মার্কিন সুরুত হাল

আমেরিকা নিয়ে কথা বলতে চাইলে সবাই কম্যুনিস্ট ট্যাগ দিয়ে বসে থাকে, কিন্তু আমেরিকা কি করছে তা নিয়ে কেউ জানতে চায় না, আমি অস্বীকার করতে পারি না আমেরিকা খারাপ, আমি এও স্বীকার করি আমেরিকা মহান রাস্ট্র, তাই বলে এর সমালোচনা না করে থাকা যায় না ।

নিজের এজেন্ট বাস্তবায়ন করার জন্য আমেরিকা তার রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডিকে খুন করতে দ্বিধা বোধ করেনি!!! আজকে বিশ্বর সন্ত্রাস এর আখড়াখানা করার জন্য আমেরিকার তুলনা হয় না, চিন জাপান রাশিয়া তাইওয়ানে মাফিয়া সাপ্লাই করার মতো ওপেন সিক্রেট এর সাথে জড়িত মার্কিন প্রশাসন!!!


আমেরিকা নিয়ে কথা বলতে চাইলে সবাই কম্যুনিস্ট ট্যাগ দিয়ে বসে থাকে, কিন্তু আমেরিকা কি করছে তা নিয়ে কেউ জানতে চায় না, আমি অস্বীকার করতে পারি না আমেরিকা খারাপ, আমি এও স্বীকার করি আমেরিকা মহান রাস্ট্র, তাই বলে এর সমালোচনা না করে থাকা যায় না ।

নিজের এজেন্ট বাস্তবায়ন করার জন্য আমেরিকা তার রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডিকে খুন করতে দ্বিধা বোধ করেনি!!! আজকে বিশ্বর সন্ত্রাস এর আখড়াখানা করার জন্য আমেরিকার তুলনা হয় না, চিন জাপান রাশিয়া তাইওয়ানে মাফিয়া সাপ্লাই করার মতো ওপেন সিক্রেট এর সাথে জড়িত মার্কিন প্রশাসন!!!

আমেরিকার জাতি হিসেবে নিজেকে বড় করার জন্য বড় ভূমিকা রেখেছে তার মিডিয়া, সিংহ মিডিয়া আমেরিকার দালাল, তার উপরে ইয়ং জেনারেশন এর উপরে তার হলিউড বাণিজ্যর তুলনা হয় না, আপনি যদি পার্ল হারবার কিংবা আমেরিকার ২য় বিশ্ব যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, আর সাময়িক ইরাক আক্রমন নিয়ে মুভি গুলো দেখে থাকেন তাতে দেখা জায় কি জঘন্য মিথ্যা ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে তাতে!!!

পৃথিবীর বড় সব গণহত্যা করেছে মার্কিনীরা, ন্যাটিভ অ্যামেরিকানদের ম্যাসাকার করেছে মার্কিনীরা সেই ১৮ শতকের শেষে । আর সব চাইতে কম সময়ে আর ভয়াবহ গণহত্যা হচ্ছে ২য় বিশ্ব যুদ্ধে হিরোশিমা আর নাগাসাকি।

একটু রিভিউ তাই দিয়ে দিচ্ছিঃ
ক. ১৯৪৫ সালে ৬ আগস্ট হামলা হয় হিরোশিমাতে
খ. ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট হামলা হয় নাগাসাকিতে
গ. হিরোশিমাতে ডিসেম্বরের মাঝে মারা যায় ১ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ
ঘ. নাগাসাকিতে মারা যায় ৪০ হাজার মানুষ, আর ৭৫ হাজার মানুষ হয়ে যায় আহত । বোমার তেজস্ক্রিয়তার মারা যায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ। যে কোন সময়ের এককে এতো কম সময়ে এতো লোক আজ পর্যন্ত মারা যায় নাই!!!

কেন হিরোশিমা আর নাগাসাকি?

মে মাসেই বার্লিন মুক্ত হবার পরে নাৎসি বাহিনী পরাজয় মেনে নিয়েছে, মুসোলিনীর ফ্যাসিসিট ইটালি ও শেষ । মোদ্দা কথা ইউরোপে যুদ্ধ শেষ করেছে সোভিয়েত রেড আর্মি, রেড আর্মি এবার তাই গুটিয়ে নিয়ে এশিয়া আক্রমণের চিন্তা মাথায় নিয়েছে, ইউরোপে কম্যুনিস্ট শাসন এর জয়জয়কার শুরু হয়েছে, কিন্তু ইয়ল্টা চুক্তি অনুসারে আমেরিকা চায়নি সোভিয়েত রাশিয়া এশিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহন করুক বরং জাপানকে এক তরফা অ্যামেরিকান চাপ দিয়ে আত্মসমর্পণ করানো, এতে করে এশিয়া থাকবে কম্যুনিস্ট এর প্রভাব মুক্ত!!!
কোন দরকার ছিলো না এই জঘন্য আক্রমণের কেননা পার্ল হারবারের আক্রমণের পরে এক ভয়াবহ আক্রমন করে টোকিয় শহর ম্যাসাকার করে আর ইউরোপের যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২৬ অগাস্ট এর মধ্য আত্মসমর্পণ এর কথা বলে দেয়া হয় জাপানকে, জাপান সেই প্রস্ততি নিয়েছিলো, কিন্তু হাঁটত করে নিজের সন্ত্রাসী চরিত্র দিয়ে আক্রমন করে আমেরিকা, যা সম্পূর্ণ যুক্তিহীন, এই কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৪২ সালে ম্যানহ্যাটন প্রোজেক্ট দিয়ে আর শেষ হয় আনবিক বোমা আক্রমন দিয়ে।

কালো বিড়াল আমেরিকাঃ
আমেরিকা আনবিক বোমা হামলা করার পরে এটা কাউকে জানাতে চায়নি, কারন তাদের ধারনা ছিলো এতে করে সোভিয়েত রাশিয়া এই বোমা বানিয়ে তাদের সাম্রাজ্য দখল করে নিবে। হতভাগা জাপানবাসী তাই ভূল চিকিৎসায় মারা যায় আবার নতুন করে, তাদের যে সকল ডাক্তার সেবা দিয়েছিলো তাঁদেরও বরন করতে হয় কস্টের মৃত্যু!!! ভিটামিন ইঞ্জেকশন পুশ করা জায়গা গুলোতে কিছুদিন পরে পচন লেগে যেতো এবং বরন করতে হতো মৃত্যু, আজও এর বিভীষিকায় বিকলঙ্গ বাচ্চার ভয় থেকে যায় হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে । ৪ সপ্তাহ পরে প্রকাশ পায় এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে আনবিক বোমা, অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক উইলফ্রেড গ্রাহাম বুরচেট এই ঘটনার ৩০দিন পরে ২ সেপ্টেম্বর পৌছান জাপানে, এরপরেই জানতে পারে বিশ্ববাসী, ৫ সেপ্টেম্বর তার লেখা প্রকাশিত হয়, হতভাগা এই সাংবাদিক রাসায়নিক বিষে ক্যান্সার হয়ে মারা যায় ১৯৮৩ সালে ।

জঘন্য জাপান অধ্যায়ের পরে ভিয়েতনাম এ যুদ্ধ শুরু করে অ্যামেরিকা, এমন কোন মানবতা বিরোধী কাজ নেই যে অ্যামেরিকা করেনি, এরপরেই চোখে যা পড়ে তা হচ্ছে মিথ্যা কথা বলে ইরাক আক্রমন, ইরাক যুদ্ধ নিয়ে সব মুভিতে আমেরিকার অবস্থানকে পজেটিভ করা হয়েছে তাই বিশ্ব প্রজন্ম এর সঠিক ইতিহাস জানে না, ভুলে গিয়েছে কেন বুশ ব্লেয়ার আক্রমন করেছিলো ইরাক, আর আক্রমন শেষ হবার পরে বলেছে তারা গণতন্ত্র দিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে খুন করেছে সাদ্দাম হোসেনকে, না এখানে শেষ নয় আরব বসন্তের কথা বলে লিবিয়াকে মোসাদ বাহিনী ম্যাসাকার করেছে, এরপরেও উত্তর কোরিয়া, ইরানকে হুমকির মাঝেই রাখা হয়, সাম্প্রতি সিরিয়াতে নিজের ব্যবহার করা টক্সিন বোম ব্যবহার করে সিরিয়া আক্রমণের আর ইতিহাসের নতুন ম্যাসাকার রচনা করার চেস্টা করছে অ্যামেরিকা, ড্রোন হামলায় ইয়েমেন, পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে কোন জেনোসাইড করছে না অ্যামেরিকা, এরপরেও আমাদের চাটুকার সিস্টেম কথা বলতে নারাজ, ধর্ম কথা বলতে নারাজ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু হচ্ছে এই অ্যামেরিকা, ৭১এ পাকিস্তান বাহিনী যে জেনোসাইড করেছে তার দায়ভার এড়াতে পারে না অ্যামেরিকা, নৌবহর যা এখন সিরিয়াতে দেয়া হয়েছে, এমন নৌবহর দিয়ে লুঙ্গি আর থ্রি নট থ্রি রাইফেল নেয়া গেরিলার উপরে যুদ্ধ চালাতে চেয়েছিলো এই মার্কিন সাম্রাজ্য, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাথে সিআইএ এর যোগসাজশ ছিলো তা দিবালোকের মতো সত্য ।

জামাত শিবির ইস্যুতে কোনদিন জামাত নিষিদ্ধ করার কথা বলে না, বিচারের কথা বলে না, কিন্তু ঠিক আলোচনার কথা বলে অ্যামেরিকা, আলোচনা কি ২য় বিশ্ব যুদ্ধে হয়েছে??? গতকাল সংবাদে দেখা গেলো ৯৩ বছরের এক নাৎসিকে বিচারের কথা বলা হয়েছে, বিচার মৃত্যু দন্ডই হবে, কিন্তু গোলাম আজমের আরাম দন্ড যখন দেয়া হয় তখন মার্কিন দালাল মানবাধিকার সংস্থা গুলো বলে বিচার নাকি অমানবিক হয়েছে!!! এক দেশে এই মার্কিন শক্তি আল কায়দা সাপ্লাই করে আর এক দেশে আবার আল কায়দা হত্যা করতে আক্রমন করে, মাত্র ২০ বছর আগেও ওয়াশিংটন পোস্ট এর প্রথম পাতায় লাদেন এর ছবি দিয়ে বলা হয়েছিলো মুক্তিযোদ্ধা!!! আমাদের দেশ কি করছে???

আমাদের দেশ মার্কিন সাম্রাজ্যতে বন্দী, কারন ইরাক আক্রমণের সময় সংসদে কোন রকম নিন্দা করা হয়নি, ইভেন এখনও সিরিয়া ইস্যুতে অ্যামেরিকার সাথেই কথা বলছে দেশ, বর্তমান

সাম্রাজ্যবাদীর হামলা on বাংলাদেশঃ
১. দেশের স্বার্থের কথা বলে তত্ত্বাবধায়ক এর কথা বলছে অ্যামেরিকার আর পাকিস্তানের খাশ দালাল বিএনপি, কিন্তু দেশের সবচাইতে বড় স্বার্থ সুন্দরবনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা বলেনি এই দলটি

২. তেল গ্যাস কয়লার সব ইজারা রয়েছে বেনিয়া কোম্পানির কাছে কিন্তু এ নিয়ে কোন কথা রাখেনি আওয়ামীলীগ, কানসাট এরপরে আওয়ামীলীগের কথার কোন কিছুই পাওয়া যায়নি খুঁজে

৩. জামাত ইস্যুতে সংসদে বসে বিল তুলে এখনও নিষিদ্ধ করা হয়নি মউদুদিবাদী ভুয়া ইসলামী জামাত শিবির এর রাজনিতি, জামাত এর হরতালে মার্কিন দূতাবাসের গাড়ি ভাঙ্গার জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়, তবে নিষিদ্ধ না করার ইচ্ছা কি একই সুতায় গাঁথা??? সৈয়দ আশরাফ স্যার বলেছিলেন কোন দল নিষিদ্ধ করার ইচ্ছা আওয়ামীলীগের নেই!!!

আশার বানীঃ
এতো কিছুর পরেও আশার বানী থাকে, আমাদের ৭১ এ সোভিয়েত বন্ধুরা আমেরিকাকে হাটিয়ে দিয়েছে, সোভিয়েত বন্ধুরা এবার সিরিয়ার সাথেও আছে, মহাজোট সরকারে এখনও বাম ধারা আছে বলেই পচে যায়নি সরকার, এই দেশে এখনও বাম রাজনীতি আছেই বলেই, হোক সে ৪০টি দল [নস্ট বাম জোনায়েড ছাকী, ফরহাদ মাজহার আর বদর উমর কে আমি গুনি না, এরা বাম না] এখনও দেশের স্বার্থে কথা বলার মানুষ আছে, দেশকে নিয়ে ভাবার মানুষ আছে, তাই এখনও মার্কিন সাম্রাজ্য ঘুমাতে পারে না শান্তিতে

সাম্রাজ্যবাদ আর সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক

৭ thoughts on “মার্কিন সুরুত হাল

  1. মার্কিনি দের গুন্ডামি নিয়ে
    মার্কিনি দের গুন্ডামি নিয়ে ইতিহাস রচনা করা যাবে। এখানে সন্দেহ নেই। তবে আপনার পোস্টের কিছু ব্যাপার স্বভাবতই খটকা লাগলো। হতে পারে, আমি জানিনা।

    এক দেশে এই মার্কিন শক্তি আল কায়দা সাপ্লাই করে আর এক দেশে আবার আল কায়দা হত্যা করতে আক্রমন করে, মাত্র ২০ বছর আগেও ওয়াশিংটন পোস্ট এর প্রথম পাতায় লাদেন এর ছবি দিয়ে বলা হয়েছিলো মুক্তিযোদ্ধা!!!

    এই জিনিসটার লিঙ্ক দেয়া যাবে? বিস্তারিত পড়ার ইচ্ছা আছে।

      1. এটা তো টুইন টাওয়ারের ঘটনার পর
        এটা তো টুইন টাওয়ারের ঘটনার পর থেকে জানা যে লাদেন সৃষ্টি করেছিল আমেরিকা। এবং লাদেন যখন আমেরিকার বিরুদ্ধে গেছে তখন তো স্বাভাবিক আমেরিকা তাকে ধ্বংস করবেই।

  2. লিখাটা মেয়ে মানুষের নামে
    লিখাটা মেয়ে মানুষের নামে প্রিতম চৌঃ এর শেয়ার দেয়া একটি ফেসবুক পোস্টে পড়েছি ।জানিনা আপনি ও লোকটি কি না ।তবে লিখাটা যেন লিখুন না কেন ধন্যবাদ বা প্রশংসা পাওয়ার মত লিখা ।এক কথায় ভাল বিশ্লেষন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *