এক মাস্তানের ভালবাসার গল্প পর্ব 2

জমির ভাইয়ের মন ভালো নেই। মুখে গম্ভীর ভাব নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন।সে সকাল থেকে কিছু বুঝার চেষ্টা করছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় কি বুঝার বিষয় তিনি বুঝতে চাচ্ছেন সেটাই বুঝাচ্ছেন না। তুলি বলেছে তাকে রোমেন্টিক হতে। মাস্তান্দের সাথে প্রেম করা যায় না।প্রেম করতে হলে মেয়েরা রোমেন্টিক ছেলে খুঁজে।জমির ভাই রোমেন্টিক হওয়ার মিশন হাতে নিয়েছেন। তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে রোমেন্টিক হওয়ার চেষ্টা করছেন । কিন্তু কিছু বুঝে উঠেননি। একটু আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন মুখে রোমেন্টিক ভাব চলে এসেছিল হঠাৎ শাঙু দুলাল এসে তার ধেন ভেঙে দিয়ে গেছে ।জমির ভাই তাকে কিছু বলতে গিয়ে ও বলেননি।তাকে এখন থেকে শান্ত হতে হবে মাস্তানি ছাড়তে হবে। তুলির নির্দেশ । তুলি বলেছে প্রেম করতে হলে মাস্তানি করা যাবে না। তাই তিনি মাস্তানি করা ছেড়ে দিচ্ছেন।মাস্তানি ছাড়া কঠিন কাজ কিন্তু যেহেতু তুলি বলেছে সেহেতু ছাড়তে হবে। যাকে খুব বেশী ভালবাসা যায় তার জন্য সবি করা সম্ভব।তুলিকে তিনি খুব বেশী ভালবাসেন ।

জমির ভাইয়ের পাশে শাঙু দুলাল বসে আছে। তার হাতে কবিতার বই। সে মনোযোগ দিয়ে সে কবিতার বই পড়ছে। কিন্তু কোনটি রোমেন্টিক লাইন সেটা এখনও বুঝতে পারনি। জমির ভাই আর চোখে তাকিয়ে আছেন তার দিকে । ছেলেটি সে ছোটবেলা থেকে তার সাথে আছে। যখন জমির ভাইয়ের কোনো বিপদে পরেন কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তায় থাকেন তখন এই ছেলেটি প্রাণপন চেষ্টা করে তাকে সে সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আনতে। কেনো করে জমির ভাই জানেন না। তার আপন বলতে দুলালি আছে | আজ ও সে কাজটি করছে।

– দুলাল
– জি ভাইজান
– কি পড়স ?
– কবিতা
– প্রেম কি তুই করোছ না আমি
– জি ভাইজান আপনে
– তাইলে তুই পড়ছ কেন?
– আপনারে বুঝাতে হইব না তাই একটু প্রেক্টিস করতেছি
– হুম , ভালো কথা । কিছু বূঝচছ?
– হুম ভাইজান বুঝছি , না বুঝলে বইটা আনলাম কেন?
– বইটা কার লিখা ?
– কাজি নজরুল , সে মেলা রোমেন্টিক আছিলো।
– মালটা কে ?
– দেশের জাতীয় কবি বিরাট বড় মানুষ ।
– হুম , কাজ হইব ?
– হয়তে পারে। আমি বলি কি ভাইজান। এখান থেইকা কিছু কবিতার লাইন লিখা তুলি আপার কাছে পাঠান। উনি খুশি হইব।তারে বুঝায়তে হইব না আপনি রোমেন্টিক হয়তেছেন
– কাজ হইব তো ?
– সিউর হইব

তুলি হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝছে না। জমির ভাই তার জন্য উপহার পাঠিয়েছেন।ভালোবাসার­ মানুষ উপহার পাঠালে মেয়েরা খুশি হয়। খুসিতে তাদের কান্না আসে। অনেকে বান্ধবিদের দেখায়।কেউ কেউ যত্ন করে তুলে রাখা ভালোবাসার উপহার গুলো। জমির ভাই তার জন্য একটি উপহার পাঠাননি ঝুড়ি ভর্তি উপহার পাঠিয়েছেন। ঝুড়িতে আম কলা আপেলে হতে শুরু করে হরেকরকম ফল আছে। তুলি হসপিটালে নেয় যে তার জন্য ফল পাঠাতে হবে। ফলের মধ্যে গাধাTa রোমেন্টিকের কি দেখেছে একমাত্র সেই জানে। শুধু ফল পাঠিয়ে গাধাটা থেমে থাকেনি। সাথে চিরকূট ও আছে। চিরকূটে সুন্দর করে কবিতা লিখা। ভালোবাসার কবিতা না বিদ্রহি কবিতা । কাজি নজরুল কবিতা। গাধাটা এই কবিতায় রোমেন্টিকের কি ভাষা খুঁজে পেয়েছে তা শইং কাজি নজরুল ইসলাম জানে না। দীর্ঘ শাস ফেলল তুলি। কেনো যে এই গাধাটাকে নিয়ে সংসার বধার স্বপ্ন দেখছে তা ভেবে পায় না

জমির ভাই আর তুলি পার্কের বেঞ্চে বসে আছে। জমির এখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। এখনও রোমেন্টিক ভাব আনতে পারছেন না তা দেখে নিজের উপরি জিদ হচ্ছে তার। লাস্ট বার প্রপোস করতে গিয়ে মাথা ঘুড়ে অজ্ঞান হয়েছে আজ আবার সে ঘটনার পুনরাবিত্তি হলে প্রেম আর আর করা হবে না তার |

তুলি মনে মনে হাসছে। গাধাটাকে রোমেন্টিক হতে বলে যে কি ভুল করেছিল একমাত্র আল্লাহ ভালো জানবেন। গাধাটা সে কখন থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। রোমেন্টিক হওয়ার জন্য কেউ আকাশে তাকায় আজ প্রথম দেখছে সে |

– মাথা নামান আর রোমেন্টিক হতে হবে না।

জমির ভাই কিছুটা লজ্জা পেলান। তিনি এখন আর আকাশ দেখছেন না। নিচে তাকিয়ে আছেন

– ঐ দিন মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন কেনো ?
– ভয়ে
– আমাকে আপনার ভয় লাগে ?
– হা
– আমি বাঘ না ভাল্লুক ?
– জানি না
– আর ভয় পেতে হবে না
– আচ্ছা
– ফল গুলো পাঠানোর বুদ্ধি কি আপনার ছিলো ?
– হা
– এই বুদ্ধি আসল কেনো হঠাৎ ?
– ফল খেল শক্তি হয়। তুমি ফল খেয়ে শক্তি বাড়াবে আর আমাকে ঝাড়বে
– তাই ? আমি কি আপনাকে শুধু ঝাড়ি দেয়?
– হা
– আজ থেকে দিবো না। আর শুনেন আজ থেকে আর রোমেন্টিক হতে হবে না। যেমন আছেন তেমনি থাকেন
– আচ্ছা
– আমার দিকে তাকাতে লজ্জা লাগে ?
– তাহলে তাকাচ্ছেন না কেনো। তাকান ?
– হুম
– আমাকে ভালবাসেন
– হা
– আমি ও বাসি
– কি
– ভালো

তুলি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে গাধাটার দিকে। গাধটা কাদছে। বাচ্চা ছেলেদের মতো ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদছে। তুলি তার হাত ধরল।তাকে আর কাঁদতে দিবে না ভালবাসা দিয়ে আগলিয়ে রাখবে

– হয়ছে আর কাঁদতে হবে না
– আমি কাঁদছি না
– হুম , একটা কথা বলব ?
– বল
– কবিতাটি কি পাঠানোর বুদ্ধিটা কি তোমার ?
– না , দুলালের
– ওটা রোমেন্টিক কবিতা না , বিদ্রোহের কবিতা
– তোমাকে প্রপোস করাটা
ও বিদ্রোহের মতো ছিলো

জমির ভাইয়ের কথায় তুলি হেসে দিলো। তারা দুজন হাসছে। ভালোবাসার হাসি। দূর থেকে দুলাল সে হাসি দেখছে। তার চোখে পানি। জমির ভাইকে কখনো সে এইভাবে হাসতে দেখেনি।তার চোখের পানি কারণ সে জানে না। মাঝে মাঝে দূরের মানুষ গুলকে খুব আপন মনে হয়। তাদের সুখ দুখের সাথে নিজের সবটুকু অনুভুতি মিশে যায়

৭ thoughts on “এক মাস্তানের ভালবাসার গল্প পর্ব 2

  1. জব্বর লেগেছে ।তবে প্রথম
    জব্বর লেগেছে ।তবে প্রথম পর্বের মত রসালো হয়নি ।কিছু বানানে ভুল হয়েছে, হয়তো তাড়াহুড়ার কারনে হতে পারে ।যাইহোক, সব মিলিয়ে গল্পটি প্রশংসার দাবী রাখে ।
    আর কোন পর্ব আছে?

      1. এর পরে আর পর্ব থাকলে সব নিচে
        এর পরে আর পর্ব থাকলে সব নিচে লিখে দিবেন, চলবে… বা এমন কিছু ।
        প্রতিক্ষায় থাকলাম ।ধন্যবাদ ।

  2. আজকে আর সমালোচনায় গেলাম না।
    আজকে আর সমালোচনায় গেলাম না। ভালোই হয়েছে। পরের পোস্ট আশা করি আরো ভালো হবে।

  3. ভাই রে আপনারা সবাই দেখি আমার
    ভাই রে আপনারা সবাই দেখি আমার কাহিনী লিখেন। আমি রোমান্টিক হবার জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি কিন্তু দুঃখের বিষয় আকাশে তাকিয়ে থাকলে কি হয় চাঁদ দেখলে কি হয় আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। আর আমিও তাকে আজ পর্যন্ত প্রোপোজ করতে পারি নাই। আর সেও আমাকে গাধা বলে সম্বোধন করে।

    ঐ দিন আরেক ভাই এর পোস্টে মনে হল আমার ইনবক্স তুলে ধরেছেন আর আপনি আপনার গল্পে যেন আমার কিছু অংশ তুলে ধরেছেন। জানলেন কি করে রে ভাই??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *