ঢাকা টু চিটাগাং – একটি নতুন মোড় (প্রায় একমাস পর ইস্টিশনে লিখলাম , আশা করি ভুলে যাননি :))

রাত ১১টা ।

সোহাগ বাস কাউন্টারে এসে পৌঁছলাম । সাড়ে ১১টার বাসে চট্টগ্রাম যাব । ভার্সিটি বন্ধ , তাই বন্ধুরা মিলে একসাথে কক্সবাজার যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । প্রথমে চট্টগ্রামে এক বন্ধুর বাড়ি গিয়ে উঠবো , সেখান থেকে সোজা বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত ।


রাত ১১টা ।

সোহাগ বাস কাউন্টারে এসে পৌঁছলাম । সাড়ে ১১টার বাসে চট্টগ্রাম যাব । ভার্সিটি বন্ধ , তাই বন্ধুরা মিলে একসাথে কক্সবাজার যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । প্রথমে চট্টগ্রামে এক বন্ধুর বাড়ি গিয়ে উঠবো , সেখান থেকে সোজা বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত ।

কাউন্টারে গিয়ে প্রথমে রাত সাড়ে ১১টার বাসের টিকেট কাটলাম । তারপর ব্যাগ , গিটার নিয়ে খালি একটা সিটে পা ছড়িয়ে বসলাম । সময় যেন খুব ধীরে ধীরে পার হচ্ছে , যেন এ বিশ মিনিটে কত ঘটনা ঘটে যাবে ! বসে বসে চারপাশের পরিবেশটা দেখতে দেখতে লাগলাম । এসব জায়গায় অনেক বিচিত্র জিনিস দেখা যায় , আমিও দেখলাম । এক মহিলা তার ছেলেকে জোর করে কিছু খাওয়াল আর সাথে সাথে সে বমির মাধ্যমে সব উদগিরণ করে দিল । বুঝলাম ছোটদের জোর করে খাওয়ালে এমনি হয় , তখনি বিটিভিতে জনসচেতনামূলক বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ল । বিজ্ঞাপনের বক্তব্য ছিল , ‘শিশুদের জোর করে খাওয়াবেন না । ধৈর্য ধরে খাওয়ান ।’

কিন্তু তখনো আমার জন্য একটি চমক অপেক্ষা করছিল । ঠিক চমক নয় , অপ্রস্তুত হবার মতো একটি ঘটনা । ঠিক ঘটনা বললেও ভুল হবে । আমি বসেছিলাম কাউন্টারের এক কোনার সিটে , পাশে উল্টো করে ঘুরানো তিন – চারটি সিট ছিল যার দুইটিতে দুইজন নারী বসা । দুইজন নারী বসে আছে , এটি কোন বিষয় না । বিষয় হল তাদের মধ্যে একজন সরাসরি আমার দিকে তাকিয়ে আছে এবং অপরজন প্রথমে তাকে এবং পরে আমাকে দেখছে । একজন ব্যক্তি আপনার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে অনেকক্ষণ ধরে , বিষয়টি অস্বস্তিকর বটে । তাও আবার একজন রমণী । বাপরে !! আমি ইতস্তত করে আশেপাশে তাকাতে থাকলাম , মেয়েটির দিকে তাকানোর সাহস পেলাম না । একটু পর বাস চলে এলো , আমি সব ভুলে বাসে গিয়ে উঠলাম । বসলাম বাইরের দিকে কারণ জানালার পাশের সিট আরেকজন দখল করে নিয়েছে । দেখলাম সেই মেয়ে দুইটিও একই বাসের যাত্রী । ভালোই তো !! আমি চুপচাপ বসে থাকলাম, বাস ছাড়বে এক্ষুনি । পরক্ষনেই পিছন থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুরে তাকালাম । একদম পিছনের সিট বৃষ্টির পানিতে ভেজা , তা নিয়ে বাসের সুপারভাইজারের সাথে একজন খুব ঝগড়া করছে । কথা শুনে মনে হল মানুষটির গ্রামের বাড়ি বরিশাল হবে । বরিশালের মানুষ এত ঝগড়া করতে পারে ?

এটি চিন্তা করতে করতেই আমার চোখ পড়ল সেই মেয়েটির ওপর , যে কাউন্টারে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল । তার সিট ছিল আমার পিছনে পাশে । মেয়েটি ঘটনাস্থলে না তাকিয়ে এই আমার দিকেই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । কি অস্বস্তিকর ব্যাপার !! আমার মধ্যে সে কি পেল ?? তবে এখন আমিও অনুভূতিহীন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম , মেয়েটিকে একটু মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করলাম । সুন্দরী , ফর্সা গায়ের রঙ , সুন্দর কালো চোখ , লম্বা চুল , বয়স আমার মতই হবে । একটি ছেলেকে আকর্ষণ করতে যা দরকার তার সবই মেয়েটির মাঝে আছে । আমি নিজেও কেমন যেন অনুভব করা শুরু করলাম । কি জানি এটি বুঝতে পেরেই হয়তো সে একটা মুচকি হাসি দিল । আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম , আর সাহস পেলাম না ! বাস চলতে লাগল । পিছনের মানুষটি আঞ্চলিক ভাষায় এখনো বকেই চলেছে । কি শক্তি রে বাবা !!
ঘুমুতে চেষ্টা করলাম । অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি , চোখ বন্ধ করলেই মেয়েটিকে দেখছি । কি হল আমার ? ধুর ছাই !! আমি আড়চোখে পিছে তাকালাম । একি !? সে আমার দিকে তাকিয়েই আছে , মাঝে মাঝে বান্ধবীকে কি যেন বলছে তাও আমার দিকে তাকিয়েই । তার কি আর কোন কাজ নেই ? আমি আবার সামনে ফিরলাম । পাশের যাত্রী নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে কিন্তু আমার ঘুম আসছে না ! রাতের বাস , বাইরে অন্ধকার , কিছু দেখারও উপায় নেই । বাসের টিভিতে পুরনো ছবি চলছিল , দেখার আগ্রহ বোধ করলাম না । একটা অস্থির অনুভূতি , এই মেয়েটাকে ঘিরে । ধুর !! কি ভাবছি এসব ?! সকালে বন্ধুর বাসায় গিয়ে উঠবো , তা নিয়ে চিন্তা করা যাক ।

কটা বাজে খেয়াল নেই , ভোর হয়ত । যাত্রীদের খাবার জন্য বাস থামল । পাশেই একটা রেস্টুরেন্ট , ঢুকলাম । বড্ড খিদে পেয়েছে , পেটটাকে শান্ত করা দরকার । পরোটা আর সবজির অর্ডার দিলাম , একটু পরে খাবার চলেও আসল । হাউ হাউ করে গিলতে লাগলাম তৈলাক্ত খাবার । এবং সামনে তাকিয়ে দেখি সেই মেয়ে এখনো তাকিয়েই আছে , হাতে কফির কাপ । আমি যেন জানতাম সে তাকিয়ে থাকবে , খাবার মুখে নিয়ে মুচকি হাসি দিলাম । সে যেন মজা পেয়ে হাসির জবাব দিল । পাশের বান্ধবীটা মনে হয় একটা নিরামিষ , মুখে কোন অভিব্যক্তি নেই । যাই হোক , বাসে উঠলাম । শেষবারের মতো বাস চলতে শুরু করল এবং ২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছে গেলাম । মেয়েটিও নামল , দেখলাম আমার ১০ হাত দূরেই দাঁড়িয়ে আছে । আমি সিএনজি’র জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম । হঠাৎ দেখলাম মেয়েটি এগিয়ে আসছে , হাতে একটা কাগজ । মনে একটা অস্থিরতা অনুভব করলাম , কেন তা নিজেও জানি না । সামনে এসে একটি হাসি দিয়ে মেয়েটি এই প্রথম কথা বলল , ‘ধরুন ।’ এই বলে হাতের কাগজটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল । আমিও সাথে সাথে সেটা নিলাম । আবার মুচকি হেসে সে চলে গেল এবং তার বান্ধবীর সাথে রিকশায় উঠে গেল । এরপর আমি কাগজটা খুললাম । বাসের টিকেট , সেখানে মেয়েটা তার নাম আর মোবাইল নম্বর লিখে দিয়েছে । নাম তার মৃদুলা । কেন জানি বিজয়ের হাসি হাসলাম এবং পরক্ষণেই নিজের উপর প্রচণ্ড রাগ উঠল । সামান্য একদিন চোখাচোখি হল একজন অচেনা নারীর সাথে , এটা নিয়ে এত কেন ভাবছি ?!

বন্ধুদের সাথে অনেক মজার , আনন্দের দিন কাটালাম । এরপর খবরে নাকি বলা হল যে সাগরে নিম্নচাপ । ব্যাস ! আর কি ?? সাথে সাথে মায়ের ফোন এবং জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ফেরা । একদম চোখের পলকে । রাতের বেলা ব্যাগ হাতড়াতে হাতড়াতে মৃদুলার টিকেটটা পেলাম । মনে কি হল জানি না , তখনি ফোন দিলাম । রিসিভ করল কোন একজন ।

– হ্যালো ।
– এটা কি মৃদুলার নম্বর ?
– জি । কে বলছেন ?
– আপনি আমাকে চিটাগাঙে আপনার নম্বর দিয়েছিলেন । আমরা একই বাসে গিয়েছিলাম ।
– ওহ ! আপনি ?? হা হা হা ! ফোন করেছেন ?? হুম , ভালো তো !
– করলাম । ইচ্ছে হল । কেমন আছেন ?
– ভালো আছি । আপনার ট্যুর কেমন কাটল ?

এভাবে কথা শুরু হল , চলতে থাকল । জানি না আমি ওর সাথে কেন কথা বলছি , জানি না ও কেন কথা বলছে । কিন্তু বলছি ! প্রতিদিন , অনেকক্ষণ । ভালো বন্ধু এখন আমরা , নিজেদের জীবনের কথাই বলি আর শুনি ।

মৃদুলা । সম্পর্কের নতুন একটা রাস্তা তৈরি হল । এটা প্রেম নয় , ভালোবাসা নয় । এটা শুধু টান , মোহ । দেখা যাক , এ মোহ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় !! ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিলাম এর নিয়তিকে । এখন শুধু মৃদুলাই থাকুক ।।

১৪ thoughts on “ঢাকা টু চিটাগাং – একটি নতুন মোড় (প্রায় একমাস পর ইস্টিশনে লিখলাম , আশা করি ভুলে যাননি :))

  1. পোস্টটা পড়ে চিন্তায় পরে
    :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: :ভাবতেছি: পোস্টটা পড়ে চিন্তায় পরে গেলাম… আসলেও বিষয়টা কি হইল… :বিষয়ডাকী: :বিষয়ডাকী: তবে এইরাম ভাবে পরিচয় কিন্তু মাঝে মাঝে খতরনাকও হইতে পারে :চোখমারা: :দেখুমনা: :হাহাপগে: :হাহাপগে: … তাই সাধু সাবধান… :ভেংচি: :ভেংচি: 😀

    1. আমি নিজেই জানি না কি হইল
      আমি নিজেই জানি না কি হইল !
      ভাই , ভয় দেখান কেন ? :কানতেছি:
      তবে , সাবধান আছি । :নৃত্য:

  2. মজা পেলাম গল্পটি পড়ে । আপনি
    মজা পেলাম গল্পটি পড়ে । আপনি কি মৃদুলার প্রেমে পড়েছেন ??
    নাকি এমনিতেই দুর্বলতা প্রকাশ করেছেন ??
    ধরতে পারছি না । :মাথাঠুকি:

  3. ইহা তো গল্প নহে ব্যক্তিগত
    ইহা তো গল্প নহে ব্যক্তিগত কথাকাব্য।
    যাহোক, মৃদুলার সাথে কথা চলতে থাকুক। হয়তো প্রেম হয়েও যেতে পারে… :চোখমারা:

    1. জীবনের প্রতিটি স্মরণীয় ঘটনাই
      জীবনের প্রতিটি স্মরণীয় ঘটনাই তো একেকটি গল্প , তাই নয় কি ??
      কথা তো চলতেই থাকবে । কিন্তু প্রেম ?? সাহস নেই । :মনখারাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *