এক মাস্তানের ভালবাসার গল্প পর্ব ৩

জমির ভাই জড়সড় হয়ে বসে আছেন।তার পাশেতুলি বসে আছে।তুলিকে আজ যথেষ্ট রুপবতী লাগছে।বিয়ের দিন মেয়েদের সন্দর্য অনেকাংশে বেড়ে যায়।তুলি আর জমির ভাই কাজি অফিসে এসেছেন বিয়ে করতে। তুলির বাবা আজগর সাহেব জমিরকে পাত্র হিসেবে পছন্দ করেন নি। একজন মাস্তানকে কেউ জামায় হিসবে মেনে নিতে চায় না।তাই তারা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুদ্ধিটা জমির ভাইয়ের না তুলির। তুলির বুদ্ধিতে এমনতিই করতে হচ্ছে। তুলি জানে জমির ভাই এখন আর মাস্তানটি নেয়।কিন্তু তার বাবা তা বুঝছেন না, তবে বুঝবেন তুলির বাবার একটি সমস্যা আছে উনি সব কিছু একটু দেরিতে বুঝেন।তুলি চাইলে অপেক্ষা করতে পার্ত কিন্তু জমির ভাইকে হারানোর ভয়ে করেনি। সে জানে তার বাবা তাদের কোনো এক সময় মেনে নিবে। তুলি ঠিক করেছে যখন তাদের বাবু হবে তখন তাদের নিয়ে বাবার কাছে গিয়ে সরি বলবে।তুলি জানে তার বাবা মেয়ের উপর রাগ করলেও নাতি/নাতনির উপর রাগ করে থাকতে পারবেন না

জমির ভাইয়ের আজ হাঁটু কাঁপছে তুলিকে যেদিন প্রথমে দেখেছিল সেদিনের মতো।সাথে একটু লজ্জাও পাচ্ছেন কাজি বেটার উপর জিদ উটছে এক জায়গায় গিয়েছে বিয়ে করাতে এখন আসেনি।সামনে থাকলে বেটার কানের নিচে দুটো আলতো ছুঁয়া দিয়ে জিগেশ করতো।জমির ভাইয়ের হাত ব্যাথা করছে।কতক্ষণ রুমাল মুখে দিয়ে থাকা যায় ?তাকে কেউ বলেনি তবু তিনি কেনো মুখে রুমাল দিয়ে রেখেছেন বুঝছেননা

– এখানে কি গন্ধ বের হচ্ছে ?
– না
– তোমার লজ্জা লাগছে ?
– না
– তোমার সর্দি হয়েছে?
– না
– তাহলে আবুলের মতো নাকে রুমাল দিয়ে আছো কেন ? বিয়ের দিন রুমাল দিয়ে কেউ নাক টিপে ধরে ? গাধা

জমির ভাই লজ্জা পেয়ে নাক থেকে রুমাল সরালেন

কাজি বেটা এসেছে।খাতা বের করে কি সব লিখছেন।জমির ভাইয়ের শাংগু দুলাল আর তার বন্ধু দাড়িয়ে আছে।বিয়ের দিন স্বাক্ষী প্রয়োজন তারা স্বাক্ষী হয়ে এসেছে।কাজি বেটার লিখা শেষ। মুখে কি সব বলেছে জমির ভাই লাস্টের ” বলুন কবুল ” কথাটি ছাড়া কিছু শুনেন নি। তিনি কাজির দিকে তাকিয়ে এক নিশ্বাসে বললেন

– কবুল , কবুল , কবুল , কবুল

বলে তিনি লজ্জা পেলেন। মানুষ তিনবার কবুল বলে জমির ভাই ৪ বার বলেছেন।

জমির ভাইয়ের কান্ড দেখে তুলি হাসছে।বিয়ের দিন মেয়েদের কাদার কথা কিন্তু তুলি হাসছে। ভালবাসার মানুষকে কাছে পেলে সব মেয়েরা হাসে কেউ মনে মনে হাসে আর কেউ তুলির মতো করে মন খুলে হাসে ।তুলির হাসি দেখে অন্যরা হেসে দিলো শুধু জমির ভাই হাসছেন না তিনি বোকার মতো সবার হাসি দেখছেন

জমির ভাই তার রুমের বাহিরে দাড়িয়ে মনে মনে দুয়া ইউনুস তিলোয়াত করছেন।সাধারনত কেউ বিপদে পরলে দুয়া ইউনুস পরে জমির ভাই কেনো পড়ছেন তার জানা নেয়।শাংগু দুলাল তার অবাক হয়ে দেখছে তার বিশ্বাস হচ্ছে না যার বিয়ে হয়েছে সে জমির ভাই ?

– ভাইজান আপনি কি ভয় পাইতেছেন ?
– হও
– কেন
– জানি না
– ধুর , আইজ বিয়া একটু পর বাসর রাইত আপনি ভয় পাইলে তুলি ভাবিত মাইন্ড খাইব। পরে রাগ কইরা বাপের বাড়ি যাইবোগা
– আমি কি ভিতরে যামু ?
– অবশ্যই যাবেন ?
– মালটা দে
– মাল দিয়া কি ভাবিরে গুলি করবেন ?
– না , ভয় লাগতেছে থাকলে সাহস পামু
– আরে ধুর যানতো

জমির ভাই তার খাটে বসে আছেন।রুমে ঢুকে তুলিকে দেখেন নি বধয় ওয়াশ রুমে গিয়েছে তাই চুপ করে বসে আছেন আর তুলির অপেক্ষা করছেন।বাসর রাতে খাটে মেয়েরা অপেক্ষা করে ছেলেদের জন্য।জমির ভাই কেনো বসে আছেন তার জানা নেই

তুলি ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে ড্রেসিং টেবিলে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে আর মিত মিত করে হাসছে জমির ভাইকে দেখে।তার মুখে এখন রুমাল দেয়া।নববধূর মতো রুমাল মুখে দিয়ে বসে আছে

– তুমি কি আমাকে দেখে লজ্জা পাচ্ছো ?
– না তো
– তাহলে মুখ থেকে রুমাল নামাও
জমির ভাই আবার লজ্জা পেয়ে রুমাল নামালেন
– একটা কথা বলব রাখবে ?
– বলো , অবশ্যই রাখব
– আজ থেকে মাস্তানি করবে না
– আচ্ছা
– এখন থেকে ভালো ভাবে থাকবে
– আচ্ছা
– তুমি কিন্তু আমাকে এখন আই লাভ ইউ বলনি

তুলি ভেবে ছিলো জমির ভাই তাকে আই লাভ ইউ বলবে কিন্তু বলেন নিই।তিনি কাঁদছেন। ফুপিয়ে ফুপিয়ে বাবুদের মতো কাঁদছে।বিয়ের সময় মেয়েরা কাঁদে ,বরকে কাঁদতে আজ প্রথম দেখলো। দীর্ঘ শ্বাস ফেলল তুলি এই গাধাকে নিয়ে তাকে সংসার করতে হবে ……..
পুঞ্চক : যতদিন পর্যন্ত জমির ভাইয়ের ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিতে পার্বন না ততদিন এই গল্প
চলবে

২ thoughts on “এক মাস্তানের ভালবাসার গল্প পর্ব ৩

  1. পুঞ্চক : যতদিন পর্যন্ত জমির

    পুঞ্চক : যতদিন পর্যন্ত জমির ভাইয়ের ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিতে পার্বন না ততদিন এই গল্প
    চলবে

    চলুক চরম মজা পাইতেছি।
    ভাই হিন্দি সিরিয়ালের যুগে এই টা যদি বাংলা টেলি ভিশনে দেয়া যায় চরম হিট খাবে। অনেক টা আরমান ভাই টাইপ।

    চরম লাগছে রে ভাই চরম লাগছে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *