ফোবিয়া

লুবনাকে দেখার সাথে সাথে পেছনে ফেউ লাগিয়ে দিয়েছেন অপুর মা। দিনের পর দিন ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে দেখতে এবং পছন্দের মহারাণীর সন্ধান না পেতে পেতে যখন তিনি ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছিলেন, ঠিক সে সময় এক বিয়েবাড়ীতে লুবনাকে তাঁর চোখে পড়ে।

লুবনা এখানে আমন্ত্রিত নয়, আমন্ত্রিত হচ্ছে এ বাড়ীর হাউস টিউটর তুলি। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আসার সময় সে তার বান্ধবীকে সাথে করে নিয়ে এসেছে। বহু বছর বাঙ্গালী বিয়ে দেখা হয়নি লুবনার। সেই কবে ছোটবেলায় দেখেছিল!

লুবনাকে দেখার সাথে সাথে পেছনে ফেউ লাগিয়ে দিয়েছেন অপুর মা। দিনের পর দিন ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে দেখতে এবং পছন্দের মহারাণীর সন্ধান না পেতে পেতে যখন তিনি ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছিলেন, ঠিক সে সময় এক বিয়েবাড়ীতে লুবনাকে তাঁর চোখে পড়ে।

লুবনা এখানে আমন্ত্রিত নয়, আমন্ত্রিত হচ্ছে এ বাড়ীর হাউস টিউটর তুলি। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আসার সময় সে তার বান্ধবীকে সাথে করে নিয়ে এসেছে। বহু বছর বাঙ্গালী বিয়ে দেখা হয়নি লুবনার। সেই কবে ছোটবেলায় দেখেছিল!

লোকারণ্য বিয়েবাড়ীতে লুবনা বড় আগ্রহ নিয়ে ঘুরছে-ফিরছে, আর তার অজান্তে পিছে পিছে ঘুরছে ফেউ। এই ফেউটি আর কেউ নন, এ বাড়ীরই গৃহকত্রী- অপুর আপন খালা। খালা ভারী করিৎকর্মা, একটু বেশী রকমের পরোপকারী টাইপ মহিলা।

নিজবাড়ীতে বিয়ের ডামাডোলে মন দেয়ার মত ফুরসৎ নেই অপুর খালার; তিনি যে নতুনভাবে একটি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন! তাঁর কথা হল, বিশ্বাস করেন বলেই লোকজন নানা ধরনের সামাজিক কাজকর্মের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন তাঁকে। তিনি সাদরে তা গ্রহণও করেন। অন্যের উপকার করা তো দোষের নয়, বরং এটা মহৎ এবং সওয়াবের একটি কাজ। তাছাড়া চাইলেই তো সওয়াবের কাজ সবসময় করা হয়ে ওঠে না।

নিজের ছেলের বিয়ের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে লুবনার নাড়ী নক্ষত্রের সন্ধান বের করা থেকে শুরু করে, হপ্তা খানেকের ভিতর এঙ্গেজম্যান্ট সেড়ে ফেলা পর্যন্ত, সব একা-ই সেড়েছেন অপুর খালা। সমস্যা একটাই, লুবনা মেয়েটি অস্ট্রেলিয়ায়’র স্থায়ী বাসিন্দা, বিয়ের পর অপুকেও সাথে করে নিয়ে যেতে চায়। খুবই লক্ষী মেয়ে লুবনা। শুরুতে সামান্য গাঁইগুঁই করলেও, একটি ভাল পাত্রী পাওয়া গেছে মনে করে, অপুর মা অবশেষে রাজী হয়েছেন।

লুবনার মা-বাবা এখন অস্ট্রেলিয়ায়। মেয়ের সাথে তাঁরাও আসার কথা ছিল। কিন্তু মা’র অফিস থেকে পর্যাপ্ত ছুটি না মেলায় তা আর হয়ে ওঠে নি। দু’বোনের মধ্যে বড় জন সুমনা, সে দেশেই থাকে। লুবনা বড় বোনের বাসাতেই উঠেছে। মাস খানেক থাকবে, তারপর ফিরে যাবে। কিছুদিন পর বাবা-মাকে সাথে নিয়ে দেশে ফিরে ছোটখাট অনুষ্ঠান করে বিয়েটা সেড়ে নিবে।

এঙ্গেজম্যান্ট হয়ে সাড়ে নি, তাতেই অপু হবু স্ত্রী’র প্রতি বড় কাতর হয়ে পড়েছে। লুবনা সান্ত্বনা দিয়ে বলেছে, ‘এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, ছ’সাত মাসের মধ্যেই আবার ফিরে আসবে সে।’

কিন্তু যুগের হাওয়া যে এখন বড্ড বেশী বেহায়া! তাই ছ’মাস দূরে থাক, ছ’দিন অতিবাহিত না হতেই নব্য জুটিটি বড় আশায় সুযোগ খুঁজতে থাকে একান্ত সাক্ষাতের। মদির যৌবন এসে কড়া নাড়তে থাকে দু’টি দেহের বন্ধ দুয়ারে। অবশেষে সপ্তম দিনে মেলে সুযোগ। বড় বোনের বাসায়, কোন এক নিভৃত দুপুরে আলতো ঠেলায় লাজ লজ্জার ভেজানো দুয়ার খুলে, দুই নাদান মানব-মানবী পৃথিবীর অতি প্রাচীনতম সাগরে ঝাঁপ দিয়ে জলকেলিতে মেতে ওঠে।

সেই মুহুর্ত থেকেই অপু লুবনাকে বউ বলে ডাকতে শুরু করে। শ্রান্ত অপু যখন তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে বউয়ের বুকে মাথা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিল, তখন মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে লুবনা তার রোগা-পটকা হবু বরের প্রতি একটি আদেশ জারি করে; জিমনেশিয়ামে ভর্তি হতে হবে, আগামী ছ’মাসের মধ্যে টিকটিকির মত লিকলিকে শরীরটাকে স্বাস্থ্যবান করে তুলতে হবে। এবং আজই যদি জিমে ভর্তির ব্যবস্থা না হয়, তাহলে বাকী যে বিশ-পঁচিশ দিন সে দেশে আছে, সেক’টি দিন আর আদর সোহাগ হবে না।

বিশ-পঁচিশ দিন দূরে থাক, আদুরে বউটিকে ছাড়া একটি মুহূর্ত কি করে কাটাবে সেই চিন্তায় তখন অস্থির অপু। তারপর সমস্ত অস্থিরতা গোপন করে, তথাস্তু বলে সেদিনই ভর্তি হয়ে যায় অত্যাধুনিক এক জিমনেশিয়ামে।

জিমের প্রশিক্ষক সাহেব খুবই কড়া প্রকৃতির লোক, শরীর গঠন ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেন না, ধমক ছাড়া কথাই বলতে পারেন না। আগে থেকেই বলা আছে, উনি কথা বলার সময় পাশের জনের সাথে ফিসফাস করা, হাই তোলা কিংবা অন্যমনষ্ক থাকা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। বডি বিল্ডিঙের প্রশিক্ষক বলে কথা, দেখতে মাশাল্লাহ্ ছোটখাট একটি হাতি বলা চলে। তবে পেটানো শরীর। নিপুন কারীগরের তৈয়ার অসুরের মূর্তির মতই মনে হয় অনেকটা। এই অসুরের সুরত যেন মা দূর্গার পায়ের তলার অসুরের চাইতেও কঠিন, রূঢ় ।

অপুর প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রথম দিনই একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে যায় ব্যায়ামাগারে। এটিকে অবশ্য ঘটনা না বলে দুর্ঘটনা বলাটা অধিক যুক্তিযুক্ত হবে। প্রশিক্ষক সাহেব স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কিত জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন। এই ব্যাচের প্রশিক্ষনার্থীরা সকলেই প্রায় নতুন। সকলেই খালি গায়ে, অসুর কর্তৃক সরবরাহকৃত ছোট ছোট নেংটি পড়ে বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে আছে। অসুর মহাশয় মাঝখানটিতে ঘুরে ঘুরে এক ঘেয়েমি সুরে বকবক করে চলেছেন। আর যার যার দেহের গঠনের উপর ভিত্তি করে নানান ধরনের টিপস্ দিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মাঝে এর ওর বুক-হাত টিপে টিপে দেখছেন। অপু ছিল শেষজন, যেখানে এসে থমকে দাঁড়ালেন অসুর। অপুকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে করতে বললেন, ‘চাম ছাড়া শইলে তো কিছু নাই। যা যা দেখাই দিছি তা পত্যেকদিন কইরবেন, লিস্টে যা যা লেইখ্যা দিছি তা নিয়ম কইরা খাইবেন। খাইবেন বেশী, হাইগবেন কম। দেইখবেন এক মাসেই মাশাল্লাহ্ শইল ফুইল্লা কেমন হয়’!

কিন্তু এই মুহূর্তে অপু খুবই অন্যমনষ্ক। শরীরটা ভীষণ অশান্ত হয়ে আছে তার। শেষ পর্যন্ত সেই অশান্ত শরীরকে শান্ত করতে, ভয়ে ভয়ে প্রশিক্ষক মহাশয়ের সামনে কড়ে আঙ্গুলটি তুলে ধরে অপু। ঘটনার শুত্রপাত সেখানেই।

অনেক্ষণ হল অপুর ছোট বাথরুম পেয়েছে। কিন্তু অবস্থা এমন ছিল, অসুরের ভয়ে নড়তে চড়তে সাহস পাচ্ছিল না সে। কড়ে আঙ্গুলে কাজ হওয়ায় আর দেরী করেনি অপু; সোজা ছুটে গেছে টয়লেটে। ভাগ্যিস পড়নে প্যান্ট ছিল না। নেংটি মতন একটুকরো কাপড় ছিল মাত্র, যাকে জাঙ্গিয়া বললে জাঙ্গিয়াও লজ্জা পাবে। তাই কম পরিশ্রমেই ইউরিনালের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পেরেছে সে।
টয়লেটটি মোটামুটি বড়। ভিতরে তিনটি ছোট-ছোট সাব-টয়লেট। দু’টিতে হাই কমোড, আর একটি নরমাল। এছাড়া বুক সমান পার্টিশান দেয়া কয়েকটি ‘দাঁড়িয়ে টয়লেট সাড়া’র ব্যবস্থা রয়েছে।

দু’চোখ মুদে অনুভব করা ত্যাগানন্দের এ অবস্থায় অপুর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসার কথা আরামদায়ক শিৎকার ধ্বনি – ‘আহ্’। কিন্তু নাহ্, তার পরিবর্তে বেরিয়ে এল কঠিন এক আর্তনাদ। তবে অত্যন্ত চাপাস্বরে, গোঙ্গানির মত গগনবিদারী চিৎকার। ওই অসুরটির ভয়ে প্রাণ খুলে চিৎকারও করতে পারছিল না সে। শব্দও যে শব্দহীন হতে পারে, সেদিনই প্রথম বুঝতে পারলো অপু।

অতঃপর সময়ের এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে ঘটে গেল ছোট্ট সেই ঘটনা। ঘটনাটি হর্ষক নাকি লোমহর্ষক সেই বিবেচনা পরে হবে, আপাতত অপু’র ব্যাথায় সমব্যাথি হয়ে, ব্যাথার কারণটি জেনে নেয়া যাক।

সময়টা ছিল সকাল। টয়লেট তখনও অব্যবহৃত। সারারাতের অব্যবহারে সকালের টয়লেট ছিল শুষ্ক-খটখটে-পরিষ্কার। দলছুট একটি বোলতা কখন যেন বেখেয়ালে ঢুকে পড়েছিল টয়লেটে। তারপর পরিচ্ছন্ন টয়লেট দেখে স্থান করে নিয়েছিল ইউরিনালের ফুটো-ফুটো জায়গাটির ঠিক ওপরে। সৌভাগ্য বোলতাটির, সেদিন সেখানে কোন ন্যাপথলিন দেয়া ছিল না। নীচ হতে ফিনফিনে হাওয়া বইছিল উপর দিকে। নইলে অছ্যুত ওই জায়গায় কেন সে বড় আরামে চোখ বুঁজে বসেছিল চুপটি করে? আর অতি আরামে ব্যাঘাত ঘটলে, তা কি সহজে সইতে পারে কেউ?

এই বোলতাটিও দেখতে অন্যান্য বোলতার মতই সুন্দর। কালো-হলুদের অপূর্ব কালার কম্বিনেশন। তাই বলে তার সবকিছু্ই যে সুন্দর, এমনটি ভাবা মোটেই ঠিক হবে না। বিশেষ করে কিছু আগে তার উপর ঘটে যাওয়া ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়াটি। তা-ও যে সে প্রতিক্রিয়া নয়, রীতিমত নিউটনের তৃতীয় সূত্রের চাইতেও এক কাঠি সরেস।

আরামে দীর্ঘ সময় পার করে বোলতাটি সবে আড়মোড়া ভাঙ্গার পাঁয়তারা করছিল তখন। ঠিক সেই সময়ে কুসুম-কুসুম গরম পানির নোনতা ছোঁয়া তার ভিতর প্রচণ্ড বিরক্তির উদ্রেক করে। এবং তীব্র আক্রোশে দিগ্বিদিক ছুটে যেতে যেতে দু’হুল জোড় করে স্রষ্টার কাছে প্রার্থণা করে; যাতে সামনে এমন কিছু পাওয়া যায়, যাকে আক্রান্ত করে আরাম পাওয়া যাবে। সৌভাগ্য, খায়েশ পূরণ হয়েছে সাথে সাথে; অল্পক্ষণেই গোবেচারা নরম-সরম শত্রুটির সাক্ষাত পেয়ে যায় সে।

ভাগ্যিস সেসময় টয়লেটে কেউ ছিল না। অপু তীব্র যাতনায় লাফাতে লাগল পাগলের মত। বোলতা তার কাজ সেড়ে সটকে পড়েছে।

অপু বুঝতেই পারল না কে-কিভাবে-কেমন করে হৃদয় না খুঁড়েও বেদনা জাগিয়ে চলে গেছে কোন ফাঁকে? বোলতা ব্যাটা দেখাই দিল না অপুকে, চোখের পলকেই ফুরুৎ। এদিকে দংশিতাংশ দেখার পর অপুর চোখের অবস্থা কাহিল। ছানাবড়া বললেও ভুল হবে। চোখ যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে প্রায়। এতকালের চিরচেনা ছোট্টভাইটিকে বড্ড অচেনা ঠেকল তার কাছে। মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে গেছে ভাইয়ের, মুহূর্তেই ফুলে ঢোল। এই বিভৎস দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকা অপুর পক্ষে সম্ভব ছিল না কোনভাবেই। সাথে সাথে দু’চোখ বন্ধ করল সে। অনুজকেও আতংকে নেংটিবন্দী করল তাড়াতাড়ি। কিন্তু নেংটিতো নেংটি, তারও তো কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সংগত কারণেই স্থানটি সাড়ে তিনশ গ্রাম ওজনের একটি পেঁপের আকার ধারণ করেছে।

সহসা হাজারো প্রশ্ন ভীড় করল অপুর মনে। কি করবে এখন সে? অসুরটাকে বলে আজকের মত ছুটি নিয়ে চলে যাবে? কিন্তু তিনি যদি জানতে চান, ‘কি সমস্যা?’ কি বলবে উত্তরে? নাকি কাউকে কিছু না বলে ডাক্তারের সরণাপন্ন হবে? কিন্তু ডাক্তার যদি জিজ্ঞেস করেন, কি করে কি হল, তখন? সে যে বড় লাজুক! তাছাড়া কোন্ ডাক্তারের কাছেইবা যাবে, গাইনি নাকি চর্ম ও যৌন? হায় খোদা, এই অসময়ে কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছ তুমি? তবে সবচেয়ে ভাল হয় লুবনার বুকে ছুটে গেলে। না-না-না-না, লুবনার কাছে যাবার তো প্রশ্নই ওঠে না। লুবনা যে তার হবু স্ত্রী! এ অবস্থার কি জবাব দেবে সে তার প্রিয়াকে? একদিকে ইন্দ্রিয় অন্যদিকে প্রিয়, কাকে ছেড়ে কার কথা ভাববে তা-ই ভেবে পাচ্ছে না অপু।

অসুর সাহেব শরীর গঠনের একগাদা চিন্তা মাথায় নিয়ে, বুকের ছাতি ফুলিয়ে, চোখমুখ কঠিন করে টয়লেটে এসে হাজির। তারপর অপুকে দেখামাত্র বুকটিকে ফুটো বেলুনের মত চুপসে নিয়ে, মুখ পাংশু করে থুতনি ঝুলিয়ে, তাকিয়ে রইলেন অবাক দৃষ্টিতে। মনে দু’টি প্রশ্ন উঁকি দিল তাঁর। এক, শরীরচর্চা শুরুর আগেই অপুর এই উন্নতি কি করে হল? দুই, উন্নতিই যদি হবে, তবে তা ওই অমন জায়গায় কেন, শরীরগঠন প্রতিযোগীতায় যে জায়গার জন্য কোন পয়েন্টই বরাদ্দ থাকে না?

ওদিকে অপুর মাথাও অস্থির হয়ে আছে নানাবিধ চিন্তায়। চিন্তায় চিন্তায় প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হল তার মাথায়। উভয় মাথায় ব্যাথা। মাথা সংক্রান্ত চিন্তা পরে করা যাবে- এই জ্ঞান করে অপু জ্ঞান হারিয়ে ‘ওস্তাদ- ’ বলে ঢলে পড়ল অসুরের চওড়া কাঁধে।

প্রথমদিনের শরীরচর্চা লাটে উঠল। প্রশিক্ষণার্থীরা সকলে ধরাধরি করে অপুকে ভর্তি করিয়ে দিল হাসপাতালে। ঘটনাটিকে আপাতদৃষ্টিতে অতি তুচ্ছ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এই তুচ্ছ ঘটনার জন্যই তাকে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল চট্টগ্রাম মেডিক্যালের মেডিসিন ওয়ার্ডে। সেই যন্ত্রণাদায়ক তিনটি দিন পাশে অবশ্য হবু স্ত্রীকে পেয়েছিল সে। তবে স্ত্রী’র উপস্থিতি তার নিসঙ্গতা নিরসনে সাহায্য করলেও, যথেষ্ট বিব্রতকরও ছিল। সোহাগী হবু বউটি কিছুক্ষণ পরপর দু’চোখ সরু করে জিজ্ঞেস করছে, ‘আচ্ছা, সত্যি করে বলত, ঘটনাটা কি করে হল?’ অপু কিছুই বলতে পারে না, শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে লুবনার দিকে। কি উত্তর দেবে ভেবে পায় না সে। কোন উত্তর না পেয়ে লুবনা কিছুক্ষণ পরপর ছোট ছোট দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, আর করুণ চোখে অপুর দিকে চেয়ে থাকে। চোখ হয়ে যায় আরো সরু। বৈবাহিক জীবন শুরু না হলেও, লুবনার চোখেমুখে খেলা করে চিরচেনা গৃহবধূর রুদ্ররূপ।

অসুরের পরামর্শে শরীরচর্চা শুরু না করেই অপুর শরীরের কিয়দংশের যে উন্নতি হয়েছিল, তা বেশীদিন স্থায়ী হতে পারেনি ডাক্তার সাহেবদের বদান্যতায়। সময় গড়ানোর সাথে সাথে আহত অপুর সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল ধীরে ধীরে।
রোগে শোকে মানুষ ডাক্তারের সরণাপন্ন হলেও, তার যতটা শারীরিক ততটা মানসিক কারণে নয়। শরীরের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলেও, মানসিক সমস্যা নিয়ে খুব একটা যাই না আমরা।

এরই মধ্যে অপুর ভিতর একটি মানসিক পরিবর্তন ঘটে গেছে, যা সে ছাড়া আর কেউই জানতো না। এমনকি ডাক্তাররাও না। ঘটনার পর থেকে সে আর টয়লেটের কাছ ঘেঁসতে চায় না। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘তবে কি প্রকৃতির ডাকের সাথে তার চিরতরে আড়ি হয়ে গেছে?’ পাগল! তা কি কখনো সম্ভব? মানুষ যে প্রকৃতিরই অংশ। ব্যবস্থা একটা হয়েই যায়।

তবে এই সমস্যাটি ডাক্তারদের অন্তত জানানো উচিত ছিল অপুর। তাহলে সে-ও উপকৃত হত, আর চিকিৎসাবিজ্ঞানও পরিচিত হতে পারত নতুন ধরনের একটি ফোবিয়ার সাথে- ‘টয়লেট ফোবিয়া’।

১৭ thoughts on “ফোবিয়া

  1. (No subject)
    :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  2. ( ) যতই হাসির হোক, বিষয়টা
    (:হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: ) যতই হাসির হোক, বিষয়টা কিন্তু ভয়ঙ্কর, অন্তত পুরুষদের জন্যে (পুরুষ হয়ে জন্মানো যে কি কষ্ট তা কেবল একজন পুরুষই বুঝতে পারে!!!)। আমারতো কল্পনা করতেই গা শিউরে উঠছে, বাপরে!!! পড়ার পর থেকে আমার নিজেরই টয়লেত ফোবিয়া, টয়লেট ফোবিয়া ভাব হচ্ছে। এবার থেকে টয়লেটে যাওয়ার আগে অন্তত ৩ সদস্যের একটা চৌকস দল পাঠাবো রেকি করার জন্যে। :-B :-B :-B

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *