‘গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে’ থেকে ‘উত্তরের গেরিলা’

একাত্তরের উত্তরাঞ্চলের গেরিলা যুদ্ধজীবন নিয়ে লেখা মাহবুব আলমের যুদ্ধকথন ‘গেরিলা থেকে সম্মুখযুদ্ধে’ বইটি পড়েছেন? যারা পড়েছেন তারা হয়তো জানেন গেরিলা যুদ্ধকে লেখনির মাধ্যমে কিভাবে বাস্তবে চোখের সামনে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক এই বই এর মাধ্যমে। সহস্রাধিক পৃষ্ঠার এই পড়তে একটা সিঙ্গেল মুহূর্তও আপনি রোমাঞ্চিত ছাড়া থাকতে পারবেন না বোরিং হওয়া তো দুরের কথা।পড়তে পড়তে ১০০% পাঠকই মনে মনে চেয়েছিলেন এই বইটি অবলম্বনে যাতে কোন চলচিত্র নির্মাণ করা হয়। এবং ভবিষ্যতে জত পাঠক এই পড়বেন তারাও এটিই চাইবেন। পাঠকের চাওয়া আংশিক পূরণ হয়ে গেছে। এই বইটিকে ভিত্তি করে বানানো হয়েছে ৪২ মিনিট ৩২ সেকেন্ড এর একটি প্রামাণ্য চিত্র। এই প্রামাণ্য-তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন ইমন শিকদার।

প্রামাণ্য চিত্রটি বিষয়ে নির্মাতা ইমন শিকদার বলেন, ‘জন্মদিনে একটা বই উপহার পেয়েছিলাম, মাহবুব আলমের যুদ্ধকথন গেরিলা থেকে সম্মুখযুদ্ধে। বইটি পড়ে আমি যেন অদেখা মুক্তিযুদ্ধকে দেখতে পেলাম। মায়ের মুখ থেকেও মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প শুনেছি। মায়ের কথার সঙ্গে বইটির বেশ মিল খুঁজে পাই। এরপর বইটির লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁকে আমার পরিকল্পনার কথা জানাই।’

‘উত্তরের গেরিলা’ নিয়ে লেখক মাহবুব আলম বলেন, ‘ছবিটি তৈরির ব্যাপারে আমার থেকে ইমনকে যতটুকু সহযোগিতা করার সুযোগ ছিল, তার পুরোটাই করেছি। ইমনও খুব পরিশ্রম করেছে। শুনেছি, ছবিটি তৈরি করতে গিয়ে ইমন একটি জমি বিক্রি করেছে।’

ইমন বলেন, ‘গেরিলা থেকে সম্মুখযুদ্ধে বইয়ের কিছু চুম্বক অংশ, যেগুলো আমাদের সবাইকে স্পর্শ করে, সেগুলোকেই এই ছবিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। ঘুরে বেড়িয়েছি এই বইয়ে উল্লেখ করা স্থানগুলোতে। বই থেকে পাওয়া কয়েকজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার রেখেছি। মাহবুব আলমের সাক্ষাৎকারও নিয়েছি।’

আগামী ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটরিয়ামে ‘উত্তরের গেরিলা’র প্রিমিয়ার শো দেখানো হবে। আমার বিশেষ কাজের জন্য শো টি দেখতে পারবোনা। আপনাদের সবার আমন্ত্রন রইলো। দেখে আসবেন। প্রামাণ্য চিত্রটিতে দেখতে পারবেন লেখক মাহবুব আলম, গেরিলা সজিমউদ্দিন, গাইড মকতু মিয়া সহ অনেকের সাক্ষাৎকার। কেউ দেখে এসে পারলে একটি রিভিউ লিখে আমাকে ট্যাগ করবেন প্লিজ। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে শুধু প্রামাণ্য চিত্রতে খুশি থাকতে চাইনা। আমি চাই অন্তত দুইটি সিকুয়েলের পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচিত্র। যার প্রথম অংশে থাকবে শুধু গেরিলা অপারেশন এর ঘটনা প্রবাহ আর দ্বিতীয় অংশে থাকবে ফেইস টু ফেইস যুদ্ধ। এর জন্য দরকার বিশাল বাজেট। যে নির্মাতা প্রামাণ্য চিত্র বানানোর জন্য জমি বিক্রি করেছেন তাঁর নিশ্চয়ই সেই সামর্থ্য নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি হয়ে উঠতে পারে একটি বাস্তব প্রামাণ্য দলিলে।

৪ thoughts on “‘গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে’ থেকে ‘উত্তরের গেরিলা’

  1. ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু
    ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু প্রামাণ্য চিত্র না হয়ে একটি চলচিত্র হলে ভালো হতো।
    আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভালো চলচিত্র খুব কম। খুব হতাশাজনক।

  2. মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরো কয়েকটি
    মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরো কয়েকটি বইয়ের নাম দিলাম। চাইলে পড়ে নিতে পারেন।

    ১! উত্তরকাল- আমজাদ হোসেন (অ্যাডর্ন পাবলিশার্স)
    ২! মা-আনিসুল হক (সময় প্রকাশনী)
    ৩। রাইফেল,রোটি,আওরাত- আনোয়ার পাশা (স্টুডেন্ট ওয়েজ)
    ৪। আমার বন্ধু রাশেদ- মুহম্মদ জাফর ইকবাল (কাকলী প্রকাশনী)
    ৫। তালাশ- শাহীন আখতার (মাওলা ব্রাদার্স)
    ৬। চিলেকোঠার সেপাই- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড)
    ৭। A Golden Age -তাহমিনা আমান (সাহিত্য প্রকাশ)
    ৮। জ্যোছনা ও জননীর গল্প- হুমায়ূন আহমেদ (অন্য প্রকাশ)
    ৯। সৌরভ- হুমায়ূন আহমেদ (স্টুডেন্ট ওয়েজ)
    ১০।জাহান্নাম থেকে বিদায়- শওকত ওসমান (স্টুডেন্ট ওয়েজ)
    ১১। ১৯৭১- হুমায়ূন আহমেদ (মাওলা ব্রাদার্স)
    ১২। অনীল বাগচীর একদিন-হুমায়ূন আহমেদ ১৩। আগুনের পরশমণি-হুমায়ূন আহমেদ (হাতেখড়ি প্রকাশনী)
    ১৪। শ্যামল ছায়া- হুমায়ূন আহমেদ (স্টুডেন্ট ওয়েজ)
    ১৫।নেকড়ে অরন্য-শওকত ওসমান (স্টুডেন্ট ওয়েজ)
    ১৬।দুই সৈনিক-শওকত ওসমান (স্টুডেন্ট ওয়েজ)
    ১৭। একাত্তরের পথের ধারে-শাহরিয়ার কবির
    ১৮।একাত্তরের যীশু-শাহরিয়ার কবির
    ১৯। আকাশ বাড়িয়ে দাও- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    ২০।কাচ সমুদ্র- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    ২১। চিয়ারি বা বুদু ওরাঁও কেন দেশত্যাগ করেছিল-আনিসুল হক
    ২১। বীর প্রতীকের খোঁজে- আনিসুল হক সময় প্রকাশন
    ২২। একাত্তর উপাখ্যান-সাইদ হাসান দারা
    ২৩।ক্যাম্প -মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    ২৪।হাঙর নদীর গ্রেনেড- সেলিনা হোসেন
    ২৫।বিশ্বাসঘাতকগণ-আফসান চৌধুরী
    ২৬।জননী সাহসিনী ১৯৭১-আনিসুল হক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *