আজো সেই বোনের গায়ে রক্ত মাখা কাপড়

গল্পের চরিত্রঃ শমি(বোন), মুহিত(ভাই, বিশিষ্ট চুশিল ও চিন্তাবিদ),কবির

মূল গল্পঃ ভাইয়া ভাইয়া……… বলে গোঙানির আওয়াজ টা কানে আসতেই মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে নিলো মুহিত। অজানা আতংকে সে দৌড় দিলো দরজার উদ্দেশে।দরজা খুলে দেখ অর্ধনগ্ন, রক্তাক্ত, এলোমেলো চুলে একটি মেয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে।মেয়েটি আর কেউ নয়, তারই আদরের ছোট বোন। মাটিতে বসে পড়ল মুহিত। বোনকে জিজ্ঞেস করলো ঘটনা। শমি চিৎকার করে বলল-“ভাইয়া আমাকে বাচাও ভাইয়া,ঐ রাজাকারের দালালরা আমাকে নির্যাতন করেছে।



গল্পের চরিত্রঃ শমি(বোন), মুহিত(ভাই, বিশিষ্ট চুশিল ও চিন্তাবিদ),কবির

মূল গল্পঃ ভাইয়া ভাইয়া……… বলে গোঙানির আওয়াজ টা কানে আসতেই মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে নিলো মুহিত। অজানা আতংকে সে দৌড় দিলো দরজার উদ্দেশে।দরজা খুলে দেখ অর্ধনগ্ন, রক্তাক্ত, এলোমেলো চুলে একটি মেয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে।মেয়েটি আর কেউ নয়, তারই আদরের ছোট বোন। মাটিতে বসে পড়ল মুহিত। বোনকে জিজ্ঞেস করলো ঘটনা। শমি চিৎকার করে বলল-“ভাইয়া আমাকে বাচাও ভাইয়া,ঐ রাজাকারের দালালরা আমাকে নির্যাতন করেছে। তুমি ওদের শাস্তি দাও ভাইয়া। ভাইয়া আমাকে হাসপাতাল নিয়ে চল ভাইয়া।” হঠাৎ করে যেন কি হল মুহিতের। পাগলা কুকুরের মত চিৎকার করে বল্ল,”কোন কুত্তার বাচ্চারা তোর এরকম অবস্থা করেছে? বল, একবার তাদের নাম বল।”
-ভাইয়া ওরা রাজাকারদের বাঁচাতে চায়। আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম, আমি তাদের বিরুদ্ধে কলম তুলেছিলাম। তাই তারা আজ আমাকে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করলো।
মুখ পাংশু হয়ে গেল মুহিতের। সে বলল-
“তুই কি করে বুঝলি ওরাই তারা? আমার মনে হয় ওরা আওয়ামীলীগ এর লোক। ইচ্ছা করে এসব করেছে। ”
-কি বলছ ভাইয়া? আমি জানি ওরাই।
-ওদের কি দোষ? তুই এরকমভাবে বাইরে ঘুরিস কেন? বোরখা পড়ে ঘুরতে পারিস না?
-ভাইয়া তোমার দোহাই লাগে, এরকম করে বইলো না, তুমি ওদের বিচার করার ব্যাবস্থা কর।
-এহ!!! আমার তো খেয়ে দেয়ে আর কাজ নাই। এখন গিয়ে আমি বাইরে চিল্লা ফাল্লা করবো, না? দাড়া আমি একটু আসি।তুই ঘরের ভিতরে আয়।
-কোথায় যাচ্ছ ভাইয়া?সবাইকে ফেসবুক এ জানিয়ে দাও তোমার বোনের কি হাল করেছে ওরা। সবাইকে বল প্রতিবাদ করতে।
-আজকে দুরন্ত রাজশাহির খেলা। খেলা নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে নেই। এখন এসব প্রতিবাদ কইরা লাভ নাই।
-!!!!! তুমি আমার ভাইয়া!!!! আমরা কি একি মায়ের গর্ভের!!!!আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট করছে।
-আরে যাহ!!! তোরে কে কোথায় নির্যাতন করেছে তার কি কোনো প্রমান আছে? কোনো সাক্ষি আছে? এটা আওয়ামীলীগ এর ষড়যন্ত্র। এসব তুই বুঝবিনা। আর দেশে কি আর বিচার চাওয়ার কিছু নাই?
-মানে???? এসব কি বলছ ভাইয়া?
-বিশ্বজিৎ হত্যা হলো, হলমার্ক কেলেঙ্কারি হল, এসবের কোনো প্রতিবাদ নাই আর এখন আসছে উনি উনার ধর্ষণের বিচার চাইতে!! যতসব ফাউল।
শমির তখন লজ্জায় ঘৃণায় মনে হচ্ছিল আত্মহত্যা করে ফেলে। নিজের ভাই কেমন করে এরকম ভাবে কথা বলে সে বুঝতে পারছিলোনা।
মুহিত আবার বলে উথে-“ঘরে আয়, মাকে বলছি ওষুধ লাগিয়ে দিতে। এসব ভুলে যা। এসব সরকারের চাল। নিজেদের ব্যারথতা ঢাকার জন্য তোকে দিয়ে এই ধর্ষণের নাটক সাজিয়েছে।ভুলে যা এসব।”

অপরদিকে সারা এলাকার মানুষ জানাজানি হয়ে গেলো।তারা লাঠি-সোটা নিয়ে রাস্তায় নেমে এলো। মুহিত তাদের একজন কে ডেকে বলল কি শুরু করেছ? সাগর-রুনি হত্যার বিচার এর সময় কই ছিলা? হলমার্ক বিচার এর সময় কই ছিলা…… কথা শেষ করতে পারেনি মুহিত, এরই মাঝে জয় বাংলা বলে এক যুবক প্রচণ্ড এক থাপ্পর দিলো মুহিতের গালে। আশে পাশের সবাই শ্লোগান ধরল-” তুই কুলাঙ্গার, তুই কুলাঙ্গার”

সেই বোনটি আজো তার রক্ত মাখা কাপড় ছাড়েনি, আজো তার চুল আঁচড়ায়নি। কারন সে জানে যদি সে তার কাপড় বদলায়, তার চুল আঁচড়ায়, তার রক্তমাখা দেহ পরিষ্কার করে তাহলে তার ভাই এসব অস্বীকার করবে। বলবে -“এতো আগের ঘটনা এখন কি আর মনে আছে? আমি তো নিজ চোখে ধর্ষণ হতে দেখিনাই। কি প্রমান আছে?” বোনটি এখনো অপেক্ষায় আছে, তার ধর্ষণ কারীদের বিচার হবে, হবেই হবে। কিছু কুলাঙ্গার না করলেও তার বাঙালি ভাইয়েরা করবে এই অন্যায়ের বিচার।

১৫ thoughts on “আজো সেই বোনের গায়ে রক্ত মাখা কাপড়

  1. কেমন যেন হালকা হয়ে গেল…
    কেমন যেন হালকা হয়ে গেল… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:
    স্পিরিট নিয়ে কথা হবে না!! :থাম্বসআপ: অমিত দেখি কবিতা ছেড়ে গল্পে ট্রাই মারতেছ ঘটনা কি? :মানেকি:
    এই বাংলার ঔরসজাত স্বজাতির স্বজাতির সাথে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করে…

    1. এটা অনেক আগের একটা ফেসবুক
      এটা অনেক আগের একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস। প্রায় ৫০০+ শেয়ার ছিলো। গল্প হিসেবে লিখিনি আসলে…। গণজাগরণ মঞ্চ্বে শুরুর দিকে…

  2. স্পিরিটটা নিয়ে আসলেও কোন কথা
    স্পিরিটটা নিয়ে আসলেও কোন কথা হবে না্ :bow: :bow: , কিন্তু গল্প মনে হল খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা… আরেকটু সময় নিয়ে লিখলে বোধহয় এতটা হাল্কা লাগত না… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    তারপরও কবি অমিত লাবণ্যকে গল্পকার হিসাবে স্বাগতম :তালিয়া: :তালিয়া: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: … ফাটিয়ে দেয়ার অপেক্ষায়… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  3. সেই বোনটি আজো তার রক্ত মাখা

    সেই বোনটি আজো তার রক্ত মাখা কাপড় ছাড়েনি, আজো তার চুল আঁচড়ায়নি। কারন সে জানে যদি সে তার কাপড় বদলায়, তার চুল আঁচড়ায়, তার রক্তমাখা দেহ পরিষ্কার করে তাহলে তার ভাই এসব অস্বীকার করবে। বলবে -“এতো আগের ঘটনা এখন কি আর মনে আছে? আমি তো নিজ চোখে ধর্ষণ হতে দেখিনাই। কি প্রমান আছে?” বোনটি এখনো অপেক্ষায় আছে, তার ধর্ষণ কারীদের বিচার হবে, হবেই হবে। কিছু কুলাঙ্গার না করলেও তার বাঙালি ভাইয়েরা করবে এই অন্যায়ের বিচার।

    এই লাইনগুলো চমৎকার লেগেছে।
    এছাড়া আরও ভালো লিখতে পারতেন । খামখেয়ালী করে ফেলেছেন মনে হয়…।
    একটা ভালো গল্প মাঠে মারা গেলো :মনখারাপ:

  4. তেমন গভীরভাবে উপস্থাপন হয়নি
    তেমন গভীরভাবে উপস্থাপন হয়নি ।তবুও বলবো ভাল লিখেছেন ।অন্ততঃ আমার চাইতে ভাল ।

    …………………………তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি…………………………

  5. সমালোচনা: গল্পে একটু
    সমালোচনা: গল্পে একটু তাড়াহুড়ার ভাব ছিলো। গল্প হঠাৎ করে শুরু হয়ে যেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল। ভাইয়ের মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে খুব ধ্রুত। যার ফলে পাঠকের হয়তো বুঝতে কিছুটা সুবিধা হলেও গল্পের গভীরতা কমে গেছে খানিকটা।

    ক্রেডিট: আমি আপনার কবিতা গুলো খুব পছন্দ করি। আপনি নিজেই জানেন। তাও গল্প লিখেছেন দেখে মোস্ট ওয়েলকাম জানালাম। গল্পের মেসেজ খুব পরিষ্কার। বাস্তবিক অর্থেই রাজনীতির প্রতি অন্ধ আবেগ মানুষের পশুত্বকে জাগিয়ে তোলে। হিতাহিত জ্ঞান শূণ্য মানুষ তখন ন্যায় অন্যায়ের তফাৎ খুঁজে পায়না। ভালো লেগেছে গল্প।

    কানে কানে কথা: সমালোচনা করে ফেলছি দেখে প্লিজ মাইন্ড খাইয়েন না! আপনি ভালো লিখেন। চালিয়ে যান। আপনার লিখা টপ টু বটম পড়ি। সো, কিপ আপ ইউর স্পিরিট!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *