এক অস্পৃশ্য মানব মন ছোঁয়ার গল্প “The Intouchables (2011)”


“The Intouchables (2011)”

চলচ্চিত্রঃ The Intouchables (2011)
পরিচালকঃ Olivier Nakache, Eric Toledano
কাহিনী ও চিত্রনাট্যঃ Olivier Nakache, Eric Toledano
মূল-ভাষাঃ ফরাসী
শ্রেষ্ঠাংশেঃ François Cluzet as ‘Philippe Pozzo di Borgo ‘ & Omar Sy as ‘Driss’,
বাজেটঃ €9.5 million (Euro)
বিশ্বজুড়ে ব্যবসা করেঃ €346 million (Euro)


“The Intouchables (2011)”

চলচ্চিত্রঃ The Intouchables (2011)
পরিচালকঃ Olivier Nakache, Eric Toledano
কাহিনী ও চিত্রনাট্যঃ Olivier Nakache, Eric Toledano
মূল-ভাষাঃ ফরাসী
শ্রেষ্ঠাংশেঃ François Cluzet as ‘Philippe Pozzo di Borgo ‘ & Omar Sy as ‘Driss’,
বাজেটঃ €9.5 million (Euro)
বিশ্বজুড়ে ব্যবসা করেঃ €346 million (Euro)
জনর বা ধরণ: জীবনী,প্রহসন,
নাটক [Biography, Comedy, Drama]
ব্যাপ্তি/দৈর্ঘ্যঃ ১১২ মিনিট
পুরষ্কারঃ বিশ্বজুড়ে ২২ টি জয় এবং ৩০ টি মনোনয়ন
আইএমডিবি [IMDB] রেটিং- ৮.৫ এবং সেরা এযাবৎকালে নির্মিত ২৫০ চলচ্চিত্রের তালিকায় স্বমহিমায় ৬২ নম্বর অবস্থান দখল করে আছে অসাধারন এই চলচ্চিত্রটি।।

প্লটঃ
এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে এক শারীরিক অসুস্থ ব্যক্তির (Philippe Pozzo di Borgo) বাস্তব জীবনের অবলম্বন। যে গল্পে বলা হয় শয্যাগত এক পঙ্গু মানুষের মন-দৈহিক অনুভূতি আর তাঁর জীবনকে কীভাবে এক প্রাণচঞ্চল ভরপুর তরুন মন অর্থবহ আর উপভোগ্য করতে পারে। মানুষের সাবলীল ভালবাসার সঙ্গ যে অনেক সময় মৃতপ্রায় মানুষের মনকেও যে তারুন্যের আনন্দ দিতে পারে তা এই গল্পের কাব্যিক দৃশ্যায়ন না দেখলে বুঝা অসম্ভব।

আসল ফিলিপ এবং ড্রিস যাদের জীবনী নিয়ে এই উপাখ্যান

কাহিনীঃ চলচ্চিত্রটির প্রথম টাইটেল কার্ড উঠার আগেই যে দারুণ দৃশ্যটির অবতারণা হয় তা এমন একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে একজন ড্রাইভার সিগন্যাল এবং হাইওয়ে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে অদম্য গতিতে ছুটে চলছে ঝড়ের বেগে আর নানান হাস্যরসাত্মক বাক্যবিনিময় হয় দুজনের মাঝে। এমন সময় পুলিশের গাড়ি সামনে থেকে এসে পুলিশ গাড়ি থামাল তারপর অনবদ্য অভিনয়ে বুড়ো লোকটা নিজেকে হার্ট এটাক করা একজন রোগী হিসেবে উপস্থাপন করে ফলে হাইওয়ে পুলিশ তাদের গার্ড (escort) দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে চাই।। এমন সব অসাধারণ প্রহসনমুলক চিত্রকল্পে ভরপুর থাকে চলচ্চিত্রটি।

দুই অসম বয়সীর বন্ধুত্বপূর্ণ এমন হাস্যরসাত্মক শুরুর পর গল্পটি ফ্ল্যাশব্যাকে মূল কাহিনীতে প্রবেশকরে। একজন চাকুরী প্রার্থী (ড্রিস…) ইন্টারভিউর জন্য একটি অভিজাত বাসায় অপেক্ষাগারে অপেক্ষা করছে, কালক্ষেপণ সহ্য করতে না পেরে পরে নাটকীয়ভাবে ড্রিস ইন্টারভিউ গ্রহীতার ঘরে প্রবেশ করে। সহকারী ‘Magalie’ এর উপস্থিতিতে কি দারুণভাবে ড্রিস ফিলিপের মন জয় করে নেয় তা সত্যিই অতিনাটকীয় একটি ব্যাপার…

প্যারাগ্লাইডিংরত দুই বন্ধুর একজন-ফিলিপ

এরপর একেএকে আরও অতি-নাটকীয় সব ঘটনায় ড্রিস কীভাবে একজন বিকলাঙ্গ পঙ্গু রোগী এবং মনিব-বন্ধু ফিলিপের মনকে স্বাভাবিক করে তুলে তা দেখে অনেক কিছুই শেখার আছে সমগ্র মানব জাতির। মূলত এই দুজনের উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র থেকেই এই চলচ্চিত্রটির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন পরিচালকদ্বয়। দুইবার চলচ্চিত্রটি দেখেছি আর প্রতিবারই তলস্তয়ের কালজয়ী ছোটগল্প ‘ইভান ইলিচের মৃত্যু’র কথা মনে হচ্ছিল। শেষ বয়সের অসহায় একজন মানুষের পাশে একজন প্রেমময় বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা সার্থকভাবেই ফুটে উঠে এই ১১২ মিনিটের কাব্যিক সিনেমাটোগ্রাফিতে।

রেস্তরাঁয় আড্ডারত দুই বন্ধু- ফিলিপ এবং ড্রিস

সমুদ্রের পাশের এই শৈল্পিক রেস্তরাঁয় যখন ড্রিস তাঁর বন্ধুকে নিয়ে আসে তখন মুগ্ধতার যে ঝিলিক ফুটে উঠে কেবল কানে অনুভূতি থাকা অসহায় মানুষটি তখন যে কারও মন আপ্লুত হতে বাধ্য। আমি কাহিনী বর্ণনার থেকে কিছু আকর্ষণীয় চিত্রকল্পের উপস্থাপন করতে পছন্দ করি কেননা তাতে পাঠকের মুভিটি দেখার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে কিন্তু সব কাহিনী অজানা থেকে যাবে। যা আগে শুনা গল্পের মুভি দেখার বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি দিবে সবাইকে।

একইসাথে ড্রিসের পরিবারের নানান টানাপোড়নের যে রূপ তুলে ধরে চলচ্চিত্র তা একজন মানবিক মানুষ ড্রিসের নিজের জীবনের দুঃখ কষ্টের সাথে এই জীবনের অভিজাত্যের সাথে এক দান্দিক অবস্থান তুলে ধরে তা আসলেই এমন অতিশৈল্পিক এক ফিল্মি মোহের ছটায় সম্ভব। এদিকে ফিলিপের অভিজাত জীবন যাপনে অভ্যস্ত তার এক মাত্র মেয়ের কিশোর মনের প্রেম আশংকা হতাশা ঘৃণা মৃত্যুর ইচ্ছা সব মিলিয়ে মানব জীবনের এক পরিপূর্ণ শোকগাথার অন্যরকম এক উপস্থাপনের সার্থক প্রকাশ হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। একটি চলচ্চিত্রেই তিনজনের ফিলিপ-পঙ্গু রোগী, তার বন্ধু ড্রিস-নিয়োগকৃত সেবক থেকে বন্ধু, আর ফিলিপের মেয়ে ও তার ছেলে বন্ধুর কিশোর মনের অবস্থা সবই পাওয়া যায় অথচ এত সুন্দর আর দুর্দান্ত এক উপস্থাপন যা কখনই দর্শকের মনকে কাঁদাবে না কিন্তু মাঝে মাঝে অট্টহাসিতে ফেটে পরবে দর্শক। আর চলচ্চিত্রটি শেষ করার পর সব কিছুই দর্শককে গ্রাস করবে।


যে দুইটি জীবনের উপাখ্যান এই চলচ্চিত্রটি সেই দুই বন্ধু সমুদ্রতীরে অবসরে

চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যে যখন আসবে তখন এক মহৎ বন্ধুর আত্মত্যাগ এবং তার সুবিবেচনার এক অনবদ্য দৃশ্যকল্প দেখাযাবে যার উপস্থাপন অন্যরকম এক রুপক দৃশ্যায়নে। দৃশ্যটি এমন ড্রিস বালুকাময় পথ ধরে হেঁটে বিদায় নিচ্ছে এদিকে ফিলিপ অসীম আশা আর স্বপ্ন নিয়ে অনাবিল হাঁসিতে তার প্রস্থান দেখছে। আর এদিকে তার হুইল চেয়ারটির মুখোমুখি বসে থাকে ড্রিসের যায়গায় ড্রিসের উদ্যোগে ফিলিপের সদাপ্রেমময় জীবনের নতুন আশা ‘Eléonore’।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ ৭০৫ মেগাবাইট টরেন্ট

২৩ thoughts on “এক অস্পৃশ্য মানব মন ছোঁয়ার গল্প “The Intouchables (2011)”

  1. অসাধারণ এক ফরাসি মুভি … মাস
    অসাধারণ এক ফরাসি মুভি … মাস তিনেক আগে দেখছিলাম ।
    যারা দেখেন নাই , দেখতে পারেন । সময় অবশ্যই ভালো কাটবে

    সাথে – রিভিউতে প্লাস :গোলাপ:

  2. লিমিটেড প্যাকেজ চালাই। তাই
    লিমিটেড প্যাকেজ চালাই। তাই ডাউনলোড দেয়া গেল না। কোন ফ্রেন্ডকে লিংক ধরিয়ে দিতে হবে।

    আর রিভিউতে +++

  3. দেখার ইচ্ছা আছে, কিন্তু এখন
    দেখার ইচ্ছা আছে, কিন্তু এখন সময় নাই.. প্রিয়তে রেখে দিলাম পরে দেখব।

    কালবৈশাখী ভাই, আপ্নের মাথায় এত বুদ্দি??????

  4. শেষতক লিখেই ফেললেন লিংকন ভাই,
    শেষতক লিখেই ফেললেন লিংকন ভাই, ভালো মুভি দেখা শেখার জন্য আপনার মত মুভিখোর বাঞ্ছনীয়। :bow: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ:

    মুভিটার কথা আপনি ওইদিন বললেন পর্যন্ত, কিন্তু এখনও দেখার সুযোগ করে উঠতে পারলাম না :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :দেখুমনা: :কেউরেকইসনা: :কেউরেকইসনা: … এই আফসোস কই রাখি :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: … আজকেই দেখে ফেলব। :থাম্বসআপ:
    আর এত্তকম কেন আপনার রিভিউর পরিমান… ইদানিং মুভি দেখা ছেড়ে দিয়েছেন নাকি… কোন ধানাইপানাই নাই, বেশী বেশী রিভিউ চাই… :জলদিকর: :জলদিকর: :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

    1. রা’আদ ভাই আপনাকেও ধইন্যা
      রা’আদ ভাই আপনাকেও ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
      কি দেখা শেষ হল? আপনাকে তো বলেছিই… আমি আসলেই মুভি দেখছি না ইদানীং তেমন একটা!! অনেক জমে আছে… অনেক বলতে ২০০-২৫০ মুভি দেখার অপেক্ষায় আছি… 😉

    1. এমনই ব্যস্ত যে মাঝখানে এক
      এমনই ব্যস্ত যে মাঝখানে এক দুপুরে আর এক রাতে খাওয়ায় হয় নাই… :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
      ধন্যবাদ… তোর দিনকাল কেমন যাচ্ছে!!

        1. আমি না খাইলে তোর কি লাভ?
          আমি না খাইলে তোর কি লাভ? 😉
          :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

      1. কিছু হইল এইডা…
        কিছু হইল এইডা… :খাইছে: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: কাজ কাম করতে গিয়া দুনিয়াদারি সবকিছু ভুইলা যাওয়ার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করতেছি… :মানেকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

        1. আই উইল বি ব্যাক ভেরি সুন…
          :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
          আই উইল বি ব্যাক ভেরি সুন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *