ভূত

শীতকাল ।

শুভ বাড়ি ফিরল সন্ধ্যা সাতটায় । সারাদিন পরিশ্রম করার ফলে খুব ক্লান্ত থাকায় ন’টার মধ্যেই লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ।
এবার ওর ঘরের ছোটখাটো একটা বর্ণনা দেয়া উচিৎ । বাড়ির একদম সামনের ঘরে সে থাকে । ঘরের পাশে একটি বারান্দা আর এর পাশে একটি জানালা আছে । ঘরটা খুব একটা বড় নয় , তবুও শুভ তার সব জিনিসপত্র সেখানে রেখেছে । বাড়িতে সে আর তার বাবা – মা থাকে । বাবা – মা ভিতরের একটা ঘরে থাকে এবং আরেকটা ঘর খালি থাকে ।


শীতকাল ।

শুভ বাড়ি ফিরল সন্ধ্যা সাতটায় । সারাদিন পরিশ্রম করার ফলে খুব ক্লান্ত থাকায় ন’টার মধ্যেই লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ।
এবার ওর ঘরের ছোটখাটো একটা বর্ণনা দেয়া উচিৎ । বাড়ির একদম সামনের ঘরে সে থাকে । ঘরের পাশে একটি বারান্দা আর এর পাশে একটি জানালা আছে । ঘরটা খুব একটা বড় নয় , তবুও শুভ তার সব জিনিসপত্র সেখানে রেখেছে । বাড়িতে সে আর তার বাবা – মা থাকে । বাবা – মা ভিতরের একটা ঘরে থাকে এবং আরেকটা ঘর খালি থাকে ।

যাই হোক , সেদিন রাতে হঠাৎ শুভ’র ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করল । এ কারণেই ওর ঘুম ভেঙে গেল । ঘুম ভেঙে যা আবিষ্কার করল সেটার জন্য সে একটুও প্রস্তুত ছিল না । সে দেখল তার গায়ে লেপ নেই , ঘরের লাইট – ফ্যান সুইচড অন , বারান্দার দরজা খোলা এবং সেখান থেকে হু হু করে ঠাণ্ডা বাতাস তার গায়ে লাগছে , জানালার কপাট খোলা , এমনকি তার কম্পিউটারও চলছে । রীতিমতো বেসামাল অবস্থা । কে করল এগুলো ? বাবা – মা ? মা কি দুষ্টুমি করল ? সে ফোনটা হাতে নিয়ে মার নম্বরে কল করল । ভিতর থেকে রিংটোন শোনা গেল কিন্তু কেউ রিসিভ করল না । ‘ নাহ । মা গভীর ঘুমে ।’ তাকেই এখন সব বন্ধ করতে হবে । সে বিছানা থেকে নামল এবং এক এক করে কম্পিউটার , বারান্দার দরজা , জানালা , ফ্যান বন্ধ করল । শেষে লাইট বন্ধ করে যখন সে বিছানার দিকে পা বাড়াল তখন একটি অপ্রত্যাশিত এবং ভয়ংকর ব্যাপার ঘটল ।

সে আলো – আঁধারের মাঝেই দেখতে পেল একটি মানুষের অবয়ব তার বিছানায় বসে আছে । জিনিসটা দেখতে পলিথিনের মত স্বচ্ছ লাগছিল । অবয়বটির নাক , মুখ কিচ্ছু ছিল না ; তাই কোনদিকে মুখ করে আছে বোঝা যাচ্ছিল না । প্রচণ্ড ভয়ে শুভ জায়গায় আটকে গেল । হেলুসিনেশন কিনা বোঝার জন্য একবার সে চোখ কচলে আবার তাকাল , অবয়বটি আগের জায়গায়ই বসে আছে । শুভ এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারল না । হঠাৎ তার মনে একটা দুষ্টু বুদ্ধি চাপল । সে কম্পিউটারের সামনে থাকা একটা ইরেজার হাতে নিয়ে ওটাকে মারতে গেল । ঠিক তখনি পলিথিনের মত স্বচ্ছ অবয়বটি চোখের পলকে শুভ’র সামনে এসে ওর গলা এবং হাত চেপে ধরল । চোখ – নাক – মুখ ছাড়া একটা স্বচ্ছ মানুষের অবয়ব ওর গলা আর হাত চেপে ধরে আছে , এটা দেখেই সে আধমরা হয়ে গেল । কি করবে ভাবতে ভাবতেই শুভ জ্ঞান হারাল ।

জ্ঞান ফেরার পর সে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করল এবং দেখল তার মা আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । মা ওকে বলল , ‘কি হয়েছিল ?? সকালে আমি তোকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখলাম । আমি তো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম । ঘটনা কি ?’
শুভ’র তখন রাতের সব ঘটনা মনে পড়ল । সে মাকে জিজ্ঞেস করল , ‘মা , কাল রাতে তুমি আমার ঘরের দরজা , জানালা খুলে রেখে গিয়েছিলে ?’

– নাতো । আমি কেন তোর ঘরে এসে দরজা , জানালা খুলে দেব ? তাও এ শীতের সময় ?

মায়ের মুখে এ কথা শুনে শুভ রাতের ঘটনাকে নিছক একটা দুঃস্বপ্ন ভাবতেই হাতের দিকে নজর গেল । যে হাতে সে ইরেজার ধরেছিল এবং অবয়বটি যে হাতটি চেপে ধরেছিল , সে হাতে চার আঙ্গুলের দাগ একদম গেঁথে রয়েছে । একদম স্পষ্ট । তখনি সে উঠে গিয়ে মায়ের ফোন চেক করল । মিসড কল লিস্টের সবচেয়ে উপরে ওর নম্বর , সময় গতরাত । স্বপ্ন হলে বাস্তবে স্বপ্নের নমুনা কিভাবে আসল ?

এ ঘটনা সে কাউকে বলে নি । এরপর এমন আর কিছুও ঘটে নি । হাতের আঙ্গুলের দাগ শুভকে অনেক দিন ভোগাল যার জন্য সে ঘটনাটি ভুলতে পারে নি ।
হতে পারে এটা একটা দুঃস্বপ্ন । আর দুঃস্বপ্নই যদি হবে তাহলে হাতে এগুলো কিসের দাগ ? আর মায়ের ফোনের মিসড কল লিস্টে ওর নম্বরই বা কিভাবে আসল ? এর উত্তর সে এখনো জানে না ।

১৪ thoughts on “ভূত

    1. ভূত নামক জিনিসটা অবাস্তব ।
      ভূত নামক জিনিসটা অবাস্তব । কিন্তু অশরীরী কিছু অবশ্যই আছে ।
      আর ভূত নামক জিনিসটি পছন্দ হবার কোন কারণ নেই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *