তোমায় ভালোবাসি

রুপার দুইটা কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন কিডনি লাগবে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। কেবিনের সামনে তার বাবা, মা, ছোট ভাই আর ছোট বোন বসে আছে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন আজকের ভিতরে কিডনি যেভাবেই হোক জোগাড় করতে হবে। রুপার পরিবারের সাথে রুপার হবু স্বামী সিরাজ ও সেখানে বসে আছেন। কেউই বুঝে উঠতে পারছেন না কিভাবে তারা দুইটা কিডনি জোগাড় করবেন। একটা কিডনি হয়তো জোগাড় করা সম্ভব তাও ব্লাড গ্রুপ মিলবে কিনা সেটা হচ্ছে কথা। রুপা খুব চঞ্চল স্বভাবের একটা মেয়ে। একটু বেশি কথা বলে। কিছুদিন হলো তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিন্তু হটাৎ এমন একটা দু্ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। সিরাজ বলল, “আমরা নিজেরাই যদি কিডনি দেই, তাহলে কেমন হয়?” প্রতিউত্তরে কেউ কিছু বলতে গেলো এমন সময় ডাক্তার এসে বলল, “কিডনি জোগাড় হয়েছে।” সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “কিভাবে?” ডাক্তার বলল, “একজন ব্যাক্তি তার দুইটা কিডনি দান করেছেন।” ঠিক সেই সময় সেখানে আসিফ আসলো। আসিফ রুপার বন্ধু। খুবই ভালো বন্ধু। আসিফ সবার সাথে কুশল বিনিময় করলো এবং রুপার মা’কে সান্ত্বনা দিলো যে, “কিডনি যখন পাওয়া গেছে, আপনারা চিন্তা করবেন না। রুপা ভালো হয়ে যাবে। এখন আমাদের শুধু প্রার্থনা করতে হবে।” কিছুক্ষণ পর রুপা’কে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলো। দলে দলে রুপা’র আত্মীয় স্বজন’রা আসতে শুরু করলো। এত মানুষের ভিড়ে আসিফ হাড়িয়ে গেলো। কেউ টের পেলো না।

রুপা এখন সুস্থ। পুরোপুরি সুস্থ। সবাই অনেক খুশি। বিশেষ করে সিরাজ। সে অপারেশনের দিন থেকেই হাসপাতালে রয়েছে। আজকালকের মধ্যেই হয়তো তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। রুপা কেবিনের খাটে বসে আছে। আসে পাশে তার আত্মীয় স্বজন বসে আছে। একজন নার্স হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে রুমে ঢুকল এবং রুপা’কে দিয়ে বলল, “আপনার অপারেশনের দিন একটা ছেলে আপনাকে এই ফুলের তোড়া দিতে বলেছিলো। আর সাথে এই চিঠিটা।” রুপা বলল, “আমার অপারেশন তো হয়েছে বেশ কয়েকদিন হল, তাহলে ফুল গুলো এত সতেজ কেন?” নার্স বলল, “ছেলেটা আমাকে ক্লিনিকের পাশের একটা ফুলের দোকানে এই তোড়াটি দেখিয়ে দিয়েছিলো আর সাথে আমাকে টাকা দিয়ে বলেছিল আজ যেন আমি আপনাকে এটা কিনে দেই।” খুব অবাক হয়ে রুপা বলল, “অদ্ভুত তো! ছেলেটা কে?” নার্স বলল, “এই কাগজে লেখা আছে।” বলে নার্স চলে গেলো। যে কোনো কারনেই হোক, তখন রুম থেকে কেন জানি সবাই বের হয়ে গেলো। সম্পূর্ণ কেবিনে সে একা চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে আছে। রুপা চিঠিটা খুলল।

প্রিয় রুপা,
এই চিঠিটা তোমার হাতে মানে তুমি এখন পুরোপুরি সুস্থ। তোমার সাথে পরিচয় হবার পর থেকে তোমার প্রায় প্রতিটা মুহূর্তে আমি তোমার পাশে ছিলাম। তুমি কি সেটা জানতে? জানতে না। আমি মিশে ছিলাম রুপা, মিশে ছিলাম তোমার প্রতিটা হাসিতে। মিশে ছিলাম প্রতিটা কান্নায়। তুমি জানতে না। তুমি কি জানো? মন প্রান উজার করে বলতে চেয়েছিলাম তোমায় ভালোবাসি। সাহস হয়নি গো, সাহস হয়নি। আমি এতিম একটা ছেলে, কিছুই নেই আমার। কিভাবে ভালোবাসি তোমায়? যেদিন শুনলাম, তোমার কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, তুমি হয়তো আর বাচবে না, আমি নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। হটাৎ মনে পড়ল, আমি না তোমায় ভালোবাসি। তাহলে কিভাবে তোমায় মরে যেতে দেই? তোমার শরীরের মাঝে বেঁচে থাকার লোভটা সামলাতে পারলাম না গো। আমার কিডনি দুটোকে ভালো রেখো।
ইতি
তোমার বন্ধু। খুব ভালো বন্ধু।

চিঠির উপর দু’ফোটা জল পড়লো। রুপা কাঁদছে। সমস্ত ঘর অন্ধকার হয়ে গেলো। একটা অস্পষ্ট শব্দ কানে ভেসে আসতে লাগলো। কে যেন কথা বলছে তার কানে কানে। তোমায় ভালোবাসি। তোমায় ভালোবাসি।

৪০ thoughts on “তোমায় ভালোবাসি

  1. চমকপ্রদ ঘটনা !
    একটা জিনিস

    চমকপ্রদ ঘটনা !
    একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম গল্প গুলোতে মৃত্যু
    যেন অবধারিত । কি জানি বর্তমান প্রেক্ষাপটে
    মৃত্যু বোধহয় খুব সহজলভ্য কিছু ।

    1. আমিও লক্ষ্য করেছি, বেশিরভাগ
      আমিও লক্ষ্য করেছি, বেশিরভাগ লেখকদেরকে মৃত্যু বিষয়টা খুব টানে। আমারও একি অবস্থা। লিখতে বসলে মাথায় মৃত্যু বিষয়টা চলে আসে।

  2. মৃত্যু না থাকলে গল্প কেমন যেন
    মৃত্যু না থাকলে গল্প কেমন যেন জমেনা। বস্তুত, মৃত্যুকে ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলে সেটা পাঠকের মনে নাড়া দেয়। এইটা অবশ্য আমার নিজের মতামত।

      1. রাহাত ভাই, তাহলে একটা গল্প
        রাহাত ভাই, তাহলে একটা গল্প নাজিল করলাম।

        এক ছেলে এক মেয়েকে খুব পছন্দ করতো। ছেলেটা সাহস করে মেয়েটাকে প্রপোজ করলো। মেয়েটা প্রত্যাখান করলো। তারপর ছেলেটা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো!

        খেল খতম, মৃত্যু হজম!
        কেমন হইছে এই গল্প?? (চোখ টিপার ইমো)

        1. হাহাহাহাহাহহাহাহাহা ……
          হাহাহাহাহাহহাহাহাহা …… সিরাআআআআআআআআআআআআআআআআম মজা !!!!!!
          মজার্ত হৃদয় নিয়ে বলতে চাই , বাংলার সাহিত্যকাশে বজ্র সহ বৃষ্টির ঘন ঘটা । প্রচণ্ড সব বজ্রপাত হবে বাংলা সাহিত্যে … :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :পার্টি: :নৃত্য: :তালিয়া:

        2. হুম শান্তিতে আছে এপসেপ্ট করে
          হুম শান্তিতে আছে এপসেপ্ট করে নাই তাই !!

          আমার টা কেমন

          এক ছেলে এক মেয়ে কে দেখেই পছন্দ করলো পরিবারে জানালো। সবাই মেনে নিল । অত:পর তাদের বিয়ে। এর পর আজ পর্যন্ত ছেলেটা আফসোস করছে।

          1. জয়,
            দুর্দান্ত গল্প লিখেছিস

            জয়,
            দুর্দান্ত গল্প লিখেছিস !!!
            তোকে অস্কার দেওয়া উচিৎ ! :ভেংচি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :গোলাপ:

        3. হুম শান্তিতে আছে এপসেপ্ট করে
          হুম শান্তিতে আছে এপসেপ্ট করে নাই তাই !!

          আমার টা কেমন

          এক ছেলে এক মেয়ে কে দেখেই পছন্দ করলো পরিবারে জানালো। সবাই মেনে নিল । অত:পর তাদের বিয়ে। এর পর আজ পর্যন্ত ছেলেটা আফসোস করছে।

          1. হা হা হা!! দারুণ হয়েছে।
            এই

            হা হা হা!! দারুণ হয়েছে।
            এই প্রসঙ্গে একটা জোকস মনে পড়লো,

            গভীর রাতে স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখেন পাশে স্বামী নেই !!! তাকে খুঁজে পেলেন ডাইনিং টেবিলে!! দেখলেন, তিনি এক কাপ কফি নিয়ে দেয়ালের দিকে স্থির তাকিয়ে আছেন। স্ত্রী লক্ষ্য করলেন, স্বামী গভীর চিন্তামগ্ন। কফিতে একবার চুমুক দিচ্ছেন আর চোখের পানি মুচ্ছেন। স্ত্রী কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
            “কী হয়েছে তোমার?”
            দেয়াল থেকে চোখ ফিরিয়ে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে স্বামী বললেন,
            “আজ থেকে ২০ বছর আগের সেই দিনের কথা তোমার মনে আছে..?
            স্ত্রী বললেন,”হ্যাঁ”
            স্বামী বললেন,”একবার তোমার বাবা বলেছিলেন, হয় আমার মেয়েকে বিয়ে করবে, নয়তো ২০ বছরের জন্য জেল খাটতে হবে মনে আছে?”
            স্ত্রী বললেন,”হ্যাঁ, তাও মনে আছে।”
            স্বামী চোখ মুছে বললেন, “সেদিন যদি তোমাকে বিয়ে নাকরে জেলে যেতাম, তাহলে আজ মুক্তি পেতাম”

          2. নারীবাদীরা যদিও ক্ষেপে যাবে
            নারীবাদীরা যদিও ক্ষেপে যাবে … তথাপি জোকস টা অসাধারণ !!!!
            সিরাম মজা পাইছি …

          3. আরে বাংলাদেশের নেট প্রথমে
            আরে বাংলাদেশের নেট প্রথমে ফেইল্ড দেখায় আবার ফেইল্ড দেখায় এর পর যখন বলি যা আর দিবই না তখন আবার পেজ রিলোড দিয়ে দেখি কমেন্ট হয়ে গেছে…

    1. বাহ চমৎকার !!!
      শাহিন ভাই,

      বাহ চমৎকার !!!
      শাহিন ভাই, একটা প্রকল্প হাতে নেন । এই
      আণুবীক্ষণিক গল্পগুলো সংরক্ষণের একটা ব্যবস্থা নেন ।

  3. সুন্দর লেখনি তার কোন সমালোচনা
    সুন্দর লেখনি তার কোন সমালোচনা নেই। পড়ে আবেগাপ্লুপ হলাম।
    আসলে ভালবাসা যে কি তা কেউই জানে না!!

    কিন্তু নতুন আইডিয়া আনুন ভাই …
    এই কিডনী দেবার চোখ দেবার গল্প অনেক পড়া হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *