টুনি হালদার থেকে কাঙ্গালিনী সুফিয়াঃ এক হার না মানা শিল্পী।।

টুনি হালদার।।
জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬১ সালে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির অর্ন্তগত রামদিয়া গ্রামে।।
বাবার নাম- খোকন হালদার এবং মায়ের নাম- টুলু হালদার।।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রাম্য একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।।
১৫ বছর বয়সে “সুধির হালদার” নামক একজন বাউলের সাথে তাঁর বিয়ে হয়।। কিন্তু স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।।


টুনি হালদার।।
জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬১ সালে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির অর্ন্তগত রামদিয়া গ্রামে।।
বাবার নাম- খোকন হালদার এবং মায়ের নাম- টুলু হালদার।।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রাম্য একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।।
১৫ বছর বয়সে “সুধির হালদার” নামক একজন বাউলের সাথে তাঁর বিয়ে হয়।। কিন্তু স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।।

স্বাধীনতা যুদ্ধের ৭ বছর পর ১৭৭৮ সালে টুনি হালদার উস্তাদ হালিম বয়াতির শিস্যত্ব গ্রহন করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে ‘টুনি হালদার’ নাম পরিবর্তন করে ‘সুফিয়া খাতুন’ নাম ধারণ করেন।। এরপর তিনি ফরিদপুর জেলার প্রখ্যাত বয়াতি এনায়েত আলী’র কাছেও গান চর্চা করেন।।

সুফিয়া খাতুন বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তৎকালীন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ডি.জি. জনাব মুস্তফা মনোয়ার তাকে কাঙ্গালিনী উপাধি প্রদান করেন।। সেই থেকে সুফিয়া খাতুন সারা বাংলাদেশে কাঙ্গালিনী সুফিয়া নামে পরিচিত হোন।।

তার দ্বিতীয় স্বামী বাউল সেকম একজন দোতরা বাদক।।

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল- তিনি উপস্থিত (Instant) গান রচনা করেন, সুর করেন এবং পরিবেশন করেন।। গান তৈরি ও পরিবেশনের জন্য তাঁর কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না।। অন্যান্য ফোক বা লোকসঙ্গীত শিল্পীদের হতে এটি হচ্ছে উনার প্রধান ব্যতিক্রম।।

কাঙ্গালিনী সুফিয়া ইংল্যান্ড, দক্ষিন কোরিয়া, কাতার, ইটালি, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, চিন ও ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গান পরিবেশন করেছেন।। সঙ্গীতে তিনি এযাবৎ প্রায় ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার লাভ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করেছেন।।

তাঁর সৃষ্ট ও পরিবেশিত বিখ্যাত কয়েকটি গান- ‘কোন বা পথে নিতাই গঞ্জে যাই’, ‘পরাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারনে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’ ইত্যাদি।। মূলত কাঙ্গালিনী সুফিয়া পাঁচ (৫) সদস্য বিশিষ্ট একটি দল নিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।। এই দলের অন্যান্যরা হলেন- বাউল জাহাঙ্গির, বাউল মান্দের ফকীর, পুষ্প (বোন), চুমকী কাঙ্গালিনী (বড় মেয়ে)।।

গানের পাশাপাশি কাঙ্গালিনী সুফিয়া অভিনয়েও দক্ষ।। তিনি এপর্যন্ত কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন।। বিশ বছর আগে তিনি ‘দেয়াল‘ নামক নাটকে অভিনয় করেছিলেন।। গতবছর তিনি অভিনয় করেন ‘নোনাজলের গল্প‘ নাটকে।। মে দিবস উপলক্ষে নাটকটি বিটিভিতে প্রচার করা হয়।। কাঙালিনী সুফিয়ার ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে‘ গানটি অবলম্বনে নোনাজলের গল্প নাটকটি নির্মিত হয়েছিল।। এতে প্রধান চরিত্র একজন বাউলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া।। এ নাটকে আরো অভিনয় করেছিলেন নূপুর ইসলাম, এস এম মোহসিন প্রমুখ।।

কাঙ্গালিনী সুফিয়া বর্তমানে খুবই অসুস্থ।। তিনি চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন।। তাঁকে এককালীন ৫০,০০০/- টাকা এবং চিকিৎসাভাতা হিসেবে মাসে ৫,০০০/-টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী।। কাঙ্গালিনী সুফিয়া প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এসে এই চেক নেন।।

আমাদের দেশের অনেক অনেক সম্পদের মাঝে কাঙ্গালিনী সুফিয়া একজন সম্পদ।। কিন্তু দুঃক্ষের কথা হচ্ছে আমরা আমাদের সম্পদের মূল্য দিতে জানি না।। এদেশের মানুষ গুণীদের সম্মান ঠিক ভাবে দেয় না।। তারপরও অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী মানুষ বার বার এদেশে জন্মান।। আমরা শুধু পারি মৃত্যুর পর তাদের নিয়ে শোক করতে আর বলতে “আহা! বড় ভালো মানুষ ছিল।।” এর বেশি কখনোই আমরা কিছু করি না।। জীবদ্দশায় তারা যতই দুঃক্ষ কষ্টে থাকুক আমরা কোন গুরুত্বই দেই না।। কিন্তু তাদের মৃত্যুর পর শহীদ মিনারে রক্ষিত তাদের মরদেহে ফুল দিতে যাওয়া মানুষের অভাব হয় না।। চিকিৎসার অভাবে কত জ্ঞানী-গুণী মানুষ মৃত্যুবরণ করছে।। কিন্তু তারা মারা যাওয়ার পর আমাদের হুশ হয়।। মৃত্যুর পর তাদের দেবতা বানিয়ে পূজা করি কিন্তু জীবদ্দশায় তাদের সামান্যতম সাহায্যটুকু করতে আমাদের হাত কাঁপে।।

কাঙ্গালিনী সুফিয়ার মতো অসম্ভব প্রতিভাবান শিল্পীর জন্ম বার বার হয় না।। আশা করি তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।। আর মাতিয়ে রাখুন তাঁর হাজারো গানে।।

৬ thoughts on “টুনি হালদার থেকে কাঙ্গালিনী সুফিয়াঃ এক হার না মানা শিল্পী।।

  1. কাঙ্গালিনী সুফিয়ার মতো
    কাঙ্গালিনী সুফিয়ার মতো অসম্ভবপ্রতিভাবান শিল্পীর জন্ম বার বার হয় না।। আশা করি তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।
    – এই কামনা আমিও করছি ।

    বরন্য এই শিল্পির জন্য একটি পোস্ট লিখার জন্য আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ ।

  2. একের পর এক গুণী শিল্পীদের
    একের পর এক গুণী শিল্পীদের হারিয়ে আমরা বেসামাল হয়ে যাচ্ছি। কামনা করি কাঙালিনী সুফিয়া দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবেন। পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

    1. মন্তব্যের জন্যেও ধন্যবাদ
      মন্তব্যের জন্যেও ধন্যবাদ ভাই।। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      আপনার কথার সাথে সহমত।। :খুশি: :খুশি: :খুশি:
      কিন্তু এরপরেও আমাদের মাঝে কোন পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি না।। :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *