রায় দিলেই হরতাল!!! জনতা না জাগলে এই বিচার হবে বানচাল।

সকাল থেকেই ঘুম ঘুম চোখে অফিসিয়াল কাজ সেরে বাসায় ফেরার পথে দেখি মাথায় হলুদ কাপড় বাধা কিছু ছেলে লয়েল রোড দিয়ে গাড়ী ঢুকতে দিচ্ছে না,ব্যাপার কি সেটা জানতে পারলাম না যেহেতু রিক্সায় ছিলাম পরে এলাকায় ঢুকতেই দেখি এলাকার এক লোক সাদা কাপড় একটা মাথায় বেঁধে ঠাট্টার ছলে বলছে “দেখছো মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধলাম,বিচার দিলেই নেমে পড়বো….”
ব্যাপার কি বুঝতে পারি নাই,তাই বাসায় চলে এলাম এসেই অনলাইনে ঢুকে পত্রিকা পড়া শুরু করলাম এরপর সব বুঝলাম।তো এবার সেদিকেই যাই।

আগামীকাল রায় হবে…কাদের মোল্লার রায়।আমরা দেখেছি বাচ্চুর রায় হয়েছিলো কিন্তু জামায়াত এতোটা সিরিয়াস হয় নাই তাহলে কাদের মোল্লার সময় কেন হচ্ছে? সহজ উত্তর বাচ্চুর রায়ে তারা যদিও নাখোশ কিন্তু সে দেশে না থাকাতে তাদের অত ভাবনা নাই উক্ত নেতার প্রতি তবে কাদের মোল্লা যেহেতু দেশে তাহলে তার রায় হওয়া মানেই যেকোন মুহুর্তেই ঝুলে যেতে পারে তাদের নেতা।তার উপরে কাদের মোল্লা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যার ফলে জামায়াতের উপর একটা চাপ সহজেই এসে যাবে।যার ফলে আগামীতে জামায়াতের রাজনীতি হিযবুত তাহরীর মতো আইন করে নিষিদ্ধ করা সহজতর হয়ে যেতে পারে।

তো আসেন আগামীকাল যার রায় হবে তার কিছু কথা জেনে নেই,পরে অতটা ইন্টারেস্ট নাও থাকতে পারে তার ব্যাপারে জানতে।তার পরিচিতি হিসেবে জানতে পারলাম সে ফরিদপুরের আমিরাবাদ গ্রামে ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহন করে এবং ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করে।কলেজে পড়াশোনাকালীন সময়েই সে ছাত্রসংঘে যোগ দেয় এবং সেই ছাত্রসংঘের সদস্য নিয়ে গড়ে তোলে আলবদর বাহিনী।একাত্তরে সে তার নারকীয় কর্মযজ্ঞ চালায় মিরপুরে এবং সেখানে সে কসাই নামে ভালো পরিচিত ছিল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মিরপুরে গণহত্যার দায়ে ১৩ জুলাই ২০১০ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।তার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ আনা হয় সেসবের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেক্টরে হযরত আলী ও তার পরিবার হত্যা এবং তার ১১ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণ,২৯ মার্চ বিকেলে মিরপুরের ১০ নম্বর সেকশনে সাংবাদিক খন্দকার আবু তালেবকে জবাই করে হত্যা, ২৪ এপ্রিল মিরপুরের আলোকদি গ্রামের ৩৪৪ জন সহ কবি মেহেরুন্নিসা হত্যা,তার নির্দেশে পাঁচ এপ্রিল মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে হত্যা,,২৫ নভেম্বর সকালে কেরাণিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সহ নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা।এই সকল অপরাধের সময় সে তার বাহিনী নিয়েই হামলে পড়ে নৃশংসভাবে।

বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্যপ্রমান ও খবর উঠে আসলেও আদালতে আব্দুল কাদের মোল্লা বলতে থাকে উদ্ভট সব তথ্য,বিচারচলাকালীন সময়ে আদালতে সে তার নিজের হয়েই সাফাই সাক্ষী দেয় এবং সেখানে সে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ফুটিয়ে তোলে।তার ভাষ্যমতে ১২ মার্চ সে ঢাকা ছেড়ে নিজের গ্রামে ফেরত যায় এবং মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় সেখানেই থাকে।পুরোটা লেখার ইচ্ছে নেই তাই বাকীটা পড়ুন এখানে

অথচ এই মুক্তিযুদ্ধের টেরেন্নিং নেয়া আব্দুল কাদের মোল্লা ওরফে কসাই কাদের কি সোন্দর করে বলেছে বাংলাদেশ হয়েছে বলে অনেকের মাতব্বরি বেড়ে গেছে। এখন কি বুঝবো আমি বা আপনি? একজন মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেয়া লোক কি এই ধরনের কথা বলতে পারে? যদি নাই পারে তাহলে আদালতে দেয়া তার সাক্ষী বা জবান কি মিথ্যা নয়? আমরা সিনেমাতে দেখেছি যখনই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় কাউকে তখন তারে কিছু একটা ধরিয়ে শপথ করায় “যাহা বলিব সত্য বলিব সত্য বই মিথ্যা বলিব না” এখন ধরে নেই সেই বইটি পবিত্র কুরান,তাইলে আব্দুল কাদের মোল্লা কি কুরান ছুয়ে মিথ্যা বলল না? তাইলে এর ইসলাম প্রীতি কেমন তা কি আমরা বুঝতে পারছি না?

এবার আসি তার বিচার এবং রায় নিয়ে জামায়াতের কর্ম কান্ডের ভুমিকায়।
আজ তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছে এবং সেখানে তারা এই ট্রাইব্যুনালকে অবৈধ বলে আবারো দাবী করেছে অথচ এই ট্রাইব্যুনালকে অবৈধ বলে দাবী করা যাবে না বলে আদালত থেকেই নির্দেশ জারী করা হয়েছে এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে তারা আইনকে কতটুকু শ্রদ্ধা করে।
যখন থেকেই এই সকল ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্য শুরু হয়েছে তখন থেকেই জামায়াত-শিবির গংরা নানাভাবে নানা পন্থায় চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে এই বিচারকার্য বানচাল করার জন্য।এসবের প্রমান এখানে তুলে ধরার প্রয়োজন মনে করছি না কেননা আমরা সকলেই তা দেখে আসছি তারা দেশে কিরকম অত্যাচার করছে।গোটা কতক ঘৃণিত অপরাধীর জন্য সারাদেশের সাধারন জনগোষ্ঠীকে দফায় দফায় হরতালের নামে অবরুদ্ধ করে দিচ্ছে,ভাংচুর করছে,জ্বালাও পোড়াও করছে অথচ এরাই আবার ইসলামের ধারক ও বাহক বলে নিজেদের দাবী করে।চট্টগ্রামের সমাবেশে প্রকাশ্যেই তারা হুমকি দেয় এই বিচার কিনবা রায় প্রদান যদি বন্ধ না হয় তাহলে তারা চট্টগ্রামকে অচল করে দিবে,প্রশ্ন করি আপনার বিবেকের কাছে এই হুমকির মানে কি? এইসবের জন্যই কি ১৯৭১ এ লাখো জীবন ও ইজ্জত বিসর্জন দিয়েছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষরা? নাকি এইসবের বিরুদ্ধে মুক্তভাবে জীবন যাপনের জন্য বিসর্জন দিয়েছিলেন তারা?
আবার দেখুন কতবড় মিথ্যাচার তারা করেছে প্রকাশ্য সমাবেশেই তারা বলছে

সমাবেশে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, `আমি সংসদ সদস্য ছিলাম। আমি যতটুকু জানি, যতটুকু সংবিধান পড়েছি তাতে আমি বলছি, এ ট্রাইব্যুনাল সংবিধান অনুসারে সম্পূর্ণরুপে অবৈধ। ইসলাম নিশ্চিহ্ন করতে হিন্দুস্থানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে শেখ হাসিনা এ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছেন।`

মানুষকে ধোকা দিতে সেই একাত্তর থেকেই ধর্মের দোহাই দিয়েই আসছে তারা।হাসিনা যদি হিন্দুস্থান কায়েম করতে চায় তাহলে তাদের নেত্রী খালেদা ম্যাডাম কি করতে ভারত গিয়েছিলেন এই প্রশ্নের উত্তর কি এই সাংসদের কাছে আছে?
তবে এই সমাবেশেই বিএনপির জন্য একটি ইঙ্গিত তারা দিয়ে দিয়েছে

বক্তব্যের এক পর্যায়ে শাহজাহান চৌধুরী বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দিতে থাকলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা চীৎকার করে বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন।

কি বুঝা যায় এর থেকে? আগামীতে এই জামাতই বিএনপিকে ছুড়ে ফেলে দিবে আজ তারা যে বিএনপির বলে বলীয়ান হয়ে লাফাচ্ছে আর তখন এই বিএনপিকেই এদিক সেদিক হয়েই ঘুরতে হবে।

সমাবেশ জুড়ে বিভিন্ন ধরনের হুংকার ছাড়লেও কর্মসূচী শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক কর্মীর মোটর সাইকেলে চড়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীকে।

একদম হাসবেন না কিন্তু এই বলে রাখলাম।
আগামীকাল রায় হবে আর এইদিনেই তারা হরতাল ডাক দিলো,পাছা বাচানো আমজনতা পাছা মারা যাবার ভয়ে এই হালকা শীতে খেতার তলে পাছা দুইহাত দিয়ে আরাম করেই ঘুমাবেন আর হরতাল পালন করবেন এটা আমরা দেখেই আসছি,কিন্তু একবার ভেবেছেন দশ বছর ধরে যারা সাধনা করে আসছে একটি সার্টিফিকেটের জন্য তাদের কি হবে? আফসোস এইসব নিয়ে কেউ ভাবে না অথচ ছাত্র আন্দোলনের নামে নানা বুলি আওড়ায় বিভিন্ন দল,তারা দাবী করে শিক্ষার সুযোগের জন্য তাও আবার নানামুখী সুবিধা কিন্তু তারা এইসব নিয়ে দাবী করে না বা তোলে না,নির্বিঘ্নে এস.এস.সি বা অন্যকোন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ কি রাজনৈতিক ব্যাপার? আবার এও হুমকি দিয়েছে তারা আগামীকাল যদি রায় দেয়া হয় তাহলে লাগাতার হরতাল দেয়া হবে,আবারো ভাবুন শিক্ষার্থীদের কি হবে? দশ দশটি বছরের স্বপ্নের কি হবে?
বিগত কয়েকদিনের হরতাল ও আন্দোলনের নামে এই জামায়াত শিবির কি করতে চেয়েছে তা আমরা অনেকেই দেখেছি,আন্দোলনের নামে ভাংচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি শুধু তারা ব্যাঙ্ক লুটের চেষ্টাও করেছে এবং যেটিকে আমরা গৃহযুদ্ধের ইঙ্গিত হিসেবে ধরেছিলাম এবং ঢাকায় আজকের সমাবেশে তাদের মুখ থেকে আবারো সেটি ফুটে এলো

বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হলে দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধবে।

আরো কয়টি কথা না লিখে পারছি না,দেশে যখন ছাত্রলীগ তান্ডব চালায় তখন একটি মহল ম্যাতকার করে উঠে কিন্তু যখন জামাত-শিবির দেশে চরম অরাজকতা চালায় তখন তারাই বলে আইন শৃঙ্খলার অবনতি তারা কিন্তু তখন বলে না জামাত-শিবির সন্ত্রাসী সংগঠন,বিভিন্ন চ্যানেলেও কিন্তু কোন ঠক শো হয়না সেসবের প্রতিবাদে।

আশা করি অনলাইন এক্টিভিস্টদের এতো কিছু বিশদভাবে বলার দরকার নেই কেননা আমরা সকলেই বেশ ভালোই আপডেটেড থাকি সবসময়,তবে আশা করবো সময় হয়ে এসেছে দেশকে এই অস্থিরতা থেকে বাচানোর স্বাধীনতার মান রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সচেতন নাগরিকদের।ইস্টিশনের প্ল্যাটফর্মের যাত্রীদের বলব আওয়াজ তুলুন এই অপশক্তির বিরুদ্ধে।

জয় বাংলা।

৭ thoughts on “রায় দিলেই হরতাল!!! জনতা না জাগলে এই বিচার হবে বানচাল।

    1. ঝামা দিয়া এই সকল খাপোর দল
      ঝামা দিয়া এই সকল খাপোর দল জামাত-শিবিরকে বাইরাইলে কি অয়? ভাবতাসি ড্রাইভিং শিখুম আর হরতালের সময় বাসে চড়ুম তাইলে যদি সুযোগে পাই বাস চালাইয়া মাঝ বরাবর যামু গা।

  1. শুয়োরের বাচ্চা কাদের
    শুয়োরের বাচ্চা কাদের রাজাকারের জন্য হরতাল কি মানা যায়? একজন অপরাধীর পক্ষের লোকজন অনৈতিকভাবে আমাদের উপর একটা হরতাল চাপিয়ে দেবে, আর আমরা কাপুরুষের মত তা মেনে নেব? …. হায়রে বাঙালী! আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, এই ভীতু বাঙালী মাত্র নয় মাসে একটা বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই জয়ী হয়েছিল।

    বন্ধুরা কাপুরুষের মত বেঁচে থেকে লাভ কি? এই দেশটাকে আমাদের বাসযোগ্য যারা করে দিয়েছে নিঃস্বার্থভাবে, তাদের ভীরুত্বের মশাল জ্বালিয়ে নিয়ে আমরা সবাই আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া এই হরতাল প্রতিরোধ করি। সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে একসাথে আগামীকালের হরতাল প্রতিরোধ করি।

  2. দুঃখের বিষয়, বাঙ্গালী
    দুঃখের বিষয়, বাঙ্গালী ছাত্রলীগের কুপাকুপিরে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ হিসেবে দেখলেও জামাত শিবিরের কুপাকুপিরে দৈনন্দিন জীবনের অংশ মনে করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *