শিশুর নৈতিকতা শিক্ষা এবং বাবা-মায়ের দায়

একটি শিশু জন্মের পর থেকে বেড়ে ওঠে তার বাবা-মা অর্থাৎ পরিবারের সান্যিধ্যে।পরিবার তার প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়।এখান থেকে সে নৈতিকতার শিক্ষা অর্জন করে।জীবনে কাজে লাগায় সেই শিক্ষা।আজকাল শিশুদের নৈতিকতার অভাব সবচেয়ে বেশি।কারণ রয়েছে বেশ কতগুলো।এর মাঝে প্রধান কারণ হয়ে উঠে এসেছে বাবা ও মায়ের অযত্ন,অবহেলা,ব্যস্ততা।দ্বিতীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় মোবাইল,কম্পিউটার,ইন্টারনেট,পর্ণোগ্রাফিকে।

একটি শিশু জন্মের পর থেকে বেড়ে ওঠে তার বাবা-মা অর্থাৎ পরিবারের সান্যিধ্যে।পরিবার তার প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়।এখান থেকে সে নৈতিকতার শিক্ষা অর্জন করে।জীবনে কাজে লাগায় সেই শিক্ষা।আজকাল শিশুদের নৈতিকতার অভাব সবচেয়ে বেশি।কারণ রয়েছে বেশ কতগুলো।এর মাঝে প্রধান কারণ হয়ে উঠে এসেছে বাবা ও মায়ের অযত্ন,অবহেলা,ব্যস্ততা।দ্বিতীয় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় মোবাইল,কম্পিউটার,ইন্টারনেট,পর্ণোগ্রাফিকে।
বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে ব্যর্থ হন।তারা দায়িত্ববোধ থেকে পিছিয়ে যান।তাদের ছেলেমেয়ের হাতে খুব অল্প বয়সে মোবাইল,ল্যাপটপ ধরিয়ে দিচ্ছেন।তাদের সন্তানেরা আবার সেই প্রযুক্তির অপব্যবহার শুরু করে।বাবা-মা জানেনও না তাদের সন্তানেরা কোন জগতে হারিয়ে যাচ্ছে।যত ব্যস্ততাই থাকুক সন্তানের সব খোঁজ খবর রাখার সম্পূর্ন দায় দায়িত্ব তাদের।নৈতিকতার শিক্ষা সন্তানেরা এসব কারণেই পায়না।একটু বড় হলেই আজকাল তারা মনে করে তাদের প্রাইভেসি বলতে কিছু একটা আছে,যেখানে বাবা-মায়ের নাক গলানো উচিত না।অনেক বাবা-মায়েরাও তাই মনে করেন।এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা।পরিবারের সবার মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরন বজায় থাকবে।সব ধরনের ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকতে হবে এবং সেই সুযোগ সবাইকে করে দিতে ও নিতে হবে।ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে।এক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই।এখনকার শিশুরা একটু বড় হলেই বন্ধুবান্ধব নিয়ে মহাব্যস্ত হয়ে পড়ে।বাবা-মায়ের হাতে সন্তানকে দেয়ার পর্যাপ্ত সময় থাকলেও এসব সন্তানদের কেবল বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ ভাল লাগে।অসৎ সঙ্গ তাদেরকে নিমেষে ধ্বংস করে,নেশার মত ভয়ংকর বস্তুর কাছে তারা আত্মসমর্পন করে।নেশাই এখন সকল অপরাধের উৎস।শিশুর কোন অঘটন ঘটে গেলে আমরা বাবা-মাকেই একশতভাগ দায়ী করি।কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারাই দায়ী।কিন্তু যে পরিবারে বাবা-মা তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পরও তাদের সন্তান বিপথে পা বাড়ায় তাদের জন্য দায়ী কে?সব দায় কি শুধু বাবা-মায়ের?নাকি সমাজব্যবস্থা,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিও সেই দায়টুকু কিছুটা বহন করবে?

১২ thoughts on “শিশুর নৈতিকতা শিক্ষা এবং বাবা-মায়ের দায়

  1. আরও বিশদভাবে লিখলে ভালো
    আরও বিশদভাবে লিখলে ভালো হত॥
    পরিবারের অবমূল্যায়নের কারনে অনেক সময় সন্তানরা পরিবারকে ঘৃণা করে॥

    1. এটুকু আপাতত মাথায়
      এটুকু আপাতত মাথায় ছিল।

      হুমম।পরিবারের ভুল হলে সন্তানদের সেটা করা স্বাভাবিক।

  2. আপু হঠাৎ সাহিত্য ছেড়ে সমাজ
    আপু হঠাৎ সাহিত্য ছেড়ে সমাজ ব্যবস্থায় হাত! কোন ছেলে পেলে কিছু বলেছে নাকি?

    যাই হোক আপু আপনি যেই বয়সের ছেলে মেয়ের কথা বলছেন আমি সেই বয়সের একজন ছেলে।
    তাই খুব ভাল ভাবেই আপনার কথা গুলো বুঝতে পারছি। এখন কিছু কথা বলব। বর্তমানে জয়েন্ট ফ্যমিলি কয়টা আছে বলবেন কি? খুবই কম। তাই আমরা এই বয়সের ছেলে – মেয়েরা পরিবার থেকে বিনোদন লাভের সুযোগ খুবই কম। এজন্যই এই তরুন প্রজন্ম ধাবিত হচ্ছে মোবাইল,কম্পিউটারের দিকে। এখান থেকেই আমরা সুখ নিচ্ছি।

    তার উপর আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় আমরা আমাদের মা বার যতটা আপন ঠিক তাদের থেকে ততটা দূরে। একজন মা বাবা যদি তার সন্তানের সাথে সকল বিষয়ে খোলা মেলা না হয় তবে কিন্তু সেই ছেলে মেয়ে গুলো বাবা মায়ের কাছ থেকে কথা লুকাবেই।

    আর এটা আপনাকে নির্দ্বিধায় স্বীকার করতেই হবে যে বর্তমান প্রজন্ম আপনাদের থেকে এডভান্স।

    এখন ক্লাস ৪-৫ এ পড়া ছাত্র – ছাত্রী sex সম্পর্কে গল্প করে। ক্লাস ৬ এ পড়া ছেলে – মেয়ে প্রেম করে।
    দিন দিন আরও এগিয়ে যাচ্ছে

  3. এখানে আসলে ছেলে মেয়ের কোনো
    এখানে আসলে ছেলে মেয়ের কোনো অপরাধ আছে বলে আমার মনে হয়না। আমরা দিন দিন জ্ঞান বিজ্ঞানের একটা উন্নত শাখায় প্রবেশ করছি। এখানে তাই যা কিছুই করতে হবে খোলাখুলি ভাবে করতে হবে। আমাদের অনেকের আব্বু আম্মুরা সাধারনত ছেলে মেয়ে এডাল্ট হয়েছে এটা মেনে নিতেই চায়না। যার ফলে সন্তান তার পার্সোনাল ফিলিংস গুলো বাবা মায়ের সাথে শেয়ার করতে পারছেনা যেগুলো উন্নত বিশ্বে স্পন্টেনিয়াসলি করা যায় এবং করা যাওয়া উচিত। তবে আমার মনে হয় বর্তমান যে প্রজন্ম চলছে সেটা অনেক বেশি ইনফ্লুয়েনশিয়াল এবং তাই আমরা ধরে নিতে পারি এসব অযাচিত মেকী ঋণাত্মকবোধ আর খুব বেশি দিন থাকবে না। আধুনিকতার প্রথম ধাপ হল দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন। যারা যত বেশি পজিটিভ তারাই পৃথিবীতে টিকে থাকে এবং রাজত্ব করে।

  4. লেখার শিরোনাম ও বিষয়বস্তু
    লেখার শিরোনাম ও বিষয়বস্তু ছিলো “শিশু” বিষয়ক। শিশু বলতে আমরা তাদেরকেই বুঝি যারা নাবালগ। (যদিও বলা হয় ১৮/১৬ বছরের নিচে সবাই শিশু!) কিন্তু শিশু শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সরলমতি কিছু প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চাদের ছবি! এদের কোন দোষ স্বয়ং বিধাতাও দেন না! সমস্যা যেগুলো আলোচনা করা হয়েছে- সেগুলো মূলতঃ কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীদের…
    এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে পরিবারের ভুমিকা আছে। একটা শিশুই তার পারিপার্শিক জগৎ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে কিশোর/তরুন হয়! কাজেই একটা কিশোরের আচরন কি হবে তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হয় তার শৈশবের ওপরই।
    বাবা-মায়েরা ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে না পাড়লেও সন্তানকে আদর্শবান করার জন্য ভাল বই, নাটক, সিনেমা, সমাজ কল্যানমূলক কর্মকান্ড ইত্যাদির সাথে সন্তানকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে! কারণ, ভাল-মন্দ বোঝার বয়স হবার আগে তো তাকে একটা মাপ-কাঠি দিয়ে দিতে হবে। এব্যাপারেও যদি বাবা-মা উদাসিন হয় তাহলে তার সন্তান বিপথে গেলে তার সম্পূর্ণ দায়ভারই অবশ্যই বাবা-মায়ের।
    তবে হ্যাঁ- “বাবা-মা আমাকে সময় দেয়নি বলে আমি খারাপ হয়েছি” এই যুক্তিও গ্রহণীয় নয়। বাবা-মা যদি ভাল আর মন্দের তফাৎ শিখিয়ে থাকে বা পরিবেশ থেকে শেখার ব্যাবস্থা করে দিয়ে থাকে তাহলে সেটা অনুসরন করাটাও অবশ্যই সন্তানের নিজের দায়িত্ব!

    1. আপনার কথাও ভুল নয় ভাই। কিন্তু
      আপনার কথাও ভুল নয় ভাই। কিন্তু ভাই সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।

      আপনি অনেক আগে এই সময় টি পাড় করে এসেছেন তো তাই জানেন না অনেক কিছুই।
      এখন ক্লাস ৫-৬ এ পড়ুয়া ছেলে – মেয়ে দের আলোচনার বিষয় sex এর মত বিষয়।

      আমাদের থেকেও তারা এগিয়ে।
      আপনি কম্পিউটার প্রথম চালিয়েছেন কোন ক্লাসে থাকতে? ইন্টারনেট প্রথম কোন ক্লাসে ব্যবহার করেছেন?
      আমি ক্লাস টু তে থাকা অবস্থায় maicrosoft office কপ্লিট করেছিলাম । কি বুঝলেন? (এখন অবশ্য গিলে খেয়ে ফেলেছি)

      1. ব্যাপারগুলো আমিও জানি…
        ব্যাপারগুলো আমিও জানি… কিন্তু আধুনিক সুযোগ সুবিধা কম্পিউটার-ইন্টারনেট আর যা-ই হোক শিশুর মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলে না যদি সতর্ক থাকা যায়!

        আমি সে কথাই বলেছি। বাবা-মায়েরাই যদি শিশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খেলতে দেয় তবে সেই শিশু হয় নিজের হাত-পা কাটবে নয়তো বাবা-মায়ের বুকে বসিয়ে দেবে!

        প্রযুক্তি বরাবরই ধারালো অস্ত্র! এর কার্যক্ষমতা যেমন বেশি তেমনি বিধ্বংসী ক্ষমতাও- এটা মনে রাখা জরুরী…

  5. সফিক,আপনার মন্তব্য ভাল
    সফিক,আপনার মন্তব্য ভাল লেগেছে।আগামী প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে হলে এটার কোন বিকল্প নেই।

    জয়,মাঝে মাঝে এসব বিষয়ে আলোচনা করা ভাল।অনেক কিছু জানা যায়।

    আসলে পরিবার থেকে সময় পাওয়া যায়না ওটা যেমন একটা কারণ । তেমনি বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ছেলেমেয়েগুলো ইন্টারনেটকে বেছে নেয় এটাও একটা কারণ।

  6. আরো একটু বিস্তারিত আলোচনার
    আরো একটু বিস্তারিত আলোচনার দরকার ছিল।আর আমি কখনোই আলাদাভাবে কারো উপর বা কোনো কিছুর উপর দায় চাপানোর কথা ভাবতে পারিনা।পুরো ঘটনাই হচ্ছে সমাজব্যবস্থার উপর।মানুষের চিন্তাভাবনার উপর।কোনো কিছুকেই নেগেটিভ ভাবে দেখার কিছু নেই।আমরা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।তাই পুরনো চিন্তাধারা ধরে রেখে লাভ নেই।আমাদের মুক্তমনা হতে হবে।সব কিছু সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।বাজে ঘটনাগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখে বা ঘটনাগুলোর জন্য কারো উপর দায় চাপিয়ে কোনো লাভ নেই।আমাদের উচিত বিষয়গুলো নিয়ে সকলের সাথেই খোলাখুলি আলোচনা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *