ডিম, ডিম এবং ডিম

একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করা যাক। এক স্কুলের শিক্ষক তাঁর এক ছাত্রকে তিনটি প্রশ্ন করলেন।

১. তোমাদের ঘরে উপার্জন করেন কে?
২. তোমার বাবা কিভাবে গাড়ি চালান?
৩. মুরগী কি পাড়ে?

ছাত্র কিছুক্ষণ মাথা চুলকে তার অপারগতা প্রকাশ করল। শিক্ষক তাকে বাড়ির কাজ হিসাবে এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর বাসা থেকে জেনে আসতে বললেন। ছাত্র বাড়ি গিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে উত্তরগুলো শুনে নিল। পরদিন শিক্ষক যখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি আমার প্রশ্নের উত্তরগুলো জেনে এসেছ?” ছাত্র ত্বরিতগতিতে বলল-


একটা কৌতুক দিয়ে শুরু করা যাক। এক স্কুলের শিক্ষক তাঁর এক ছাত্রকে তিনটি প্রশ্ন করলেন।

১. তোমাদের ঘরে উপার্জন করেন কে?
২. তোমার বাবা কিভাবে গাড়ি চালান?
৩. মুরগী কি পাড়ে?

ছাত্র কিছুক্ষণ মাথা চুলকে তার অপারগতা প্রকাশ করল। শিক্ষক তাকে বাড়ির কাজ হিসাবে এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর বাসা থেকে জেনে আসতে বললেন। ছাত্র বাড়ি গিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে উত্তরগুলো শুনে নিল। পরদিন শিক্ষক যখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি আমার প্রশ্নের উত্তরগুলো জেনে এসেছ?” ছাত্র ত্বরিতগতিতে বলল-

“জী স্যার, বাবা ফুল স্পীডে ডিম পাড়ে।“

এইবার আপনাদের জন্য একটা প্রশ্ন। কে হতে চায় কোটিপতির মত চারটা অপশন থাকবে। সঠিক উত্তর দিতে পারলে আপনাকে ১ কোটি টাকা না হোক ১ টা বেনসন সিগারেট অন্তত দেওয়া যেতে পারে। প্রশ্নটা হচ্ছে-

“এই মুহূর্তে বাজারে ডিমের হালি কত?”

অপশন-১: ২ টাকা
অপশন-২: ২০ টাকা
অপশন-৩: ৪০ টাকা
অপশন-৪: ৮০ টাকা

আপনি যদি ১ নম্বর অপশন সিলেক্ট করে থাকেন তাহলে বলতেই হবে আপনি এখনো শেরশাহের জমানায় অবস্থান করছে। আপনাকে বর্তমানকালে ফিরে আসতে বলব না, বরং আমাকেও আপনার টাইম মেশিনে স্পেশাল ডিসকাউন্টে একটা সীট দিয়ে সেখানে নিয়ে যাবার জন্য তেল দেওয়া শুরু করে দিব।

আপনি যদি ২ নম্বর অপশন সিলেক্ট করে থাকেন তাহলে বলব আপনি গত তিন বছরেও বাজারে যান নি। আপনি আসলেও ভাগ্যবান। বাজারে যাবার মত নাগরিক কষ্ট থেকে আপনি মুক্ত। আপনাকে হিংসা হচ্ছে।

আপনি যদি ৩ নম্বর অপশন সিলেক্ট করে থাকেন তাহলে অভিনন্দন। আপনিই আমাদের আজকের বেনসন বিজয়ী। সাথে বেনসন নেই তবে বেনসনের মাথায় আগুন ধরানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমান দেশলাইয়ের সাপ্লাই দেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।

আর যদি আপনি ৪ নম্বর অপশন সিলেক্ট করে থাকেন তবে বলতেই হবে আপনিই হচ্ছেন বাংলার নস্ত্রাদামুস। দুই দলের নেতা-নেত্রীদেরই আপনার বাড়িতে ধর্না দেওয়া উচিৎ এটা জানবার জন্য যে কে হতে যাচ্ছেন ভবিষ্যৎ মন্ত্রী কিংবা সাংসদ।

কেন জানি না ডিম নামক বস্তুটা আমার কাছে ছোটবেলা থেকেই অনেক প্রিয়। আম্মার কাছে শুনেছি আমার ছোটবেলায় কান্নাকাটি করলে নাকি তিনি কাজের মেয়েকে দিয়ে বাজার থেকে ৫০ পয়সা দিয়ে একটা ডিম আনিয়ে পোচ করে দিতেন (আল্লার কসম মিথ্যা বলছি না) আর সেটা দেখেই আমি কান্না থামিয়ে দিতাম। খাবার প্রয়োজন পড়ত না। এতটাই ডিমপ্রেমী ছিলাম। ডিমের প্রতি ভালবাসা এখনো কমে নি। আমি তিনটা রান্নাই জানি। সেগুলো হচ্ছে ডিম ভাজি, ডিম ভর্তা আর ডিম সিদ্ধ। এই তিনটা রান্না না জানলে অবশ্য ঢাকা শহরে বেঁচে থাকা যাবে না। কারন বুয়া রান্না করতে না আসলে এই ডিমই একমাত্র ভরসা। ব্যাচেলরের একমাত্র অবলম্বন।

আমার সাহিত্য প্রতিভার পিছনে ডিমের অনেক বড় একটা অবদান আছে। একি, চোখ কপালের উপর তুলছেন কেন? সত্যি বলছি। বিশ্বাস হচ্ছে না? সেদিন রাতের খাবারটা আমার মোটেও পছন্দ হয় নি। কি আর করা। একটা ডিম ভেজে খেলাম। ডিম ভাজতে ভাজতে গুনগুণ করে একটা কবিতাও বানিয়ে ফেললাম। শুনবেন নাকি?

তুমি যদি না থাকতে
তীব্র যন্ত্রণায় অভুক্ত পাকস্থলী তারস্বরে চিৎকার করে বলত
“feed me please”.

তুমি যদি না থাকতে
৬ তলার বেলকনিতে বসে তারা গুণতে গুণতে কাটাতে হত
কত বিনিদ্র রজনী।

তুমি যদি না থাকতে
সুকান্তের সেই অভিমানী পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে যেত
গোলগাল ঝলসানো রুটি।

তুমি যদি না থাকতে
ধোঁয়া উঠা ভাতের ডেকচি কিংবা ঝলসানো তিতির পাখির মাংস হানা দিত
আমার স্বপ্নের করিডোরে।

প্রিয় ডিম (Egg),
তুমি যদি না থাকতে
আজ রাতের জঘন্য তরকারিটা
আমি গলা দিয়ে নামাতেই পারতাম না।

কবিতাটা উৎসর্গ করেছিলাম বাংলাদেশের সমস্ত ফার্মের মুরগীর বাদামী ডিমগুলোকে। সেদিনই বুঝেছিলাম, শুধু প্রেমে পড়লেই মানুষ কবি হয় না। ক্ষুধার যন্ত্রণাতেও হয়। সুকান্ত কি আর এমনি এমনি বলে গেছেন,

কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।

ডিম আর ডাল নাকি গরিবের খাবার। যারা এই কথা বলে আমার খুব দেখার ইচ্ছা মাসে কয়দিন তারা ডিম আর ডাল খাবারের তালিকায় রাখেন। ডাল তো অনেক আগে থেকেই তার মার্কেট ভ্যালু বাড়ার আনন্দে ডুগডুগি বাজাচ্ছে। বাকি ছিল ডিম। সেটাও এখন ব্যাপক ভাবে আছে। ডিমের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে করে অদূর ভবিষ্যতে আমাদেরকে ফুল স্পীডে ডিম পাড়া আয়ত্ত করা ছাড়া কোন উপায় আছে বলে মনে হচ্ছে না। কিনে খাওয়াটা হয়ত কল্পনা হয়েই মাঝে মাঝে স্বপ্নে ধরা দিবে। সেদিন বাজারে গিয়ে ডিম কিনতে গিয়ে যখন শুনি ৪০ টাকা হালি তখন আসলে কোন প্রতিক্রিয়া হয় নি। মনে হচ্ছিল ডিমের হালি ৪০ টাকা না হলে কি করল্লার হালি ৪০ টাকা হবে নাকি। অবাক হলাম এই ভেবে যে কিভাবে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির সাথে আমরা মানিয়ে নিচ্ছি। সরকারকে দোষ দিয়ে কি লাভ। দোষ তো আমাদের। বাঙালি জাতি হচ্ছে সেই জাতি যারা ভাতে মাছে বাঙালি হলেও প্রয়োজনে আলকাতরা খেয়েও দিন কাটাতে পারে। এইটা আমাদের নেতা-নেত্রীরা আরো ভাল বুঝেন। তাই সাধারনের চিল্লা-চিল্লিতে তাদের কিছুই যায় আসে না।

পোস্টের ক্যাটাগরি দিলাম হুদাই কিন্তু অনেক ভারী ভারী বক্তব্য দিচ্ছি মনে হয়। শেষ করি। তবে যাবার আগে, শিশুতোষ জোকস দিয়ে শুরু করেছিলাম; একটা এডাল্ট জোকস দিয়ে শেষ করছি। যারা এডাল্ট জোক সহ্য করতে পারেন না তাদের বাকি অংশ পড়ার দরকার নেই।

মহিলা কলেজের ঘটনা। ক্লাসে বিজ্ঞানের শিক্ষক সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছেন-

“শরীর ও মন সুস্থ রাখার জন্য তোমাদের সবার প্রতিদিন দুইটা করে ডিম আর একটা করে কলা খাওয়া উচিৎ। কিন্তু বর্তমানে ডিম আর কলা উভয়ের দামই বেড়ে গেছে। এখন এই দুর্মূল্যের বাজারে এই সমস্যার সমাধান কিভাবে করা যায়? এই বিষয়ে তোমাদের কি মতামত বল?”

পিছনের বেঞ্চ থেকে এক ছাত্রী উঠে দাঁড়িয়ে বলল-

“স্যার, আমি কিন্তু এই সমস্যার সমাধান করে ফেলেছি।“
“কিভাবে?”
“স্যার, আমি বিয়ে করে ফেলেছি।“

যার যা ইচ্ছে বুঝে নিন। আর এই জোকসটা যাদের মাথার উপর দিয়া গেল তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিব, আজ থেকেই ডিম আর কলা খাওয়া শুরু করে দিন। আর কারও দরকার না থাকলেও, আপনার এই মুহূর্তে ডিম খুবই দরকার।

বিঃদ্রঃ
এই লেখাটা যখন লিখেছিলাম তখন ডিমের হালি ৪০ টাকায় উঠেছিলো। লেখাটা নাগরিক ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

২৬ thoughts on “ডিম, ডিম এবং ডিম

  1. অনেক্ষণ (কিংবা অনেকদিন!) পর
    অনেক্ষণ (কিংবা অনেকদিন!) পর অনেক মজা নিয়ে একটা ব্লগ পড়লাম এবং পড়া শেষে অনেক্ষণ হাসলাম!

    শেষের জোকটার ম্যাসেজ তো এক্কেবারেই সোজা! যেহুতু তার বিয়ে হয়ে গেছে- সেহেতু…

    …সে এখন স্বামীর রোজগারে খায়। বাজার যেহুতু স্বামী করে সেহেতু দ্রব্যমূল্য নিয়ে তার আর কোন মাথা ব্যথাই নাই!!! 😛

    [ কী বুঝলেন? আমারও কি রোজ কলা আর ডিম খাওয়া দরকার? 😉 ]
    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    1. আপনার আসলেও ডিম আর কলা খাওয়া
      আপনার আসলেও ডিম আর কলা খাওয়া দরকার। সঠিক পুষ্টি না পেলে এইসব জোকস বুঝতে পারবেন না বস। :চোখমারা:

  2. ভাই ডিমের ঝাল ফ্রাই বানাতে
    ভাই ডিমের ঝাল ফ্রাই বানাতে পারেন না? আরেকটা প্রশ্ন আপনিও মনে হচ্ছে শায়েস্তা খাঁ এর আমলের লোক না হোলে কিভাবে ৫০ পয়সায় ডিম খেয়েছন!

  3. হাহাহা।শেষের জোকসটা
    হাহাহা।শেষের জোকসটা চরম!!হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেল!!আর সত্যি কথাই বলছেন।দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ব্যাপারটা সত্যি ভাবনার বিষয়।বর্তমানে বাজারে যে পেঁয়াজের দাম তা দেখে আমার তো হার্ট এটাকের মত হয় তাছাড়া মাছের দিকে তো হাত বাড়ানোও দুস্কর।

  4. আমারও প্রিয় খাবার ডিমের
    আমারও প্রিয় খাবার ডিমের তরকারী। মারাত্মক গুছিয়ে লিখেছেন পোস্টটা। এতগুলো টপিক একসাথে জুড়ে দিলেন কিন্তু কোথাও কোনো অসঙ্গতি নাই। চরম মজা পেলাম ভাই! :থাম্বসআপ:

    1. ইলেকট্রনের সাথে কষিয়া সহমত
      ইলেকট্রনের সাথে কষিয়া সহমত :ভেংচি: … আসলেই লেখাটা চমৎকার ছিল… :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল:

    1. এইটা চরম হইসে! তয় কোয়েল
      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
      এইটা চরম হইসে! তয় কোয়েল পাখির ডিম যে এতো হস্তায় পাওয়া যাইবে এইটা শিউর অইলেন ক্যামতে???

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *