প্রথম জীবনে ঘরের বাহির

কোলকাতা নেমেই এত বড় জার্নির কথা প্রায় ভুলেই গেলাম।আমার সুনীলের,সমরেশের,সুচিত্রা, বুদ্ধদেব বসুর শহর।প্রথম যৌবনে আমার প্রেম ছিল বইয়ের সাথে।যেন আমি বইয়ের পোকা।সেই সময়, পূর্বপশ্চিম,কালবেলা, কালপুরুষ যেন সত্যি সত্যি আমাকে পুরুষে পরিনত করছে।ডুয়ারসের চা বাগান,শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি আর গঙ্গার ধার হয়ে উঠল আমার অজানা প্রেমিকা।যার বসবাস কলকাতায়।তাই অনেক স্বপ্নের মাঝে কোলকাতা ভ্রমন আমার জন্য অন্যরকম।
বন্ধু মাইকেল আর আমি দুজনেই খুব বই পড়ুয়া আর আমাদের জমেও সেইরকম।তাই মাইকেল আর আমি এই শহরে পা দিয়ে আমি যেন স্বর্গে নামলাম। এই শহর আর সাথে বন্ধু মাইকেল।

কোলকাতা নেমেই এত বড় জার্নির কথা প্রায় ভুলেই গেলাম।আমার সুনীলের,সমরেশের,সুচিত্রা, বুদ্ধদেব বসুর শহর।প্রথম যৌবনে আমার প্রেম ছিল বইয়ের সাথে।যেন আমি বইয়ের পোকা।সেই সময়, পূর্বপশ্চিম,কালবেলা, কালপুরুষ যেন সত্যি সত্যি আমাকে পুরুষে পরিনত করছে।ডুয়ারসের চা বাগান,শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি আর গঙ্গার ধার হয়ে উঠল আমার অজানা প্রেমিকা।যার বসবাস কলকাতায়।তাই অনেক স্বপ্নের মাঝে কোলকাতা ভ্রমন আমার জন্য অন্যরকম।
বন্ধু মাইকেল আর আমি দুজনেই খুব বই পড়ুয়া আর আমাদের জমেও সেইরকম।তাই মাইকেল আর আমি এই শহরে পা দিয়ে আমি যেন স্বর্গে নামলাম। এই শহর আর সাথে বন্ধু মাইকেল।
শুরু হল আমাদের প্রথম বিদেশ সফর।বাস থেকে নেমেই টের পেলাম ক্ষিদে পেট চু চু করছে।কাছেই একজনকে জিগ্যেস করলাম,দাদা খাবার হোটেল কোথায় পাই?আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ঐ যে কস্তরি।যাচাই বাচাই না করে রওয়ানা দিলাম।
মেনু দেখে মনে হল এমা এ যে সব বাঙ্গালী খাবার। দুজনে পেট ভরে খেয়ে নিলাম।পাশের গলিতেই একটি লজে উঠে পরলাম।বিকেলের নরম আলোয় বিছানা দেখেই আর দেরী করলাম না,টেঁসে ঘুম দিলাম।রাত্রি প্রায় ৩ টার দিকে একে একে দুজনে ঘুম থেকে উঠলাম।বেশ চনচনে লাগছে কিন্তু এমন সময় ঘুম ভাঙল যা না রাত না দিন।মাইকেল বলল, কিরে এখন কি করবি?বললাম চিন্তা করিস না প্রেমের শহরে সময়ের আর অসময়ের কি?বললাম নিচে চল,মাইকেল বলল এখন,আমি বললাম অবশ্যই, আমার আগ্রহ দেখে সে আর মানা করল না।নিচে নেমেই চা খুজতে শুরু করলাম ইতিউতি ঘুরে পেয়ে গেলাম।
কলকাতার রাস্তায় দাড়িয়ে চা খাচ্ছি সাথে সিগারেট।যেন স্বর্গ সুখ আমাদের কাছে ম্লান।হটাত মাইকেল বলল দেখ দেখ রিক্সা,মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম হাতে টানা রিক্সা তাই মাইকেল উত্তেজিত ভাবে বলছিল।ভাল লাগল বইয়ের ছবিগুলো আস্তে আস্তে ভেসে আসছে।এই হাতে টানা রিক্সা, টমটম,কফি হাউস এই সব আমাদের কল্পনায় আমাদের বুকে অনেক আপন হয়ে আছে।এই সবের প্রেমেই তো এখানে ছুটে আসা।ভোরের আলো ফুটে দিন হচ্ছে আর আমাদের ভাললাগা লম্বা হচ্ছে।লজে এসে সকালের নাস্তা সেরে নিলাম।আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছি দুজনে।
লবিতে এসে একজনকে বললাম দাদা আমরা দুজনে কোলকাতা ঘুরে দেখতে চাই?কোথায় কি আছে দয়া করে একটু বলবেন।লোকটি প্রায় বিরক্ত হয়ে বলল,এই শহরে আছে কি?কি দেখবেন?ভেবাচেকা খেয়ে উঠলাম কি বলে ফাজিলটা।মাইকেল বুঝতে পারল আমি রেগে যাচ্ছি।আমার সামনে কোলকাতার বদনাম।সে খুব স্মার্ট ভঙ্গিতে বলল, টিক আছে দাদা আমরা বের করে নিব।আর আমাকে বলল চল নিজেরাই খুজি।কথা না বাড়িয়ে চললাম দুজন।
আমি প্রথমেই বললাম দুস্ত আমি কিন্তু হাতেতানা রিক্সায় উঠব মাইকেল বলল,সে কি আর আমি জানি না।একজন কে পেয়ে গেলাম জিগ্যেস করলাম দাদা যাবেন?সে বলল কোথায়?এই রে এখন কি বলি,বললাম আসে পাশে সুন্দর জায়গা কি আছে?লোকটি একটু হেসে বলল,বাংলাদেশ থেকে এসেছেন বুঝি।বললাম জী দাদা।আমাদেরকে অভয় দিয়ে বলল উঠেন।কিছু না ভেবেই উটে পড়লাম।উঠার পর দুজনের খুব খারাপ লাগছিল আমাদের দুজনকে পায়ে হেঁটে টেনে নিচ্ছে প্রায় অমানবিক ব্যাপার।কি আর করা যে দেশে যে ভাব।চলছে রিক্সা আমরা চারপাশ দেখছি অনেক পুরাতন শহর।চাকচিক্য খুব একটা নেই কিন্তু আভিজাত্য টিক বুঝা যায়।কিছু টুকটাক আলাপ করছি আমরা, সাথে আমাদের গাইড রিক্সার বাহক তিনিও শেয়ার হচ্ছেন।
কেন এসেছি চিকিৎসা নাকি বেড়াতে?বলল আপনারা বরং আগে চলে যান কোলকাতার বাহিরে ফেরার পথে না হয় কোলকাতা দেখে যাবেন।মন্দ না যেহেতু আমাদের এইখান থেকেই ফিরতে হবে সেখানে এই প্রস্তাব খারাপ না।
মাইকেল বলল চল লম্বা একটি ট্রেন জার্নি দেই।আমি চিন্তা করে বললাম, হ্যাঁ দেয়া যায়।আমাদের রিক্সার বাহক বলল,চেন্নাই বা বেঙ্গালুরু চলে যান,সেখানের পরিবেশ আর মানুষজন খুব ভাল।অনেক কথায় কথায় রিক্সা থেমে গেল,বাহক বলল নামেন এই হচ্ছে নিউ মার্কেট ঘুরে দেখেন কিছু কিনতে পারেন অথবা দেখে আসলেন।নেমে দুজনে ভাড়া মিটিয়ে সামনে এগুলাম।মনে পড়ল আমাদের দেশের নিউ মার্কেটের কথা।কিছুটা মিল পাওয়া গেল সেটা হচ্ছে গেঞ্জাম শুধু ঢাকায় না কোলকাতাতেও চিত্র প্রায় একি।ঘুরে ফিরে কিছু কিনলাম আর বেশির ভাগ অবলোকনই করলাম।
মাইকেল তাড়া দিল চল এখন অন্য কোথাও যাই।এখান থেকে বের হয়ে একটি ট্যাক্সিকে জিগ্যেস করলাম পার্ক ষ্ট্রীট যাবে কি না।মাইকেল হাসল, কারন এই শব্দ আমাদের খুব চেনা জানা আবার খুব অচেনা।এখানের ট্যাক্সি খুব সহজে পাওয়া যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকা লাগে না বা খুব বেশি দর কষাকষি করা লাগে না।
পার্ক ষ্ট্রীট এসে নেমে পড়লাম।চোখের সামনে দিয়ে একটি ট্রাম চলে গেল আমাদেরকে ভাললাগার ছোঁয়া দিয়ে।এইত ট্রাম এইতো পার্ক ষ্ট্রীট।কত পড়েছি আর মনে মনে ছবি এঁকেছি,আজ তা চোখের সামনে,ভাল না লেগে কি পারে।তবে মুগ্ধতায় কিছু ভাটা পড়ল এখনকার ট্রাম আগের মত আভিজাত্য আর নেই জড়া অনেকটা ন্যুব্জ করেছে।সেই ব্রিটিশ আমলের ক্লান্তিহীন ট্রাম কতইবা আর চলবে।
দেখতে লাগলাম আমাদের প্রানের কোলকাতাকে………।

৫ thoughts on “প্রথম জীবনে ঘরের বাহির

  1. ধন্যবাদ সফিক ভাই ও শাহিন
    ধন্যবাদ সফিক ভাই ও শাহিন ভাই।বুঝতে পারছি লিখা আপনাদের পছন্দ হয়নি।আগামিতে ভালো করে লিখার চেষ্টা করব। :কানতেছি:

Leave a Reply to সাফ কথা Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *