অসত্যের কালোমেঘ অথবা বৈষম্য

শূন্য নদীর ঘাট । নদীর এক পাশে একটি খুটির সাথে একটি নৌকা বাধা । দূরে একটি ছোট্ট ছেলে হেটে আসছে নদীর দিকে।বাবার আদেশ পালন করতে এসেছে সে ।সে নৌকা থেকে একটি বাসন,একটি গ্লাস, একটি পানির জগ এবং নৌকার বৈঠা নিয়ে আবার চলতে শুরু করলো বাড়ির দিকে । নাম নিলয় , চৌদ্দ বছর বয়স । সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র সে ,খুবই মেধাবী ও দারুন চটপটে। সারাক্ষন ছুটোছুটি আর হৈ-হুল্লোর করতেই থাকে । তার ইচ্ছে সে বড় হয়ে একজন পুলিশ অফিসার হবে ।

বাবা সমর মাঝি । নদীর এই পাড়ের মানুষ ঐ পাড়ে , আর ঐ পাড়ের মানুষ এই পাড়ে আনানেয়াই তার একমাত্র কাজ। মা সমিরন বিবি , সারাদিন অন্যের বাড়ীতে কাজ করেন । নিলয়ের ছোট্ট একটি বোন ও আছে , নাম রানু ।


শূন্য নদীর ঘাট । নদীর এক পাশে একটি খুটির সাথে একটি নৌকা বাধা । দূরে একটি ছোট্ট ছেলে হেটে আসছে নদীর দিকে।বাবার আদেশ পালন করতে এসেছে সে ।সে নৌকা থেকে একটি বাসন,একটি গ্লাস, একটি পানির জগ এবং নৌকার বৈঠা নিয়ে আবার চলতে শুরু করলো বাড়ির দিকে । নাম নিলয় , চৌদ্দ বছর বয়স । সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র সে ,খুবই মেধাবী ও দারুন চটপটে। সারাক্ষন ছুটোছুটি আর হৈ-হুল্লোর করতেই থাকে । তার ইচ্ছে সে বড় হয়ে একজন পুলিশ অফিসার হবে ।

বাবা সমর মাঝি । নদীর এই পাড়ের মানুষ ঐ পাড়ে , আর ঐ পাড়ের মানুষ এই পাড়ে আনানেয়াই তার একমাত্র কাজ। মা সমিরন বিবি , সারাদিন অন্যের বাড়ীতে কাজ করেন । নিলয়ের ছোট্ট একটি বোন ও আছে , নাম রানু ।

নিলয়ের স্কুল টি একটি জঙ্গলের পাশে অবস্থিত । আর জঙ্গলের অপর দিকেই ওদেরবাড়ী ।স্কুলের সামনে ছোট একটি খেলার মাঠ । বিকেলে নিলয় ও তার বন্ধুরা সেখানেই খেলাধুলা করে ।

এক দিন বিকেলে নিলয় তার বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলছে । হঠাত্ নিলয় এর সাথে তার বন্ধু জামিলের ঝগড়া শুরু হলো । জামিল বললো নিলয় কে খেলায় নেবে না । সব বন্ধুরাই তা মেনে নিলো । বড়লোক বাপের এক মাত্র ছেলে জামিল ।আর বল টাও যে তারই । নিলয় রেগে গিয়ে বললো আমাকে খেলায় না নিলে কাল থেকে আমি তোদের কাউকে খেলতে দেবো না । এই বলে সেচলে গেলো ।বন্ধুরা আবার খেলা শুরু করলো।খেলতে খেলতে বলটা হঠাত্ জঙ্গলেচলে গেল।এক জন গেলো বল খুজতে ।কিন্তুবল পাওয়া যাচ্ছে না ।সবাই ধরে নিলো এটা নিলয়ের কাজ ।জামিল সহ কয়েক জন বন্ধু ঠিক করলো আজ রাতে নিলয় কে ঘুমোতে দেবেনা ।

রাতে জামিল ও তার বন্ধুরা নিলয়ের বাড়ির চারপাশ থেকে ঢিল মারা শুরু করলো । নিলয় ঘর থেকে বেরিয়ে রেগে বললো , ঐ কোন শয়তানের বাচ্চারে ঢিল মারে ।আসলে কিন্তু মাথা ফাটিয়ে দেবো ।

পরদিন সকালে জামিল কে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না ।সকালের মধ্যেই পুলিশ নিলয়ের বাড়িতে আসে নিলয় কে ধরে নিয়ে যেতে । জামিলের বাবা নিলয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে । তার ধারনা নিলয় ই তার ছেলে কে মেরেছে এবং তাকে লুকিয়ে রেখেছে । নিলয়কে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে দেখে নিলয়ের মা চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো , সে পুলিশের পা ধরে বললো সাহেব আমার নিলয়কে ধরে নিয়ে যাবেন না,আমার নিলয়ের কোন দোষ নেই।পুলিশ অফিসার তার মোটা গলায় বললো , তোমার ছেলে মিল্টন সাহেবের ছেলে কে মেরেছে । বিশ্বাস নাহয় ঐ রাস্তায় গিয়ে দেখো এখন ও রক্ত পরে আছে ।এবং সেই রক্ত ঐ জঙ্গলের দিকে গেছে । তখন নিলয় এর বাবা বললো কেবলেছে যে আমার ছেলেই তাকে মেরেছে ? পুলিশ অফিসার বললো , জামিল এর বন্ধুরা নিলয় কে দেখেছে জামিল কে মেরে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যেতে । তারপরপুলিশ নিলয় কে নিয়ে গেলো ।

সেই রাতেই নিলয় কে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো ।কারন জামিল কে মেরে কোথায় রেখেছে তা জানার জন্য পুলিশ ওকে খুব মেরেছে । নিঃস্তব্ধ রাতে মা ঘরে চুপ করে বসে আছে । ছোট্ট বোন রানু মা কে জিজ্ঞেস করলো , মা ভাইয়া আজকে আমাদের সাথে ঘুমাবে না ? মা হু হু করে কেদে উঠলো ।

এর পরদিন সকালে জামিল ফিরে এলো ।সবাই তো তাকে দেখে অবাক । জামিলের বাবা জিজ্ঞেস করলেন কোথায় ছিলি বাবা জামিল ? তখন এক কাঠুরে বললো আপনের পোলা গত পরশু রাইতে বন্ধুদের লগে নেশা কইরা জঙ্গলে পইরা আছিলো ।গত দুই দিন মাতাল হইয়া আমার ঘরেই ঘুমাইছে ।আজকে সকালে ঘুম ভাঙনের লগে লগে নিয়া আইছি।জামিলের বাবা জিজ্ঞেস করলো তাহলে ঐ রক্ত ? কাঠুরে বললো ঐটা আছিলো মুরগির রক্ত।রাইতে আপনের পোলা ও তার বন্ধুরা জবাই কইরা খাইছে ।

এদিকে নিলয়ের বাবা মা যখন জানতে পারলো যে নিলয় হাসপাতালে । সবাই ছুটে গেলো নিলয়ের কাছে । হাসপাতালে গিয়ে দেখে নিলয় হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে আছে । কোন শব্দ নেই তার মুখে,নেই সেই দুরন্ত পনা , ছুটোছুটি । নিলয়ের খোলা আকাশ যে আজ কালো মেঘে ঢেকে গেছে চিরদিনের জন্য ।

১৪ thoughts on “অসত্যের কালোমেঘ অথবা বৈষম্য

  1. সমালোচনা: মেসেজ পরিষ্কার হলেও
    সমালোচনা: মেসেজ পরিষ্কার হলেও কিছুটা শিশুতোষ মনে হল। কাহিনী গুলো মনে হচ্ছে জোর করে মিলানো হয়েছে। ছোট ছোট লাইনে কেবল বাংলা ব্যাকরণ মেনে অর্থ বুঝানো হয়েছে, আধুনিক সাহিত্যের ছোঁয়া একদমই নেই। শুধু রক্ত দেখেই পুলিশ ধরে নিয়ে গেল জিনিসটা হাস্যকর। আর নিলয়কে যে রাতে ধরে নিয়ে গেল সেই রাতেই পুলিশি নির্যাতনের ব্যাখ্যা নেই। দাগী আসামীকেও পুলিশ আদালতের আদেশ ছাড়া নির্যাতন করতে পারেনা। কাঠুরেকে অকারণে হঠাৎ করে টেনে আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে গল্পটি অগোছালো মনে হল। আরো সময় নিয়ে গল্পটি লিখলে ভালো হত, কারণ থিমটা সুন্দর ছিলো।

    ক্রেডিট: কার কার ভালো লেগেছে জানিনা। তবে শুধু মেসেজটা ছাড়া আর অন্যকোনো কিছু আমার মনে দাগ কাটতে পারেনি।

    কানে কানে কথা: পরের বার আরো সময় নিয়ে লিখার চেষ্টা করবেন। ভালো কিছু দিতে পারবেন এই আশায় থাকলাম।

    1. অসংখ্য ধন্যবাদ অসঙ্গতি গুলো
      অসংখ্য ধন্যবাদ অসঙ্গতি গুলো ধরিয়ে দেবার জন্য ।
      অবশ্যই আরো ভালো লিখতে চেষ্টা করবো ।

      আমাদের মহল্লার লাইব্রেরী থেকে তিনমাস পর পর একটি শিশুতোষ ম্যাগাজিন “বাতিঘর” বের হয় ।আর এ গল্পটা ওদের জন্যই লিখেছি ।
      তবে বড়দের জন্য লিখলে ও হয়তো এর চেয়ে ভালো হতো না ।কেননা গল্প লেখায় একবারেই নতুন । এখনো ভালো কিছু লেখার চেষ্টায় আছি ।

  2. কিছুটা অবিশ্বাস্য টাইপের মনে
    কিছুটা অবিশ্বাস্য টাইপের মনে হয়েছে ।তবুও ভাল লিখেছেন ।আরো ভাল লিখবেন আশা করি ।শুভকামনা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *