নদীর অসুখ

মহিলা কবি বা লেখকের লেখা তেমন পড়া হয়না। তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়। উনার লেখার মত চমৎকার অলংকরন আমি আর কোনো লেখকের লেখায় পাইনি। প্রতিটা শব্দ যেন মালার একেকটা ফুল। অসম্ভব চিন্তাশক্তি এবং মাধুর্য দিয়ে উনি উনার প্রতিটা লাইন রচনা করেন। উনার পরেই যে লেখিকা আমার প্রিয়দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি হলেন বিভা। তার লেখায় আমি ফাল্গুনীকে খুঁজে পেয়েছি। উনিও চমৎকার উপমা দিয়ে রচনা করেন যার সাধ্য আমার এখনো হয়নি। উনি কিছুদিন আগে আমার জন্ম দিনে শুভেচ্ছা বার্তা যা দিয়েছিলেন সেটি এক কথায় অদ্বিতীয়। আমার কথা বিশ্বাস না হলে উনার টাইমলাইনে গিয়ে তার লেখা পড়তে পারেন। বিভা দি, আমি আপনার অনেক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আপনি লিখতে থাকেন, আশা করি বাংলা সাহিত্যকে আপনি অনেক কিছু দিতে পারবেন। আমি খুবই চুনোপুটি লেখক অনেকের তুলনায়, তবে হ্যাঁ নিজের কাছে আমি সবচেয়ে প্রিয় আমার। আমার সামর্থ্যের মাঝে তোমার জন্য এই কবিতাটি লিখেছি।

নদীর অসুখ

ভালাবাসা মরে গেছে-ঢেকে সাদা চাদর,
আলগোছে ভেঙ্গে গেছে নদীর পাঁজর।
একা একা নদী বয়, ঘুরে ঘুরে কথা কয়;
শিশিরেরা ভুলে গেছে ঘাসের আদর।
আলগোছে ভেঙ্গে গেছে নদীর পাঁজর।

আঁজলা ভরে আর শীতল হয়না কেউ,
আকন্ঠ নেবেনা পার ভাঙ্গা কোনো ঢেউ।
হবেনা কখনো একা, স্তব্ধ জলেতে দেখা;
গাইবেনা কোনো মাঝি ভুলের আকর,
আলগোছে ভেঙ্গে গেছে নদীর পাঁজর।

কখনোবা ভুল করে একলা শঙ্খচিল
নদীর আকাশে উড়ে কাঁদে, খোঁজে মিল।
নদী বলে ডেকে ধীরে, আসবেনা সে ফিরে;
সাজবেনা বিভাবরী ফুলের বাসর।
আলগোছে ভেঙ্গে গেছে নদীর পাঁজর।

উৎসর্গঃ বিভা

১৭ thoughts on “নদীর অসুখ

  1. দাদা চমত্‍কার
    দাদা চমত্‍কার হইছে।ছন্দমিলগুলা সত্যি সুন্দর।ছন্দ খুব ভালো লাগে কিন্তু আমি আবার ছন্দ মিলিয়ে মিলিয়ে লিখতে পারিনা।ছন্দ মিলাতে গেলেই আমার মূলভাবটা আর থাকে না।চমত্‍কার লিখছো।

  2. অমিত,
    ” আপনার লেখা …?!?!

    অমিত,
    ” আপনার লেখা …?!?! ”
    নবীন কবি যাদের ক্ষেত্রে আমি ওই দুটি শব্দ লিখি
    তাদের বুঝতে হবে এটি তাদের জন্য আমার তরফ থেকে সেরা
    কমপ্লিমেন্ট !!!! অনেক ম্যাচুরড কবিতা । ভালো লেগেছে !
    :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

      1. প্রিয়তে নেওয়ার মতোই কবিতা ।
        প্রিয়তে নেওয়ার মতোই কবিতা ।

        ভালাবাসা মরে গেছে-ঢেকে সাদা চাদর,
        আলগোছে ভেঙ্গে গেছে নদীর পাঁজর।
        একা একা নদী বয়, ঘুরে ঘুরে কথা কয়;
        শিশিরেরা ভুলে গেছে ঘাসের আদর।
        আলগোছে ভেঙ্গে গেছে নদীর পাঁজর।

        – এ কয় লাইন বাঁধাই করে রাখার মতো !!! কি যে কাব্যময়তা আছে
        এই লাইন গুলোতে মিয়া আপনি ও বুঝেন কি না সন্দেহ আছে … হাহাহাহা
        এই কয় পংতির জন্য আপনারে সারা জীবন হিংসা করে যাবো । ইসস আমি
        লিখতে পারতাম এই লাইনগুলো … আফসোস !!!

          1. ১০০ ভাগ সত্যি । অমিতের কবিতার
            ১০০ ভাগ সত্যি । অমিতের কবিতার এখন পর্যন্ত সেরা ওই চরণ গুলো !
            কোন সন্দেহ নেই । এইটা একটা ভালো কবিতা !

Leave a Reply to কবিতা তোমায় দিলাম ছুটি Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *