ছ্যাকা কথন


-তুই ইয়াবা খাইছিস?

=না।

-তুই গাঁজা খাইছিস?

=না।

-তুই বাংলা খাইছিস?

=না

-তুই ঘুমের ট্যাবলেট খাইছিস?

=না।

-আমার কসম বল এগুলা খাস নাই?




-তুই ইয়াবা খাইছিস?

=না।

-তুই গাঁজা খাইছিস?

=না।

-তুই বাংলা খাইছিস?

=না

-তুই ঘুমের ট্যাবলেট খাইছিস?

=না।

-আমার কসম বল এগুলা খাস নাই?

=তোর কসম, খাই নাই।

-তাইলে এরকম করতেছিস ক্যান?

=আধ্যাত্মিক ককটেল খাইছি তাই মে বি।

– আধ্যাত্মিক ককটেল মানে কি?

=এইটা নিজ হাতে বানানো মাল, বাংলার মধ্যে ইয়াবা আর ঘুমের ট্যাবলেট মিশায়ে আর গাজার সাথে সিগারেটের তামাক মিশায়ে খাইছি।

-তাইলে এতক্ষন মিথ্যা বললি ক্যান?

=মিথ্যা তো বলি নাই, তুই সেপারেটলি জিগ্যাসা করছিস আমি গাঁজা, ইয়াবা, বাংলা, ঘুমের ট্যাবলেট খাইছি না, আমি তো সেপারেটলি খাই নাই। সব গুলা মিশায়ে খাইছি। এইটা মিথ্যা বলা হইলো কই।

-তুই আর জীবনে আমারে কল দিবি না।

=আচ্ছা ঠিক আছে আমি দিব না, তুই প্রতি ঘণ্টায় একবার করে কল দিবি, তাইলেই হবে।

-অসম্ভব, আমি তো দিবই না, তুইও দিবি না।

=আচ্ছা।

মিম যতই বলুক কথা বলবে না কিন্তু ফারহান ভালো করেই জানে মিম কথা না বলে থাকতে পারবে না। আর ফারহানেরও সারাক্ষন মিমের সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে।

ফারহান অবশ্য সব সময় হাবিজাবি খায় না। যখন ফারহান এইসব হাবিজাবি খায় তখন মিম কথা বলতে চায় না। যখন মিম কথা বলতে চায় না তখন মিমের সাথে ফারহানের ঝগড়া হয়। যখন মিমের সাথে ফারহানের ঝগড়া হয় তখন ফারহানের মন খারাপ থাকে। যখন ফারহানের মন খারাপ থাকে তখন ফারহান এইসব হাবিজাবি খায়। যখন ফারহান এইসব হাবিজাবি খায় তখন মিম কথা বলতে চায় না। যখন মিম কথা বলতে চায় না তখন মিমের সাথে ফারহানের ঝগড়া হয়………..

-তুমি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো?

=অদ্ভুত প্রশ্ন। বাসবো না ক্যান?

-কোন প্রশ্ন করবা না, উত্তর দাও শুধু।

=হু বাসি।

-যদি আমাকে একটুও ভালবেসে থাকো তো আমার একটা উপকার কর, প্লিজ।

=একটা ক্যান, একশটা করতে পারবো? শুধু বলই না একবার। এলাকায় আমাকে সবাই সমাধান বাবা বলে ডাকে।

-তুমি এমন ক্যান, একটু সিরিয়াস হইতে পারো না।

=আমি তো সিরিয়াসই আছি, সত্যিই এলাকায় আমাকে সবাই সমাধান বাবা বলে ডাকে। বিশ্বাস না হইলে এলাকায় চল। দেখাইতেছি।

-হু বুজছি, এলাকায় যাইতে হবে না। শোন, আমার বাবা তো কোন বেকার ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিবে না, তাই বাবা একজন ভদ্র নম্র সুশিক্ষিত পয়সাওয়ালা ছেলের সাথে আমার বিয়ের কথা বার্তা বলতেছে। এখন কি করবো, সমাধান দাও।

=আমিই তো নম্র ভদ্র সুশিক্ষিত। ফিজিক্সে মাস্টার্স। জামাই হিসেবে একজন পদার্থবিদের ডিমান্ড খারাপ হওয়ার তো কথা না। আমার কথা যেয়ে বল তোমার বাবারে, দেখবে কাজ হয়ে গেছে।

-হ্যা, তো আমি আমার বাবারে যেয়ে কি বলব? বাবা আমি যাকে বালবাসি সে নম্র ভদ্র সুশিক্ষিত পদার্থবিদ কিন্তু কোথাও কোন চাকরি পায় না?

=প্রথমত, আমার চাকরি করতে আমার ভাল্লাগে না। কারো চামচামি করতে পারবো না, আর দ্বিতীয়ত আমি চাকরি পাই না কথাটা ভুল, আমি চাকরির জন্যে কোথাও আবেদনই করি নাই।

-তো ব্যাবসা কর।

=ব্যাবসা করার মতো টাকা নাই।

-ব্যাবসা করার টাকা নাই, চাকরিও করবা না। তো করবাটা কি?

=দেখি হবে কিছু একটা।

-এই ঝালমুড়ি, এইদিকে আসেন তো, ওরে ১০ টাকার ঝালমুড়ি দেন। আমি গেলাম।

=তুমি ঝালমুড়ি খাবা না?

-খাব, যেই পদার্থবিদের একটা ভালো চাকরি আছে তার সাথে খাব। অপদার্থবিদের সাথে না।


-আমি আর পেইন নিতে পারতেছিনা।

=পেইন? কিসের পেইন।

-তুমি এইসব উলটা পাল্টা করবা আর আমার তা সহ্য করতে হবে নাকি?

=আমি আবার কি উলটা পাল্টা করলাম?

-সারাদিন কল দাও, আমার নানান প্রবলেম হয়।

=এইটা পেইন?

-হ্যা পেইন। তুমি সিচুয়াশন বোঝো না।

=আমি বুঝতেও চাই না। চাই শুধু তোমার সান্যিধ্য।

-সব সময় এইটা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না।

=তো কি সম্ভব, সলিউশন কি?

-সলিউশন একটাই, ব্রেক আপ।

=ব্রেক আপ?

-হ্যা ব্রেক আপ।

=ব্রেক আপই কি সব সমস্যার সমাধান?

-হ্যা, অনেক সহ্য করছি, আর করা সম্ভব না। সো ডিসিশন ইজ ফাইনাল।

=হুম, ব্রেক আপ করে তুমি যদি হ্যাপি থাকো তো আর কি। তোমার ডিসিশনটাই মেনে নিতে হবে, কজ আই অলয়েজ ওয়ান্ট ইউ টু সি হ্যাপি এন্ড ইফ ইউ আর হ্যাপি উইদাউট মি, দেন গো এহেড।

রিফাত খোলা মাঠের দিকে যাচ্ছে। চিৎকার করে কাঁদার জন্যে খোলা মাঠই এক মাত্র উপযুক্ত স্থান। রিফাতের এখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে।

৫ thoughts on “ছ্যাকা কথন

  1. সমালোচনা: খুব একটা ভালো লাগলো
    সমালোচনা: খুব একটা ভালো লাগলো না। গল্পটি ছন্দহীন ভাবে রচিত। গল্প হঠাৎ করে শুরু আবার হঠাৎ করেই শেষ। গল্প বললেও আসলে এইটা এক অঙ্কের ক্ষুদ্র নাটিকা।

    ক্রেডিট: গল্পের থিমটা ভালোই বলা যায়। কাহিনী বিন্যাসে চতুরতা ভালো লেগেছে। বিশেষ করে রিফাতের নির্লিপ্ততা অবাক করেছে। রিফাতের নির্লিপ্ততাকে আরেকটু শৈল্পিক রূপ দেয়া যেত যদি ঘটনা প্রবাহ আরো সুগঠিত করা যেত।

    কানে কানে কথা: পরের বার আশা করি আরো ভালো কিছু দেখবো বরাবরের মতই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *