ফেলানী হত্যার রায় : কাঁটাতারে ঝুলে থাকো বাংলাদেশ

মুল ঘটনা : ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে পঞ্চদশী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের এক জওয়ান।
ফেলানীর বাবা নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা গ্রামের নুরুল ইসলাম ১০ বছর ধরে দিল্লিতে কাজ করতেন। তার সঙ্গে সেখানেই থাকতো ফেলানী।দেশে বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাবার সঙ্গে ফেরার পথে এক দালালের সহায়তায় সীমান্ত পার হওয়ার সময় কাঁটাতারের বেড়ায় কাপড় আটকে যায় ফেলানীর।এতে ভয়ে সে চিৎকার দিলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং ঐ কাঁটাতারের উপরই লাশটি ঝুলে থাকে।


মুল ঘটনা : ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে পঞ্চদশী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের এক জওয়ান।
ফেলানীর বাবা নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা গ্রামের নুরুল ইসলাম ১০ বছর ধরে দিল্লিতে কাজ করতেন। তার সঙ্গে সেখানেই থাকতো ফেলানী।দেশে বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাবার সঙ্গে ফেরার পথে এক দালালের সহায়তায় সীমান্ত পার হওয়ার সময় কাঁটাতারের বেড়ায় কাপড় আটকে যায় ফেলানীর।এতে ভয়ে সে চিৎকার দিলে বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং ঐ কাঁটাতারের উপরই লাশটি ঝুলে থাকে।

বিচার প্রক্রিয়া : কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকার ও মানবিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকেও বিএসএফের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে ফেলানী হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যার বিচারের জন্য চাপ দেয়া হয়।বাংলাদেশ সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির প্রবল চাপে গত ১৩ অগাস্ট ভারতের কোচবিহার জেলায় সোনারি বিএসএফ ছাউনিতে গুলির দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ জোয়ান অমিয় ঘোষের বিচার শুরু হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বি এস এফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।এ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাত সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে এবং শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার ।বিচারের এক পর্যায়ে মেয়ে হত্যা মামলায় ভারতের কোচবিহারে বিএসফের বিশেষ আদালতে গত ১৯ আগষ্ট সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আবদুল হানিফ ।এ বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ এবং সরকারি কৌঁসুলি আব্রাহাম লিংকন।

রায় : দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ বিচারকের একটি আদালত গত বৃহস্পতিবার রায় প্রদান করেন ।রায়ে বলা হয়, বিএসএফ ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের হাবিলদার অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালত পায়নি।তাই আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হইল ।

প্রতিক্রিয়া : রায়ের পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, উল্টো রায় হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমি এ রায় মানি না। আমার মেয়েকে প্রকাশ্যে গুলি করে মারল, অমিয় ঘোষ তা স্বীকার ও করল, অথচ বিচার হলো উল্টো।তাদের ডেকে সাক্ষ্য নেওয়াকে সাজানো নাটক বলেও তিনি মনে করেন।আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার জন্য সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধও জানান।
অন্যদিকে রায়ের সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফেলানীর মা জাহানারা বেগম ।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সঠিক বিচার পাইলাম না, আমি কি নিয়া বাঁচব? এক দিনের সাজা হইলেও সান্ত্বনা পাইতাম।কিন্তু কিছুই হইল না।
ফেলানীর মামা হানিফ উদ্দিন রায়ের খবর শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা কোনো বিচার হলো? বিশ্বাস ছিল সঠিক বিচার করবে। এখন দেখবেন রায় শোনার পর বিএসএফ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ইচ্ছেমতো গুলি করবে।
ফেলানী হত্যা মামলার শুনানিতে অংশ নিতে ভারত গিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি আব্রাহাম লিংকন। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। হত্যাকারীর বিচারের মাধ্যমে সীমান্তে হত্যা বন্ধের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা তিরোহিত হলো।

আমার কথা : আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে ফেলানী হত্যার বিচারের রায়কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি ।আমি মনে করি, এই রায় মানবাধিকারের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন, অপরাধকে প্রশ্রয় এবং আত্মস্বীকৃত খুনিকে বৈধতা দানের শামিল।আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ ও দাবী জানাচ্ছি, জানামতে দ্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অ্যাক্ট, ১৯৬৮ এর ১১৭ ধারা অনুযায়ী এই আদেশের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।অতএব অনুগ্রহপূর্বক অনতিবিলম্বে সেই সুযোগটি গ্রহণ করুন ।প্রয়োজনে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগটি আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত নিয়ে যান ।
কেননা ফেলানী আজ কোন নুরুল ইসলামের মেয়ে নয়, ফেলানী মানে বাংলাদেশের মেয়ে ।ফেলানী মানে বাংলাদেশ ।

আমরা একটি ফুলকে বাচাঁবো বলে যুদ্ধ করি…………………………

৩৫ thoughts on “ফেলানী হত্যার রায় : কাঁটাতারে ঝুলে থাকো বাংলাদেশ

  1. আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের

    আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে ফেলানী হত্যার বিচারের রায়কে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি ।আমি মনে করি, এই রায় মানবাধিকারের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন, অপরাধকে প্রশ্রয় এবং আত্মস্বীকৃত খুনিকে বৈধতা দানের শামিল।

    1. Welcome Back গাজি!
      ফেলানী আজ

      Welcome Back গাজি!

      ফেলানী আজ কোন নুরুল ইসলামের মেয়ে নয়, ফেলানী মানে বাংলাদেশের মেয়ে ।ফেলানী মানে বাংলাদেশ ।
      আমরা একটি ফুলকে বাচাঁবো বলে যুদ্ধ করি… :salute:

  2. প্রয়োজনে ন্যায়বিচারের

    প্রয়োজনে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগটি আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত নিয়ে যান ।

    শাহিন ভাই! কড়া কথা বলেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. এই প্রথমবারের মতো যখন কোন
    এই প্রথমবারের মতো যখন কোন সীমান্ত হত্যাকাণ্ড আদালতে গড়ালো আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশায় কালিমা লেপন করে আরও একবার হত্যা করা হলো ফেলানীকে। হত্যা করার লাইসেন্স দেয়া হলো ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে। এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

    1. আমাদের প্রত্যাশায় কালিমা লেপন
      আমাদের প্রত্যাশায় কালিমা লেপন করে আরও একবার হত্যা করা হলো ফেলানীকে।
      – সহমত ।

      আমরা এই বিচার মানি না ।

  4. আমি কাঁটাতারেই সুখী
    এই

    আমি কাঁটাতারেই সুখী
    এই কুয়াশাতে উঁকি দিয়ে
    রাজী মিথ্যে নিতে, আসলে
    সত্যি বলে তো সত্যি কিছু নেই

    🙁 🙁 🙁

          1. সত্য যখন চোখের সামনে
            সত্য যখন চোখের সামনে অদ্ভুতভাবে মিথ্যা হয়ে যায় আর সবাই ওই মিথ্যা টাকেই স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়ে উটপাখির মত বালুর মাঝে মুখ গুজে থাকতে পছন্দ করে, তখন আর অযথা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবার সংগ্রাম করে কি লাভ?? ঠিক সেই সব মুহূর্তে হাল ছেড়ে দেয়া মানুষের মনের কথা এটি, শাহিন ভাই…

            আমি কাঁটাতারেই সুখী
            এই কুয়াশাতে উঁকি দিয়ে
            রাজী মিথ্যে নিতে, আসলে
            সত্যি বলে তো সত্যি কিছু নেই

            :ক্লান্তকাছিম: :ক্লান্তকাছিম: :ক্লান্তকাছিম:

  5. আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার

    আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার জন্য সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধও জানান।

    এরকম কোনকিছু করার সুযোগ থাকলে অবশ্যই আমাদের সেটা গ্রহণ করতে হবে ।

    1. অবশ্যই সুযোগ আছে ।তবে
      অবশ্যই সুযোগ আছে ।তবে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হলে বেশ কিছু ধাপ পেরুতে দীর্ঘ সময় ও উপযুক্ত তথ্য প্রমানের প্রয়োজন ।

  6. আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যতদিন
    আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যতদিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভে নিজেদের দেহ ভারতের কাছে বিক্রি করতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত কোন হত্যার বিচার হবে না।

    1. আপনি অত্যন্ত যৌক্তিক কথা
      আপনি অত্যন্ত যৌক্তিক কথা বলেছেন ।রাজনৈতিক দলগুলির অনৈক্যের কারনে আমর সম্মিলিত প্রতিবাদ ও করতে পারতেছি না ।

  7. আমি মনে করি, এই রায়

    আমি মনে করি, এই রায় মানবাধিকারের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন, অপরাধকে প্রশ্রয় এবং আত্মস্বীকৃত খুনিকে বৈধতা দানের শামিল।

    :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    এই জানোয়ারগুলো শুধু ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলিয়েই রাখেনি, ওরা একই সাথে ঝুলিয়েছে আমার বোনের সম্ভ্রম, আমার মায়ের আহাজারি, আমার বাবার বুকফাটা হাহাকার, সর্বোপরি আমার দেশের সার্বভৌমত্ব :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: … অবিলম্বে দ্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অ্যাক্ট, ১৯৬৮ এর ১১৭ ধারা অনুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করা হোক… :জলদিকর: বহুত হইছে আর না… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  8. … এই জানোয়ারগুলো শুধু
    … এই জানোয়ারগুলো শুধু ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলিয়েই রাখেনি, ওরা একই সাথে ঝুলিয়েছে আমার বোনের সম্ভ্রম, আমার মায়ের আহাজারি, আমার বাবার বুকফাটা হাহাকার, সর্বোপরি আমার দেশের সার্বভৌমত্ব
    – ঠিক ।

    বহুত হইছে আর না…
    — সহমত ।প্রতিশোধ নিতে না পারি অন্ততঃ জোরসে একটা চিৎকার করে তো বলতে পারি………………………… এই রায় মানি না, এই রায় মানবো না ।

    1. প্রতিশোধ নিতে না পারি অন্ততঃ

      প্রতিশোধ নিতে না পারি অন্ততঃ জোরসে একটা চিৎকার করে তো বলতে পারি………………………… এই রায় মানি না, এই রায় মানবো না ।

      এই রায় মানি না , মানব না… কোনভাবেই না… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

  9. সীমান্তে মানবতা লাঞ্ছিত,
    সীমান্তে মানবতা লাঞ্ছিত, এইটাই মূল কথা!
    লাশ ঐ পাড়ে পড়ুক আর এই পাড়ে পড়ুক, মরছে মানবতা…
    স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থায় কোন রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা থাকতে পারে না কেননা রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় মানুষ কখনই স্বাধীন নয়।।

    এইবার দেখি সীমান্তের মানুষদের স্বাধীনতা কেমন? গরু চুরি? ফেন্সিডিল পাচার? ইন্ডিয়ান কম দামী পন্য বাংলাদেশে এনে দেশীয় পন্যের বাজার নষ্ট করা এবং উচ্ছ মুনাফা করা? বাংলাদেশের তেল বা এমন পন্য যেসবের দাম এই পাড়ে কম ঐসব ঐপাড়ে পাচার অথবা বিপরীতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী কাজ করা? নারী এবং শিশুকে ব্যাপকহারে এইসব কাজে ব্যাবহার করা? পরিনামে বিএসএফ-বিজিবি’র আইনের অতিপ্রয়োগ অথবা অপপ্রয়োগ…

    রাষ্ট্রীয় সমাজ ব্যবস্থা কখনই (অর্ধসভ্যদের…) সীমান্তের রক্তপাতকে বন্ধ করতে পারবে না…

    ফেলানি…
    ফেলানি…
    মানবতা ঝুলানি…
    লাশ হয়ে মানবতা…

    1. সহমত লিংকন ভাই …
      সহমত লিংকন ভাই :তালিয়া: :বুখেআয়বাবুল: … সীমান্তের মানুষগুলোর অবস্থা বিবেচনায় না এনে অবস্থার পরিবর্তন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ভাবতেছি: আগে সীমান্তের অভাব-অভিযোগ ও অন্যায়-অবিচার নিয়ে ভাবা হোক… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *