সরকার আমার আপন ভাই, ধান কাঁটি আর নৌকা চালাই!!

আমার আমিত্ব অস্তিত্ব সন্ত মন্ত বান্দর তত্ত্ব এইসব নিয়া লেখার দিন শেষ। তথ্য প্রযুক্তি আইন যেইভাবে করা হইছে তাতে এখন থেইকা প্রতিটা শব্দ, পারলে কি বোর্ডের বাটন গুলা পর্যন্ত মোসাহেবির দ্বারা লেহ্য চোষ্য কইরা নিতে হবে। তা না হলে দিন শেষে রাতটা শ্রীঘরেই কাটাতে হতে পারে। নৌকা মার্কা সরকার অথবা ধান গাছি সরকার যেই আসুক না কেন, বদ্ধ সমাজ ব্যবস্থার অন্ধ সরকার ভোটের জন্য সবই করতে পারে। আগে লেখকসমাজের গলা টিপে ধরা হত বলে শুনেছি, এখন শরিয়া আইন মোতাবেক হাত কেটে নিলেও অবাক হব না। মুক্ত চিন্তা যুগে যুগে আগুনে পুড়েই মরেছে। কিন্তু বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা হল শান্তির রোল মডেলের নামে, ব্লাসফেমি আইন প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমানকালে অনুভূতির প্রকারভেদ এত বেড়েছে যে, পান থেকে চুন খসলেই মনে হবে পানের অনুভূতিতে আঘাত লেগে গেল। দুঃখের বিষয় তথ্য প্রযুক্তির এই ব্লাসফেমি আইনে অনুভূতির পাশে সহানুভূতির দাম নাই।নতুন এই আইনের ৮০ ধারায় বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে কোথাও এ আইনের পরিপন্থী কিছু হচ্ছে এমন তথ্য পুলিশ জানতে পারলে তল্লাশিপূর্বক কোনো বস্তু জব্দ বা কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। অপ্রকাশ্যে বা গোপনেও কেউ যদি এ আইনের অপরাধ করে, তবে তার বিরুদ্ধেও পুলিশ একই ব্যবস্থা নিতে পারবে। এক্ষেত্রে মামলা বা গ্রেপ্তার করতে পুলিশের কোনো পূর্বানুমতি বা পরওয়ানা লাগবে না। সরকারের নিয়োগ দেয়া উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন এমন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করতে পারবেন। মানে কি??? তাহলে নিয়ম হয়ে যাবে, লেখো আর ধরা খাও। আর বাংলাদেশের যা পুলিশ!!!! সার্চ করার নামে অঙ্গে অঙ্গে হাতছানি দিয়ে যায়…থামে গিয়ে মানিব্যাগের উপরে।

সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকার জরিমানা– এইটা মানতে পারলাম না। আমার বাপের যদি এত টাকাই থাকতো, তাহলে ফেইসবুক বা ব্লগে চাউল, ডাউল, তৈল, সুন্দরবন বান্দরবন নিয়া থাকতাম না। গোয়া তে গিয়া কিটি পার্টিই করতাম।

আমাদের দেশে রাজাকার এবং দেশদ্রোহী রা জামিনে ছাড়া পায়, কোটি কোটি টাকা চুরি করেও লন্ডনের হাওয়া বাতাস খায়, সেতুর নামে পাবলিক রে সাগু খাওয়ায়, তাতে কোন দোষ নাই। অথচ এইগুলার বিপক্ষে কথা বললে অথবা অন্ধবিশ্বাস দূর করার জন্য ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত কষ্ট করলে আপনি হবেন অজামিনযোগ্য এক ভয়ানক অপরাধী। দুনিয়ার “Better Half” নামক নারীজাতিকে যারা “Total Worst” বানাতে দ্বিধা বোধ করে না, ধর্ম নামের বিকৃতি ঘটিয়ে যখন তারা ভোটের রাজনীতির কুশীলব বনে যায়, তাদেরই পদলেহন করে মুক্ত চিন্তার গলার উপর দিয়ে পদব্রজ করে যাচ্ছে এই নোংরা তথ্য প্রযুক্তি আইন।

ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠার পর কিছুদিন পর দেখবেন আপনাকে কেবল 0 আর ১ খেতে হবে। প্রতিবাদ করবেন তো ২,৩,৪,৫ খাওয়াইয়া দিবে। যারা অনেক বড় মহারথী তাদের ম্যানহোলের পানি তো খেতেই হবে। চাউল, ডাউলের চিন্তা বাদ।

ফেইসবুক, ব্লগিং ছেড়ে মনে হচ্ছে এখন সরকারের গুন গাওয়ার জন্য কীর্তন দল খুইলা বসি। পাছে না এই লেখা লেখার জন্য আমাকেও শ্রীঘরে হজ শেষে কোরবানি দিয়ে দেওয়া হয়।

৭ thoughts on “সরকার আমার আপন ভাই, ধান কাঁটি আর নৌকা চালাই!!

  1. সার্চ করার নামে অঙ্গে অঙ্গে

    সার্চ করার নামে অঙ্গে অঙ্গে হাতছানি দিয়ে যায়…থামে গিয়ে মানিব্যাগের উপরে।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. আমার তো মনে হয় আপনাকে শ্রীঘরে
    আমার তো মনে হয় আপনাকে শ্রীঘরে যেতেই হবে!!!যে আইন করা হইছে তাতে পুরা তা-না-না অবস্থা।পোস্ট তো দূরে থাকুক মন্তব্য করতেও বুক কাঁপে।এই বোধ হয় শ্রীঘর থেকে জামাই আদরের ডাক পড়লো!!!আমরা যতই এগিয়ে যেতে চাইছি আমাদেরকে পিছন থেক টেনে ধরা হচ্ছে।তাও আবার শুধু টেনে ধরলেও এক কথা ছিল,রীতিমত আইন করে টেনে ধরা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *