সব কিছু ভেঙ্গে পড়ছে

প্রথমে তিনটি ঘটনার দিকে একটু চোখ বুলিয়ে নিই-

ঘটনা-একঃ ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী ভোরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময়ে ফেলানি খাতুন কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যান।


প্রথমে তিনটি ঘটনার দিকে একটু চোখ বুলিয়ে নিই-

ঘটনা-একঃ ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী ভোরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময়ে ফেলানি খাতুন কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যান।

ঘটনা-দুইঃ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে ব্লগে সক্রিয় ছিলেন আহমেদ রাজিব। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ রাত ৯টার দিকে তিনি শাহবাগ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তার পরিবারিক সূত্র জানায়, বিকাল ৩টার দিকে শাহবাগের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন রাজিব। রাজধানীর পল্লবীতে খুন হয়েছেন ব্লগার আহমেদ রাজিব হায়দার (৩৫); শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে পলাশনগরে তার বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনা-তিনঃ গত ১৪ই অগাস্ট রাতে ঢাকার চামেলীবাগের নিজ বাসায় খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমান। হত্যাকান্ডের তিনদিন পর তাদের মেয়ে ঐশী রহমান পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে।
এইবার অতিপ্রিয় হুমায়ুন আজাদ স্যারের কবিতা “সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে” কয়েকটা লাইনের পরই মূল লিখায় যাব।

“আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ; চ’লে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ’লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল-
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানখেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে”।

নষ্টদের অধিকারে যাওয়া মানবিক সকল সংঘ পরিষদ আজ একে একে ভেঙ্গে পড়ছে। তাই বিষয়ত্রয় এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার ভাঙনের সুর উন্মোচন করে-

ক) সীমান্তে মানবতা লাঞ্ছিত, এইটাই মূল কথা! লাশ ঐ পাড়ে পড়ুক আর এই পাড়ে পড়ুক,লাশ হচ্ছে মানুষ। “স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থায় কোন রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা থাকতে পারে না কেননা রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় মানুষ কখনই স্বাধীন নয়”; এইবার দেখি সীমান্তের মানুষদের স্বাধীনতা কেমন? গরু চুরি? ফেন্সিডিল পাচার? ভারতীয় কম দামী পন্য বাংলাদেশে এনে দেশীয় পন্যের বাজার নষ্ট করা এবং উচ্ছ মুনাফা করা? বাংলাদেশের তেল বা এমন পন্য যেসবের দাম এই পাড়ে কম ঐসব ঐপাড়ে পাচার অথবা বিপরীতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী কাজ করা? নারী এবং শিশুকে ব্যাপক হারে এইসব কাজে ব্যাবহার করা? পরিনামে বিএসএফ-বিজিবি’র আইনের অতিপ্রয়োগ অথবা অপপ্রয়োগ। গত ৪২ বছরে বাংলাদেশের সীমান্তের গরীব মানুষ কত প্রান দিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই অপরদিকে ২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল। বাংলাদেশ আর ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এদিন নিহত হয়েছিলেন ১৮ জন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের গ্রাম বড়াইবাড়িতে এই সংঘর্ষের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এক কঠিন সংকটের মুখে পড়ে। এতে কি প্রমান হচ্ছে? গোটা দুনিয়ার রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার সঙ্কটের প্রশ্নে আর নাইবা গেলাম। এই মেকী জাতীয়তাবাদ কতটা সর্বনাশ করেছে মানব সভ্যতার তা বুঝতে এই মানবকূলের আর কত শতাব্দী লাগবে এইটাই এখন প্রশ্ন! ১৮ শতকে ইংল্যান্ডে এই মানবতা বিধ্বংসী মতবাদের উদ্ভব ঘটে পরবর্তীতে পরাসি বিব্লবের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পরে। আর আজ এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু অনিকেত প্রান্তরের মৃত্যুর মিছিলের কারণ নয় এটা গোটা ২ মহাযুদ্ধ এবং বর্তমান-আগামীর সকল অনিশ্চয়তার অন্যতম প্রধান কারণ। নানানভাবে অবশেষে এই প্রতিষ্ঠানটির ভঙ্গুর দশা আজ তাবৎ দুনিয়ার সমাজ বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের কাছে স্পষ্টত দৃশ্যমান অর্থাৎ ‘রাষ্ট্র আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের অধিকারে’।

খ) ১২০০০ বছর আগে খ্রিষ্টপূর্ব ৯৮৩১ সালের দিকে Neolithic Revolution এর হাত ধরে মানব সমাজে ধর্মের ধারনার উৎপত্তি। আজ ১২,০০০ বছর ধরেই এই মতবাদের অনুসারীরা তাদের সাথের মতের অমিলের মানুষদের হত্যা করে এসেছে। এই তালিকায় সক্রেটিস থেকে হাইপেশিয়া বা ব্রুনো থেকে হুমায়ূন আজাদ অথবা জন লেননের মত জনপ্রিয় গায়কেরা প্রান দেন। আমাদের দেশের উগ্রধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতেও লাশ হওয়া মানুষের পরিমাণ নিতান্তই কম নয়। এ থেকে শুধুই তাদের অতিসংবেদনশীলতা বা প্রতিক্রিয়াশীলতার প্রমাণ মিলে তা নয়, ধর্মীয় মৌলবাদ যে একটি নিরাময়যোগ্য মানুষিক ব্যাধি তারও প্রমান মিলে। কিছুদিন আগের একটা মার্কিন গবেষণার তথ্যের কথা মনে পরল আর তা হল ‘চিনির আসক্তি কোকেনের আসক্তি থেকে বেশী বিপদজনক’; কিন্তু এতে সবাই আসক্ত বলে আমরা সবাই একে অসুস্থতা মনে করছি না। এই ১২ হাজার বছর ধরে মানব সভ্যতার সকল যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং প্রাণঘাতী বেশীরভাগ কার্যকলাপের অন্যতম মূল হাতিয়ার ধর্মও আজ সমাজ বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের কাছে আরেকটি বাহুল্যের নাম। কতটা অসহিষ্ণু হলে মানুষ লিখনির বা কথা বলার কারণে মানুষকে সভ্যতার এই পর্যায়ে এসে খুন করতে পারে? এই একটা ন্যায়সঙ্গত প্রশ্নই প্রমাণ করে ‘মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা। অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে; চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে’।

গ) এইবার দেখি ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা ‘পরিবার’ যার বলি হল ঐশী এবং তার মা-বাবা। ৮৫০০ বছর আগে কৃষিবিপ্লবের পর যখন নারীর ভূমিকা সমাজে পুরুষের থেকে আলাদা হতে থাকল এবং নারী ক্রমেই গৃহস্থলী কাজে ব্যস্থ হতে থাকল তখন থেকেই পরিবার প্রথার শুরু। আজ সমাজের সন্তানদের জন্মদাতারা তাদের দায়িত্ব নিয়ে নিজের ছায়ায় নিজের মত করে বড় করতে চাই তা একই সাথে যেমন সৃজনশীল মানুষ সৃষ্টিতে একটা বড় বাধা তেমনি ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক এবং প্রধান বাধা। শুধু ঐশী বা তার জন্মদাতারা কেন এমন দান্দিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে অনেক পরিবার সারাবিশ্বে। আজ মিষ্টির বা চিনির মত মুখরোচক সব নেশা দিয়ে সমাজকে নেশাগ্রস্থ করে রাখলে আমরা বুঝতে পারি না কেননা সমাজ এখনও বুঝতে শিখেনি কিসে বাধা আর কিসে মুক্তি। এমন মেকী প্রতিষ্ঠানের প্রতীকী প্রতীবাদ করতে গিয়ে সারত্রে তার জীবনটাই কাটিয়েছেন হোটেলে কেননা পরিবার প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান মশলাচ্ছন্ন হাতিয়ার হচ্ছে বাসা বা ঘর। কোনটা সুস্থতা আর কোনটা ব্যাধি বুঝতে সময় লাগলেও সভ্যতা তার পথচলয়ায় ক্রমাগত পরীক্ষা-প্রতিপরীক্ষার (চেক-ক্রসচেক) পর মানব কল্যাণের এবং স্বাধীনতার জন্য সহায়ক সমাজব্যবস্থাটাই বেঁচে নিবে। ভেঙ্গে পড়ার তালিকায় তাই সমাজবিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের কাছে পরিবার আরেকটি ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানের নাম।

এমন লাশের মিছিল থেকে এইটাই মানবতার শিক্ষা হওয়া উচিৎ। সমাজের এই আদি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমাগত ব্যর্থতা আধুনিক বিশ্বকে সবসময় আগে ভাবতে শিখালেও যথারীতি নিয়মসিদ্ধভাবেই এই দুঃখী জনপদের ক্ষুধার্ত মানুষকে পরে উপলব্ধিগুলো দেয়। দুনিয়া জুড়ে মেকী মশলাচ্ছন্ন সকল প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ভঙ্গুর দশা এইটাই প্রমাণ করে সব দুর্বল গাঁথুনির প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে পরবে অতিসম্প্রতি।

অর্থাৎ মানব সভ্যতার একটাই টেকসই স্থায়ী প্রতিষ্ঠান তা হচ্ছে ‘মানবতা’; এটাই ধর্ম, এটাই রাষ্ট্র, এটাই পরিবার, এটাই সমাজ যতদিন বিশ্ববাসী এমন মতে একমত হবেনা ততদিন এমন ইতস্তত মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না কেননা বিষবৃক্ষের অবস্থান নিশ্চিত করে ডালপালা কর্তন নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক

মানবতার জয় হোক।

তারিক লিংকন
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩,ঢাকা

৩৮ thoughts on “সব কিছু ভেঙ্গে পড়ছে

    1. মানবতার জয় অনিবার্য…
      মানবতার জয় অনিবার্য… অপেক্ষায় থাকলাম!! :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  1. বিষবৃক্ষের অবস্থান নিশ্চিত

    বিষবৃক্ষের অবস্থান নিশ্চিত করে ডালপালা কর্তন নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক।

    :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :মাথানষ্ট: খুব সত্য একটা কথা বলার জন্য লিংকন ভাইকে :bow:

  2. খুভ ভাল লিখেছেন তারিক ভাই,
    খুভ ভাল লিখেছেন তারিক ভাই, আমার পড়া আপ্নার সেরা পোষ্ট। গুম গুম নিয়ে পোষ্ট পড়া শুরু করছিলাম কিন্তু পোষ্ট শেষ করার পর ঘুমটাই কেটে গেল।

    ” ভেঙ্গে পড়ার
    তালিকায় তাই
    সমাজবিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের
    কাছে পরিবার আরেকটি ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানের
    নাম”
    বেশিরভাগ পারিবারিক মানুষগুলার কাছেই এ সত্য মেনে নেয়া কষ্টকর হবে অনেকে সরাসরি নাকোচ করবে। এ তত্ব বুজতে আমাদের কে আরেকটু বিবর্তিত হতে হবে, দু-তিন প্রজন্ম তো লাগবেই

    1. অফুরন্ত ধইন্যা খড়কুটো ভাই…
      অফুরন্ত ধইন্যা খড়কুটো ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. ‘সবসময় সবকিছুর সমালোচনা করা
      ‘সবসময় সবকিছুর সমালোচনা করা বিবেকবানের নয়, নির্বোধের কাজ’…
      কেননা কারও ভাল করার জন্য সমালোচনা যদি তার খুনিদের সুযোগ করে দেয় তবে আপাতত সমালোচনা না করাই শ্রেয়…
      শুভবুদ্ধির জয় হোক… মানবতার জয় হোক…

      1. কেননা কারও ভাল করার জন্য

        কেননা কারও ভাল করার জন্য সমালোচনা যদি তার খুনিদের সুযোগ করে দেয় তবে আপাতত সমালোচনা না করাই শ্রেয়…

        এই কথাটা আমাদের কিছু অতি জ্ঞানী নির্বোধকে যদি বুঝাইতে পারতাম… :ভাবতেছি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :কথাইবলমুনা:

        1. যারা বুঝেও নিজের স্বার্থের
          যারা বুঝেও নিজের স্বার্থের জন্য সব অন্যভাবে সাজিয়ে নেয় তাদের আপনি বুঝাবেন কীভাবে? আশাকরি অবশেষে সত্য এবং মানব কল্যাণের জয় হবে…

    1. কি ভাই ভেবে কিছু পেলেন? নাকি
      কি ভাই ভেবে কিছু পেলেন? নাকি নিজের পরিচয় ব্রহ্মপুত্র নদীতে হারিয়ে ফেললেন?
      ভাবাভাবি বাদ দিন, এইবার মুখ খুলেন… :মনখারাপ: :মনখারাপ:

    1. আমি কিন্তু আপনি যেইভাবে
      আমি কিন্তু আপনি যেইভাবে ভাবছেন ঠিক সেই অর্থে বিরোধিতা করি নি…
      আমি গতানুগতিকধারার পরিবার প্রথার বিরুদ্ধাচার করছি!! এইখানেও অনেক
      উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ আছে… একটু ভেবে দেখেন!! আর যেই প্রথা আপনার-আমার কাছে যুগের পর যুগ মিষ্টির মত তীব্র নেশা দিয়ে নেশাগ্রস্থ করে রাখছে সেই ব্যাপারটা ভাবতে বলছি… আমি জানি এর থেকে বের হতে মানবসভ্যতার আরও কয়েক শতাব্দী লেগে যাবে!! আপাতত সংস্কারের প্রয়োজনবোধ করছি… ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  3. মানব সভ্যতার একটাই টেকসই

    মানব সভ্যতার একটাই টেকসই স্থায়ী প্রতিষ্ঠান তা হচ্ছেঃ ‘মানবতা’;
    এটাই ধর্ম, এটাই রাষ্ট্র, এটাই পরিবার, এটাই সমাজ …
    তাই মশলাচ্ছন্ন বাকি সব নেশার দ্রব্য থেকে মানবতা সাবধান!!

    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ: :ফুল:

    1. ধন্যবাদ…
      ধন্যবাদ… :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  4. কিন্তু তারিক ভাই মানবতা ধর্ম
    কিন্তু তারিক ভাই মানবতা ধর্ম পালন করার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠে নাই। অনেক ক্ষেত্রেই এটা একটা বিচ্ছিন্ন চেষ্টা হয়ে চলছে। অপর দিকে বিগত হাজার বছরের চেষ্টায় তারা শক্ত অবপস্থানে রয়েছে। এই শিকল বা দেয়াল যাই বলি না কেন এটা ভাঙতে যে কত সময় নেবে!

    লেখাটা দারুন হয়েছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  5. লিংকন,
    লেখাটা পড়লাম । যে

    লিংকন,
    লেখাটা পড়লাম । যে ইস্যুগুলো সামনে আনলেন তা বর্তমান রুঢ় বাস্তবতা । রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে ক্ষমতা সংহত করে কতিপয়ের ভোগের জন্য । অর্থাৎ রাষ্ট্রে চলছে ” কতিপয় তন্ত্র ” এবং তান্ত্রিকেরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে তাদের সম্পদ সুরক্ষার জন্য । এর জন্য যতটা কঠোর বা নির্মম হওয়া দরকার হয় ততটাই নিষ্ঠুরতার প্রকাশ রাষ্ট্র দেখিয়ে থাকে । যন্ত্রের কোন মানবিক বোধ নেই । একারণে রাষ্ট্রকে যন্ত্রের সাথে তুলনা করা হয় । এই রাষ্ট্রযন্ত্র ‘র পাহারাদার’ রা পৃথিবী জুড়ে গ্লোবালাইজেশনের নামে তাদের বাজার সম্প্রসারিত করে যাচ্ছে । তাকে যে তা করতেই হবে । পুঁজির বেঁচে থাকার জন্য বাজারের কোন বিকল্প যে নেই । একারনেই আফগানস্থান, ইরাক, লিবিয়া, মিশর বর্তমানে সিরিয়া তার টার্গেট । বেঁচে থাকার টার্গেট । কিন্তু এতে করে আখেরে লাভ হবে না । কেবল সেই অবশ্যম্ভাবী চূড়ান্ত একক ব্যক্তিগত পরিবারহীন সমাজ ব্যবস্থার সু- আগমনকে বিলম্বিত করবে মাত্র ।

    আর তাই হুমায়ূন আজাদের কবিতার সাথে আপাত কণ্ঠ মেলালেও জানি নষ্টদের অধিকার থেকে একদিন সব সঙ্ঘ , সমাজতন্ত্র তার কাংখিত অভিযাত্রার দিশা খুঁজে পাবে । সমাজের গতি সেদিকেই । তাই এটা বলা যাবে না সামনে ধু ধু অন্ধকার , কিছুই দেখা যায় না … এখানেই বুঝি পথের শেষ ।

    আপনার এই লেখাটায় আমি গতি খুঁজে পেয়েছি কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পথ খুঁজে পাইনি । তাই গতিপথ খুঁজতে গিয়ে বার বার হোঁচট খেয়েছি । হতে পারে পথের সন্ধান আপনিও খুঁজে পান নি অথবা আমি অন্ধ তাই হোঁচট খাওয়াটা ছিল আমার জন্য অবধারিত ।

    চিন্তা জাগানিয়া পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ !!!

    1. ‘আর তাই হুমায়ূন আজাদের কবিতার
      ‘আর তাই হুমায়ূন আজাদের কবিতার সাথে আপাত কণ্ঠ মেলালেও জানি নষ্টদের অধিকার থেকে একদিন সব সঙ্ঘ , সমাজতন্ত্র তার কাংখিত অভিযাত্রার দিশা খুঁজে পাবে । সমাজের গতি সেদিকেই । তাই এটা বলা যাবে না সামনে ধু ধু অন্ধকার , কিছুই দেখা যায় না … এখানেই বুঝি পথের শেষ’—দুর্দান্ত রাহাত ভাই… সহমত!!
      করনীয় নিয়ে যা বলার সমাজবিজ্ঞানী আর দার্শনিকেরাই বলছেন বলবেন… কিন্তু সাধারণেরা যদি বুঝতেই না পারে এইসবই অন্যতম মূল সমস্যা তবে সাবধান হবে কি করে…
      আর সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অফুরন্ত ধইন্যা রাহাত ভাই :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল:

      1. নিজের মন্তব্য পড়ে নিজেই ফিদা
        নিজের মন্তব্য পড়ে নিজেই ফিদা হয়ে গেলাম । বাহ ভালো লিখেছি তো । বেশ একটা সুশীল সুশীল ভাব আছে … হাহাহাহা । তবে, কথাগুলো আমার বিশ্বাসের আগুন থেকে নেওয়া । আপনার এই পোস্ট না পড়লে হয়তো এই আগুনিও বিশ্বাস এখানে লিপিবদ্ধ হতোনা …

        1. কথাগুলো আমার বিশ্বাসের আগুন
          :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: কথাগুলো আমার বিশ্বাসের আগুন থেকে নেওয়া । আপনার এই পোস্ট না পড়লে হয়তো এই আগুনিও বিশ্বাস এখানে লিপিবদ্ধ হতোনা …

    2. আপনার এই লেখাটায় আমি গতি

      আপনার এই লেখাটায় আমি গতি খুঁজে পেয়েছি কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পথ খুঁজে পাইনি । তাই গতিপথ খুঁজতে গিয়ে বার বার হোঁচট খেয়েছি । হতে পারে পথের সন্ধান আপনিও খুঁজে পান নি অথবা আমি অন্ধ তাই হোঁচট খাওয়াটা ছিল আমার জন্য অবধারিত ।

      :ভাবতেছি: :-B :খাইছে: :দেখুমনা: :মনখারাপ: :কানতেছি: :আমারকুনোদোষনাই:

  6. এই ১২ হাজার বছর ধরে মানব

    এই ১২ হাজার বছর ধরে মানব সভ্যতার সকল যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং প্রাণঘাতী বেশীরভাগ কার্যকলাপের অন্যতম মূল হাতিয়ার ধর্মও আজ সমাজ বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের কাছে আরেকটি বাহুল্যের নাম। কতটা অসহিষ্ণু হলে মানুষ লিখনির বা কথা বলার কারণে মানুষকে সভ্যতার এই পর্যায়ে এসে খুন করতে পারে? এই একটা ন্যায়সঙ্গত প্রশ্নই প্রমাণ করে ‘মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা। অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে; চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে’।

    সবকিছু নষ্টদের দখলে চলে গেছে অলরেডি

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow:

    1. আর আমরা নর্দমায় হাবুডুবু খেয়ে
      আর আমরা নর্দমায় হাবুডুবু খেয়ে বার বার চিল্লাচ্ছি এই নর্দমার থেকে ঐ নর্দমা ভাল অথচ খেয়েলই করছেন না যে নর্দমার বাইরেও একটা সুন্দর জগত আছে…
      অমিত লাবন্য আপনাকে অফুরন্ত ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল:

    1. যে আমি বিতর্ক করি
      সে আমি

      যে আমি বিতর্ক করি
      সে আমি জ্বলে উঠি দ্বিমুখী শক্তির ঘর্ষে
      যুক্তিতে সব্যসাচী আর চেতনায় অনির্বাণ হয়ে….

      — অনবদ্য… ধন্যবাদ ডানা ভাই…

    1. (No subject)
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *