একজন ঐশী, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাব্যবস্থা, আমাদের সমাজ এবং….

ঐশী কে, কী, সে কেন আলোচনায় এলো এসব নিয়ে কোন ভূমিকা আশা করি না রাখলেও চলবে। গত বেশ কিছুদিন ধরেই সে সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোড়ের চায়ের দোকান এমন কি পরিবারের খাবার টেবিলে পর্যন্ত আলোচনার বিষয়বস্তু। আমার প্রশ্ন সেখানে নয়। প্রথমেই দেখি ঐশীকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন হচ্ছে?

মাদকের জন্য খুন কি এই প্রথম:

ঐশী কে, কী, সে কেন আলোচনায় এলো এসব নিয়ে কোন ভূমিকা আশা করি না রাখলেও চলবে। গত বেশ কিছুদিন ধরেই সে সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোড়ের চায়ের দোকান এমন কি পরিবারের খাবার টেবিলে পর্যন্ত আলোচনার বিষয়বস্তু। আমার প্রশ্ন সেখানে নয়। প্রথমেই দেখি ঐশীকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন হচ্ছে?

মাদকের জন্য খুন কি এই প্রথম:
আমাদের দেশে মাদকের জন্য খুন এই প্রথম নয় এটি নিয়ে কারও কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। এর আগেও বহু ঘটেছে। এখনও ঘটছে ভবিষ্যতেও ঘটবে। তারই কিছুতে আলোকপাত করি। গত ১৮ই অগাস্ট চুয়াডাঙ্গার জীবননগর শাখারিয়া পিচমোড়ে মাদক সেবনের জন্য সুমন নামের এক যুবক তার স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবী করে। না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে । গত ৩০শে জুলাই ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহাড় অনন্তপুর গ্রামে এক মাদকাসক্ত পুত্র নেশার টাকার জন্য বৃদ্ধ পিতাকে পিটিয়ে হত্যা করে । গত বছর ১৬ই মে নেশার টাকা না দেয়ায় গাজীপুরে এক মাদকাসক্ত যুবক তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে তাহলে ঐশীর ঘটনায় এমন কী বিশেষত্ব ছিল যে তা দেশকে এভাবে নাড়া দিল। উত্তরে যা আসবে, তা হচ্ছে, ঐশীর পারিবারিক স্ট্যাটাস। তার বাবা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভাল। পড়ত অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মত একটা ব্যয়বহুল স্কুলে। দেখতেও খারাপ না। এই সবকিছুই কাজ করেছে প্রভাবক হিসেবে। ঘটনা কি ঘটেছে, তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ঘটনা কে ঘটিয়েছে। এই ঘটনা ঐশী ঘটিয়েছে বলে সেটা পত্রিকার প্রথম পাতায় গুরুত্ব নিয়ে ছাপা হয়েছে। নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, এই ঘটনা যদি ঐশীর বদলে আমি ক্লান্ত কালবৈশাখি করতাম তাহলে ভেতরের পাতার এক কোণায় দশটা লাইন বরাদ্দ হত আমার জন্য। কারণ, একটাই পারিবারিক স্ট্যাটাস।

কেন গড়ে উঠছে ঐশীরা:
পারিবারিক স্ট্যাটাসের কারণে আলোচনায় এলেও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের দেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর অবস্থা খুব বেশি ভাল নয়।

ঐশীর এই বিকৃত মানসিকতার পেছনে স্কুলের প্রভাবের ওপর বেশ কয়েকটা ডকুমেন্টারি দেখেছি। দেশের খ্যাতনামা বহু শিক্ষাবিদদের মন্তব্য শুনেছি। এবং তাদের পর্যালোচনার প্রতি আমার মন্তব্য, “আমার হাসি পেয়েছে তাদের পর্যালোচনা শুনে।” এবং তাদের পর্যালোচনা শুনে আরেকটা ভয়াবহ বিষয় বেরিয়ে এসেছে। সেটা হচ্ছে, আমাদের দেশের প্রবীণেরা কিশোরদের মানসিকতা আর সংস্কৃতি সম্পর্কে ভয়াবহ রকমের অজ্ঞ।

তাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে, “ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষা ব্যবস্থাই এর জন্য দায়ী। তাদের সিলেবাসে কিশোরেরা গড়ে ওঠে দেশীয় সংস্কৃতি হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে। তাই আমাদের দেশীয় আবহ, সংস্কৃতি কিংবা রক্ষণশীলতা সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই থাকে না। বিদেশী সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে তারা হয়ে ওঠে একেকটা ফ্রাংকেস্টাইন।

যুক্তি হিসেবে এটা খুব ভাল অবস্থানে থাকবে। বেশ ভাল যুক্তিই বলা চলে। কিন্তু, মূল কারণ তার থেকে অনেক দূরে।

ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বখে যাবার জন্য যতটা না তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী তার চেয়ে বহুলাংশে বেশি দায়ী তাদের পারিবারিক আবহ। এটা আশা করি কেউ ই অস্বীকার করতে পারবেন না, ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই আসে উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে। এটাই কারণ। মাদকাসক্ত কিশোর শুধু ইংলিশ মিডিয়ামে নেই। বাংলা মিডিয়ামেও বহু আছে। তাই পড়াশোনার মাধ্যম কী তার থেকে বেশি যেটা কাজ করে, সেটা হচ্ছে পারিবারিক কিংবা সামাজিক মূল্যবোধ। বাবা মা এর প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে এদের শিশুকালে সামাজিকীকরণ ব্যাহত হয় মারাত্মকভাবে। পারিবারিক কিংবা সামাজিক মূল্যবোধ সেভাবে গড়ে ওঠে না। বাবা মা কে বন্ধু হিসেবে না পেয়ে এরা স্কুলফ্রেন্ড দের মাঝ থেকে বন্ধু খুঁজে নেয়। এবং নিজের একাকীত্ব ঘোচানোর তাড়না তাদের এতটাই আচ্ছন্ন করে রাখে যে, তারা এটা চিন্তা করার সময় পায় না, আমি যার সাথে মিশছি সে ভাল না খারাপ?

দ্বিতীয়ত যা দায়ী তা হচ্ছে, উচ্চবিত্ত পরিবারে বাবামায়ের সন্তানকে অন্যদের থেকে দূরে রাখার প্রবণতা। নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত সমাজেও আজকাল যৌথ পরিবার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও সেখানে আত্মীয় স্বজন কিংবা পাড়া প্রতিবেশীর মাঝে খুব ভাল সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, যেটা থাকে তাদের সন্তানদের মাঝেও। কিন্তু, উচ্চবিত্ত বাবামায়েরা চিন্তা করে তাদের সন্তানকে আক্রমণ করবে রোগ জীবানু, তারা খেলতে গিয়ে হাত পা ভেঙ্গে ফেলবে, তারা বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হবে, শরীরে কুয়াশা মাখলে নিউমোনিয়া হবে। তাদের একমাত্র কাজ বাসায় বসে বসে পড়। বিনোদন দরকার? কম্পিউটার আছে না? গেমস খেল, ব্রাউজিং কর। কিন্তু, মানুষের মাঝে অন্য মানুষের সঙ্গ পাবার যে প্রত্যাশা সেটা পরিবার কিংবা পরিবারের পরিচিত-জনদের কাছ থেকে পায় না। সেটাই খুঁজে পেতে যায়, স্কুলের সবার কাছ থেকে।

তৃতীয়ত, হাতে অফুরন্ত টাকা। মাঝে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়েছিল ঐশীর সাপ্তাহিক হাত খরচ লক্ষ টাকা। পড়ে আমি হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে উল্টে পড়েছি। কিন্তু, এটা নিশ্চয় সত্যি যে ঐশীর হাতখরচ নেহাত কম ছিল না। আর ঢাকা শহরে থাকা পুলিশের পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা যদি আয় করতে জানেন, তবে সেই অঙ্কটা খুব ছোট কিছু হয় না। বাবার কাছ থেকে টাকা আসছে। খরচ করতে সমস্যা কোথায়?

চতুর্থত, দেশের অলিতে গলিতে গড়িয়ে ওঠা অসংখ্য শিশা লাউঞ্জ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি, অধিকাংশেরই মাদক গ্রহণের শুরুটা হয় এই শিশা লাউঞ্জেই। এটা সত্যি 60% এরও বেশি শিশা লাউঞ্জের শিশায় কোন প্রকার মাদক থাকে না। 30% এর শিশায় 2% এর কম গাজা কিংবা সমগোত্রীয় মাদক থাকে যা খুব বেশি সমস্যার উদ্রেক করে না। কিন্তু, সমস্যা যা করে তা হচ্ছে পরিবেশ। প্রথম শিশা লাউঞ্জে এসে কিশোর-কিশোরীরা পায় অ্যাডভেঞ্চারের মত উত্তেজনা। সেই উত্তেজনা বাড়ানোর ইচ্ছে থাকে। বাড়তে বাড়তে গিয়ে পৌছায় ইয়াবার মত ভয়াবহ মাদকে। দেশে প্রতিদিন ৩০ লক্ষ ইয়াবার অনুপ্রবেশই বলে দেয়, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

পঞ্চমত, কিশোর বয়সে নিজেকে বিশেষ কিছু হিসেবে দেখানোর প্রবণতা। ভয়াবহ আরেকটা সত্য হচ্ছে, বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের স্কুল কলেজগুলোতে ভাল স্টুডেন্টগুলো পরিবার কিংবা সমাজ থেকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা পেলেও স্কুল কলেজে এদের পরিচয় খ্যাত। তুমি স্মার্ট হতে চাও? শুরু কর সিগারেট দিয়ে। নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত হলে এরপর ধর গাঁজা। পকেটে টাকা থাকলে যাও শিশা লাউঞ্জে। তারপর সুযোগ বুঝে হিরোইন, ফেন্সিডিল কিংবা ইয়াবা। হিরোইন-খোররাও খ্যাত। স্মার্ট হতে হলে ইয়াবার কোন বিকল্প নেই। একটা ১৭/১৮ বছরের কিশোর স্মার্ট হওয়াটাকেই বেছে নেয়। পকেটে টাকা নেই? এটাও বন্ধুদের বলতে লজ্জা। ফকিন্নির বাচ্চা তাহলে তুমি। বাবার পকেট থেকে অল্প কিছু সরিয়ে ফেল। বাবা টেরও পাবে না। টের পেয়ে গেছে? বাসায় ঝগড়া কর। তবুও দিচ্ছে না? খুন করে ফেল বাবা মাকে সমস্যা কী?

সমাজে প্রতিক্রিয়া:
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ডি-৫, ২৮৫/ই নম্বর বাড়ি থেকে পুলিশ ঐশী নামের একটি মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে। রাজধানীর ভিকারুননিসা কলেজের ছাত্রী ইশরাত জাহান ঐশী (১৫)।. ঐশীর পিতা কে.এম.ইকবাল বলেন, কিছুদিন ধরে ‘ঐশী’ নাম নিয়ে তার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছিল।

আমার কাছে সমাজের সবচেয়ে ভয়াবহতম প্রতিক্রিয়া এটিই। আমরা কতটা হুজুগে জাতি তার এর চেয়ে বড় কোন প্রমাণ বোধ হয় হতে পারে না।

আমার বাসার অবস্থা বলি। আমার বয়স বর্তমানে আঠারো বছর। ছোট ভাইয়ের তের বছর। ছোট বোনের বয়স চৌদ্দ মাস। স্বভাবতই ঐশীর ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার কথা ছিল আমার। কারণ, ঐশী আমারই সমবয়সী। কিন্তু, তা হয় নি বাসায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে আমার ছোট বোনকে নিয়ে। কারণ, তার ডাক নাম ঐশী। নুসরাত জাহান ঐশী। আমার বাবা রীতিমত ঠিকই করে ফেলেছেন মেয়ের নাম বদলে দেবেন। এ নিয়ে বাবার সাথে বাসায় আমার ছোটখাটো ঝগড়া পর্যন্ত হয়েছে। আর কিছু কি বলতে হবে এ নিয়ে? আমাদের সমাজ আর আমাদের মানসিকতা নিয়ে?

আসি বাবা মায়ের সাথে সন্তানদের অবস্থা নিয়ে। শুরুতেই বলেছি, মাদকের জন্য হত্যা বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। আগেও ঘটেছে। এখনও ঘটছে। হয়তো ভবিষ্যতেও ঘটবে। কিন্তু, বেশিরভাগ বাবা মায়ের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা আজ প্রথমবারের মত মাদকের কুফল সম্পর্কে জানতে পারলেন। কিশোর কিশোরীদের হাত খরচ দেয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন। বন্ধু বান্ধবের সাথে মেশা বন্ধ করে দিচ্ছেন। বাসায় আর স্কুল-কলেজের মধ্যে তাকে আটকে ফেলার চেষ্টা করছেন। আর ওপরে, মাদকাসক্ত হবার প্রথম আর দ্বিতীয় কারণ দেখুন। অর্থাৎ বাবা মায়েরা তাদের সন্তানদের মাদকাসক্ত হবার পথই সুপ্রশস্ত করছেন।

কীভাবে প্রতিরোধ হবে:
গত কাল ফেসবুকে এক ছোট বোনের স্ট্যাটাস দেখলাম – “এডভেঞ্চার করতে মন চাইলে এভারেস্টে উঠুম! স্কাইডাইভিং করুম! আর কিছু না পাইলে রাস্তায় নাইমা ইভ টিজার গো মাথা ফাটামু … কিন্তু ড্রাগ ধরুম না!” অসাধারণ লেগেছিল কথাগুলো। সত্যিই তো তাই! অ্যাডভেঞ্চারের জন্য কি মাদক ছাড়া আর কোন পথ নেই? আছে। অনেকই আছে। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে আমাদের পরিবার কি সেটা অ্যালাও করবে?

ওপরে বলেছিলাম, কিন্তু বাবামায়েরা চিন্তা করে তাদের সন্তানকে আক্রমণ করবে রোগ জীবাণু, তারা খেলতে গিয়ে হাত পা ভেঙ্গে ফেলবে, তারা বৃষ্টিকে আলিঙ্গন জ্বর হবে, শরীরে কুয়াশা মাখলে নিউমোনিয়া হবে। তাদের একমাত্র কাজ বাসায় বসে বসে পড়। বিনোদন দরকার? কম্পিউটার আছে না? গেমস খেল, ব্রাউজিং কর।

কিন্তু, যদি তাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হয় তবে সুস্থ বিনোদন ভিন্ন কোন পথ নেই। বাবামাকে একটা কথা বুঝতে হবে, সন্তান যদি বখে যেতে চায় তবে বাবা মায়ের সাধ্য নেই তাকে ঠেকাবে। তাই পরিবার থেকেই বাবা মায়ের সাথে সন্তানের একটা সম্পর্ক থাকতে হবে বন্ধুর মত। শুধু পড়াশোনার মধ্যে আটকে না রেখে একটা কিশোর গাইবে, খেলবে, কবিতা লিখবে, উপন্যাস পড়বে। মানুষকে ভালবাসবে। পৃথিবীকে ভালবাসবে। জীবনকে ভালবাসবে। নিজেকে ভালবাসবে।

একটি মাদকাসক্তহীন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এর কোন বিকল্প পথ নেই।

৯ thoughts on “একজন ঐশী, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাব্যবস্থা, আমাদের সমাজ এবং….

  1. “এডভেঞ্চার করতে মন চাইলে

    “এডভেঞ্চার করতে মন চাইলে এভারেস্টে উঠুম! স্কাইডাইভিং করুম! আর কিছু না পাইলে রাস্তায় নাইমা ইভ টিজার গো মাথা ফাটামু … কিন্তু ড্রাগ ধরুম না!”

    :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

    অই ছুটো বইনেরে কোটি কোটি স্যালুট… :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  2. দ্বিতীয়ত যা দায়ী তা হচ্ছে,

    দ্বিতীয়ত যা দায়ী তা হচ্ছে, উচ্চবিত্ত পরিবারে বাবামায়ের সন্তানকে অন্যদের থেকে দূরে রাখার প্রবণতা। নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত সমাজেও আজকাল যৌথ পরিবার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও সেখানে আত্মীয় স্বজন কিংবা পাড়া প্রতিবেশীর মাঝে খুব ভাল সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, যেটা থাকে তাদের সন্তানদের মাঝেও। কিন্তু, উচ্চবিত্ত বাবামায়েরা চিন্তা করে তাদের সন্তানকে আক্রমণ করবে রোগ জীবানু, তারা খেলতে গিয়ে হাত পা ভেঙ্গে ফেলবে, তারা বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হবে, শরীরে কুয়াশা মাখলে নিউমোনিয়া হবে। তাদের একমাত্র কাজ বাসায় বসে বসে পড়। বিনোদন দরকার? কম্পিউটার আছে না? গেমস খেল, ব্রাউজিং কর। কিন্তু, মানুষের মাঝে অন্য মানুষের সঙ্গ পাবার যে প্রত্যাশা সেটা পরিবার কিংবা পরিবারের পরিচিত-জনদের কাছ থেকে পায় না। সেটাই খুঁজে পেতে যায়, স্কুলের সবার কাছ থেকে।

    আমি এটাকেই প্রধান কারণ বলব।
    আমাদের মধ্যে এবং আমাদের বাবা-মায়ের মধ্যে অনেকটা গ্যাপ। আমি মনে করি যদি তারা আমাদের ঠিক মত সময় দিতে পারেন আমাদের বন্ধু হতে পারেন তবে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে ৫০%।

    একটা ছোট দৃষ্টান্ত-
    একটা ছেল এবং একটা মেয়ে বন্ধু হতেই পারে এটা অনেক বাবা-মা মেনে নেন না। তাই আমরা তাদের কাছ থেকে এই বন্ধুদের কথা লুকাই। অনেক সময় এই এদের ক্ষপ্পরে পড়ে অনেক অপরাধ সংগঠিত হয়।
    যদি আমাদের বাবা-মা এই গুলো মেনে নিত তবে অনেক অপরাধ ই করা হত না।

    1. আসলে আমাদের দেশে বাবামায়েরা
      আসলে আমাদের দেশে বাবামায়েরা সবকিছু নিজেদের মত করে চিন্তা করেন। তাই সন্তানদের বন্ধু হতে পারেন না। তাদের বন্ধু হতে হলে তাদের মত করে চিন্তা করতে হবে।

  3. ঐশীর কেসটা হিট খেয়েছে কারণ
    ঐশীর কেসটা হিট খেয়েছে কারণ ঐশী ইয়াবাখোর,বয়ফ্রেন্ড আছে,ইংরেজী মাধ্যমের ছাত্রী।তার উপর ঐশীর বাবা আবার পুলিশ কর্মকর্তা।গ্রামে-গঞ্জে কত ছেলে-মেয়ে পরিবারের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে তাও কিন্তু বিবেচ্য।
    ঐশী খুনী প্রমাণিত হলে যদি তার ফাঁসি হয় ,তবে ফেনীর ছাগলনাইয়ার মেয়েটিকে হত্যাকারী পিতা-মাতা-বোনের অপরাধ প্রমাণিত হলেও যেন তাদের ফাঁসি হয়।

    1. আমাদের মিডিয়া যে কতটা
      আমাদের মিডিয়া যে কতটা শহরকেন্দ্রীক তার এর চেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরণ বোধ হয় হতে পারে না। প্রেস ক্লাবের সামনে দশজন মানুষ দাড়িয়ে ভ্যা ভ্যা করলে সেটা নিয়ে রিপোর্ট হয়ে যায়। অথচ, পঞ্চগড় বা খাগড়াছড়িতে মানুষ খুন হলেও সেটা মিডিয়ায় আসে না।

  4. ঐশীকে আসলে বর্তমানে সমাজের
    ঐশীকে আসলে বর্তমানে সমাজের নৈতিক অবস্থানের ভয়ঙ্কর অবস্থানে দেখানো হচ্ছে। খুন বা হত্যা আমি কোনোভাবেই সমর্থকরছি না। তবে ঐশীর প্রতি আমি কয়েকটা যায়গায় সহমর্মিতা দেখাতে পারি।

    ঐশী হয়তো সুস্থ বিনোদনের সুযোগ হতে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা মধ্যবিত্ত রা নিজের জীবনের নানা প্রকার বিষয় হতে রসকস খুঁজে নিই। কিন্তু উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই রসকস বোধ টা নেই বললেই চলে। রোবোটিক কর্মকান্ডে উজ্জীবিত হয়ে এই উচ্চবিত্ত দুলালরাই সমাজের অধিকাংশ কিশোর অপরাধের জন্য দায়ী। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে তালাশ প্রোগ্রামে দেখলাম ঢাকায় প্রায় ৭৫% ছিনতাই অপরাধের সাথে জড়িত থাকে কিশোররা। যার মাঝে আবার ৭০% ঈ ধনীর দুলাল। তারা এইটা করছে কেন? কারণটা স্পষ্ট মনে হচ্ছে। হয়তো তাদের হাতখরচের তুলনায় ব্যয় বেশি কিংবা হাত খরচের টাকা বাবা মা ইচ্ছা করেই এলট করে না। এক্ষেত্রে দায়িত্ববান ক্ষমতাশীলদের ক্ষমতা জাহিরের অনুরোধ করা একান্ত কাম্য। আমরা সিলেবাসের যে গৎবাঁধা এক সূচির সাথে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছি সেটা আমাদের অবিভাবক দের বুঝে নিতে হবে। শিশুর ছোটবেলা থেকেই কায়িক এবং মানসিক খেলাধূলার সুযোগ করে দিতে হবে। এতে সে নিজে স্বাবলম্বি হতে শিখবে যেটা তার বাস্তব জীবন পরিচালনায় অন্যতম টার্ম রূপে কাজ করবে। আর প্রতিটি বাবা মাকে সিশুর মন বুঝে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাশ ঠাশ। আর ইংলিশ মিডিয়ামের ক্ষেত্রে আমার আপত্তি নেই। তবে বাংলা যেনে আর কি হবে যদি বাংলার সংস্কৃতিকে না জানে অথবা জেনেও অসম্মান করে। এক্ষেত্রেও অবিভাবকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    সবশেষে বলি, এই ঐশীই শেষ নয়। আরো অনেক ঐশী আসবে বা আসতে পারে। তাই এখন থেকে যদি সমাজের সব দায়িত্ববান সচেতন না হয়ে কেবল মানবিক অমানবিকতার বিশ্লেষণ করে সুশীল হয়ে যায় তাহলে পৃথিবী ঠিকই সূর্যের চারিদিকে ঘুরবে, আর সূর্য সহ সারা সৌরজগত আমাদের ঘাড়ে চেপে বসবে। আমরা পারবো তো সেই ভার বহন করতে????

    1. আমাদের শেকড়ের মাঝেই আমাদের
      আমাদের শেকড়ের মাঝেই আমাদের অস্তিত্ত্ব বিদ্যমান। তাকে ঝেড়ে ফেলে আমরা কোনদিনও টিকে থাকতে পারব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *