। ইন্ডিয়ার পণ্য গ্রহণ-বর্জন আর আমার জিজ্ঞাসা ।

ফেলানী হত্যার বিচারের রায় এপারে আসতে দেরি হলেও, অনলাইনে বোমা ফাটতে দেরি হয়নি। ফলাফলঃ আমার নিউজ ফিড ইন্ডিয়ান পণ্য বর্জনের পক্ষে বিপক্ষে সয়লাব। এত দেশপ্রেম কোথায় রাখবো? পদ্মা সেতুর ফান্ডে? সুইস ব্যাংকে? নাকি আই এম এফের কাছে দিয়ে আসবো? আমি ইন্ডিয়ান দালাল নই। আমি ইন্ডিয়ার পক্ষে কথা বলবো না। কখনই বলি না। তাই ভাদা-ফাদা ট্যাগ দেয়ার আগে কষ্ট করে পড়বেন।


ফেলানী হত্যার বিচারের রায় এপারে আসতে দেরি হলেও, অনলাইনে বোমা ফাটতে দেরি হয়নি। ফলাফলঃ আমার নিউজ ফিড ইন্ডিয়ান পণ্য বর্জনের পক্ষে বিপক্ষে সয়লাব। এত দেশপ্রেম কোথায় রাখবো? পদ্মা সেতুর ফান্ডে? সুইস ব্যাংকে? নাকি আই এম এফের কাছে দিয়ে আসবো? আমি ইন্ডিয়ান দালাল নই। আমি ইন্ডিয়ার পক্ষে কথা বলবো না। কখনই বলি না। তাই ভাদা-ফাদা ট্যাগ দেয়ার আগে কষ্ট করে পড়বেন।

আমাদের দেশের বাজার ইন্ডিয়ান পণ্যে সয়লাব। অস্বীকার করার জো নেই। কারণ এসব পণ্যের কদর আমরাই বাড়িয়েছি। দেশী পণ্য ব্যবহারে আমাদের এতটাই অনীহা যে বিদেশের পণ্য – নিম্নমানের হলেও আমাদের নিতে আপত্তি নেই। আপনি আমি আমরা সবাই – হিপোক্রেট। আজকে আমরা ফেলানীর জন্য চোখের জল ফেলবো, রক্ত গরম করবো, চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে রাতের বেলায় ইরানের মাঠ গরম করে ফেলবো। কদিন বাদে সব শেষ। সবাই সবকিছু ভুলে যাবে, যেন কিছুই হয়নি। আজকে যে হুঙ্কার দিচ্ছে, আর ইন্ডিয়ান জিনিস ব্যবহার করবো না, সিনেমা দেখবো না, সিরিয়াল দেখবো না, তখন দেখা যাবে তার বাথরুমের সাবানের কেসে যে ভেজা সাবানটা চকচক করছে, সেটা ইন্ডিয়ান। মিউজিক প্লেয়ারে বাজছে লুংগি ড্যান্স, অথবা টিভিতে চলছে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল। আমরা সবাই হিপোক্রেট। অস্বীকার করার জো নেই।

ইন্ডিয়ান পণ্য বর্জন করা উচিত। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতি কি সব পণ্য বর্জনের পর্যায়ে আছে? যেসব পণ্য আমাদের দেশে তৈরি হয়, সেগুলো নাহয় বর্জন করলাম। কিন্তু যেগুলো হয়না, এবং অন্য দেশ থেকে আনলে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়, সেক্ষেত্রে আমরা কী করবো?

অধুনা হিসেব অনুসারে আমাদের দেশ খাদে্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। চাল, ডাল ইত্যাদি নাহয় নাই আনলাম। আমাদের দেশের মসলাও অনেক ভালো। আর বাজারে যে গরম মশলা পাওয়া যায়, তার সিংহভাগ আসে তুরস্ক, ইরান থেকে। ইন্ডিয়ান মসলা অনেকদিন বাজারে দেখি না। অন্তত আমি যতদিন বাজারে গিয়েছি। এখন কয়েকটা সুপারস্টোরে পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা পুরো বাজারকে নির্দেশ করতে পারে না।

আমাদের দেশের ঔষধ শিল্প অনেক ভালো পর্যায়ে আছে। ইন্ডিয়ান ঔষধ বাতিল করলাম। পোষাক ও বাদ দিলাম। ভাসাভি আর মান্যবরের দামী শাড়ি আর কুর্তা না কিনলে আমার উৎসব অপূর্ণ থাকবে না। আমাদের দেশের বুটিক হাউসগুলো কোন অংশে কম নয়।

আমাদের অনেক ভালো ভালো চ্যানেল আছে। ইন্ডিয়ান চ্যানেল ও বাদ দেয়া যায়। আমাদের চ্যানেলগুলোতে অনেক ভালো ভালো অনুষ্ঠান হয়, তবে চূড়ান্ত পর্যায়ের ন্যাকামো কম হয়।

আগে ইন্ডিয়া থেকে অনেক পেঁয়াজ আসতো। এখন আসে চীন আর ইউরোপ থেকে। বেশি দামে কিনতে চাইলে আপনি দেশী পেঁয়াজ কিনতে পারেন । আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানেও ইন্ডিয়ান পণ্য বাতিল ।

তরুণদের অন্যতম আকর্ষণের বস্তু হল মোটর বাইক আর মোবাইল ফোন। সস্তায় স্মার্টফোন চাইলে ওয়াল্টন, সিম্ফোনির মতন ব্র্যান্ড আছে। ইন্ডিয়ান মাইক্রোম্যাক্সের দরকার নেই। নিম্নমানের ইঞ্জিনযুক্ত বাজাজ না কিনলেও চলবে। ওয়াল্টনও মোটর বাইক বানায়।

প্রসাধনীর ব্যাপারটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইন্ডিয়ান প্রসাধনী ব্যবহার করেননি এমন লোক পাওয়া ভার। আমাদের দেশে অনেক ভালো ভালো প্রসাধনী তৈরী হয়। ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী/হ্যান্ডসাম এর অনেক ভালো মানের বিকল্প আছে। সাবান – আমাদের দেশের কোম্পানীগুলো অনেক ভালো বানায়। অন্যান্য প্রসাধনীও আমাদের দেশে অনেক ভালো পাওয়া যায়।

দুই ঈদের সময় ইন্ডিয়া থেকে প্রচুর গরু আসে এদেশে। দেশী গরু কোরবানি দিন। এমন তো নয় যে ১০ টা গরু একসাথে কোরবানি না দিতে পারলে আপনার ধর্ম থাকবে না। গরু না হলে ছাগল, পাঠা আছে কি করতে? এরাও চতুস্পদ জন্তু। এদের কোরবানি করতে কোন ধর্মীয় বাধা নেই।

অনেক জিনিস বর্জন করে ফেললাম, এবার আসল কথায় আসি। আমি ছাত্র, নিজের কথা দিয়েই শুরু করি। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের যেসব বই পাওয়া যায় তার সবই ইংরেজিতে লেখা, হাতে গোণা যায় কিছু বাংলা পাওয়া যায়। আবার আমাদের দেশীয় লেখকেরাও কেউ তেমন বাংলায় লেখেন না। বেশিরভাগ বইই বিদেশী লেখকদের লেখা। আমরা পড়ি সব বইয়ের ফটোকপি। কারণ সব বইয়ের মূল কপি কেনা আমাদের সাধ্যাতীত। আর যেসব ফটোকপি পড়ি তার বেশিরভাগই ইন্ডিয়ান মূদ্রণ। সরাসরি কোন বই দক্ষিণ এশিয়াতে আসে না। ইন্ডিয়া হয়েই আসতে হয়। এখানে আমি বলতে পারবো না যে ইন্ডিয়ান প্রিন্ট কিনবো না। আমি কিনতে বাধ্য। ২০ পাউন্ড বা ৫০ পাউন্ড বা ডলার দামের একটা বই কেনা বিলাসিতা।

কাগজ কিনবেন? সেখানেও ইন্ডিয়ার ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা আছে। ম্যাটাডোর আসার আগে সেলো ছাড়া কোন কলম দেখিনি। আমি যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি, তখন পেন্সিল বলতে সবাই চিনতো নটরাজ বা অপ্সরা। সব ইন্ডিয়ান। স্ট্যাডলার অনেক দামী। আমি লিখতাম স্ট্যাডলার দিয়ে। কিন্তু সবসময় স্ট্যাডলার পাওয়া যেত না। তখন এসব পেন্সিলই ভরসা ছিল। ইরেজার, শার্পনার, সবখানেই ইন্ডিয়ান ব্র্যান্ড। ফেবার ক্যাসেল আসার আগে এই আধিপত্য কমেনি। এখনো কমেছে বলবো না। কারণ নটরাজ, অপ্সরা দামে সস্তা, লেখা তো যায়। কলম, ম্যাটাডোর গ্রীপার জেল আসার আগে কাউকে দেখিনি সেলো ছাড়া লিখতে। হয় সেলো, নয় রেনল্ডস। যারা বেশি খরচে যেত না তারা হয় ইকোনো ডিএক্স দিয়ে লিখতো নতুবা অলিম্পিক ফাইন। দেশী কলম, তাও বাজার মন্দা হতে সময় লাগেনি। আজ কেউ বাজারে গিয়ে অলিম্পিক ফাইন পাবেন কিনা জানি না। তবে সেলো এখনো পাবেন। আমি নিজেই এখনো সেলো দিয়ে লেখি। একই অবস্থা জ্যামিতি বক্স, রং পেন্সিলের বক্সের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

পোষাক খাত থেকে যে আমাদের বৈদেশিক মূদ্রার সিংহভাগ অর্জিত হয়, তার অন্যতম কাঁচামাল সূতার একটা বড় অংশ আসে ইন্ডিয়া থেকে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। নোকিয়া মোবাইল এখনো বাজারের অনেক জনপ্রিয়। কারণ ব্যবহার করা সহজ। নোকিয়া কেয়ার থেকে আপনি যেসব মোবাইল কিনবেন তার সবই ইন্ডিয়ায় তৈরী। এখানেও আমাদের হাতে উপায় নেই।

অনেক ছোটখাটো ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশের জন্য আমরা ইন্ডিয়ার বাজারের ওপর নির্ভরশীল। সবসময় চীনের যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না। কাজ চালানোর জন্য হলেও লাগে। আমাদের দেশে এসব যন্ত্রাংশ তৈরী হয় না।
এভাবে বললে অনেক লম্বা তালিকা করা যায়। তাই বলবো বর্জনের আগে এসব জিনিসের বিকল্প তৈরী করা জরুরি। আমাদের নিজেদের জন্যই। বিকল্পের কথা না ভেবে গলা ফাটালে, ফেসবুকে পোস্টের বান ভাসালে, ইভেন্টের ফোয়ারা ছোটালে কোন কাজ হবেনা। বরং ইন্টারনেটের মূল্যবান ভলিউম, গলার শক্তি, আর কিছু পরিমাণ চা পাতা, পানি আর চায়ের কাপ নষ্ট হবে। এই যা।

তাই বলেকি আমরা ফেলানী হত্যার প্রতিবাদ করবো না? আমাদের দেশের মানুষের জীবনের কি কোন মূল্য নেই নাকি? বি এস এফ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলে কি যাচ্ছেতাই করে বেড়াবে? প্রতিবাদ জায়গামতন করুন। সমুদ্রসীমা উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে আমাদের আপত্তি নেই। তাহলে আমাদের দেশের একজন নাগরিককে বিনা বিচারে হত্যা করা হল, তার বিচার চাইতে আমরা কেন আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারবো না? নাকি আমলাদের পার্টির আড়ালে সময় হবে না এর জন্য? আর কত ফেলানী হারিয়ে গেলে আমরা সচেতন হব? আরেক দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের দেশের মানুষ মারে, ধরে নিয়ে যায়। আমাদের সরকার কি করে জানতে ইচ্ছে করে। আর কোন দেশে সীমান্তে এভাবে মানুষ মারা যায়? কেউ কি বলবেন? কোন সভ্য দেশের মানুষ সীমান্তে এভাবে মানুষ মারে? নির্যাতন করে? উত্তর কেউ দিবেন? বোধশক্তি হওয়ার পর থেকে উত্তর খুঁজছি। পাইনি। কবে পাবো জানিনা।

স্কুলে আমাদের একজন শিক্ষক ছিলেন। আবদুল কাদির। কাদির স্যারের কথাগুলো অনেক কর্কশ হলেও জীবনের বিভিন্ন সময়ে কথাগুলোর যথার্থতার প্রমাণ পেয়েছি। স্যার বলেছিলেন,

তুমি যখন কোন কথা বলবে, বলার আগে দেখে নিয়ো তোমার কথা কে শুনছে। যে শুনছে তার যোগ্যতা আছে কিনা তোমার কথা শোনার।

যারা অযথা শক্তি ক্ষয় করছেন তাদের জন্য কথাটা উল্লেখ করলাম। আশা করি বুঝেছেন।

[ ভারতীয় পণ্য বর্জন করবেন?
টিভি সিরিয়াল? চলচ্চিত্র? সংগিত? ক্রিকেট? শাড়ি? গয়না? চাল? ডাল? পেয়াজ? গরু?
আসেন, আগে ফেন্সিডিল দিয়া শুরু করি।

কৃতজ্ঞতাঃ Omar Farooq Lux ] == ফেসবুক থেকে নেয়া।

১৫ thoughts on “। ইন্ডিয়ার পণ্য গ্রহণ-বর্জন আর আমার জিজ্ঞাসা ।

  1. সাময়িক হুজুগের বাইরে গিয়ে
    সাময়িক হুজুগের বাইরে গিয়ে লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। আমরা যারা ভারতীয় পণ্য বর্জনের জন্য লাফাচ্ছি, সত্যি কথা বলতে আমরাও নিত্য প্রয়োজনী জিনিস/সেবা কিংবা যা সব সময় হাতের কাছে থাকে (মোবাইল, সিরিয়াল, পেয়াজ, গরু) এসব নিয়ে ভাবছিলাম। এতটা গভীরে গিয়ে চিন্তা করি নি। এখন করতে হবে।

    তবে, আপাতত যেটুকু পারি, সেটুকুই না হয় বর্জন করি। সাথে চেষ্টা করে যাই, নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবার। একদিন তো সম্পূর্ণই নিজের পায়ে দাড়াতে পারব।

  2. হে মুমিনগণ, বর্জনকৃত
    হে মুমিনগণ, বর্জনকৃত রেন্ডিয়ান পণ্যের তালিকায় জাকির নায়েক ও তাহার পিচ টিভি এবং সানি লিওনও কি থাকবে???
    – কার্টেসী প্রিতম চৌঃ

    1. হে মুমিনগণ, বর্জনকৃত

      হে মুমিনগণ, বর্জনকৃত রেন্ডিয়ান পণ্যের তালিকায় জাকির নায়েক ও তাহার পিচ টিভি এবং সানি লিওনও কি থাকবে???

      শাহিন ভাই, অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন :শয়তান: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: 😀 … এইবার দেখি জাকির নায়েক আর সানি লিওন ছাড়া মুমিনগণ জিহাদ করতে জ্বালানি পায় কই… :ভেংচি: :হাহাপগে: :হাসি: 😀

  3. সমসাময়িক গতিধারার বাইরে একটা
    সমসাময়িক গতিধারার বাইরে একটা পোস্ট দিলেন। যুক্তিগুলো ফেলার উপায় নেই। আমরা যারা ইন্ডিয়ান পণ্য বর্জন করতে বলছি, আমরা বলছি যেসব পণ্য আমাদের দেশে আছে সেগুলো ইন্ডিয়া থেকে নিয়ে আসা অর্থহীন। কিন্তু বিদেশ শব্দটা আমাদের মনের মাঝেই জেঁকে বসেছে। প্রতিটা দেশের সাথে প্রতিবেশি দেশের একটা আন্তঃসম্পর্ক থাকা উচিত। আমরা সেই সম্পর্কের বিরুদ্ধে যাবো না। কিন্তু অবশ্যই নিজেদের ক্ষতি না করে। আমরা অন্য দেশের লাভ দেখতে যাবো না। যেসব পণ্য আমাদের দেশেই তৈরী হয়, সেগুলো অন্যদেশ থেকে এনে আমাদের নিজস্ব বাজার ধ্বংস করা অর্থহীন। আমরা বর্তমানে যথেষ্ট স্বয়ংসম্পুর্ণ। আমরা আগে দেশীয় কোম্পানিকে সুযোগ দেব,দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যারা ঘুমিয়ে থাকে তাদেরকে জাগানো যায়, কিন্তু যারা ঘুমিয়ে থাকার ভান ধরে, তাদের জাগানো যায়।

  4. দারুন একটা পোস্ট! আমি নিজেও
    দারুন একটা পোস্ট! আমি নিজেও কোন দেশের পণ্য বর্জনকে যুক্তিযুক্ত সমাধান মনে করি না কখনোই… তবে হ্যাঁ সাময়িক একটা প্রতিবাদের ভাষা হয়তো হতে পারে এটা!
    ইতি পূর্বেও বহুবার আমরা এমন উদ্যোগ দেখেছি… আফগানিস্তান আক্রমনের সময় যারা বুশের দুই গালে জুতা মারার স্লোগান নিয়ে মিছিল বের করে বলেছিল- আমেরিকান পণ্য বর্জন করুন, তারাই মিছিল শেষে গলা ভেজানোর জন্য দোকানে গিয়ে “পেপসি-কোকাকোলা-সেভেন আপ” এর অর্ডার দিতো!
    কিছুদিন আগে মহানবী (সঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গার্তক কার্টুন ছাপানোর অপরাধে ডেনমার্কের “ডানো” দুধ বর্জনের দাবী ওঠে… সেটাও কবেই নিঃশেষ হয়ে গেছে!
    হুজুগে আসলে কিছু হয় না। তবে প্রতিবাদটা অবশ্যই দরকার… কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা এমন ভাবে প্রকাশ করা উচিৎ নয় যেন নিজের ফেলা থুতু নিজেকেই আবার চেটে খেতে হয়!

    শাওন ভাইয়ের লেখায় একটা টেকনিক্যাল মিস্টেক আছে! (একজন অটোমোবাইলের ছাত্র হিসেবে আমি জানি) “বাজাজ”-এর ইঞ্জিন মোটেও নিন্মমানের নয়! বরং ভালো মানের বলেই বাংলাদেশে এখনও ইন্ডিয়ার বাজাজ এবং হিরো হোন্ডার কদর সবচেয়ে বেশী! আর ওয়াল্টন অনেকেই ব্যবহার করতে চায় না এর চায়না ইঞ্জিন ২/৩ বছরের মাথায় প্রচুর বিরক্ত করা শুরু করে বলে!
    তবে তাতে কিছুই এসে যায় না। ভারতীয়রা তাদের স্বদেশী পণ্যের প্রতি যতটা শ্রদ্ধাশীল ততটা আমরা হয়ে উঠতা পারিনি কোনদিনই… একথা বলবার অপেক্ষা রাখে না যা- ভারতের কি মুসলিম কি হিন্দু, নিজের দেশ বলতে যতটা অজ্ঞান ততটা আমরা নই। তাদের মত দেশ প্রেমিক আমরা এখনও হতে পারিনি বলেই আজ আমাদের আধুনিক জীবন যাত্রা বিদেশী পণ্য ছাড়া অসম্ভব!
    আমাদের দেশে যতজন ভাদা আর পাদা বাস করে ততজন বাংলাদেশী/বাঙ্গালী বাস করে না…

    সর্বপরি, সিভিলাইজেশনের এই যুগে আমাদের মত ৩য় বিশ্বের একটি দেশের পক্ষে কি ভারত কি আমেরিকান, বিদেশী পণ্য ছাড়া টেকা মুস্কিল!
    কাজেই পণ্য বর্জন কোন স্থায়ী সমাধান নয়! তবে হ্যাঁ, আবারও বলছি- সাময়িক একটা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে অবশ্যই। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য চাই দেশের শাষ্ক গোষ্ঠি থেকে শুরু করে দিন মজুর পর্যন্ত সকল শ্রেনীর মানুষের মধ্যে অখন্ড দেশপ্রেম… নইলে নতুন নতুন ইস্যুর ভিড়ে পুরোন ইস্যু চাপা পড়ে যাবে কেবল, কখনোই কিচ্ছু হবে না!

  5. শত শত স্ট্যাটাস আর ব্লগের মূল
    শত শত স্ট্যাটাস আর ব্লগের মূল বক্তব্য ছিলো, ‘এই রায়ের প্রতিবাদে স্টার প্লাস, জি বাংলা, স্টার জলসা বন্ধ করেদিতে হবে’, ‘আশিকী টু, চেন্নাই এক্সপ্রেস দেখে আপনার বিপ্লব করতে আইসেন না’ ব্লা, ব্লা ব্লা। একটা ব্যাপার খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, একজনও, স্রেফ একজনও লেখেনি ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস-স্টার ক্রিকেট বন্ধ করে দেন। ক্যাবল অপারেটরকে এই চ্যানেলগুলোও কাঁটতে বলেন। একটা মেয়েও লেখেনি এই কথাটা। নিবেদনপক্ষেআমার চোখে পড়েনি। আপনার রাগ ঠিক কিসেরউপর? মা-বোনের হাত থেকে রিমোট পাননা সেটার উপর না সীমান্ত হত্যার উপর? আমার ছোট মস্তিষ্কের উপর দিয়ে গেছে ব্যাপারটা।
    পরের প্রশ্ন, ধরে নিলাম ক্যাবল অপারেটরদের দিয়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করালেন। এই রায়ের ক্ষেত্রে আমাদের কী লাভ তাতে? ওয়েল, আমাদের লাভ না থাকুক, ওদের ক্ষতি হোক। তাহলে বলেন, ওদের কতটা ক্ষতি এতে? ওদের কয়েকটা চ্যানেলের টিআরপি রেটিং খানিকটা কমবে। কতটুকু কমবে? আর? ধরে নিলাম, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। ওদের কয়েকটা প্রদেশেই ১৬ কোটির উপরে জনসংখ্যা। কিচ্ছু হবে না, স্রেফ কিচ্ছু হবে নাওদের। উল্টো কয়েকদিন পরেই বাংলাদেশে স্পোর্টসচ্যানেল না থাকাতে আর অন্য কোনো দেশি চ্যানেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ত্ব বাই এনি চান্স কিনে না নিলে আপনি-আমিই স্টার ক্রিকেটের জন্যে চোখের পানি-নাকের পানি এক করে ফেলাতে পারি।
    পরের যে ব্যাপারটা চোখে পড়লো, ভারতীয়পণ্য বর্জন। সম্ভবপর হলে নি:সন্দেহে সাধু উদ্যোগ। এখানে, কয়েকটা কিন্তু, তবে, যদিও আছে। বলি, বাজারে যান তো? এবারের ঈদের আগে পরেকোনো একটা সময়ে ভারত থেকে পেয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছিলো। তখন কী অবস্থা হয়েছিলো তা জানা আছে? একবার ভারত থেকে চিনি আমদানি বন্ধ হওয়াতে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত চিনি কিনতে হচ্ছিলো। এক বাসায় বেড়াতে গিয়ে স্যাকারিনের চা খেতে হয়েছিলো! সে স্মৃতি ভুলতে পারিনি এখনও। দু’-এক বছর আগে কোরবানী ঈদেএকবার ভারতীয় গরু আসা কয়েকদিন আটকে ছিলো সে স্মৃতি মনে আছে?

    বাংলাদেশে ফেসবুক-ব্লগ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২% এরও নিচে। এই বিপ্লবের অর্থ কি আর বোঝানোর দরকার আছে?
    (অন্য একজনের ফেসবুক পোস্ট থেকে কপি করা ।প্রাসঙ্গিক হওয়ায় এখানে দিলাম)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *