ফেলানী হত্যার বিচার চাও..? কোন মুখে ?

ফেলানী নামের এক কিশোরীকে গুলি করে হত্যা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। কাঁটাতারে ঝুলন্ত এই কিশোরীর লাশ দেখে মন কাঁদেনি এমন মানুষ হয়তো নেই। সৃষ্টি হয় একটি মানবিক আন্দোলনের। নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে বিচার শুরু হল এই হত্যাকান্ডের। সেই বিচারে সাক্ষ্য দিতে ওপারে গেলেন ফেলানীর বাবা। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় আদালত নির্দোষ ঘোষণা করল ফেলানীর হত্যাকারী সেনা সদস্য অমিয় ঘোষকে । বিলাপ শুরু হল অনলাইনে । ভারতকে গালাগাল দেয়ার আরেকটি ইস্যু পাওয়া গেছে সেটা নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই। ফেলানী হত্যার প্রতিবাদে অসংখ্য ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাক করতে থাকে বাংলাদেশের “প্রতিভাবান” হ্যাকাররা। কিন্তু শাহবাগ আন্দোলনের সময় মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারী “আমার তলদেশ” এর ওয়েবসাইট চলতে থাকে নির্বিঘ্নে। বুঝতে কারো অসুবিধা হয়না যে কারা এই হ্যাকার ? বুঝতে আরও অসুবিধা হয়না যে সারাক্ষণ বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার কথা বলেও আমরা কত পিছিয়ে আছি ওদের থেকে !!

আমি মুখের ওপর সত্য কথা বলি বলে অনেকের পছন্দ হয়না । বলুন তো, এই যে সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত গরু পাচারকারীরা চোরাকারবার করে বিএসএফ কি তাদের ডেকে ডেকে নিয়ে যায় ? আবার যদি এই চোরাকারবারীদের হত্যা করা হয় তবে আমরা বিচার চাইতে থাকি। এবং নিজের অজান্তেই চোরাকারবারকে বৈধতা দিয়ে দিই। আমাদের হয়তো দেশপ্রেম নেই; আমরা সবার জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে বসে আছি। তাই বলে অন্য দেশের মানুষও যে দেশপ্রেমহীন হবে সেটা ভাবার কোন কারন আছে কি ? ফেলানীর ওপারে যাবার কারন হিসাবে সুস্পষ্টভাবে বলা হয় যে ফেলানী দিল্লীতে বাবার সাথে কাজ করতে যেত। সেখানে তাদের মত আরও অনেক বাংলাদেশীই অবৈধভাবে কাজ করে। অর্থাৎ উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষগুলি সাধারণত অন্য দেশের উপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকে। এখন প্রশ্ন হল তবে কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ফেলানী হত্যার বিচার চাওয়া হয় ? (১) বিনাবিচারে হত্যা (২) অবৈধ অনুপ্রবেশকে বৈধ করা (৩) চোরাচালান কে বৈধতা দেওয়া । যদি প্রথমটি হয় তবে বলব, যে দেশে সাজানো ক্রসফায়ার বৈধ সে দেশ আরেক দেশে অবৈধ প্রবেশকারীর ক্রসফায়ারের বিচার চায়, বিচার না পেয়ে আবার রাগ হয়, কান্নাকাটি করে। এটা কি হাস্যকর নয় ? যদি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কারনটি সঠিক হয় তবে আমার আর কিছু বলার নেই। যে দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে কালো টাকাকে সাদা করা হয় সে দেশের মানুষ কোন অবৈধ কাজকে বৈধতা দেয়ার কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক ।

চোরাচালানীর সাথে জড়িত মহিলা-পুরুষদের চেহারা দেখলে আপনি সহজেই বুঝবেন যে এরা গরীবের চেয়েও গরীব। এরা কলুর বলদ, মানে ভারবাহী কিন্তু ফলভোগী নয়। চোরাচালানের ফল ভোগ করে গডফাদাররা। উত্তরাঞ্চলের ঐ গরীব মানুষগুলিকে যারা মৃত্যুকুপে পাঠাতে বাধ্য করে তাদের কয়েকটাকে ক্রসফায়ারে দিলেও হয়তো চোরাচালান কিছুটা কমতো এবং এসব গরীবের চেয়েও গরীব মানুষগুলো বেঘোরে মরত না।
নিজের দোষ অপরের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে আমরা নিজেদের দায়মুক্ত করছি ঠিকই ; তবে আমার ছোট্ট দেশটি বিশ্বদরবারে পরিচিত হচ্ছে “ভিখারীর দেশ” আর “চোরের দেশ” হিসাবে !! আমরা যতদিন দালালের মাধ্যমে ভারতে অবৈধ প্রবেশ বন্ধ করতে না পারবো ততদিন বিএসএফ গুলি করবে, আর তার বিচারও হবে না। বিজিবি ঘুষ খাওয়া বন্ধ করুক, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ হোক, অবৈধ প্রবেশ বন্ধ হোক, একটা বাংলাদেশীও মরবে না। কেউ হয়তো বলবেন- বিসিএফও তো ঘুষ খায়, তাহলে তারা গুলি করে কেন? আমি বলবো- আমরা নিজেরা শুদ্ধ না হয়ে আরেকজনকে শুদ্ধ হতে বলতে পারি না। আমরা এমনই দেশপ্রেমিক যে পরের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে অক্কা পাবার পর তার বিচার চাই।

যারা আমার এই পোস্টের বিরোধিতা করবেন তাদের বলে রাখি, আমি এখানে ভারতের দালালি করতে আসিনি। এসেছি আত্মসমালোচনা করতে। যদি এতেও মন না ভরে তবে আজ থেকে ঘরের দরজা খুলে ঘুমাবেন । চোর আসলেও যেন কিছু না বলেন, কেমন ?

৩৪ thoughts on “ফেলানী হত্যার বিচার চাও..? কোন মুখে ?

    1. ব্রহ্মপুত্র,আপনি এখানে ভারতীয়
      ব্রহ্মপুত্র,আপনি এখানে ভারতীয় খুনীটার দেশপ্রেম দেখতেছেন!! একটা ১৫ বছরের শিশুকে গুলি করা কাঁটাতারে ৪ ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখলো, তাও এইটা দেশপ্রেম? আর বেকসুর খালাস ঐ খুনী??

      আমি কিন্তু ভাই, ফুল স্পিডে তালিয়া বাজাইয়া গেলাম। স্যালুট আপনাদেরকে। :স্যালুট:

      1. কিছু বলার নাই, খালি স্পিকার
        কিছু বলার নাই, খালি স্পিকার হয়া তাকায়া থাকি এই চমৎকার সুশীলদের দিকে… :দেখুমনা: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :মানেকি:

      2. কেন খুনটা করেছে সেটা বলুন তো
        কেন খুনটা করেছে সেটা বলুন তো ?? প্রতিদিন সীমান্তে যে এত মানুষ মরে তাদের সবাই কেন সীমান্তে যায় ??

  1. সহমত আপনার সাথে।
    ফেলানির জন্য

    সহমত আপনার সাথে।
    ফেলানির জন্য কষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর জন্য অন্য দেশের কুৎসা কেন গাইতে হবে। ফেলানিকে নিরাপত্তা দিতে পারে নি কে? বাংলাদেশ। তার মৌলিক চাহিদা সব পূরণ হলে নিশ্চয় সে সীমান্ত অবৈধ ভাবে পার হতো না।
    ফেলানিকে ধর্ষণ করা হয়েছিলো। এটা কি সঠিক?

  2. কিছু কমু না। স্রেফ একটা গল্প
    কিছু কমু না। স্রেফ একটা গল্প শোনাই। কেমন?

    মেক্সিকোর একটি দরিদ্র পরিবারের দুই সন্তান রাতের আঁধারে রিওগ্রানদে নদী সাঁতরে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা অতিক্রম করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষীর গুলিতে নিহত হয়। তারা এমন এক স্থানে গুলিবিদ্ধ হয় যেখানে মেক্সিকো ওযুক্তরাষ্ট্রের আইনে নদী পারাপার নিষিদ্ধ ছিল। সীমান্তরক্ষী অফিসার চোরাচালানের উপর নজর রাখার জন্যই বিশেষভাবে নিযুক্ত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব মার্শাল সীমান্তরক্ষী অফিসারকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং অফিসারকে চাকরি থেকে অব্যাহতির আদেশ দেয়। কিন্তু কিছুদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেই আদেশের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং অফিসারকে পুনঃরায় চাকরিতে বহাল করেন। বিষয়টি মেক্সিকো-ইউএসএ জেনারেল ক্লেইমস কমিশনে বিবেচনার জন্য প্রেরণ করা হয়। আদালত সিদ্ধান্ত দেয়, অফিসারের কৃতকর্ম রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা যেভাবেই বৈধ করার চেষ্টা করা হোক না কেন এটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো কাজ নয়। শিশু দুটির অনানুমোদিত স্থান দিয়ে নদী পারাপারের চেষ্টা নিঃসন্দেহে বেআইনি কাজ। কিন্তু কেবল এই কারণে কেনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত বা অনুমোদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে ব্যক্তির প্রতি আচরণের একটি ন্যুনতম গ্রহণযোগ্য মাত্রা রয়েছে। এমন কোনো আইন নেই যার মাধ্যমে ব্যক্তির প্রতি এমন অমানবিক আচরণ সামর্থিত হতে পারে। সুতরাং মেক্সিকান শিশু দুটির হত্যা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী হবে। সেই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিহতের বাবা-মাকে ২ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমানের চেয়ে বড় বিষয় হলো দায়ী পক্ষ দণ্ড পেয়েছে।

    1. পুরোপুরি সহমত ক্লান্ত ভাই।
      পুরোপুরি সহমত ক্লান্ত ভাই। মানুষের এক্সট্রা সুশীলতা দেখলে আমি অবাক হয়ে যাই। জাহান্নামে যাক এই অনলাইন। রাস্তায় নেমে আসেনা কেন মানুষ? কি আজব ব্যাপার!!!! সীমান্তে একটা শিশুকে গুলি করে মারা হইলো, আর কেউ কেউ এখানে ভারতীয় কুত্তা বাহিনীর দেশপ্রেম দেখাইতেছে!!! এই হইলো আপনাদের বিচার!! আহারে! ফেলানী মরে গিয়ে ভালোই করছে। ফেলানী একটা চোরের বাচ্চা চোর। গুলি করে মেরে তার লাশ টুকরা করে ফেলা উচিত ছিলো। কত্ত বড় সাহস! ভারতের সীমান্তে চুরি করে? ভারতীয় দের দেশপ্রেম সম্পর্কে ঐ মেয়ে কিছুই জানে না। গুলি করছে বহুত ভালা করছে। গুলি করে চার ঘন্টা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখছে। এক গ্লাস পানি খাইয়াও মরতে পারেনাই। এমন কষ্টের মৃত্যুই তো ওর প্রাপ্য। আমরা বাঙালি চোরদের এর থেকে শান্তির মৃত্যু সম্ভব না। অমিয় তো বেকসুর খালাশ! আহারে! সাইকো কিলাররা তাহলে সীমান্তে চাকরি নিতে পারে! কেন শুধু শুধু আন্ডারগ্রাউন্ডে খুন করতে যায়?

      আসেন, আমরা অমিয় এর কাছ থেকে দেশপ্রেম শিক্ষা নিই। একটা খুনী কে দেশপ্রেমের লালসালু দিয়া ঢেকে দিই। জয় ভারত মাতা! CTN বাংলাদেশ। জাহান্নামে যাও ফেলানী।

    2. প্রতিদিন অসংখ্য প্রাপ্তবয়স্ক
      প্রতিদিন অসংখ্য প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাক্তি ও সীমান্তে মারা যায়………………… তাদের বিষয়ে আপনার কাছে কোন গল্প আছে কি……?????????

      1. না কোন গল্প নেই। তবে একটা
        না কোন গল্প নেই। তবে একটা প্রশ্ন আছে। চোরাকারবারি যখন হয়, তখন এপারের লোক লাগে। ওপারের লোকও লাগে। কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে কেন শুধু এপারের মানুষই মারা যায়। ভারতীয় আর বাঙালিদের Origin তো আলাদা নয়। দেখে আমাদের কখনও আলাদা করা যাবে না। BSF কীভাবে করে, জানাতে পারেন?

          1. আমার প্রশ্নটা আরেকবার ভাল করে
            আমার প্রশ্নটা আরেকবার ভাল করে পড়েন। BSF কীভাবে বোঝে যে কে বাংলাদেশী আর কে ভারতীয়? আর বেছে বেছে শুধু বাংলাদেশীদেরই মারে কেন?

  3. ফেলানী হত্যার বিচার একটা
    ফেলানী হত্যার বিচার একটা প্রহসন ।আমরা পরাশক্তি নই তাই হয়তো তাৎক্ষনিক প্রতিশোধ নিতে পারবো না কিন্তু আশা রাখি, ইতিহাস একদিন ফেলানী হত্যার বিচার করবেই ।

  4. স্বীকার করি, লেখকের কথার
    স্বীকার করি, লেখকের কথার পেছনে মানার মত যুক্তি আছে ।তবে একথাও অনস্বীকার্য যে, যুক্তির কাছে সবসময় যেমন আবেগ খাটে না তেমনি অনেক সময় আবেগের কাছেও যুক্তি হার মানে ।
    সীমান্তে হরেক রকম অপরাধা সংগঠিত হয় ।এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এসব অপরাধের সাথে তুলনামুলক বাংলাদেশীরাই বেশি যুক্ত ।তাছাড়া আমাদের বিজিবি সঠিক দায়িত্ব পালন করলে এধরনের অনাকাংখিত ঘটনা অনেক এড়ানো যেত।

    বর্তমানে ফেলানী হত্যার রায় বাংলাদেশের জন্য একরকম পরাজয় ও লজ্জাজনক হয়ে দাড়িয়েছে ।তাই এই মুহুর্তে আমাদেরকে দোষ না খোজে সম্মিলিত প্রতিবাদ করা উচিৎ ।স্মরণ রাখা বা ভাবা উচিৎ… ফেলানী আমারও বোন হতে পারতো ।

    1. স্মরণ রাখা বা ভাবা উচিৎ…

      স্মরণ রাখা বা ভাবা উচিৎ… ফেলানী আমারও বোন হতে পারতো ।

      কথাটা যদি আজকে এভাবে না ভাবি, তবে কে বলতে পারে, কাল হয়তোবা আমার বোনের একই অবস্থা হবে… :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :মাথাঠুকি: আর ফেলানিতো আমার বোনই… তাই না… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    2. শাহীন ভাই……, এই আবেগ
      শাহীন ভাই……, এই আবেগ দেখিয়ে আমরা একটি গুরুতর অপরাধকে উস্কে দিচ্ছি……..!!!!!!!!!!!!! সবাই ভাবতে লেগেছে যে সীমান্তে চোরাচালান করা অন্যায় নয়……………., প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করাটা অন্যায়………….

  5. যারা হিরোইজমে ভোগে তারা
    যারা হিরোইজমে ভোগে তারা ভুগুক। চিত্‍কার চেচামেচি কইরা জোর কমলে আফছারাপ অফ হইয়া যাইব!
    যারা এখনো ব্যতিক্রম আছেন তাদের বলি ঘুনে ধরা এ সমাজ পাল্টাতে হবে। দ্বিচারীদের মুখে ঝামা ঘষতে হবে আর হিরোদেল জলিলের বউ বর্ষার কাছে পাঠাইতে হবে..।

    1. ব্রহ্মপুত্র ভাই, আমি আপনার
      ব্রহ্মপুত্র ভাই, আমি আপনার সাথে একমত। “যারা হিরোইজমে ভোগে তারা ভুগুক। চিত্‍কার চেচামেচি কইরা জোর কমলে আফছারাপ অফ হইয়া যাইব!”
      কথা সত্যি। কিন্তু ঘুণে ধরা এই সমাজ তাহলে আমরা কিভাবে পাল্টাবো? বলেন? ঘরে বসে থেকে? চুপ করে থেকে? আপনি কথার জবাব দেন না। তার মানে কি আমি ধরে নেব যে আপনার কাছে আসলে জবাব নেই? আপনি কি তাহলে ধরেই নিয়েছেন যে এদেশে এভাবেই চলতে হবে, এদেশের মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে না?
      সেরকম মনে করলে ভুল করছেন।
      দেশের অবস্থা আসলেই খারাপ। কেউ কাউকে বিশ্বাস করি না, প্রতিটি জায়গায় সমস্যা আর সমস্যা। আমরা একটু চেষ্টা করছি ইম্প্রুভ করার। আপনার কথাই ঠিক, “চিত্‍কার চেচামেচি কইরা জোর কমলে আফছারাপ অফ হইয়া যাইব”।
      আসলে যত যাই হোক, আফটার অল, আমরাও মানুষ। এক সময় আমরাও বুঝতে পারি যে আমরা এদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বয়ে চলা হাজারো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে নেমেছি == যার বিপক্ষে আমাদের জেতার কোনই সম্ভাবনা নাই। আমরাও হয়তো একসময় থেমে যাবো। কিন্তু ভাই, আমরা কোন হিরোইজমে ভুগছি না। দেশের জন্য একটু খারাপ লাগছে। সেটা প্রকাশ করার জায়গা পাচ্ছি না। ব্লগেই খানিকটা শোক প্রকাশ করছি। তাতে ফেলানি বা ঘুণে ধরা সমাজের হয়তো কোন পরিবর্তন হবে না। কিন্তু কে জানে, হয়তো এই শোক একদিন শক্তিতে পরিণত হবে। হয়তো একদিন আমরাই জিতে যাবো…

      1. আমি ঘরে বসে ফেসবুকে বিপ্লব
        আমি ঘরে বসে ফেসবুকে বিপ্লব করার লোক নই…………….. আমি রাজপথের লোক…………….আমার প্রতিবাদ শুরু রাজপথ থেকেই…………..

  6. হিন্দি ফিল্মের নায়িকাদের
    হিন্দি ফিল্মের নায়িকাদের প্রেমে পড়তে পড়তে কবে যে এদেশের উজবুক, বেকুব, অপদার্থ একপাল মানুষ ভারতের অন্ধ প্রেমে মজে গেছে … এতদিন পাকিস্তান ভক্ত অন্ধ শুয়োরের পালদের বকা ঝকা করতাম । কখনো ভাবিনি এমন নির্বোধ , নির্মম, হৃদয়হীন দেখতে দেশীয় কিন্তু আদতে ভারতীয় জন্তুদের সাথে দেখা হবে । এই দেশপ্রেমহীন রাজাকার দের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানালাম । এরা কূট তর্কের আড়ালে ঢেকে দিতে চায় মানবিকবোধ । এদের সামনে যুক্তির হাজারটা প্রকাশ আনলেও কোন লাভ নেই । চশমাটা যে একটা বিশেষ শ্রেণীর ও দলের । সব কিছু চোখে পড়েনা । দেখা জায়না কাঁটাতারে ফেলানির মৃত দেহ

  7. সহমত রাহাত ভাই। এই ভাদা
    সহমত রাহাত ভাই। এই ভাদা সুশীলদের বালীয় যুক্তি মোতাবেক বলা যায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৫ শে মার্চ যে গণহত্যা চালালো, সেইটা অন্যায় হয়নাই। কারণ, তাদের মাঝে দেশপ্রেম ছিল এবং তারা ইয়াহিয়ার নির্দেশ পালন করছে। রাজাকারের বিচার করা যাবেনা। কারণ আমরা আরো শত শত হত্যার বিচার করতে পারিনাই। এই না হলে ‘বালীয় যুক্তি’!!!

    তো, পাকিস্তানিদের নির্বিচারে হত্যা সাপোর্ট দেয়াতে তোমরা যদি জামাতিদের কুত্তা, শুয়োর, রাজাকার, এইসব বলে গালি দাও, ভারতীয় কুত্তা বাহিনীর হত্যাকে সমর্থন দিলে আমরা তোমাদের কি বলে গালি দিবো? তোমরাও কি তাহলে ‘সুশীল রাজাকার’ হয়ে গেলা না?

    সীমান্তে যে এত মানুষ মরছে, এইটা বিএসএফ এর দেশপ্রেম? এইটা যদি দেশপ্রেম হয়, তাহলে এই দেশপ্রেমকে টুট টুট টুট টুট….। আমি দেশপ্রেমিক না। দেশপ্রেমিক হয়ে মানুষ হত্যা আমার দ্বারা সম্ভব না।

  8. ফেলানীর কারনে অনেক মুরগী
    ফেলানীর কারনে অনেক মুরগী দেশপ্রেমিকদের চিনতে পেরেছি এটা একধরনের অর্জন বলা যায়। ফেলানীর লাশের ছবির কারনে এদের মানবিকতা নতুন গজানো কিছুর মত অহির্নিশ আবোল তাবোল উক্তিয়াদি উল্লেখে মানবতার জানান দিচ্ছে। নিজেদের মুরগী প্রেমীর সোল এজেন্ট দাবী করার আগে, অন্যদের ট্যাগানোর আগে নিজেদের বিজাতীয়তা থেকে মুক্ত করতে হবে। দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোটা হাসিনা খালেদা থেকে শিখাটা কি ঠিক হলো? ভারতকে গালাগালি করে আবার ভারতের কাছে থেকে ভালোবাসা চাওয়া, হত্যাকারীর কাছে হত্যার বিচার চাওয়া, শিয়ালের কাছে মুরগি রাখা কি ঠিক?
    আমি আমার কমেন্ট গুলোতে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো বাদ দিয়ে ন্যায় বিচার কিভাবে নিশ্চিত করা যায় তা ভাবার কথা বলেছিলম। ব্যাস তাতেই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেলো? দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর কারনে আমাদের জাতীয় জীবনে যেখানে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি সেখানে অন্যেক দোষারোপ করে আন্তর্জাতিক জীবনে কিভাবে ন্যায় বিচার পাওয়ার কথা ভাবে অতি বিপ্লবীরা?!

    1. অন্যের ঘাড়ে আমরা দোষ চাপালাম
      অন্যের ঘাড়ে আমরা দোষ চাপালাম কখন? দোষ তো অটোমেটিক অমিয় ঘোষের ঘাড়ে চড়ার কথা ছিলো! আপনাদের মতামতই আসলে আপনারা ক্লিয়ার করতে পারতেছেন না। আপনারা একদিকে বলতেছেন, ভারতকে দোষ দেয়া যাবেনা, আবার বলতেছেন ফেলানি হত্যার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা! উরি বাবা! ভারত যদি দোষ না করে তবে বিচার চাইতেছেন কেন? আর বিচার যদি চাইবেন তবে ভারতকে দোষ দিতে পারতেছেন না কেন??? আপনাদের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝা যাচ্ছেনা।

      অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভাবে কোনো একটা প্রহসনের রায়ের প্রতিবাদ করলে আপনাদের ঠিক কোন যায়গাতে চুলকাচ্ছে সেটাই বুঝলাম না। যেসব পণ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ সেইসব পণ্য বর্জন করতে কী সমস্যা? পণ্যের কথা বাদ দিলাম। ফেলানি হত্যায় আপনারা বিএসএফ এর দেশপ্রেম কোথায় পাইলেন একটু দেখিয়ে দেন। আর আমার পোস্টে আপনি বলছেন,এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীলের নিয়ম নাই। আজ কালের কণ্ঠ প্রথম পেইজে দেখেন, ভারতীয় হাই কমিশন বলছে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। তাই, বলতেছি, যেটা বলবেন নিজেরা ক্লিয়ার হয়ে তারপর বলবেন। হুদাহুদি গ্যাঁজানো অর্থহীন।

  9. পুরো ব্যাপারটা ফাজলামি ছাড়া
    পুরো ব্যাপারটা ফাজলামি ছাড়া আর কিছু নয়………………. আপীল কইরা যদি কাজ না হয় তবে কি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন……………..??? বলেন তো অতিবিপ্লবী ভাইয়েরা……………

    1. যুদ্ধ ঘোষনা করবো না। অসহযোগ
      যুদ্ধ ঘোষনা করবো না। অসহযোগ আন্দোলনে নামবো। বিনা বিচারে মানুষ মারার এই মধ্যযুগীয় পন্থা সমর্থন করবো না কিছুতেই। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হব। কিন্তু, এভাবে পাখির মত গুলি করে হত্যাকে কখনোই সমর্থন করবো না। আপনার কিভাবে সমর্থন করছেন আমার জানা নাই।

      1. এই দেশেও এখন গনপিটুনিতে

        এই দেশেও এখন গনপিটুনিতে অসংখ্য চোর মরে……. এখন বলুন তো মানুষ কেন এই সামান্য বা অসামান্য চোরদের সর্বোচ্চ শাস্তিটা প্রদান করে ? উত্তর একটাই- আইনের প্রতি অনাস্থা। এখন দুটি ঘটনা মিলিয়ে দেখুন তো…… না ভারতের আইনকে আমি সবার উপরে বলছি না… তবে মনে রাখবেন বিজিবির গন্ডি পার হয়েই কিন্তু বিএসএফ এর হাতে পড়তে হয়। দেখুন তো সমস্যাটা কোথায়…………??

      2. অসহযোগ আন্দোলন
        অসহযোগ আন্দোলন করবেন…………..???? আছে সেই সাহস…………………??? যখন ভারত পন্য সন্ত্রাস চালিয়ে সকল দিক দিয়ে আমার দেশটা গ্রাস করল তখন কোথায় ছিলেন আপনারা আর কোথায় ছিল আপনাদের অসহযোগ আন্দোলন………….??? তখন কিন্তু আমার মত এই “ভারতীয় দালাল” রাই প্রতিবাদে নেমেছিল তাদের ক্ষুদ্র স্বামর্থ নিয়ে…………….. যে প্রযুক্তি দিয়ে আপনি লিখছেন সেটা ভারতীয় নয় তো ? বাংলাদেশী তো ?

  10. কার পাল্লায় পড়লামরে!
    ভাই আপনি

    কার পাল্লায় পড়লামরে!
    ভাই আপনি অভিযুক্ত আর দোষী শব্দ দুইটার মানে বুজেন? বাসায় বাংলা ডিকশেনারী আছে?
    ভারতের কাছে ন্যায় বিচার চাইছি কারন অভিযুক্ত পক্ষ হয়েও তারা বিচার প্রক্রিয়া অন্তত শুরু করেছে, ভিকটিম রাষ্ট্রের মত আকাইম্মা বসে নাই।
    আমার চুলকানির তালাশ না করে শান্তিপূর্ন আন্দোলন করে নিজেদের চুলকানি কমান। তাতে যদি অন্তত হুশ আসে!
    বর্জন করেন্না ভাই, কে মানা করছে? তবে দেইখেন আন্দোলন যেন নাটকে পরিনত না হয়।
    বাই দা ওয়ে প্রহসনের রায়ের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পাশাপাশি বিচার না করার জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনের পরিকল্পনা আছেকি?

    1. ভারতীয় পণ্য বর্জন কি তাহলে
      ভারতীয় পণ্য বর্জন কি তাহলে উগ্রবাদী আন্দোলন! আরে বাহ! ফেলানির অনাকাঙ্খিত মৃত্যু নিয়া আপনাদের মাথা ব্যথা নাই, শুধু ভারতীয় পণ্য বর্জন করতে কইলাম আর সেইরাম চুলকানি শুরু হয়ে গেল?

      আপনাদের সাথে তর্ক করা অর্থহীন। কারণ আপনার ঘুমিয়ে থাকার ভান ধরছেন। তাই আপনাদের আর জাগানো যাবেনা। হুদাই নেট ডাটা গুলো গুলা নষ্ট করলাম। ভারতপ্রেম মুড়ি দিয়ে মচ মচ করে খাইতে থাকেন। আপাতত চলেন সবাই বুকে হাত রেখে বলি,
      “লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স লুঙ্গি ড্যান্স!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *