বন্ধুত্ব ?

রিয়াদ বসে আছে বিশাল এক প্রতিষ্ঠানের রিসেপ্শনিশট রুমে। এখান থেকে খোলা আকাশটা দেখা যায় । নিজেকে আজ খুব অসহায় লাগছে তার ।খোলা আকাশে দিকে তাকিয়ে জীবনে পাওয়া না হিসাব মিলাচ্ছে সে। একটি নিদিশ্ট সময় পার করে সে এখন যথেষ্ট পরিনত। তার ঘরে বউ আছে।আছে ৬ বছরের একটি মেয়ে।প্রত্যেক পরিবার সবার শখ আহ্লাদ থাকে তার পরিবারেও আছে কিন্তুতার একটিও সে পুরণ করতে পারেনি। ভার্সিটির মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও এখনও কোথাও ভাল চাকরি জুটেনি।যা পেয়েছে তা তার যোগ্যতা অনুসার যায় না। পরিবারের ছোট সুখ গুলো পুরণ করা যায় নানা পারতে ছেড়েছে সে।নিজের প্রতি ঘৃণা জন্মাচ্ছে ধীরে ধীরে। ইচ্ছে হয় কোথাও হড়িয়ে যেতে।ভার্সিটি লাইফে তার সব বন্ধুরা বলতো তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ,অথচ হয়েছে তার বিপরীত তার সব বন্ধুই কোনো না কোনো ভাবে প্রতিশঠিত শুধু সে ছাড়া

– এক্সকিউস মি
– জি বলুন
– আরিফ স্যার আজ বিজি আপনার সাথে দেখা করতে পারছে না
– ওকে আমার নাম বলেছেন ?
– জি উনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন
– আমি কি কাল একবার আসবো?
– না , উনি আজি দেশের বাইরে যাচ্ছেন কখন ফিরবেন ঠিক নেয়। আপনি বরং আপনার কন্টরেক্ট নাম্বার দিয়ে যান আমি আপনাকে জানাবো
– হুম ,,

রিয়াদ উঠে অফিশ থেকে বের হল ।আরিফ তার কলেজ লাইফের বন্ধু|আজ বিশাল বেবশাই। এক সময় তার দুঃখ কষ্টে পাশে দাড়িয়েছে সুখ গুলো ভাগা ভাগি করেছে আজ প্রয়জনে নিজের কষ্ট গুলো ভাগ করার জন্য তার সময় নেয়।পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতার মুখ মুখি হচ্ছে সে ।দুখের দিনে কেউ পাশে থাকে না। অথচ বন্ধুত্বের জীবনে কত শপথ করেছে সবাই।এই বন্ধুত্ব আজিবনের।সুখে দুখে পাশে থাকবো আরো কত কি। এখন সবি দীর্ঘশাস।

রিয়াদ পার্কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। গোধুলির সময় এখন অন্ধকার নামবে। পার্কের বেঞ্চে ৪ জন যুবক বসে আছে। বোধয় তারা বন্ধু । হয়তবা সুখ ভাগা ভাগির করার শপথ নিচ্ছে। এমন শপথতোযা তাদের বন্ধুত্তকে বাচিয়ে রাখবে । কিন্তু কত দিন ? তা কি তারা জানে ? এমনটি ও হতে পারে তাদের বন্ধুত্ব শুধু সুখের সময় গুলো জন্য নয় , দুখে ও তারা পাশে থাকবে । জীবনের কোনো একটি সময় পিটে চাপর দিয়ে বলবে ” আরে বেটা এতো ভাবস কেন , আমরা আছি না ?”

আবার আকাশের দিকে তাকাল রিয়াদ। সূর্য অস্থ যাচ্ছে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। শুরু হবে আরেকটি হতাশার দিন। তার বন্ধু গুলো কি কোনো এক সকালে আশার আলো নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখাবে ? হাত বাড়িয়ে বলবে দোস্ত আমরা তোর পাশে আছি?

৩ thoughts on “বন্ধুত্ব ?

  1. অসম্পূর্ণ লাগলো।রিয়াদ
    অসম্পূর্ণ লাগলো।রিয়াদ বিবাহিত, এক সন্তানের জনক। ছাত্র জীবনের মেধাবি ছিলেন। মেধার তুলনায় ছোট চাকরী করা রিয়াদ কি জীবন যুদ্ধে পরাজিত? নাকি সে তার বন্ধুদের ওপর দায় চাপিয়ে মুক্ত হতে চায়? গল্পের বক্তব্য একেবারেই স্পষ্ট না। আমি জানি “চাকরী” এক নির্মম বাস্তবতা। কিন্তু সাধারন জীবনের গল্প যদি সবাই গল্পের মতো লিখতে শুরু করে তাহলে তো , ব্রাস করলাম, কুলি করলাম, জুতা পড়লাম, ইস্কুল গেলাম– এটাকেও গল্প বলতে হবে! গল্প আসবে জীবন থেকেই, কিন্তু তাই বলে এরকম উদ্দেশ্যহীন আর বেকার লেখার মাধ্যমে?

  2. সমালোচনা: এখানে সমালোচনা করার
    সমালোচনা: এখানে সমালোচনা করার যথেষ্ট পরিসর আছে। প্রথমেই এই ব্যাপারে নাভিদ ভাইয়ের সাথে একমত হয়ে নিলাম। গল্পটি দুই দিকে মোড় নিয়েছে। একটা দিক হল ভালো চাকরী না পাওয়াতে রিয়াদের আত্ম অসন্তুষ্টি আরেকটা হল পরনির্ভর হয়ে নিজ প্রচেষ্টার প্রতি অবহেলা। গল্পটিকে বাস্তব বলবো কারণ এই ধরনের মানুষ সমাজে দেখা যায়। কিন্তু গল্পকারের কাজ হল এই রূঢ় বাস্তবতার যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করে পরিত্রাণের উপায় উদভাবন করা। এই দিক থেকে আপনি ব্যার্থ হয়েছেন। কারণ গল্পের কোনো উপসংহার টানেননি।

    ক্রেডিট: গল্পে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। বরাবরের মত অধিকাংশ মানুষই এমন। এক্ষেত্রে কিছুটা ক্রেডিট আপনি পাওয়ার যোগ্য বলা যায়। কিন্তু চাইলেই গল্পটা দারুণ করতে পারতেন। থিমটা ভালোই ছিলো।

    কানে কানে কথা: গল্পে সমাধান দেয়া শুধু জরুরীই নয় গল্পকারের কর্তব্য ও সার্থকতা। পরের বার আরো ভালো কিছু লিখবেন এই আশাতে থাকলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *