অভিমান

“আমি কোথায়?”
“আপনি নরকে।”
“এটা নরক? আমার তো মনে হচ্ছে স্বর্গ।”
“হ্যাঁ, আমারও আপনাকে প্রথম দেখে তাই মনে হচ্ছিলো। আপনি চিৎকার করছিলেন না। হাসিহাসি মুখ করে বসে ছিলেন। আসলে আমাদের সিস্টেমে সমস্যা হয়েছে। ঠিক হয়ে গেলে আপনি চিৎকার করা শুরু করবেন।”
“আজিব তো! নরকেও সিস্টেম আছে, আবার সেই সিস্টেমে সমস্যাও হয়?”
“হ্যাঁ”
“ভালো কথা, আপনি কে?”
“আমি নরকের সিকিউরিটি গার্ড।”



“আমি কোথায়?”
“আপনি নরকে।”
“এটা নরক? আমার তো মনে হচ্ছে স্বর্গ।”
“হ্যাঁ, আমারও আপনাকে প্রথম দেখে তাই মনে হচ্ছিলো। আপনি চিৎকার করছিলেন না। হাসিহাসি মুখ করে বসে ছিলেন। আসলে আমাদের সিস্টেমে সমস্যা হয়েছে। ঠিক হয়ে গেলে আপনি চিৎকার করা শুরু করবেন।”
“আজিব তো! নরকেও সিস্টেম আছে, আবার সেই সিস্টেমে সমস্যাও হয়?”
“হ্যাঁ”
“ভালো কথা, আপনি কে?”
“আমি নরকের সিকিউরিটি গার্ড।”
“এখানে কি করছেন?”
“আপনাকে গার্ড দিচ্ছি। সবাই সিস্টেমের সমস্যা নিয়ে ব্যাস্ত।”
“আমাকে গার্ড দিচ্ছেন কেন?”
“আপনি যেন পালিয়ে না যান তাই।”
“হোহোহো। বুঝলাম। তো, নরকের যন্ত্রণা কেমন?”

নরকের সিকিউরিটি গার্ড এবার রাহাতের দিকে রাজ্যের বিরক্ত নিয়ে তাকিয়ে বলল, “আসলেই পৃথিবীর মানুষ নামক প্রাণী গুলো প্রচুর বিরক্তকর।” রাহাত বলল, “কেন? অন্যান্য গ্রহের প্রাণী কি শান্তিপ্রিয়?”

“হ্যাঁ। অন্তত আপনাদের থেকে।”
“আচ্ছা, আমি এখানে এলাম কি করে? আমি কি মৃত?”
“সমস্যা তো এখানেই। আপনি মৃত নন। আপনি ঘুমুচ্ছিলেন, ঘুমের ঘোরেই বারবার বলছিলেন, “আমি নরকে যাবো, আমি নরকে যাবো।” তারপর আপনি এখানে এলেন। আর সাথে সাথেই নরকের সমস্ত সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিল। আপনার উদ্দেশ্য আমাদের কাছে অস্পষ্ট। বোঝার চেষ্টা চলছে। তবে আপনি নরকের যন্ত্রণা ভোগ করবেন নিশ্চিত।”
“ইন্টারেস্টিং। রুহী আজ সকালে বারবার আমাকে বলছিল, তুমি নরকে যাও, তুমি নরকে যাও। আমি কি তাহলে অবচেতন মনে এসব ভাবছি?”

“রাহাত, এই রাহাত, এই। রাহাত, শুনতে পাচ্ছ? রাহাত?”

রাহাতের চোখ ভারী হয়ে আছে। বহু কষ্টে চোখ মেলে দেখল তার সামনে রুহী বসে আছে। রুহীকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে দেখতে। লাল শাড়ির সাথে লাল লিপিস্টিক। হাতে রেশমি চুরি। চুল গুলো ছাড়া। চোখে কাজল। অসম্ভব মায়াকড়া দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।

“তোমার হয়েছে কি বলো তো?”
“কি হবে? কিছুনা।”
“কাল সন্ধ্যার পর কোথায় ছিলে?”
“বাসায়। ঘুমুচ্ছিলাম। সন্ধ্যায় বাসায় এসে কড়া ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুম দিয়েছিলাম।”
“কেন? আমি নরকে যেতে বলেছিলাম বলে?”
“হ্যাঁ। এখন কয়টা বাজে?”
“দুপুর দুইটা। চলো, তোমাকে নিয়ে আজ কাচ্চি খাবো।”
“হটাৎ? কেন?”

রুহী রাহাতের দিকে আগুনের চোখে তাকিয়ে থাকে। আজ একটা বিশেষ দিন। রাহাত ভুলে গেছে সেটা। রুহীর তাকিয়ে থাকা দেখে রাহাতের মনে পড়ে যায়। রাহাত বলে, “ওহ। তুমি একটু বসো। আমি আসছি।” রুহী হেসে দেয়। ভাবে, তার এই প্রেমিক যুবকটা অনেক আলাভোলা। অনেক সহজ সরল। কেন যে ভালবেসেছিলাম তাকে?

“চলো।”
“হুম চলো। রাহাত।”
“হ্যাঁ বলো।”
“সরি। ”
“ঠিকাছে।”
“ভালোবাসি।”
“আমিও।”

৬ thoughts on “অভিমান

    1. হুম। কি করবো ভাই বলেন, অভিমান
      হুম। কি করবো ভাই বলেন, অভিমান গল্পটা অভিমান করে লিখেছি। এক বৈঠকে লেখার কারনে এই অবস্থা। :/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *