দ্য থার্ড পার্টি!

কিছুদিন আগে ইদানিংকালের ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ক নিয়ে লেখা শুরু করি। প্রথম পর্ব লিখেছিলাম মাসখানেক আগে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও লিখতে বসলাম একটা সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয়জনের আবির্ভাব নিয়ে।

দুজন মানব-মানবীর মাঝে সম্পর্ক যখন গড়ে ওঠে তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে আস্তে আস্তে একটা বিশ্বাস জন্মায় । পারস্পারিক একটা কমিটমেনট থাকে যার উপর ভিত্তি করে পুরো সম্পর্কটা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী এবংপুরুষ উভয়ের কাঁধে আপনাআপনি কিছু দায়িত্ব এসে পড়ে; দায়িত্ব থাকে সেই সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখবার। কোনো একজন যদি সেই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে তাহলেই ঘটে যায় অনিবার্য বিচ্ছেদ।


কিছুদিন আগে ইদানিংকালের ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ক নিয়ে লেখা শুরু করি। প্রথম পর্ব লিখেছিলাম মাসখানেক আগে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও লিখতে বসলাম একটা সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয়জনের আবির্ভাব নিয়ে।

দুজন মানব-মানবীর মাঝে সম্পর্ক যখন গড়ে ওঠে তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে আস্তে আস্তে একটা বিশ্বাস জন্মায় । পারস্পারিক একটা কমিটমেনট থাকে যার উপর ভিত্তি করে পুরো সম্পর্কটা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী এবংপুরুষ উভয়ের কাঁধে আপনাআপনি কিছু দায়িত্ব এসে পড়ে; দায়িত্ব থাকে সেই সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখবার। কোনো একজন যদি সেই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে তাহলেই ঘটে যায় অনিবার্য বিচ্ছেদ।

দুজনের সম্পর্কে কোনো ছোট্ট একটি গ্যাপ তৈরি হলেই সেই গ্যাপে ঢুকে পড়ে তৃতীয়জন বা থার্ড পার্টি। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এই থার্ড পার্টির টার্গেট থাকে একজন (ছেলেটি অথবা মেয়েটি), তাকে বর্তমান সম্পর্ক থেকে বের করে এনে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘flirting’- তার মাধ্যমেই এই থার্ড পার্টি তার উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে। দেখা যায়, আগে দুজন দিনের যে সময়টা তুলে রাখতো শুধুই সেই পরস্পর ফোনে কথা বলার জন্য কিংবা দেখা করার জন্য- সেই সময় নিয়ে নেয় তৃতীয় মানুষটি। শুরু হয় ভুল বোঝাবুঝি, একে অপরের ওপর সিরিয়াস অভিমান করা। সম্পর্কে অভিমান থাকেই, কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায় আরেকজন সেই থার্ড পার্টিকে নিয়ে এতোই মগ্ন থাকে যে তার সঙ্গীটি যে অভিমান করে রয়েছে- তা খেয়াল করেও দেখে না। আস্তে আস্তে দুজনের মধ্যে তৈরি হওয়া সেই ছোট্ট গ্যাপটি বিশালাকার ফোঁকরে রূপ নেয়। দিনের পর দিন দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তেই থাকে। দৈনিক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায় একটা সময়। ফলস্বরূপ কোনো একদিন দুজনের সম্পর্কের ইতি টানাও হয়ে যায় সহজেই, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে।

এখন প্রশ্ন হল- এই থার্ড পার্টির হাত থেকে বাঁচার উপায় কী?

আমি নিজের অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি তা হল টার্গেটেড মানুষটি যদি এই থার্ড পার্টির flirting-কে প্রশ্রয় না দিয়ে শুরুতেই থামিয়ে দেয়, অর্থাৎ নিজের আচরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে -‘ভাই, আই অ্যাম এঙ্গেজড’ তাহলে থার্ড পার্টি আর হাজার চেষ্টা করেও দুজনের মাঝে এগোতে পারে না। দুজনের সম্পর্কও অটুট থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ সমস্যা বাঁধে যখন দুজনের কেউ একজন সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধায় থাকে। সে তখন স্পষ্ট করে থার্ড পার্টিকে জানাতে পারে না, কিংবা হয়তো জানাতে চায় না যে সে আসলেই আরেকজনের সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মূলত এই সুযোগের অপেক্ষাতেই থাকে থার্ড পার্টি। সে সুযোগটাকে লুফে নেয় এবং দুজনের মাঝে প্রবেশ করতে থাকে। অতএব, দুজনের সম্পর্কে কোনোরকম দ্বিধা রাখা অত্যন্ত বিপদজনক। যেকোনো দ্বিধার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় যাওয়া উচিত এবং শুরুতেই এসপার-ওসপার করে ফেলা উচিত।

আলোচনার মাধ্যমে দ্বিধাকে দূরে রাখুন
থার্ড পার্টির কবল থেকে মুক্ত থাকুন।

২১ thoughts on “দ্য থার্ড পার্টি!

  1. সত্য বলতে, কিছু সাধারণ ভুল
    সত্য বলতে, কিছু সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি মাঝে মাঝে মনে দাগ কেটে দেয়। এই ছোট দাগ পুষে রাখতে রাখতে তা বৃহত্‍ ক্ষতের সৃষ্টি করে একপর্যায়ে এর শেষ পরিণতি সম্পর্কের পরিসমাপ্তি। মূলকথা হচ্ছে, দুজন ব্যক্তির মনে কোন আফসোস থাকা উচিত না।দুজনকে নিজেদের অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত।

  2. ভালোই লাগলো।সত্যি,একটা
    ভালোই লাগলো।সত্যি,একটা সম্পর্ক গড়তে হলে প্রথমে দুজনকেই স্ট্রেইটফরওয়ার্ড হতে হয়।সব রকম সমস্যা চেপে না রেখে দুজনার মাঝে আলোচনা করতে হয়।

  3. যে কোন সর্ম্পকের ক্ষেত্রে
    যে কোন সর্ম্পকের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টির ভূমিকা হচ্ছে টার্নিং পয়েন্ট। থার্ড পার্টির ভাল এবং খারাপ দিক আছে। দুই জন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস থাকাটা সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *