‘হিন্দি সিরিয়াল ও মুভি’ ‘

এই কথাগুলো তাদের জন্য যারা খুব তোড়জোড় করছে ‘হিন্দি সিরিয়াল+মুভি বর্জন করুন’ বলে।।
আমি বড় ছোট মানুষ,মোটের উপর দুই-চার জন আমার পোষ্ট দেখে।।তবুও কিছু কথা বলা জরুরী।।জানি না তাদের চোখে পরবে কিনা…।।
আজ বাংলার প্রতিটা ঘরে আমাদের বোন,মা-খালা,চাচি-জেঠি,ফুপি,মামি যারাই আছে সবার বিনোদনের একটা মাধ্যম হিন্দি সিরিয়াল।।
সিরিয়ালের খুবিয়াগুলো কি??(সবাই দেখে যে কারণে)-
*টাইম মেইন্টেন করে(যেটা যে সময়ে হয়ার কথা সেটা সে সময়েই হয়)
*জাঁকজমকপূর্ন পোশাক
*অলংকার
*ঘরোয়াভাব মেইন্টেন করে

এই কথাগুলো তাদের জন্য যারা খুব তোড়জোড় করছে ‘হিন্দি সিরিয়াল+মুভি বর্জন করুন’ বলে।।
আমি বড় ছোট মানুষ,মোটের উপর দুই-চার জন আমার পোষ্ট দেখে।।তবুও কিছু কথা বলা জরুরী।।জানি না তাদের চোখে পরবে কিনা…।।
আজ বাংলার প্রতিটা ঘরে আমাদের বোন,মা-খালা,চাচি-জেঠি,ফুপি,মামি যারাই আছে সবার বিনোদনের একটা মাধ্যম হিন্দি সিরিয়াল।।
সিরিয়ালের খুবিয়াগুলো কি??(সবাই দেখে যে কারণে)-
*টাইম মেইন্টেন করে(যেটা যে সময়ে হয়ার কথা সেটা সে সময়েই হয়)
*জাঁকজমকপূর্ন পোশাক
*অলংকার
*ঘরোয়াভাব মেইন্টেন করে
ঘরোয়া ভাব বললাম কারণ পরিবার এবং তার কাহিনী নিয়েই এই সিরিয়াল গুলো হয়।।এজন্য সবাই দেখতে আগ্রহী হয়।।আর একবার এর নেশা পেয়ে বসলে,ছাড়া সম্ভব না।।
এককথায় যদি বলতে চাই হিন্দি সিরিয়াল অব্যশই অখাদ্য।।সিরিয়ালে এত প্যাঁচ দেখায়,যা রিয়েল লাইফে সম্ভব না অথবা হতে পারে সম্ভব কিন্তু সেটা খুব নগণ্য।।এসব তারাও বোঝে যারা সিরিয়াল দেখে কিন্তু কেউ বাদ দিতে পারিনি।।সারাদিন সংসার সামলানোর পর সন্ধ্যায় একটু বসে,বিনোদনের জন্য-যা আমাদের সবার জন্যই জরুরী।।
বিনদোন হিসেবে আমরা কেন হিন্দিকে গ্রহণ করলাম??

আমরা মোটের উপর সবাই এই ভাষা বুঝি।।আর যারা না বুঝি তারা কোলকাতার বাংলা দিয়ে কাজ চালাই।।এরা প্রতি ৩০মিনিট পর একটা নতুন সিরিয়াল নিয়ে আসে।।প্রতিটা নাটকের সময় সবার জানা।।চ্যানেলে চ্যানেলে ঘুরাঘুরি করতে হয়না যার যেটা ভালো লাগে,ঐ সময়ে গিয়ে রিমোট হাতে নিলেই চলে।।(বিঃদ্রঃ এসব নাটকের ভেতর সংবাদের কোন বিরতি পেতে হয়না)

হিন্দি সিরিয়াল বর্জন করুন বলে চিল্লাচ্ছেন যারা তারা কি নিজ ঘরে/নিজেই বন্ধ করতে পারছেন??হলফ করে বলতে পারি ২/১জন নিজে পারলেও মা-বোনেরটা বন্ধ করতে পারেন নাই।।

আপনারা কি একবার ভেবেছেন-হিন্দি সিরিয়াল বন্ধ হলে এত বড় গোষ্টি যাবে কথায়??কিভাবে বিনোদন পাবে??কি করবে তারা??কেউতো বলছে না-হিন্দি সিরিয়ালকে আমরা এমনভাবে পিছিয়ে দিব,মা-বোনেরা বাধ্য হবে বাংলায় ফিরে আসতে…!!

শোনেন সুধি,বাংলা মিডিয়াকে সামান্য আগানোর চেষ্টা চালান,হে আপনারা যারা নাটক বানান,প্রথম পদক্ষেপ আপনাদেরই নিতে হবে,বাকিটা আমরাই এগিয়ে দিব।।এইটাই সময় নিজেদেরকে প্রমান করতে।।
আর চ্যানেলগুলোর জন্য-নাটকের মান নিয়ন্ত্রন করা হোক,সময় ঠিক রাখা হোক,নাটকের ভেতর বাম হাতের মত ঢুকে যাবে সংবাদ,নাটকই খুঁজে পাওয়া যাবে না,নাটকের কাহিনীর চেয়ে বেশি হবে বিজ্ঞাপন।।এমন হলে কেমনে কি??

আর মুভি!!বাংলাদেশে মুভির যে অবস্থা ২০বছরেও ঠিক হবে কিনা সন্দেহ।।হিন্দি মুভি কে দেখা বাদ দিবে??আর কেমনে??ইংলিশতো এত বুঝিনা যে পুরা মুভি বুইঝা ফেলমু!!আধা বুঝা দিয়া বিনোদন হয়না,যন্ত্রনা হয়।।বিনোদন নিতে যায়া উল্টা প্রেসার নিয়া আইতে হবে।।
বিয়ে বাড়িতে হিন্দি গানে নাচানাচি??কোন বিয়ে বাড়িতে যদি বাংলা গান বাজে আপনি সবার আগে হাসবেন,আর বলবেন কি ক্ষেত কিসব গান বাজাচ্ছে!!

আগে দেখতে হবে আমাদের কাছে অপশন ক’টা,সেখান থেকে আমি কোনটা নিচ্ছি।।বাংলা মিডিয়ার যা অবস্থা,কোন অপশনের ভেতর পড়ে না,থাকে হিন্দি সেটাই মানুষ বেঁছে নিয়েছে।।
স্টাডি করো,মানুষ কি চায়।।এবং সে অনুপাতে কাজ করা হোক।।এখন বাংলার এই মাধ্যমকে পরিবর্তনের সুবর্ন সুযোগ।।এভাবে সারাজীবন চিল্লালেও কাজ হবে না,তাই যেটা কাজে দিতে পারে সে কাজটা করুন।।
বাংলা মাধ্যম যদি ভালো হয়,আমাদের কি ঠেকা পরছে অন্য দেশের জিনিস দেখার??তাও সে দেশ যে দেশ আমাদের রক্ত খাচ্ছে??

সর্বশেষ কথা,বাংলা মিডিয়া যখন কিছুটা খাদ্য হবে,বাঙালী নিজেই ওসব অখাদ্য খাওয়া বন্ধ করে দিবে।।তখন হিন্দি প্রতিটা চ্যানেলকে এরাই ঝেটিয়ে বিদায় করবে।।

২৪ thoughts on “‘হিন্দি সিরিয়াল ও মুভি’ ‘

  1. অখাদ্যের বৈশিষ্টই হচ্ছে- এটা
    অখাদ্যের বৈশিষ্টই হচ্ছে- এটা খাদ্যের চেয়ে সুস্বাদু!
    ফাস্টফুড হচ্ছে তার বড় উদাহরণ!

    আপনার পয়েন্টগুলো চমৎকার। বিষয়গুলো আসলেই বিবেচনায় আনা জরুরী…
    এখানে কয়েকটা পর্যায় থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার-প্রশাসন, স্যাটালাইট কেবল অপারেটর, বাংলা মিডিয়ার ধারক-বাহক ও দর্শক… সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল পারে এই সমস্যা সমাধান করতে।

    1. আমিতো জানতাম যা খাবার যোগ্য
      আমিতো জানতাম যা খাবার যোগ্য না সেটাই অখাদ্য!!
      আপনি যা বলেছেন সেটাও যদি হয় সে ক্ষেত্রে বলা যায়-এটা নিজের জন্য ক্ষতিকর জেনেও সবাই খাচ্ছে,যা খাওয়া উচিত না।।
      হিন্দি সিরিয়াল এখন আমাদের জন্য ক্ষতিকর-ই বটে।।

      1. খাবার অযোগ্য- অখাদ্য হলে
        খাবার অযোগ্য- অখাদ্য হলে হিন্দি সিরিয়াল কেউ এতো গোগ্রাসে গিলতো না!

        বাস্তবতা হচ্ছে- এটা ফাস্ট ফুডের ভাজা পোঁড়া! জানি খেলে গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা উঠবে, মোটা হয়ে যাব, হার্টের রোগ হবে… তবুও না খেয়ে পারি না! কারণটা তো আপনার পোস্টেই উঠে এসেছে…
        :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  2. বাঙালি একাই একশো, কিন্তু যদি
    বাঙালি একাই একশো, কিন্তু যদি একশো বাঙালি এক হতে পারতো, তবে আজ স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তব হয়ে যেত। আমাদের রক্ত দিয়ে জাতীয়তা কিনতে হবেনা, স্বজন হারিয়ে স্টেনগান হাতে নিতে হবেনা, শুধু চাই একটু দেশপ্রেম যা সোনা হয়ে ভরিয়ে দেবে এই বাংলার কোষাগার।

    বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে সর্বাগ্রে চাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি যথোপযুক্ত মূল্যায়ন।

    1. বাঙালি একাই একশো, কিন্তু যদি

      বাঙালি একাই একশো, কিন্তু যদি একশো বাঙালি এক হতে পারতো, তবে আজ স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তব হয়ে যেত।

      ইলেকট্রন সাবের লগে কইষা সহমত… :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :বুখেআয়বাবুল:

  3. আমাদের দেশপ্রেমকে ফুটিয়ে
    আমাদের দেশপ্রেমকে ফুটিয়ে তুলতে হবে আমাদের প্রতিটি কাজে।সচেতন হতে হবে সংস্কৃতির ব্যাপারে।

  4. আমার পোস্টে আমি যে কথা গুলো
    আমার পোস্টে আমি যে কথা গুলো হয়ত সেভাবে বলতে পারিনি আপনি তা স্পস্ট করে বলতে পেরেছেন।

    সর্বশেষ কথা,বাংলা মিডিয়া যখন কিছুটা খাদ্য হবে,বাঙালী নিজেই ওসব অখাদ্য খাওয়া বন্ধ করে দিবে।।তখন হিন্দি প্রতিটা চ্যানেলকে এরাই ঝেটিয়ে বিদায় করবে।।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  5. তার আগে আমার এই প্রশ্নের
    তার আগে আমার এই প্রশ্নের উত্তর দিন,”ডরেমন বন্ধ করা গেলে হিন্দি সিরিয়াল বন্ধ হবেনা কেন?”

    মেনে নিলাম, হিন্দি সিরিয়াল বন্ধ করলে আপনাদের বিনোদনের একটা মাধ্যম কমে যাবে। তাহলে আমি বলতে পারি নিজেদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আমাদের আস্থা নাই। হিন্দি সিরিয়াল আজকাল ব্রান্ড ভ্যালু পেয়ে গেছে। আচ্ছা, আপনার কয়জন তারেক মাসুদের মাটির ময়না দেখেছেন, আর কয়জন আশিকি ২ দেখেছেন? কয়জন রানওয়ে দেখেছেন আর কয়জন চেন্নাই এক্সপ্রেস দেখলেন? কয়জন সংশপ্তক নাটক পুরো দেখেছেন আর কয়জন অখাদ্য সিরিয়াল মিস করেননি? কয়জন দিনে অন্তত একবার জাতীয় সংগীত গাইতে পারেন, আর কতজন কতশতবার গুন গুন করে তুম হি হো গাইতে পারেন? এইবার বলুন, আমাদের কোন অংশ কোন দিক দিয়ে কম?? আসলে, সমস্যা আমাদের খাদ্যে নয়। সমস্যা ঢুকে গেছে খাদকের মনে। কেউ যদি ইলিশ মাছের সাথে রুই মাছ গুলিয়ে ফেলে তাহলে আর কি করার? আর তৃপ্তি জিনিসটা একেক জনের কাছে একেক রকম। কেউ আলুভর্তা দিয়ে গরম ভাত খেয়েই তৃপ্ত হয় আর কেউ গরু,মুরগী, মাছ সব খেয়েও তৃপ্ত হয়না।

    বিনোদনের উৎস আমাদের যথেষ্ট আছে। আমাদের যথেষ্ট ভালো সিনেমা আছে। যথেষ্ট ভালো নাটক আছে। যথেষ্ট ভালো সংস্কৃতি আছে। আমরা অন্ধ হয়ে গেছি বলে তা দেখতে পাইনা। আমাদের দৃষ্টির দোড় শুধু ভারত পর্যন্ত।

    1. ঘাড় তেরামি করে কেউ কিছু বললে
      ঘাড় তেরামি করে কেউ কিছু বললে কিছু বলার নাই।।কতটুকু কম কতটুকু বেশি আছে এটা খুব পরিষ্কার।।আপনি দেখতে না পারলে আমার অথবা আমাদের কিছু করার নেই।।

      1. এইতো মূল কথা কী সুন্দর ভাবে
        এইতো মূল কথা কী সুন্দর ভাবে এড়িয়ে গেলেন। আমার মন্তব্যের শেষের অংশ পড়েই প্রতিমন্তব্য করে দিলেন! কিন্তু, মন্তব্যের প্রথমে যে প্রশ্নগুলো করলাম সেগুলো সযত্নে এড়িয়ে গেলেন। নিজের পোস্টেই বললেন, ভারতীয় সিরিয়ালের বিকল্প নাই, আর এখন বললেন আমিই দেখতেছিনা।

        যাই হোক, যে প্রশ্ন গুলো করলাম এগুলোর উত্তর আপনার বা কারোই জানা নেই। যে জাতি নিজের বোনের হত্যার প্রতিবাদে সৃষ্ট অসহযোগ কর্মসূচির বিরুদ্ধে যেতে পারে, সে জাতির মাঝে আর যাই থাকুক জাতীয়তাবোধ নাই।

        1. যে জাতি নিজের বোনের হত্যার

          যে জাতি নিজের বোনের হত্যার প্রতিবাদে সৃষ্ট অসহযোগ কর্মসূচির বিরুদ্ধে যেতে পারে, সে জাতির মাঝে আর যাই থাকুক জাতীয়তাবোধ নাই।

          ভাইরে, ফেলানীরে নিয়ে কথা বলায় আমারে বাপ-মা তুলে চ বর্গীয় গালি শুনতে হয়েছে।

    2. ইলেকট্রন সাহেব,আপনি কি
      ইলেকট্রন সাহেব,আপনি কি নিশ্চিত,ফেলানিকে নিয়ে কথা না বলে সিরিয়াল নিয়ে কথা বলছি??ফেলানির বিচার নিয়ে কে দুঃখ প্রকাশ করেনি!!এর সাথে হিন্দি সিরিয়ালকে টানা হয়েছে তাই এসব বলা।।হিন্দি সিরিয়ালের বিপক্ষে আমি নিজেও কিন্তু আমাদের বিনোদনের মাধ্যমকে উন্নত করা উচিত মনে হয়েছে তাই বললাম।।পার্সনালি সিরিয়াল পিরিতি আমার নাই,আমার এত সময়ও নাই।।আমি সময়ের সাপেক্ষে কথাটা বলছি।।
      বিঃ দ্রঃআগলা দেশ প্রেম দেখানোর দরকার আমি দেখছি না,সময় অনেক কিছু বলে দেয়।।

  6. এসব দাবী ফেলানী হত্যার
    এসব দাবী ফেলানী হত্যার প্রতিবাদকে দুর্বল করে দিচ্ছে ।দয়া করে এসব (সিরিয়াল, মুভি, পেয়াজ রসুন) বর্জনের দাবী টাবী রেখে অন্য বিষয় নিয়ে ভাবুন ।বিশ্বায়নের যুগে এক দেশের সাথে অন্য দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবহারিক লেনদেন থাকবেই, থাকতে হবেই ।সুতরাং মাথা ব্যাথার দরুন মাথা কেটে ফেলার ধান্ধা না করে কিভাবে মাথা বাচিয়েও ব্যাথা সারানো যায় সে দিকটি বিবেচনায় আনুন ।

    1. পরিপূর্ণ একমত শাহীন ভাই। আমরা
      পরিপূর্ণ একমত শাহীন ভাই। আমরা তাৎক্ষণিক উত্তেজনাতে ভারতের প্রতি অসহযোগের যুক্তিযুক্ত দাবী জানিয়েছিলাম। আর এতেই শুরু হয়ে গেছে ভারতপ্রেমীদের হাহাকার। কি আজব! কেউ ফেলানির বিচার চেয়ে কোনো পোস্ট দিচ্ছে না, কিন্তু ভারতের পক্ষে সাফাই গেয়ে ধুয়ে দিচ্ছে অনলাইন জগত, আর মাঝে থেকে ফেলানিরা কাঁটাতারে ঝুলেই যাচ্ছে। কারণ তারা হয়তো কোনোদিন হিন্দি সিরিয়াল দেখেনি। হায়রে বাঙালি।

    2. বিশ্বায়নের যুগে এক দেশের সাথে

      বিশ্বায়নের যুগে এক দেশের সাথে অন্য দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবহারিক লেনদেন থাকবেই, থাকতে হবেই ।

      তারপরও যতটা পারা যায়, নিজের পায়ে উঠে দাড়াতে শিখতে হবে। বর্তমানের চীন জাপান কিন্তু বিশ্বায়ন বিশ্বায়ন করে উঠে আসে নি। যত খারাপই হোক নিজেদের পন্য ব্যাবহার করেই উঠে এসেছে।

  7. শত শত স্ট্যাটাস আর ব্লগের মূল
    শত শত স্ট্যাটাস আর ব্লগের মূল বক্তব্য ছিলো, ‘এই রায়ের প্রতিবাদে স্টার প্লাস, জি বাংলা, স্টার জলসা বন্ধ করেদিতে হবে’, ‘আশিকী টু, চেন্নাই এক্সপ্রেস দেখে আপনার বিপ্লব করতে আইসেন না’ ব্লা, ব্লা ব্লা। একটা ব্যাপার খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, একজনও, স্রেফ একজনও লেখেনি ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস-স্টার ক্রিকেট বন্ধ করে দেন। ক্যাবল অপারেটরকে এই চ্যানেলগুলোও কাঁটতে বলেন। একটা মেয়েও লেখেনি এই কথাটা। নিবেদনপক্ষেআমার চোখে পড়েনি। আপনার রাগ ঠিক কিসেরউপর? মা-বোনের হাত থেকে রিমোট পাননা সেটার উপর না সীমান্ত হত্যার উপর? আমার ছোট মস্তিষ্কের উপর দিয়ে গেছে ব্যাপারটা।
    পরের প্রশ্ন, ধরে নিলাম ক্যাবল অপারেটরদের দিয়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করালেন। এই রায়ের ক্ষেত্রে আমাদের কী লাভ তাতে? ওয়েল, আমাদের লাভ না থাকুক, ওদের ক্ষতি হোক। তাহলে বলেন, ওদের কতটা ক্ষতি এতে? ওদের কয়েকটা চ্যানেলের টিআরপি রেটিং খানিকটা কমবে। কতটুকু কমবে? আর? ধরে নিলাম, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। ওদের কয়েকটা প্রদেশেই ১৬ কোটির উপরে জনসংখ্যা। কিচ্ছু হবে না, স্রেফ কিচ্ছু হবে নাওদের। উল্টো কয়েকদিন পরেই বাংলাদেশে স্পোর্টসচ্যানেল না থাকাতে আর অন্য কোনো দেশি চ্যানেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ত্ব বাই এনি চান্স কিনে না নিলে আপনি-আমিই স্টার ক্রিকেটের জন্যে চোখের পানি-নাকের পানি এক করে ফেলাতে পারি।
    পরের যে ব্যাপারটা চোখে পড়লো, ভারতীয়পণ্য বর্জন। সম্ভবপর হলে নি:সন্দেহে সাধু উদ্যোগ। এখানে, কয়েকটা কিন্তু, তবে, যদিও আছে। বলি, বাজারে যান তো? এবারের ঈদের আগে পরেকোনো একটা সময়ে ভারত থেকে পেয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছিলো। তখন কী অবস্থা হয়েছিলো তা জানা আছে? একবার ভারত থেকে চিনি আমদানি বন্ধ হওয়াতে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত চিনি কিনতে হচ্ছিলো। এক বাসায় বেড়াতে গিয়ে স্যাকারিনের চা খেতে হয়েছিলো! সে স্মৃতি ভুলতে পারিনি এখনও। দু’-এক বছর আগে কোরবানী ঈদেএকবার ভারতীয় গরু আসা কয়েকদিন আটকে ছিলো সে স্মৃতি মনে আছে?

    বাংলাদেশে ফেসবুক-ব্লগ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২% এরও নিচে। এই বিপ্লবের অর্থ কি আর বোঝানোর দরকার আছে?
    (অন্য একজনের ফেসবুক পোস্ট থেকে কপি করা)

    1. একটা ব্যাপার খুব ভালো করে

      একটা ব্যাপার খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, একজনও, স্রেফ একজনও লেখেনি ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস-স্টার ক্রিকেট বন্ধ করে দেন। ক্যাবল অপারেটরকে এই চ্যানেলগুলোও কাঁটতে বলেন।

      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  8. তো রায়ের বিরুদ্ধে আমাদের
    তো রায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ কেমনে হবে? একটা জিনিস বুঝলাম না, আজকের ইস্টিশনের প্রথম পাতায় শুধু ভারতীয় গুণগান নিয়ে পোস্ট দেখতেছি। সবাই ভারতীয় জিনিস বাঁচাইতে একযোগে নেমে পড়ছে, কিন্তু ফেলানি হত্যার প্রহসনের রায়ে একটু রাস্তায় নামার কথা বলতেছেনা! WTF?? ফেলানির রায়ের উপর থেকে কি সুন্দর করে স্পটলাইট সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে!! না। বাঙালি থাকুক তাদের ভারত প্রেম নিয়ে। জয় হিন্দ। মরুক ফেলানিরা। মরুক বাঙালি। বাঙালি মারার জন্য পুরষ্কার দেয়া হয়েছে অমিয় ঘোষকে। অথচ, তাও কি সুন্দর সবাই ভারতের পক্ষে সাফাই গাইতেছে!! তো আমিও গেয়ে দিলাম,”লুঙি ড্যান্স লুঙি ড্যান্স লুঙি ড্যান্স….”

    1. ইলেকট্রন ভাই, হতাশ হবেন না
      ইলেকট্রন ভাই, হতাশ হবেন না ।রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে এবং হবে ।ভারতের পন্য বর্জনের(যতটুকু বর্জন করা সম্ভব) উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি আমাদের জরুরী করনীয় হচ্ছে, আমাদের সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা ।কেননা বাংলাদেশ সরকার চাপ না দিলে ভারত সরকার ঐ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে না ।
      আপনি বলছেন, আমার বা আমাদের কথাগুলো ভারত প্রেমী হয়ে যাচ্ছে!
      না ।মোটেও না ।এসব স্রেফ যুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাদের অপ্রতুলতা বা দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করা, আর কিছু নয় ।আশা করি বুঝতে পেরেছেন ।

      1. রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে

        রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে এবং হবে ।

        হাসাইয়েন না ভাই। আজকে তিনটার সময় আমাদের ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে মানব বন্ধন ছিল। ২৬০০+ গোয়িং ছিল। পেয়েছি ৫০ জনের মত।

  9. হলফ করে বলতে পারি ২/১জন নিজে

    হলফ করে বলতে পারি ২/১জন নিজে পারলেও মা-বোনেরটা বন্ধ করতে পারেন নাই।।

    SATV তে মোটামুটি নিয়ে গেছি।

    বাংলাদেশে মুভির যে অবস্থা ২০বছরেও ঠিক হবে কিনা সন্দেহ।

    অনলাইনে যতই পচাই, অনন্ত জলিলের মুভির দেখার জন্য মানুষ যে কতটা পাগল, সেটা হলে গেলে বোঝা যায়।

    কোন বিয়ে বাড়িতে যদি বাংলা গান বাজে আপনি সবার আগে হাসবেন,আর বলবেন কি ক্ষেত কিসব গান বাজাচ্ছে!!

    গত কোরবানির ঈদে আমার এক কাজিনের বিয়েতে আমি রীতিমত ঝগড়া করে বাংলা গান বাজিয়েছি।

    1. অনন্ত জলিলের ব্যাপারে আমি
      অনন্ত জলিলের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত। আমরা ওকে নিয়ে যতই হাসাহাসি করি না কেন, বাংলা ফিল্মের অগ্রযাত্রায় তার নামই সর্বাগ্রে লিখা থাকবে। আই গ্যারান্টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *