“ডিএনএ কী” পঞ্চম পর্ব TELOMERE ও TELOMERASE এর উপর নিয়ন্ত্রন আনতে পারলে “দীর্ঘ-যৌবনা জীবন” ও “ক্যানসার নিরাময়” সম্ভব।

“ডিএনএ কী” পঞ্চম পর্ব
পঞ্চম পর্ব- TELOMERE ও TELOMERASE এর উপর নিয়ন্ত্রন আনতে পারলে “দীর্ঘ-যৌবনা জীবন” ও “ক্যানসার নিরাময়” সম্ভব।

৪র্থ পর্ব– DNA REPLICATION

৩য় পর্ব– RNA,TRANSCRIPTION,CODON

২য় পর্ব –গঠন

১ম পর্ব—গঠন


“ডিএনএ কী” পঞ্চম পর্ব
পঞ্চম পর্ব- TELOMERE ও TELOMERASE এর উপর নিয়ন্ত্রন আনতে পারলে “দীর্ঘ-যৌবনা জীবন” ও “ক্যানসার নিরাময়” সম্ভব।

৪র্থ পর্ব– DNA REPLICATION

৩য় পর্ব– RNA,TRANSCRIPTION,CODON

২য় পর্ব –গঠন

১ম পর্ব—গঠন

আমাদের জীবনটা এক কোষী ZYGOTE হতে আরম্ভ হওয়ার পর থেকেই এর জরায়ূ জীবন,শিশু জীবন,কৈশোর জীবন,যৌবন কাল,প্রৌড়ত্ব,বার্ধক্য, ও অবশেষে বার্ধক্য জনিত স্বাভাবিক মৃত্যু-এসবই পূর্ণ মাত্রায় আমাদেরই প্রতিটা কোষের নিউক্লীয়াস এর অভ্যন্তরে CHROMOSOME এর DNA এর GENE CODE এর মধ্যে নিহিত প্রেছক্রিপসনের মধ্যে আবদ্ধ।DNA জৈবিক প্রকৃয়ার সমস্ত নির্দেশ আমাদেরই সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে ওখান থেকে CODE পাঠিয়ে দিয়ে করায়।(৩য় পর্ব—RNA,TRANSCRIPTION ও CODON দ্রষ্টব্য)

৪র্থ পর্বে, এখনো DNA REPLICATION সম্পর্কীয় সামান্য কিছু কথা বার্তা অবশিষ্ট রয়ে গেছে। তবে এটা সামান্য হলেও প্রাণীর উপর এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।এবং এই অংস টুকু কে আমাদের জীবনের ঘড়ির কাটা বলা চলে ।আর হ্যাঁ, যদি কখনো কোনদিন বিজ্ঞানীগন এই অংসটুকুর TELOMERE এর কার্যকারিতার উপর নিয়ন্ত্রন আনতে সক্ষম হন, তাহলে আমরা যেমন বার্ধক্যকে এড়াতে সক্ষম হব,সুদীর্ঘ যৌবনা জীবন লাভ করতে পারব, আবার এর সংগে সম্পর্কিত TELOMERASE নামক ENZYME এর কার্যকারিতার নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ক্যান্সার নামক ঘাতক ব্যাধির ও নিরাময়ের পথ পেয়ে যাব।

শুনতে খুব আশ্চর্যজনক লাগলেও মোটেই আশ্চর্যজনক নয়। তাহলে আমাদের জীবন পরিচালনায় TELOMERE ও TEL0MERASE এর নিয়ন্ত্রনটা একটু ভাল করে পড়ে দেখুন।
এটা বর্তমানে বিজ্ঞানীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান কার্য ক্ষেত্র রয়েছে এবং এ পথ পাড়ি দিতে এখনো যথেষ্ট বাধা রয়ে গিয়েছে। সুদুর ভবিষ্যতে এ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতেও পারে।
এখন DNA এর সেই অতিব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্র প্রান্তিক শেষাংষ যা CHROMOSOME এর দুই শেষ প্রান্ত,এর REPLICATION কী জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। এর জন্য এখন কিছুটা জানার প্রয়োজন-

CHROMOSOME,TELOMERE ও TELOMERASE কী?
TELOMERE ও TELOMERASE, CHROMOSOME বা DNA এর কোথায় থাকে? কেন থাকে? এর কী কাজ?এর প্রয়োজনীয়তাই বা কী?
এ বিষয়টি এখন পরিস্কার হওয়া দরকার।
CHROMOSOME কী?

DNA এর চেইন গুলী কোষের অতি ক্ষুদ্র নিউক্লীয়াছের মধ্যে থাকে।এর একটার প্রান্ত হতে আর একটার প্রান্ত যোগ করলে এর দৈর্ঘ হবে প্রায় ৬ ফিটের মত। কাজেই এই DNA গুলী অতি ক্ষুদ্রাকারের নিউক্লীয়াছের মধ্যে স্বাভাবিক চেইন আকারে রেখে দিলে কখনোই নিউক্লীয়াছের মধ্যে এদের জায়গার সংকুলান হইবেনা। জায়গার সংকুলান হতে গেলে এই লম্বা চেইনগুলীকে বিশেষ ভাবে পেচিয়ে পেচিয়ে ও চাপিয়ে সংকীর্ণাকারে প্যাক করে রাখার প্রয়োজন হয়। এই কাজটিই করে দীর্ঘ DNA CHAIN কে সংক্ষিপ্তাকার ও প্যাকেজ আকারে করে প্রতিটা কোষের NUCLEUS এর মধ্যে রাখা হয়েছে।

এই প্যাকেজ করার কাজটি করে HISTONE,NUCLEOSOME ও CHROMATIN নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।

DNA এর এই প্যাকেজ কেই বলা হয় CHROMOSOME (৮)
কী করে DNA প্যাক হয়ে CHROMOSOME এ পরিণত হয় তা VIDEO তে নীচের লিংকটায় দেখতে পারেন।

ভিডিও-নং১- CHROMOSOME প্যাকেজ।

CHROMOSOME এর প্রান্তে নবীন DNA এর 5’ PRIME এর প্রান্তিক অংশ DNA POLyMERASE REPLICATE করতে পারেনা।
কেন পারে না?

DNA POLIMERASE, DNA NUCLEOTIDE উৎপন্ন আরম্ভ করে RNA PRIMER এর 3’ PRIME এর OH গ্রুপ হতে এবং এটা অগ্রসর হতে থাকে নবীন চেইনটার 5’-3’ PRIME অভিমুখে। LAGGING চেইনে 5-3’’ PRIME প্রান্ত অভিমুখ ও DNA FORK এর অভিমুখ বিপরীত মুখী হওয়ায়,DNA POLYMERASE কে BACK GEAR বা পিছন মুখী পদ্ধতিতে খন্ড খন্ড আকারে DNA তৈরী করতে করতে পিছন দিকে অগ্রসর হতে হয়।

ঠিক একই ভাবে করতে করতে 5’ PRIME এর সর্ব প্রথম প্রান্তের RNA PRIMER থেকেও কাজ করতে হয়। এরপর RNase H নামে একটি ENZYME এসে 5’ PRIME প্রান্তের সর্বশেষ RNA PRIMER টিকে ও মুছে দেয়। ফলাফল এটাই দাড়ায় যে DNA POLIMERASE এই 5’ PRIME প্রান্তের RNA PRIMER এর প্রান্তের শুন্য স্থানটিতে পূরন করার জন্য তার পূর্বে আর কোনই PRIMER এর OH গ্রুপ পায়না। কারণ এই PRIMER টা নিজেই তো 5’ প্রান্তের সর্বপ্রথম জায়গাটা দখল করেছিল।

এভাবেই DNA REPLICATION, LAGGING STRAND এর 5’ PRIME এর সর্বপ্রথম প্রান্তের কিছু অংসের REPLICATE করা বাকী রেখেই REPLICATION শেষ করে দেয়। ফলে LAGGING STRAND এর REPLICATED নবীন চেইটি পৈত্রিক চেইন হতে প্রতিটা REPLICATION ROUND এ এইভাবে ছোট হতে থাকে। যদি না TELOMERASE এসে এই শূন্য স্থানকে TELOMERE BASE SEQUENCE না দিয়ে পূর্ণ করে দেয়।
আর LEADING চেইনের নবীন চেইনের 5’ PRIME প্রান্তেও এরুপ ঘটে।এটা LAGGING চেইনের বিপরীত দিকে ঘটে।

এখানেও 5’ TO 3’ PRIME প্রান্ত মুখি কাজ চলে। তবে যেহেতু এখানে 5’ TO 3’ PRIME প্রান্ত এর দিক এবং DNA FORK এর সম্মুখ এর দিক, একই দিকে থাকে একারণে এখানে এক নাগাড়ে 3’ PRIME এর শেষ প্রা্ন্ত পর্যন্ত কাজ সমাধা করে ফেলে। এই চেইনে 5’ PRIME এ সর্ব প্রথম প্রান্তে যে RNA PRIME এর OH গ্রুপ থেকে DNA POLYMERASE 3’ PRIME অভিমুখে কাজ আরম্ভ করেছিল,ঐ RNA PRIME টাকেও RNase H নামে একটি ENZYME এসে পরে মুছে দেয়। এবং এই শূন্যস্থান পূরন করার জন্য এর পূর্ব হতে কাজ আরম্ভ করার জন্য আর কোন RNA PRIME এর OH গ্রুপ থাকেনা। যার কারণে DNA POLYMERASE ও এই শুন্যস্থান টুকু পূরণ করিতে পারেনা, যার ফলে এই নবীন DNA টাও LEADING চেইনের এই প্রান্তে ক্ষয়ের শিকার হয়ে পিতৃ চেইন হতে স্বল্প দৈর্ঘের হয়ে যায়। যদি না TELOMERASE এসে এই শূন্য স্থানকে TELOMERE BASE SEQUENCE না দিয়ে পূর্ণ করে দেয়।

এভাবে প্রতিটা REPLICATION ROUND এই প্রতিটা নবীন কোষের DNA, পিতৃ কোষ হতে স্বল্প দৈর্ঘের DNA পায় ।কিন্তু একটি নির্দিষ্ট বয়স কাল পর্যন্ত TELOMERASE এসে TELOMERE তৈরী করে দিয়ে এই ক্ষয় পুরণ করে।

কিন্তু এই নবীন কোষে DNA এর প্রান্তিক অংস কিছুটা কম আসবার সময় GENETIC INFORMATION কিছুই কম আসেনা।

কারন REPLICATION এর সময় DNA এর সর্বশেষ প্রান্তের যে অংস টুকু নবীন DNA চেইনে আসতে পারলনা, সেটা DNA এর অংস হইলেও DNA এর দুই প্রান্ত অংস কোন GENETIC CODE SEQUENCE বহন করেনা। বরং DNA এর দুই প্রান্ত অংস বহন করে GENETIC CODE বিহীন BUFFER BASE SEQUENCE NUCLEOTIDE যার নাম “TELOMERE”. আর প্রতিবার DNA REPLICATION হয় এই BUFFER TELOMERE এর খন্ডাংস ব্যয় করে করে যায়।যখন হতে TELOMERASE আর TELOMERE যোগ করতে পারেনা,যেমন অধিকাংশ টিশুতে পূর্ণ যৌবনের পর হতে। তাই তখন হতে নবীন কোষের এই ক্ষয়ও আর পূরণ হয়না।।

এই “TELOMERE” বস্তুটি তাহলে কী?

এটা জানার জন্য আমাদেরকে এবার দেখতে হবে DNA চেইন দুইটির শেষাংসের গঠন প্রকৃয়া,ও সেখানে কী থাকে।

প্রতিটা CHROMOSOME এর DNA এর শেষ প্রান্ত TELOMERE দ্বারা গঠিত।

TELOMERE ও TELOMERASE এর আবিস্কার(১৫)- লিওনার্ড হে-ফ্লিক,ছানফোর্ড ইউনিভার্ছিটির মেডিক্যাল মাইক্রোবাইয়োলজীর প্রফেছর,HUMAN FETAL কোষ CULTURE এর উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে,১৯৬১ সালে ঘোষনা দেন যে কোষ ৪০-৬০ বার বিভাজনের পর আর বিভাজিত হতে পারেনা। কোষ তখন SENESCENCE PHASE এ প্রবেশ করে বার্ধক্য ও প্রাকৃতিক মৃত্যু APOPTOSIS দিকে চলে যায়। ।তার নীতি কে HAYFLICK LIMIT নাম দেওয়া হয়।

এর পূর্বে আলেক্সিস বিশ্বাষ করতেন মানব কোস IMMORTAL (অমর),যেটা খন্ডিত হয়ে যায়।
১৯৭০ দশকের প্রথম দিকে রাসিয়ান বায়োকেমিস্ট আলেক্সি অলোভিকোভ পরীক্ষা নীরিক্ষায় সর্বপ্রথম টের পেয়ে যান CHROMOSOME তার প্রান্তদ্বয়কে পরিপূর্ণ রুপে REPLICATE করতে পারেনা।

১৯৭৫-১৯৭৭ সালের দিকে এলিজাবেথ ব্লাকবার্ণ YALE UNIVERSITY তে জোছেফ গাল এর সংগে তার POSTDOCTORAL FELLOWSHIP এর উপর কাজ করার সময় DNA এর প্রান্তদ্বয়ে TELOMERE এর অবস্থান ও তার প্রকৃতি আবিস্কার করে ফেলেন।তার এই কাজ ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

২০০৯ সালে, এলিজাবেথ ব্লাকবার্ণ,ক্যারল গ্রেইডার ও জ্যাক জোছটাক ফিজিওলজী অথবা মেডিসিন এর উপর নোবেল বিজয়ী হন, এই কাজ দেখানোর উপর যে TELOMERE ও TELOMERASE এনজাইম কীভাবে CHROMOSOME এর প্রান্তদ্বয়ে অবস্থান করে DNA এর GENETIC CODE SEQUENCE কে রক্ষা করে রাখে ও DNA কে সঠিক ভাবে REPLICATE করতে সহায়তা করে। (১৫)

ছবি- জ্যাক জোছটাক।
জন্ম-৯ই নভেম্বর ১৯৫২, লন্ডন, ইউকে।

ছবি- ক্যারল গ্রেইডার
জন্ম-১৫ই এপ্রিল ১৯৬১,ছ্যান ডিয়েগো,কালিফোর্ণিয়া,আমেরিকা।


ছবি- এলিজাবেথ ব্লাকবার্ণ
জন্ম-২৬ শে নভেম্বর ১৯৪৮,তাসমানিয়া,অষ্ট্রেলিয়া।

উপরে নোবেল বিজয়ীদের ছবি দেওয়া হল।

TELOMERE কী?

CHROMOSOM এর DNA এর উভয় প্রান্তে জুতার ফিতার প্রান্তের প্লাষ্টিকের ন্যায় TELOMERE থাকে। এই TELOMERE ডিএনএর প্রান্তদ্বয়কে একত্রে FUSE হওয়া থেকে রক্ষা করে ও DNA এর জেনেটিক কোড গুলীকেও ধংশের হাত হতে রক্ষা করে। একটি সময় কাল পেরুবার পর সম্পূর্ণ TELOMERE নিশেষিত হয়ে গেলে এবং TELOMERASE দ্বারা আর নূতন কোন TELOMERE তৈরীর ব্যবস্থা না থাকলে তখন কোষটির স্বাভাবিক মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। আমরাও এর সংগে তাল মিলিয়ে পূর্ণ যৌবনের পর হতে প্রতি মুহুর্তে DNA এর TELOMERE হারিয়ে হারিয়ে নিশ্চিত একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা অনুভব করতে পারছিনা
TELOMERE এর গঠন।

DNA প্রান্তে অন্য স্থানের ন্যায় নিয়মিত GENETIC BASE SEQUENCE PAIR না থেকে, থাকে GENETIC CODE বিহীন কিছু BUFFER জাতীয় বেছ। এই বেছ গুলীর কোড TTAGGG। কোড গুলীর এই ক্রম একটার পর আর একটা সমন্বীত NUCLEOTIDE এর ছেট (SEQUENCE) সাজানো থাকে। T= THYMINE, A= ADENINE, G=GUANINE। এইটাকেই বলা হয় TELOMERE । মানুষের ক্ষেত্রে TELOMEREএই ধরনের বেছ এর প্রায় ১৫০০০ বেছ পর্যন্ত লম্বা পরিমান হয়ে থাকে। (১০)

কী কাজ করে এই TELOMERE?

চিত্র-১) এখানে DOBLE HELIX DNA এর প্রান্তে TELOMERE এর অবস্থান দেখানো হয়েছে।
প্রতিটা CELL DVISION এ DNA REPLICATION এর সময়ে DNA চেইন এর শেষ প্রান্তের TELOMERE নিজে ব্যবহৃত ও খরচ হয়ে DNA CODE কে রক্ষা করে রাখে। অন্য কথায় এটা না থাকলে কোষ প্রথম বার বিভাজনের পরপরই DNA তার GENETIC INFORMATION হারিয়ে কোষ তার পরবর্তী বিভাজনের অযোগ্য হয়ে পড়িত। এর ফলাফলে কোষ ও প্রানীটা DEVELOP হওয়ার পরিবর্তে শীঘ্রই মৃত্যু মুখে পতিত হইত।

অতএব সার সংক্ষিপ্ত কথা এই দাড়াইল যে যতক্ষন পর্যন্ত TELOMERE বিদ্যমান থেকে DNA এর GENETIC CODE SEQUENCE কে রক্ষা করতে পারতেছে, জীবন ততক্ষন পর্যন্ত স্বাভাবিক ও সুন্দর ভাবে সচল থাকতেছে।
TELOMERASE কী? তার কী কাজ?

TELOMERASE একটা RNA সম্বলিত এনজাইম। এটা নবীন TELOMERE- ক্ষয় প্রাপ্ত DNA চেইন এ নূতন TELOMERE যোগ করিয়ে দিয়ে মাতৃ DNA চেইনের সমান দৈর্ঘের ও সম মানের করে দেয়। TELOMERASE যতদিন এবং যেখানে যেখানেএই কাজ চালাতে পারে ততদিন সেই নবীন চেইনের কোষ গুলীতে ও নবীনত্ব বজায় থাকে, বার্ধক্য আসেনা।

যখনই TELOMERASE এর ঘাটতি আসতে থাকে তখনি নবীন কোষ গুলীতে প্রতিটা REPLICATION ROUND এ স্বল্প দৈর্ঘের DNA CHAIN আসবার কারণে,কোষগুলী তথা আমরা বার্ধক্যের দিকে অগ্রসর হতে থাকি।

উল্লেখ্য যে, TELOMERE ও তার এনজাইম TELOMERASE যদি DNA এর GENETIC CODE কে রক্ষা করে সঠিক পদ্ধতিতে কোষ বিভাজনে সহায়তা না করত, তাহলে DNA ক্ষতিগ্রস্থ্ হয়ে অশুস্থ IMMORTAL বা CANCER কোষ উৎপন্ন করতে পারত, যা জীবন পদ্ধতিকে ধংস করে দিতে পারত।

প্রতিবার CELL DVISION এ, ২৫-২০০ TELOMERE এর TTAGGG বেছ ছেট (SQUENCE) ব্যবহৃত হয়ে হয়ে খরচ হয়ে যেতে থাকে।
এভাবে TELOMERE একটি কোষকে তার জীবনে ৮০ বার পর্যন্ত বিভাজন করিয়ে করিয়ে নবীন কোষ জন্মানোতে সাহায্য করতে পারে।( ৮, ১০, ১২, ১৪ )
এজন্য TELOMERE কে প্রানীর “ MOLECULAR CELL CLOCK” ও বলা হয়ে থাকে।

এই “ MOLECULAR CELL CLOCK” টি বলে দিতে পারে প্রানীটি জীবনের কতটা পথ অতিক্রম করেছে এবং আর কতটা পথ অতিক্রম করতে বাকী আছে (চিত্র ১,২)।
এই CLOCK এ সময় শেষ হতে থাকার অর্থ হল আমাদের জীবন প্রণালীও শেষ হয়ে আসতে থাকা।

এভাবে TELOMERE এর, TTAGGG ছেট (SQUENCE) CELL DIVISION হয়ে হয়ে যতই খরচ হতে থাকে, মোট TELOMERE এর দৈর্ঘ ততই কমতে থাকে এবং কোষটি তথা প্রাণীটি ও ক্রমান্বয়ে বার্ধক্যের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
একে বলা হয় কোসের SENESCENCE PHASE।

এভাবে TELOMERE এর দৈর্ঘও এক পর্যায়ে “CRITICAL LENGTH”এ চলে আসে। এই পর্যায়ে এসে গেলে DNA ও কোষ আর বিভাজিত হয়ে নূতন কোষের জন্ম দিতে পারেনা। তখন কোষটির PRE PROGRAMMED NATURAL DEATH হয়ে যায়। একেই বলে APOPTOSIS।
এর ফলাফল আমাদের জীবনের পরেও আসে।

কিন্ত CANCER আক্রান্ত কোষ গুলী যে কোন কারনেই ঘটুক না কেন,NUCLEUS এর অভ্যন্তরে DNA এর মধ্যে ক্ষতিগস্ত GENETIC CODE SEQUENCE অবস্থিতির কারণে এই স্বাভাবিক মৃত্যু এড়িয়ে একটি অশুস্থ IMMORTAL বা অমর কোষে পরিণত হয়ে যায়।
আমাদের বাস্তব জীবনে এই TELOMERE এর কী কোন প্রয়োগ আছে?

হাঁ, অবশ্যই আছে। যতই TELOMERE এর দৈর্ঘ্য কমতে থাকে ততই আমরা বৃদ্ধ হতে থাকি। আমরা আজ TELOMERE এর দৈর্ঘ্য ল্যাবরেটরীতে মেপে জানতে পারি আমাদের জীবনের ঘড়ির কাটাটা ঠিক এই মুহূর্তে কোথায় আছে। আমরা জেনে নিতে পারি আমাদের জীবনের এই চলাচলের পথটা কতখানি পাড়ি দিয়েছি এবং আর কতটা পাড়ি দিতে এখনো বাকী আছে।
বর্তমানে এই পরীক্ষা বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন ল্যাবরেটরীতে করা হয়ে থাকে। (১৪)
TELOMERASE ENZYME কোথায় কতক্ষন কাজ করে?
যে TELOMERASE ENZYME টি এই কাজটি করতেছে তাকে আমরা চলমান জীবনে সর্বক্ষন দেহের সর্বত্র পাইনা।

কেবল মাত্র প্রাণীর জীবন কালের নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ বিশেষ টিসুর মধ্যে TELOMERASE বিদ্যমান থেকে থেকে কাজ করে,তার বাইরে নয়। এটা কোথায় কোথায় কখন কখন কার্যকরী অবস্থায় পাওয়া যায় তার একটা বর্ণনা নীচে দেওয়া হইল।
এটাকে সর্বক্ষন কার্যকরি অবস্থায় পাওয়া যায় REPRODUCTIVE CELL( MALE & FEMALE GAMATE), ZYGOTE, MORULA, BLASTOCYST, BLASTOMERE, STEM CELL, EMBRYO, DEVELOPING BABY, BABY, YOUNG ADULT,এর কোষের মধ্যে।

এরপর বয়সের একটা পূর্ণতা আসার পর SOMATIC (প্রজনন কোষ বাদে অন্য সমস্ত কোষ)কোষে যেমন মাংস পেশী,স্নায়ূ তন্ত্র,হৃদপিন্ড,প্যানক্রিয়াছ ইত্যাদিতে শুপ্তাবস্থায় অতি অল্পমাত্রায় থাকে। সেখানে TELOMERASE এর আর তেমন একটা কার্যকরিতা দেখা যায়না।
অতএব বয়সের পূর্ণতার সাথে সাথে এ সমস্ত স্থানের কোষগুলী দিন দিন SENESCENSE (বার্ধক্য)এর দিকে যাইতে থাকে ও APOPTOSIS এর মধ্য দিয়ে প্রানীটির স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে।
তবে আবার BONE MARROW, BASAL LAYER OF EPIDERMIS, ENDOMETRIUM,LIVER ও CORNEAL CELL ইত্যাদিতে যথেষ্ঠ পরিমান TELOMERASE বিদ্যমান থাকে। এবং প্রয়োজনের সময় এরা কার্যকরি হয়ে উঠে।

একারনে একজন বয়স্ক লোকের এসমস্ত যায়গার কোষ আঘাত প্রাপ্ত হইলেও নিজেরাই নবীন কোষ জন্মাইয়া পুনর্নিনির্মান করিতে পারে। এটা সার্জারী চিকিৎসায় ব্যবহৃতও হয়ে থাকে।
নীচের লিংক গুলীতে,VIDEO নং-২ ও ৩ তে দেখতে পারেন, কী ভাবে TELOMERASE, TELOMERE উৎপন্ন করিয়ে DNA এর প্রান্ত REPLICATION এ সহায়তা করে।
http://www.youtube.com/watch?v=AJNoTmWsE0s
ভিডিও নং-২

ভিডিও নং-৩
চিত্র-৩ এও এটা পরিস্কার ভাবে দেখানো হয়েছে।

এখন প্রশ্ন আসে,তা হলে MALIGNANT বা CANCER কোসের সংগে কী TELOMERASE এর কোন সম্পর্ক আছে ?

হ্যাঁ অবশ্যই আছে। এবার দেখা যাক কী সম্পর্ক আছে।
পরীক্ষায় MALIGNANT বা ক্যানসার আক্রান্ত কোষেও ১০-২০% বেশী পরিমানে TELOMERASE বিদ্যমান পাওয়া যায়।আর তা থাকাটাই তো স্বাভাবিক।কারন CANCER আক্রান্ত কোষকেও তো অনবরত নবীন কোষ জন্ম দিতে হয়।আর নবীন কোষ উৎপাদন করতে গেলেই তো TELOMERASE এর সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন। কারন TELOMERASE না থাকলেই তো TELOMERE ব্যবহৃত হতে হতে ফুরিয়ে গিয়ে কোষটির বিভাজন বন্ধ হয়ে কোষটি APOPTOSIS PHASE এ গিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটিবে।

আর তাহলে তখন IMMORTAL CANCER কোষ এর ও অস্তিত্ব থাকিবেনা। অর্থাত CANCER কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি হওয়া TELOMERASE এর সরবরাহের ঘাটতি এসে স্বাভাবিক ভাবেই মূত্যু হয়ে CANCER নিরাময় হইয়া যাইতো। কিন্তু তা হয়না।

একটা সুস্থ কোষ ও একটা ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের মধ্যে পার্থক্য হইল, একটি সুস্থ কোষের সুস্থ GENETIC CODE SQUENCE তার নবীন কোষ উৎপাদনকে পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রাখতে সক্ষম থাকে, এবং তা প্রয়োজন অনুপাতে করায় আর একটি ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ কোষ যে কোন কারনেই হোক,তার GENETIC CODE SEQUENCE ক্ষতিগ্রস্থ থাকে।
এই কারনে এই অশুস্থ কোষটি নবীন কোষ উৎপাদনের উপর নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে এই কোষটি একটা অশুস্থ IMMORTAL বা অমর কোষে রুপান্তরিত হয়ে কান্ডজ্ঞান হীনের মতন অনিয়ন্ত্রিত ভাবে কোষ উৎপাদন করিয়া ও তা পার্শবর্তিতে অন্যান্য টিসুর মধ্যে প্রবেশ ঘটাইয়া, ও রক্তের মাধ্যমে অন্যত্র বিস্তার ঘটাইয়া শীঘ্রই আক্রান্ত রোগীটিকে মেরে ফেলে।
এখন প্রশ্ন আসে,তাহলে এই TELOMERASE এর কি কোন বাস্তব প্রয়োগ আমাদের জীবনে হতে পারে?

উত্তর হবে “হাঁ” আমাদের বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে।

আমরা ইতিমধ্যেই লক্ষ করেছি এই ঘাতক ক্যান্সার আক্রান্ত কোষটি অমরত্ব(IMMORTAL) লাভ করিয়া TELOMERASE এর সহযোগিতায় অনবরত কোষ উৎপাদন কার্য চালিয়ে যায় । যদি কোনক্রমে তাকে TELOMERASE সরবরাহ বন্ধ করিয়া দেওয়া যায়, তাহলে তখন কোষটি IMMORTAL না হয়ে APOPTOSIS এর মধ্য দিয়ে অন্যান্য কোষের মতই সাধারন মৃত্যু ঘটে যাবে। আর তখন ক্যান্সার আক্রান্ত কোষটির আর কোনই বিস্তার লাভের সুযোগ থাকিবেনা।
তাহলে এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে তা হলে কী আমরা ANTI TELOMERASE ব্যবহার করিয়া কি CANCER নিরাময় করিতে পারি?

যদি এমন কোন পদ্ধতি আবিস্কার করা যায় যাতে প্রতিটা CANCER কোষে TELOMERASE সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া যায়, তখনই CANCER এর চিকিৎসা সম্ভব হয়ে যাবে।
অদুর ভবিষ্যতে CANCER চিকিৎসায় জয়ী হওয়ার অবশ্যই যথেষ্ঠ সম্ভাবনা রয়েছে।

চিত্র-২) এখানে দেখানো হয়েছে, প্রতিটা CELL DIVISION এ TELOMERE কী ভাবে খরচ হতে হতে শেষ পর্যায়ে আর CELL DIVISION বন্ধ হয়ে যায়।

চিত্র-৩)এখানে দেখানো হচ্ছে (A ও B)TELOMERASE কি ভাবে TELOMERE এর ক্ষয় পূরন করছে।(C ) CHROMOSOME এর শেষ প্রান্তে TELOMERE(হলুদ রং এর) দেখানো হয়েছে।
লক্ষ্য করুন-B এর (উপর হতে) –
প্রথম চিত্রে-প্রতিটা REPLICATION ROUND এর পর RNA PRIMER দূর করার পর প্রতিটা নূতন CHROMOSOME স্বল্প দৈর্ঘ্য হয়ে যাচ্ছে। ক্রোমোছোম এর ক্রমান্বয়ী স্বল্প দৈর্ঘতা কোষকে মৃত্যুর দিকে ঠেল দেয়।
দ্বিতীয় চিত্রে-TELOMERASE এনজাইম একখন্ড RNA SEQUENCE কে DNA এর TEMPLATE হিসেবে ব্যবহার করে নবীন DNA এর 5’ PRIME প্রান্তে TELOMERIC SEQUENCE যোগ করে দিচ্ছে।
তৃতীয় চিত্রে- CHROMOSOME এর DNA চেইন মূল দৈর্ঘ ফিরে পাচ্ছে।

এর জন্য VIDEO নং-২ ও দেখুন।
এভাবে TELOMERASE, DNA এর প্রান্তের REPLICATION এর সময়ে TELOMERE উৎপন্ন ও সংযোগ করে নবীন DNA এর TELOMERE ক্ষয় হয়ে যাওয়া থেকে একটা সময়কাল পর্যন্ত রক্ষা করে রাখে।

পর্বটি চলতে থাকবে।

References-
১। http://www.bbc.co.uk/bengali/multimedia/2012/06/120616_mrk_science_june12.shtml
২। http://www.answers.com/topic/when-was-rna-discovered
৩। http://wiki.answers.com/Q/What_is_the_function_of_RNA
৪। http://biology.about.com/od/cellularprocesses/ss/Dna-Transcription.htm
৫। http://www.wiley.com/college/pratt/0471393878/student/animations/dna_replication/index.html
৬। http://www.johnkyrk.com/DNAreplication.html
৭। http://en.wikipedia.org/wiki/RNA
৮। http://www.nature.com/scitable/topicpage/dna-packaging-nucleosomes-and-chromatin-310

৯। http://en.wikipedia.org/wiki/DNA

১০। http://www4.utsouthwestern.edu/cellbio/shay-wright/intro/facts/sw_facts.html
১১। http://www.youtube.com/watch?v=AJNoTmWsE0s
১২। http://www.thedailybeast.com/newsweek/2009/10/05/the-science-behind-the-nobel-prize-for-medicine.html
১৩। http://www.youtube.com/watch?NR=1&feature=fvwrel&v=yqESR7E4b_8
১৪। http://www.bio.davidson.edu/Courses/Molbio/MolStudents/spring2010/Jordan/telomerase.html
১৫। http://en.wikipedia.org/wiki/Telomere

৪ thoughts on ““ডিএনএ কী” পঞ্চম পর্ব TELOMERE ও TELOMERASE এর উপর নিয়ন্ত্রন আনতে পারলে “দীর্ঘ-যৌবনা জীবন” ও “ক্যানসার নিরাময়” সম্ভব।

  1. সোজা প্রিয়তে যখনই কোন দরকার
    সোজা প্রিয়তে যখনই কোন দরকার পরবে আপনার এই লিখা রেফারেন্স হয়ে থাকবে!!
    দুর্দান্ত তথ্যবহুল লিখা!! ধন্যবাদ হাকিম ভাই… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow:

  2. @তারিক লিংকন,
    অনেক ধন্যবাদ

    @তারিক লিংকন,
    অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য। আর হ্যাঁ,ওটাতে রেফারেন্সের কোন ঘাটতি নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *