¤আলাপণ ২¤

– এই মধ্যরাতের আকাশ।
– বলে যাও শুনছি।
– দেখেছ আজ রাতভরা কত জোছনা?
– হুম,দেখেছি বলেই তো আমি….
– তুমি কী?
– এই যে রবীন্দ্রসংগীত শুনছি!
– তুমি কিন্তু কথা লুকানোর চেষ্টা করছ তা বুঝতে পারছি।
– ইইহ্!তোমার কাছে কথা লুকিয়ে কী হবে?
– জানিনা,বলোনা ‘দেখেছ বলেই তুমি’?



– এই মধ্যরাতের আকাশ।
– বলে যাও শুনছি।
– দেখেছ আজ রাতভরা কত জোছনা?
– হুম,দেখেছি বলেই তো আমি….
– তুমি কী?
– এই যে রবীন্দ্রসংগীত শুনছি!
– তুমি কিন্তু কথা লুকানোর চেষ্টা করছ তা বুঝতে পারছি।
– ইইহ্!তোমার কাছে কথা লুকিয়ে কী হবে?
– জানিনা,বলোনা ‘দেখেছ বলেই তুমি’?
– আজ শাড়ি পড়েছি।
– সত্যি?কার জন্য পড়েছ?
– ন্যাকা চাঁদটার জন্য।
– তা তোমার চাঁদটা কে?
– তোমায় বলবো কেন?
সে তো আছে পুরো আকাশ জুড়ে।
– তুমি কী রঙের শাড়ি পড়েছ?
– তুমি বলোতো শুনি আন্দাজ করতে পার নাকি?
– উম্,লাল পাড় সাদা শাড়ি?
– হুম,তাহলে দেখা যায় তুমি ততটাও বোকা নও।
– কী,আমি বোকা?
– তা নয়তো কী?
– কেন?তোমার এমন মনে হল কেন?
– এখনো যেহেতু বুঝতে পারনি তাহলে বলেও বোঝানো যাবেনা।
– আচ্ছা বাদ দাও।তুমি কোন গানটা শুনছ?
– ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়
সেকি কেবলই যাতনাময়?’
– এখন বুঝেছি তুমি কোন কথাটি শুনতে চাইছিলে।
– বলো তো শুনি কতটা বুঝেছ?
– নাহ্,বলবো না তোমায়!
– যাও তোমার সাথে তবে আর কথা নাই।
– এত রাগ কর কেন মধ্যরাতের আকাশ?বলছি শোনো।
– আচ্ছা বলো তাহলে।
– ‘আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়োমাঝে
আরো কিছু নাহি চাই।’
– এত কঠিন করে বলার কী হল?
– খুব কঠিন হয়ে গেল?এর চেয়ে
আর কত সহজে বলবো?
– কেন?বলতেই পারো ‘ভালোবাসি’।
– ও আচ্ছা এই কথা!
– হুম জনাব,এইটাই।
– খুব রাগ লাগছে।
– কেন?আমি কি রাগের কিছু বলেছি?
– নাহ্,তোমার উপর নয়।চাঁদের উপর।
– কেন?চাঁদ কী করলো আবার?
– এই যে,বারবার মেঘের আড়ালে চলে যাচ্ছে!
– ঠিক তোমারই মতন।
– কেন আমি কি বারবার মেঘের আড়ালে চলে যাই?
– মেঘের আড়ালে না।অন্যকিছুর আড়ালে।
-অন্যকিছুর আড়ালে বলতে কী বোঝাতে চাইছো?
– বাদ দাও তো এসব!অন্যকিছু বলো।
– সুস্মিতা,আজ না তোমাকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করছে।
– আর কত কাছে?
– অনেক কাছে।সারারাত জোছনায় ভিজে ঘাসের চাদরে
পা ছড়িয়ে বসে কথা বলতে ইচ্ছে করছে।
– কেউতো মানা করেনি কথা বলতে।জোছনায় ভিজো,ঘাসের চাদরে বসে কথা বলো।
– কিন্তু পাশাপাশি না বসে,চোখে চোখ না রেখে কীভাবে হয়?
– মশাই,আপনি বোধহয় ভুলে গেছেন আমরা দুজনায় আছি এখন দুটি শহরেতে।
– না,আমি ভুলিনি।কিন্তু মন যে মানেনা,মুঠোফোন তো আর সহ্য করতে পারেনা।
– কিছু করার নাই!মুঠোফোনই এই মুহূর্তে শেষ উপায়।
– একদিন কিন্তু আমরা এমন প্রতি রাতে খুব গল্প করবো?
– আজ,এখন তবে কী করছি?আলাপ?
– তুমি বুঝতে পারছো না কেন?
আমি যা বলতে চাইছি তা হল….
– থাক বুঝেছি।আজকের এই কথোপকোথন তবে কী?
– এটা আলাপণ।
– কী ব্যাপার চুপ করে রইলে যে?
– সেদিন শুধু আমরা দুজনে, জোছনায় গা ডুবিয়ে,ঘাসের চাদরে মাথা রেখে চাঁদ দেখবো,জোনাকির আনাগোনা দেখবো,ঝিঁ ঝিঁ পোকা আর হাজারো রাতজাগা পাখির গান শুনবো।
– ঠিক আছে পাগল আমার!

১০ thoughts on “¤আলাপণ ২¤

  1. চমৎকার লেগেছে। যতি অ বিরাম
    চমৎকার লেগেছে। যতি অ বিরাম চিহ্নের কারনে মাঝে মাঝে এক্সপ্রেশন নস্ট হয়েছে যায় কথার। লেখার উন্নতি লক্ষ করতে পারছি 🙂 শুভকামনা :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *