শাহবাগের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে

আমার প্রিয় শাহবাগ ছড়িয়ে পড়েছে টরন্টো, টোকিও, লন্ডন, নিউ ইয়র্কে, রোমে, ষ্টকহোমে, সিডনি, ব্রাসেলসে…। যেখানে বাঙালি, সেখানেই আজ ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলনের আগুন। ফেইস বুকে প্রবাসী বাঙালিরা ৩৪৫ খুনের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্লার অপ্রত্যাশিত রায়ের তীব্র নিন্দা, ঘৃণা, ক্ষোভ, প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। তীব্র শীতের খারাপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে নেমে এসেছে রাস্তায়!


আমার প্রিয় শাহবাগ ছড়িয়ে পড়েছে টরন্টো, টোকিও, লন্ডন, নিউ ইয়র্কে, রোমে, ষ্টকহোমে, সিডনি, ব্রাসেলসে…। যেখানে বাঙালি, সেখানেই আজ ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলনের আগুন। ফেইস বুকে প্রবাসী বাঙালিরা ৩৪৫ খুনের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্লার অপ্রত্যাশিত রায়ের তীব্র নিন্দা, ঘৃণা, ক্ষোভ, প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। তীব্র শীতের খারাপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে নেমে এসেছে রাস্তায়!

কাদের মোল্লাসহ সকলদের ফাঁসির দাবিতে কানাডার টরন্টোস্থ বাংলাপাড়া ড্যানফোর্থে নতুন প্রজন্ম এবং প্রবাসী বাঙালিরা মানব বন্ধন করেলো। স্নো-স্টর্মে এবং -১৩ ডিগ্রী তাপমাত্রায় উপেক্ষা করে নানান ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে প্রতিবাদীরা। তারা ঢাকার শাহবাগের আন্দোলনে একাত্বতা প্রকাশ করে জানান, আগামী শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৩টা) আবারও একই স্থলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী মানব বন্ধনে অনুষ্ঠিত হবে।
কানাডার ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় ঢাকার শাহবাগ স্কয়ারের চলমান চার দিনের আন্দোলনের খবর গুরুত্ত্ব সহকারে তুলে ধরেছে। দৈনিক টরন্টো ষ্টারের গত ৮ ফেব্রুয়ারির সংবাদ শিরোনাম ছিলো- ‘Hundreds of thousands rally in Bangladesh to demand executions of 1971 war crimes suspects’।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ে অপরাধীর লঘু শাস্তিতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এবং নির্যাতিত মানুষ এবং তাঁদের স্বজনদের আশার প্রতিফলন হয়নি বলে মনে করে বিচারের পক্ষের নাগরিকদের দ্বারা সংগঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)।

কাদের মোল্লা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, যিনি ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা, ধর্ষন ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এ তার বিরুদ্ধে আনা ৬টি অভিযোগের ৫টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে এইসংগঠনটি। উল্লেখ্য, আইসিএসএফ বিশ্বব্যাপী ১৩টি ভিন্ন সংগঠন ও বিভিন্ন ব্যক্তির সমন্বয়ে ২০০৯ সালে গঠিত একটি মানবাধিকার ফোরাম।

আইসিএসএফের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রাইবুনালে তথ্য-প্রমাণসহ কাদের মোল্লার প্রমাণীত অপরাধসমূহের ভয়াবহতা, নৃশংসতা এবং ব্যাপ্তির সাথে তাকে প্রদত্ত যাবজ্জীবন কারাদন্ড সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামের মতোই বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করার এবং বিচারহীনতার সমাপ্তি ঘটানোর সংগ্রাম। এই বন্ধুর সময়ে আইসিএসএফ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সংগ্রামে নিহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকললের ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে, এবং বিচারহীনতার সমাপ্তির লক্ষ্যে, সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে আরো দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

আর কানাডা প্রবাসী লেখক-সাংবাদিকরা এক বিবৃতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিচারের রায়ে কানাডা হতাশ হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কারণ, ৩৪৪টি খুন, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ, লুটপাটের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সাজা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে। তাই প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি বলেছেন, এ রায় মুক্তিযুদ্ধের লাখ লাখ শহীদের রক্তকে অপমান। বিবৃতিদাতারা হলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার রূপকার রফিকুল ইসলাম, ছড়ালেখক লুৎফর রহমান রিটন, কবি ইকবাল হাসান, কথাশিল্পী সৈয়দ ইকবাল, কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, ড. মোজাম্মেল খান, ড. মাহবুব রেজা, সাংবাদিক সুব্রত নন্দী, সাংবাদিক সুমন রহমান, বেঙ্গলি টাইমস সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু, সাংবাদিক মাহাবুবুল হাসান নীরু, কথাশিল্পী রাকীব হাসান, কবি নাহার মনিকা, প্রমুখ।

কানাডা প্রবাসী ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন কাদের মোল্লার বিচারের রায়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছড়ার মাধ্যমে ঘৃনা প্রকাশ করেছেন। লিখেছেঃ
‘রেপ করেছ? ভয় নাই!
খুব অপরাধ হয় নাই!
খুন করেছ? আচ্ছা।
তুমিই বাঘের বাচ্চা!
তোমার বিচার করব
তোমায় জেলে ভরব!
আদালতের রায়
তোমার পক্ষে যায়!
আমজনতা যতই চেঁচাও নইতো পেরেশান
এই বিচারের মানটা হলো আন্তর্জাতিক মান!
তিনশতাধিক খুন করেছ? তাতে কী যায় আসে!
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘাতক-খুনী হাসে?
তিরিশ লক্ষ শহীদ কাঁদলে কী আর এমন ক্ষতি?
শাবাশ শাবাশ ট্রাইব্যুনাল আর শাবাশ বিচারপতি!”

২।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম রায়ে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশে কানাডায় যেভাবে আনন্দ উল্লাস মিষ্টি বিতরন করতে দেখা গিয়েছিলো তার উল্টো ঘটেছে কাদের মোল্লার রায়ে।মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাদের দ্বিতীয় রায়ে কানাডা প্রবাসীরা হতাশ-ক্ষোভ ঘৃনা ধিক্কার আর নিন্দায় সোচ্চার।
এদিকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার কানাডার আসার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কানাডায় আসা মাত্রই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জানাবেন তিনি। মৃত্যুদন্ডাদেশ থাকায় কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া সহজ হবে- ঘনিষ্ঠজনদের এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই তার এই চেষ্টা। বাংলাদেশ ও কানাডার বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, পাকিস্তান থেকে তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন বাচ্চু রাজাকার। একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে বর্তমানে পাকিস্তানের করাচি শহরের বাঙালি অধ্যুষিত ‘আয়শা মঞ্জিল’কলোনিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি সেখান থেকে ইরান বা তুরস্কে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকায় বাচ্চু রাজাকারকে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে- এ আশঙ্কায় তিনি পাকিস্তান ছাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।’ কানাডার সর্বাধিক পঠিত বাংলা সাপ্তাহিক ‘বাংলা মেইল’ এর চলতি সংখ্যায় এই খবর প্রকাশ হয়েছে।

জানা গেছে, টরন্টো এবং মন্ট্রিয়লে বাচ্চু রাজাকারের বেশ কয়েকজন পৃষ্ঠপোষকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের একজন গ্রেটার টরন্টোতে বসবাস করেন, তার অতিউৎসাহ বাচ্চু রাজাকারকে কানাডায় আসার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলছে। কারণ কানাডা মৃত্যুদন্ড সমর্থন করেনা। কেবলমাত্র এই কারণে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পেতে পারেন। তাছাড়া মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খুনী নূর চৌধুরীর দীর্ঘদিন কানাডায় নিরাপদ অবস্থান বাচ্চু রাজাকারকে উৎসাহিত করছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সে কানাডায় এলে প্রবাসী বাঙালিরা তার তীব্র প্রতিবাদ করে। তার আগে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এলে তাকে জুতা পেটা করা হয়েছিলো। এই ঘৃণা দেশের মানুষ পারেনি, পেরেছিলো প্রবাসীরা।

– কানাডা থেকে
saifullahdulal@gmail.com

৩ thoughts on “শাহবাগের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে

  1. এই আগুন নেভানোর শক্তি আজ আর
    এই আগুন নেভানোর শক্তি আজ আর কারো নেই। যেই এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে সেই এ আগুনে পুড়ে ছারখার হবে। কানাডা প্রবাসী ভাই বোনদের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *