

  6. ভারতীয় পণ্য বর্জনই সেই

    ভারতীয় পণ্য বর্জনই সেই স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রথম ধাপ।

    সবশেষের কথাটাই চূড়ান্ত… এর কোন বিকল্প নেই!!
    চমৎকার বিশ্লেষণ… ক্লান্তকে স্বরূপে ফিরতে দেখে ভাল লাগছে!!

  7. অত্যন্ত সময়োপযোগী পোস্ট।।
    অত্যন্ত সময়োপযোগী পোস্ট।। সময়োপযোগী বলাটা আসলে ঠিক না কারণ আগ্রাসন যখনই হোক তখনই তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে।। কিন্তু সময়োপযোগী বললাম এই কারণে যে, বাঙ্গালিদের পেছন থেকে একটু ধাক্কা না দিলে তারা নড়তে চায় না।। যখনই কোন বিষয়ে বাঙ্গালিরা শোষিত হয়েছে তখনই কাওকে না কাওকে একটু ধাক্কা দিয়ে দিতে হয়েছে।। এর ফলে শোষনের বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন করতে শুরু করেছে।।

    এবার আপনার পোস্টের উপর চোখ বুলাইঃ
    এক ভারতীয় পণ্য বর্জনের নাম শুনে যারা রবীঠাকুর, নজরুল, সুনীল দের বর্জন করার কথা বলে ত্যানা প্যাঁচাচ্ছে তাদের সম্পর্কে আপনার যুক্তিটা একদম পারফেক্ট।।
    দুই ভারতীয় সিরিয়ালগুলো আমাদের কি ক্ষতি করছে তা সম্পর্কে এখানে উল্লেখযোগ্য কিছু পাইনি।। এগুলোর কুফল সম্পর্কে আর কিছু বললে ভালো হত।।
    তিন ভারতীয় পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের উপর আপনার গুরুত্ব আরোপ করাটা ভালো হয়েছে।। আমাদের দেশের শক্তি সম্পর্কে যে ধারণা দিয়েছেন সেটাও পারফেক্ট।।

    তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আপনার শেষের কথাটা

    ভারতীয় পণ্য বর্জনই সেই স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রথম ধাপ।

    সত্যিই তাই।। ১০০% সহমত।। :খুশি: :খুশি:

    1. আসলে, ভারতীয় সিরিয়ালের ওপর
      আসলে, ভারতীয় সিরিয়ালের ওপর আমার উল্লেখযোগ্য কোন ধারণাই নেই। রবিঠাকুরের মত করে বলা যায়, “আমি যাহা বুঝি না, তাহা শিখাইতে গেলে শুধু কপটতা শেখানো হইবে।” ক্লাস নাইনেই ভারতীয় সবকিছু বাদ দিয়েছি। এখন আর টিভির সামনে বসাই হয় না। ভারতীয় চ্যানেল দেখতে হয় বলে, খেলা দেখাও বাদ দিয়েছি। শুধু পেপার থেকে খবরটা নিয়ে নিই।

      ভারতীয় সিরিয়ালের দু’একটা পর্ব যাই দেখেছি, বসে বসে ত্রিশ মিনিটের একটা পর্বে একশটার কাছাকাছি করে ভুল বের করেছি। কাহিনীর ভুল এবং সেটা কতটা অবাস্তব সেটা নিয়েই মাথা ঘামিয়েছি। সামাজিক ক্ষতি নিয়ে নিজেই কখনও মাথা ঘামাই নি।

  8. লেখাটা ভাল লাগল ।
    লেখাটা ভাল লাগল । কিন্তু

    ভারতীয় পণ্য বর্জনের সাথে রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-সুনীল এর সাহিত্য বর্জনের কথা বলে ত্যানা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে যারা রীতিমতো মমি তৈরি করে ফেলেছেন, তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করি।

    এই বিষয়টা নিয়ে লিখবেন বলে আশা করেছিলাম।খুব একটা পরিষ্কার হয়নি।

    1. আসলে, আমার লেখার মূল টপিক
      আসলে, আমার লেখার মূল টপিক কিন্তু এটা ছিল না। ছিল, ভারতীয় পণ্য বর্জন।

      কিন্তু, আমি যেখানেই এই কথা বলতে গেছি, ক্যাচালবাজরা সাহিত্যের প্রসঙ্গ তুলেছে। তাই এর ওপর হালকা আলোচনা করে মূল আলোচনায় চলে গেছি।

  9. ভারত বাংলাদেশের সাথে যা করে
    ভারত বাংলাদেশের সাথে যা করে তা স্রেফ জাতি বিদ্বেষ। সীমান্ত সংযোগ থাকার পরও পাকিস্তানের সাথে এমনটা করতে পারে না। পাকিস্তানকে ঘৃনা করে কিন্তু বাংলাদেশকে করে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য। যার কারনে হরিন মারার অপরাধে জেল হয় আর গুলি করে মেরে ছুড়ে ফেলে দিলেও ‘নির্দোষ’ প্রমানিত হয়।
    আর ভারতীয় চ্যানেল প্রসঙ্গে আরেকটু যোগ করি, ভারতে কিন্তু বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল দেখানো হয় না। দেখাতে দেয়া হয় না!

    1. দায়ী জাতি হিসেবে আমাদের
      দায়ী জাতি হিসেবে আমাদের হীনমন্যতা। তার চেয়ে বেশি দায়ী আমাদের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি। আম্লীগের গায়ে ভারতপ্রীতির তকমা আছে। অথচ আমি যতদূর জানি আমাদের ইসলামের ধারক বাহক দলটাও কাফের নাসার হিন্দুদের দেশ নিয়ে একটা বিবৃতিও দেয় নি। না দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শক্তির মালিকেরা। এই আমাদের জাতিয়তাবাদ! ধিক!

      ধিক! আমাদের জাত্যভিমানের অভাব।

      নিজেকে যদি সম্মান করতে পারি, তাহলে সবাই আমাকে সম্মান দিতে বাধ্য। দেশভাগের সময় কোন মুসলমান হিন্দুদের পাত্র স্পর্শ করলে বর্ণহিন্দুরা আর সেটা ব্যবহার করত না। অথচ, মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে অনেক। কারণ, ততদিনে আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। আমরা নিজেদের মর্যাদা দিতে শিখেছিলাম। তাই ওরাও আমাদের দিয়েছিল।

      এখনও তাই। আমরা নিজেদের সংস্কৃতিকে পায়ে ঠেলে ভারতের আনুগত্য মেনে নিচ্ছি। ওরাও আমাদের মানুষ মনে করছে না। যেদিন নিজে থেকে মাথা উঁচু করে দাড়াবো, সেদিন ওরাও বাধ্য হবে আমাদের মানুষ হিসেবে গণ্য করতে।

  10. ফেসবুকে একটা গ্রুপ পেলাম,
    ফেসবুকে একটা গ্রুপ পেলাম, ঢাকায় ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের সামনের রাস্তার নাম “ফেলানী রোড” করা হোক
    জবর আইডিয়া!

  11. সহমত কালবৈশাখী সাহেব,
    কিন্তু

    সহমত কালবৈশাখী সাহেব,

    কিন্তু আমাদের এইটাও বুঝতে হবে, সীমান্ত হত্যা কেন হয়? কোন মানুষটা নিজের জীবন হাতে নিয়ে সীমান্ত পার হয় বারবার? এটা কী বাংলাদেশের সরকারের দুর্বলতা নয়? বাংলাদেশের কোন সরকারই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের জন্য নির্ভরযোগ্য জীবিকার সংস্থান দিতে পারে নাই।এর জন্যই বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান সব সরকারের বিচার হওয়া উচিত।চাওয়াটা প্র্যাকটিক্যাল না, তারপরও চাওয়া উচিত।

  12. আর্কিওপ্টেরিক্স
    কি বলব, ঠিক

    আর্কিওপ্টেরিক্স

    কি বলব, ঠিক এই কথাগুলো বলার জন্যই মন্তব্য লিখতে এসেছিলাম।
    ধন্যবাদ আপনাকে।
    আপনার সাথে আমি সম্পুর্ণ একমত পোষণ করছি।

    আমাদের এইটাও বুঝতে হবে, সীমান্ত হত্যা কেন হয়? কোন মানুষটা নিজের জীবন হাতে নিয়ে সীমান্ত পার হয় বারবার? এটা কী বাংলাদেশের সরকারের দুর্বলতা নয়? বাংলাদেশের কোন সরকারই তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের জন্য নির্ভরযোগ্য জীবিকার সংস্থান দিতে পারে নাই।

    আমরা ফেলানীসহ সব সীমান্ত হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানোসহ এর সঠিক বিচার দাবি করছি।
    এই জায়গায় দ্বিতীয় কোন কথা খাটে না।

    কিন্তু, এই যে সীমান্ত হত্যাগুলো একেরপর এক ঘটে, তার জন্য কি আমাদের দুর্বলতাগুলো কিছুই না ???
    ফেলানীরা কেনো নিহত হবে জেনেও সীমান্তপথে অবৈধ চলাচলে উদ্যোগী হয় ???
    আমরা পেরেছি তাদের জন্য নিশ্চিন্ত জীবন দিতে ???
    পারিনি।
    সীমান্তবর্তী আমাদের জনগণের কাছে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
    এইসব মধুমাখা সাহিত্যিক কথা তাদের কোন প্রয়োজনে আসে না।
    দেশপ্রেমই বলেন আর জাত্যাভিমানই বলেন~ এইসব আমাদের মতন সভ্য-সুশীলদের আভিধানিক-রাজনৈতিক ভাষা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশমাত্র।
    এইগুলো ওদের কোন কাজেই আসে না।
    কারণ, আমরাই এই দেশপ্রেম আর জাত্যাভিমানের বুলি কপচাই আবার আমরাই অন্যেরটা নিয়ে নাচে-গানে মেতে উঠি।
    এইসব বুলি না দিয়ে, বরং আমাদের স্বার্থপরতা নিয়ে আগে ভাবি, ভেবে নিজেদের আগে শুদ্ধ করি।
    তারপর না হয়, অন্যকে শায়েস্তা করার নানান পন্থা বের করবনে…

    1. “ফেলানীরা কেনো নিহত হবে জেনেও
      “ফেলানীরা কেনো নিহত হবে জেনেও সীমান্তপথে অবৈধ চলাচলে উদ্যোগী হয়?”
      ==সোমেশ্বরী আপু, এতো কথা হল। কিন্তু একটা কথা কিন্তু কেউ বলল না। সীমান্তে অবৈধ পথে যারা চলে তাদের মূল পরিচয় কিন্তু চোরাকারবারি। আর ফেলানিকে বি এস এফ চোরাকারবারি মনে করেই গুলি করেছে। সরকার কিন্তু কাউকে চোরাকারবারি করতে উৎসাহ দেয়নি।
      কুমিল্লার কসবা এলাকায় বর্ডার ক্রস করে আমি একবার ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম। পাসপোর্ট ছাড়াই! কি যেন একটা অনুষ্ঠান হচ্ছিল, অনেকের সাথে আমিও গেলাম। জাস্ট অভিজ্ঞতা নেবার জন্য। প্রায়ই ওখানে বাংলাদেশী গুলি খেয়ে মরে। যাওয়ার সময় তাই একটু ভয়ই লাগছিল। তারপরও ওই এলাকার লোকজনই জানাল যে সন্দেহজনক কিছু না করলে ওরা কিছু বলবে না। বলেওনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *