ফেলানী হত্যাকান্ডের বিচার এবং আমার অনুভূতি ।

আজ দুপুরে হঠাত এক পশলা বৃষ্টি দেখে ইচ্ছে হল বৃষ্টিতে ভিজলে কেমন হয় ? ওদিকে বৃষ্টিও প্রায় শেষের পথে। অবশেষে আর কি করা!! ঐ টুপটাপ বৃষ্টিতেই মস্তক স্নানায়াং(!) করলাম। বৃষ্টির ফোঁটা যখন গাল বেয়ে পড়ছিল, তখন মনে হচ্ছিল আমি অনুভূতিশূণ্য হয়ে পড়ছি, পৃথিবীর যাবতীয় দুঃখ, বেদনা আমার থেকে শত আলোকবর্ষ দূরে। সত্যি বলতে কি, খুবই ভালো লাগছিল…………………
…………
ওকে ওকে বৃষ্টিপর্ব অনেক হল। এবার মোদ্দাকথায় আসি,
বৃষ্টির অবগাহন শেষে টিভি খুলে বসলাম। হঠাত হেডলাইনে নজর পড়ল, “ফেলানী হত্যাকান্ডের বিচারের রায়, অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস”।

আজ দুপুরে হঠাত এক পশলা বৃষ্টি দেখে ইচ্ছে হল বৃষ্টিতে ভিজলে কেমন হয় ? ওদিকে বৃষ্টিও প্রায় শেষের পথে। অবশেষে আর কি করা!! ঐ টুপটাপ বৃষ্টিতেই মস্তক স্নানায়াং(!) করলাম। বৃষ্টির ফোঁটা যখন গাল বেয়ে পড়ছিল, তখন মনে হচ্ছিল আমি অনুভূতিশূণ্য হয়ে পড়ছি, পৃথিবীর যাবতীয় দুঃখ, বেদনা আমার থেকে শত আলোকবর্ষ দূরে। সত্যি বলতে কি, খুবই ভালো লাগছিল…………………
…………
ওকে ওকে বৃষ্টিপর্ব অনেক হল। এবার মোদ্দাকথায় আসি,
বৃষ্টির অবগাহন শেষে টিভি খুলে বসলাম। হঠাত হেডলাইনে নজর পড়ল, “ফেলানী হত্যাকান্ডের বিচারের রায়, অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস”।
হেডলাইন দেখেই মস্তিষ্কের নিউরনে বিক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। তৎক্ষণাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’ খুলে দেখি, এই রায় নিয়ে ফেসবুকীয় ‘সেলিব্রিটি’রা স্ট্যাটাস দেয়া শুরু করলেন। এটা সাধারণ বিষয়, স্ট্যাটাস দিতেই পারে। কিন্তু, আমার নিউরনে ‘বিস্ফোরন’ ঘটল যখন দেখি, এই রায় নিয়েও দ্বিধাবিভক্ত আমাদের প্রগতিশীল তথা “সো-কলড” মুক্তিযুদ্ধ’পন্থীরা। একদল যখন এই বিচার হওয়াকেই ‘সফলতা’ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে আরেকদল ভারত’কে শত্রু ঘোষণা করে যুদ্ধের ম্যানিফেস্তো প্রচার করে দিচ্ছে। এই অবস্থায়ই আমিও ফেসবুকীয় প্রথা মেনে একটা স্ট্যাটাস প্রসব করে ফেললাম।

ফেলানী হত্যাকাণ্ডের এই রায় ছিল প্রত্যাশিত, কারণ মামলাটা করা হয়েছিল ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যাকান্ডের’ !
আমার শুধু একটাই দুঃখ এই রায় , ফেলানী’র মৃত্যুকে হত্যা নয় বরং দুর্ঘটনাজনিত(!) মৃত্যুতে পরিণত করল ।

……. এই ছিল আমার ফেসবুকীয় মূল্যায়ন। কিন্তু, এত অল্প কথায় আমি আমার শোক,কষ্ট,ব্যাথাকে প্রকাশ করতে পারছিলাম’না। তাই, ব্লগে এই লেখা ঃ

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে পঞ্চদশী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের জওয়ান, হাবিলদার পদবীদারী অমিয় ঘোষ।
ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হওয়া ফেলানী’র মৃত্যু আর আট-দশটা মানুষ-হত্যার মতো ছিলনা। সীমান্ত-বেড়া পার হওয়ার সময়, ফেলানীকে গুলি করা হয়। গুলির আঘাতে সে ঐ বেড়ার মধ্যেই ঝুলে পড়ে থাকে, না সে তখনো মরে’নি। সে পানি চাইছিলো তার বাবা-মা’র কাছে,্কিন্তু তারা পারেননি, তারা যে ততক্ষণে সীমান্ত পার করে ফেলেছিল, তাদের ফেরার আর পথ ছিলনা। সীমান্তের কাটাতারের কাছে পরাজিত হয় মা-বাবার স্নেহ। সে পানি চেয়েছিল, তাকে হত্যা করা বিএসএফ জওয়ানদের কাছে কিন্তু সে জানেনা সে এই সীমান্ত পার করে বড় ভুল করে ফেলেছিল। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ফেলানী, আটকে থাকে সীমান্ত-বেড়ার উপরেই। প্রায় ৬ ঘন্টা যাবত ফেলানী’র লাশ ঝুলেছিল কাঁটাতারের বেড়ায়। আর এই ৬ ঘন্টায় সারা পৃথিবী লক্ষ্য করল “ভূ-রাজনীতির কাছে মানবতার নিঃসহায় পরাজয়”। ৬ ঘন্টা পর বিএসএফ সদস্যরা ফেলানীর লাশ’টাকে বেড়া থেকে নামিয়ে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে তাদের ভূ-খন্ডে নিয়ে যায়।
http://www.google.com.bd/search?q=felani&source=lnms&tbm=isch&sa=X&ei=2-YpUsHgGMOekwXxpoHADg&ved=0CAkQ_AUoAQ&biw=1138&bih=519#facrc=_&imgdii=_&imgrc=oSrQsVOfNosVjM%3A%3Bb_qaJqOwqwT8aM%3Bhttp%253A%252F%252F3.bp.blogspot.com%252F-hY4-2jnOuuk%252FUOsIsNROdaI%252FAAAAAAAAANg%252FO0eW2_FfAZY%252Fs320%252Famiwarrior_1318782687_1-felani.jpg%3Bhttp%253A%252F%252Ftalukdershaheb.blogspot.com%252F2013%252F01%252F7th-january-justice-beckons-in.html%3B449%3B319
উক্ত ঘটনা’র পর বাংলাদেশ তথা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে ভারত ঘোষণা করল ‘ফেলানী হত্যা’র বিচার করা হবে। অবশেষে, গত ১৩ অগাস্ট ভারতের কোচবিহার জেলায় সোনারি বি এস এফ ছাউনিতে অমিয় ঘোষের বিচার শুরু হয়। পাঁচজন বিচারক এই বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। আর আদালত পরিচালনা করেন বি এস এফের গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের ডি আই জি কমিউনিকেশনস সি পি ত্রিবেদী।
অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বি এস এফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ ভারতে গিয়ে এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন ফেলানীর বাবা।(ref: bdnews24)
এই বিচারের জন্য যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়, তা থেকেই সহজে এটি প্রতীয়মান যে, এটি একটি ‘প্রহসনমূলক’ বিচার। এই বিচার এবং বিচারের রায়ে বাংলাদেশের কোন লাভই হয়নি, বরং হয়েছে ক্ষতি। এই বিচার যেমন ‘সীমান্তে’ বিএসএফের ‘বাংলাদেশি’ হত্যার পরিমাণ বাড়াবে, ঠিক তেমনি এই বিচার, ফেলানী-হত্যাকান্ড’কে একটি নেয়াত-ই ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে প্রমাণ করল।
http://www.google.com.bd/search?q=felani+killing&source=lnms&tbm=isch&sa=X&ei=buspUoS1OIPukQWMmoDYBQ&ved=0CAkQ_AUoAQ&biw=1138&bih=555#facrc=_&imgdii=_&imgrc=NWKZgH18x9gXRM%3A%3BTs0jZ2Y5YSRrtM%3Bhttp%253A%252F%252Fd30fl32nd2baj9.cloudfront.net%252Fmedia%252F2013%252F08%252F12%252Fkurigram-falani-1.jpg%252FALTERNATES%252Fw620%252FKurigram-Falani-1.jpg%3Bhttp%253A%252F%252Fbdnews24.com%252Fbangladesh%252F2013%252F08%252F13%252Fnot-guilty-pleads-felani-killing-accused%3B620%3B385

এটি একটি উদাহরন হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ‘দুর্বল’ কূটনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে, যতদিন পর্যন্ত না, ফেলানীর দুঃখী বাবা-মা, তাদের মেয়ে হত্যা’র সঠিক বিচার পাবে।

[Disclaimer: এই লেখা পড়ে কারো ভালো না লাগলে, আমাকে মাফ করে দিবেন। মাথা আসলেই নষ্ট হয়ে আছে]

৭ thoughts on “ফেলানী হত্যাকান্ডের বিচার এবং আমার অনুভূতি ।

  1. বিচার নিয়ে আমরা যতই কথা বলি
    বিচার নিয়ে আমরা যতই কথা বলি না কেন, সবার কাছেই যথারীতি “তাল গাছটা আমার।”
    এসময় প্রয়োজন সঠিক কূটনৈতিক তৎপরতা।

  2. যারা ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’
    যারা ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ দেইখা ওয়াও-ইয়াও কইরা ফেবু অস্থির কইরা ফেলছে তাদের বেশির ভাগ আবার ফেলানি রে নিয়া ওয়াল কাঁপায়া দিতাছে।

    আজ আমরা নিজেরা খামচা-খামছি না করলে কি ভারত এই সাহস পায়। দেশরে কত ভালবাসেন দেখি অন্তত একদিন এর জন্য প্রতীকী ভাবেও হলেও আমরা ভারতীয় চ্যানেল দেখা বন্ধ রাখি।

    রাজি থাকলে আওয়াজ দেন, আগামী রবিবার দিন আমরা ধর্মঘট পালন করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *