বিভক্তি, যুদ্ধ অতঃপর আবারো স্বপ্ন দেখা

(“জননী জন্মভুমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী”)
(জননী ও জন্মভুমির স্থান স্বর্গের চেয়েও উপরে)

অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস (!) শুধু মাত্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব পোষণের ফলাফল স্বরূপ আজ অসহায় কিছু মানুষ কে মা-মাটি ছেড়ে, বাপ-দাদার চৌদ্দ পুরুষের ভিটে বাড়ি ফেলে পাড়ি দিতে হচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অন্তহীন অজানা পথে।
এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে যখন কাও কে তার সবচেয়ে প্রিয়তম স্থান মাতৃভূমি কে চিরকালের জন্য বিদায় জানিয়ে চলে যেতে হয়..


(“জননী জন্মভুমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী”)
(জননী ও জন্মভুমির স্থান স্বর্গের চেয়েও উপরে)

অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস (!) শুধু মাত্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব পোষণের ফলাফল স্বরূপ আজ অসহায় কিছু মানুষ কে মা-মাটি ছেড়ে, বাপ-দাদার চৌদ্দ পুরুষের ভিটে বাড়ি ফেলে পাড়ি দিতে হচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অন্তহীন অজানা পথে।
এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে যখন কাও কে তার সবচেয়ে প্রিয়তম স্থান মাতৃভূমি কে চিরকালের জন্য বিদায় জানিয়ে চলে যেতে হয়..

আজ এই সব কিছুর মূলে একটাই জিনিষ কাজ করছে। সেই পুরোনো ধর্ম। শুনেছিলাম ধর্ম নাকি মানব মুক্তির কথা বলে, জীবনের জয়গান রচনা করে, মানব কল্যাণের কথা বলে, অথচ মানব মুক্তির সেই ধর্ম ই আজ জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসেছে মানুষের বুকের উপর। আজ এই ধর্মের কারণেই মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, এত হানাহানি, একটি অখন্ড দেশের বুকের উপর দিয়ে এঁকে বেঁকে চলে যায় বিভাজনের রেখা, একটি কাঁটা তারের বেঁড়া, সেথায় বসে থাকে অতন্দ্র প্রহরী মারণাস্ত্র হাতে। মূহুর্তেই একটি মানচিত্র ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। একটি ভুখন্ড বিভক্ত হয়ে যায় শত-সহস্র নামে।
ধর্মের মাদকতা আজ এত ভয়াবহ ভাবে নেশায় আসক্ত করে ফেলেছে গোটা সমাজ কে যে এই নেশা থেকে মুক্ত হওয়া আজ শুধু দুষ্কর ই না, কোনও কোনো ক্ষেত্রে অসম্ভব ও বটে..
ধর্মান্ধ মৌলবাদ আজ পুরো পৃথিবীকে ৩য় মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। শ’য়ে শ’য়ে মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়ে যাচ্ছে ধর্ম নামক আফিমের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে। আজ আমরা আল্লাহ, ঈশ্বর, গড এর জন্যে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে দিচ্ছি, আবার একজন আরেকজনকে খুন করতেও দ্বিধা বোধ করছি না। এমনকি আপন ভাই-বোন, পিতা-মাতা কে খুন করতেও আমাদের এতটুকু হাত কাঁপছে না।
এতটাই সর্বনাশা নেশা এই ধর্ম নামক মাদকের।

প্রগতিশীলতা আজ থমকে গেছে, মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ঘরের কোনায়। নির্বাক চোখে দেখে যাচ্ছে ভাইয়ে-ভাইয়ে লড়াই। মারণাস্ত্রের গর্জনে কেঁপে কেঁপে উঠছে মানবতা। পুরো মানব জাতি আজ এক চরম মূহুর্তে উপনীত হয়েছে। চারিদিকে আজ নিরাশার ঘন কালো মেঘ জমে উঠেছে। মানব কল্যাণের স্বপ্নগুলো আজ স্বজন হারানোর আহাজারিতে চাঁপা পড়ে গেছে। যেদিকে তাকাই শুধু ক্লান্ত, হতাশ মুখ দেখতে পাই। আজ সবাই মন খুলে হাসতে ভুলে গেছে। চারিদিকে কেমন একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ।
স্বপ্ন দেখতেও এখন ভয় লাগে।

তবুও আশান্বিত এ মন প্রত্যাশা করে থাকে সেই মূহুর্তের জন্য।
একদিন আসবে যেদিন এই ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটা অভিধান থেকে মুছে যাবে, একদিন আসবে সেই সুসময় যখন ধর্মের নামে হানাহানি/মারামারি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। একদিন ঠিক ই আসবে সেই মূহুর্তটা যেদিন মানুষ ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে একে অন্যের সাথে।

তবে সেই দিন, সেই সুসময় কিন্তু এমনি এমনি আসবে না, ঈশ্বর প্রেরিত কোনও দেবদূত ও আসবে না এই পৃথিবীর জঞ্জাল পরিষ্কার করতে। আমাদের তৈরী করা জঞ্জাল আমাদেরকেই পরিষ্কার করতে হবে।
সেই সুসময় আমরাই আনতে পারি শুধু মাত্র সঠিক জ্ঞাণ চর্চার দ্বারা, মুক্ত বুদ্ধির চর্চা দ্বারা, জ্ঞান বিকশিত হলেই ঘুমিয়ে থাকা বিবেক জাগ্রত হবে। বিবেক ই তখন আমাদের পরিচালনা করে নিয়ে যাবে, তখন কাজে-কর্মে, দক্ষতায়-ক্ষমতায়, প্রেমে-ভালবাসায় আমরাই হয়ে উঠব এক একজন দেবদূত..

চেতনার হাল ছেড়ে দেইনি, এখনো হাল ধরে আছি শক্ত হাতে। ধরে থাকবো যতক্ষণ এই শরীরে প্রাণ থাকবে।

বুকের গভীর থেকে বার বার কে যেন প্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছে, কে যেন নিভৃতে বসে গেয়ে যাচ্ছে,,

“আমরা করব জয়, আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন, ওহো বুকের গভীরে আছে প্রত্যয়, আমরা করব জয় একদিন।”

We shall over come, we shall over come
We shall over come someday,
Oho deep in my heart, I do believe that, we shall over come someday…

১০ thoughts on “বিভক্তি, যুদ্ধ অতঃপর আবারো স্বপ্ন দেখা

  1. ধর্মান্ধ মৌলবাদ আজ পুরো

    ধর্মান্ধ মৌলবাদ আজ পুরো পৃথিবীকে ৩য় মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

    লাইনটা দয়া করে ব্যখ্যা করবেন???

      1. আমি সিধাসাধা নাদান বাচ্চা।
        আমি সিধাসাধা নাদান বাচ্চা। দুনিয়ার কোন খবরই রাখি না। আপনি একটু আমাকে জানান, বিশ্বে যে কটা বড় সমস্যা/যুদ্ধ এখন চলছে, তার কোনট ধর্মের জন্য হচ্ছে?

        1. যুগে যুগে মানুষের মধ্যে যুদ্ধ
          যুগে যুগে মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে অধিকার নিয়ে, সম্পদ নিয়ে। সেটা গ্রহণযোগ্য। তবে শুধু মাত্রও ধর্মের কারণে যুদ্ধ কতটুকু গ্রহণযোগ্য ?

  2. খুব ভালো বলেছেন।আবার আপনার সব
    খুব ভালো বলেছেন।আবার আপনার সব কথাই যে ভালো লেগেছে তাও নয়।আসলে ধর্ম নিয়ে বারাবাড়ি কোনো কালেই মঙ্গলকর নয়।

  3. তবে সেই দিন, সেই সুসময়
    তবে সেই দিন, সেই সুসময় কিন্তু
    এমনি এমনি আসবে না, ঈশ্বর
    প্রেরিত কোনও দেবদূত ও
    আসবে না এই পৃথিবীর জঞ্জাল
    পরিষ্কার করতে। আমাদের
    তৈরী করা জঞ্জাল আমাদেরকেই
    পরিষ্কার করতে হবে।
    সেই সুসময় আমরাই আনতে পারি শুধু
    মাত্র সঠিক জ্ঞাণ চর্চার দ্বারা,
    মুক্ত বুদ্ধির চর্চা দ্বারা, জ্ঞান
    বিকশিত হলেই ঘুমিয়ে থাকা বিবেক
    জাগ্রত হবে। বিবেক ই তখন
    আমাদের পরিচালনা করে নিয়ে যাবে,
    তখন কাজে-কর্মে, দক্ষতায়-
    ক্ষমতায়, প্রেমে-ভালবাসায় আমরাই
    হয়ে উঠব এক একজন দেবদূত।

    ভালো বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *