সেক্স

শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদ তার আমার অবিশ্বাস বইটাতে লিখেছেন :


শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদ তার আমার অবিশ্বাস বইটাতে লিখেছেন :

আমাদের সমাজে ছোঁয়া খুবই নিষিদ্ধ ব্যাপার ; আমরা খুব কম মানুষকেই ছুতে পারি , খুব কম মানুষকেই ছোঁয়ার অধিকার আছে আমাদের । ছোয়া এখানে পাপ । কোনো নারী যদি কোনো পুরুষকে ছোয় , কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীকে ছোয় , তাতে সূর্য খসে পড়ে না , আকাশে হুলস্থুল শুরু হয়ে যায় না ; কিন্তু আমরা মনে করি এতে মহাজগত ক্ষেপে উঠেছে । শরীর খুবই আপত্তিকর আমাদের কাছে , একে অজস্র পাপের উত্‍স ভেবে আমরা ভয় পাই ; পবিত্র বই গুলো বার বার মনে করিয়ে দেয় যে আমরা পাপী , তাই আমাদের সুখ নয় শাস্তি প্রাপ্য ।

মানুষ তার জৈবিক চাহিদাগুলো বুঝতে পারে তেরো চৌদ্দ বছর বয়সেই । মানুষ বুঝতে পারে আরেকটা মানুষের প্রতি তার আকর্ষণ । বিপরীত লিঙ্গের সবাইকে তার ”ভালো” লাগে । আমাদের সমাজ প্রায় দু হাজার বছর ধরে এই ভালো লাগাটাকে ভালোবাসা বলে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে । আমাদের সমাজ আমাদের এটা বিশ্বাস করছে যে একটা ছেলেকে বা একটা মেয়েকে ভালো লাগা একটা হৃদয়ঘটিত ব্যাপার । ভালো লাগাকে ভালোবাসা নাম দিয়ে এটাকে মনের ব্যাপার বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে ।

আসলেই কি কাউকে দেখে ভালো লাগলে সেটা মনের ব্যাপার ? বিজ্ঞান কিন্তু তা বলে না । বিজ্ঞানে মন বলে কিচ্ছু নেই । যা আছে তা হচ্ছে মস্তিষ্ক । আমাদের মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্লান্ডে আছে মেলাটোনিন । ভালো লাগাটা নির্ধারণ হয় মস্তিষ্ক থেকেই । আর মস্তিষ্কের ভালো লাগাটা সবসময়ই দৈহিক ।

সেক্সকে আমরা খুন করার চেয়েও খারাপ কিছু মনে করি । মনে করি প্রতারণার চেয়েও নিকৃষ্ট কিছু । আমরা জানি যে আমরা কি চাই । যৌনতা মানুষের আদিমতম এবং বিশুদ্ধতম অনুভূতিগুলোর একটি হওয়া সত্তেও আমরা এটাকে খুব খারাপ কিছু মনে করি । আমরা দিনের আলোতে যৌনাচারকে ট্যাবু ঘোষণা করেছি । গত দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের মগজে একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে , সঙ্গম করতে হয় রাতের অন্ধকারে ; যেনো তা চুরি করতে যাওয়ার মতোই লজ্জার কিছু !

একসময় দেবতার আরাধনার অংশ ছিলো নারী এবং পুরুষের মিলন । এটাকে মনে করা হত পবিত্র সম্পর্ক । নারী ছিলো দেবী । নারী ছিলো উর্বরতা আর স্নিগ্ধতার প্রতীক । নারী ছিলো জ্ঞান ও ভালোবাসার প্রতীক । আর পুরুষ ছিলো কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক । একজন কৃষকের কাছে তার মাটি যেমন , একজন পুরুষের কাছে নারীও ছিলো তেমনই পূজনীয় , আরাধ্য ।
পুরুষতন্ত্রের উত্থানে দেবীদের পতন হয় । নারীর যৌনতাকে করা হয় কোণঠাসা । পুরুষের যৌনতা রূপ নেয় ক্ষমতার প্রতীকে । ধর্ম নামক শৃঙ্খলে বাধা পরে নারী , সঙ্গম হয়ে যায় পবিত্র সম্পর্ক থেকে লজ্জাকর বিষয়ে ।

পুরুষ তার যৌনতাকে চরিতার্থ করে নানা উপায়ে । নারীরাও । আদিমতম একটা জৈবিক চাহিদাকে দমন করার ক্রমাগত ব্যর্থ প্রয়াসে আমরা পেয়েছি Sex & Violence শব্দযুগল । সেক্স এবং ভায়োলেন্সকে একই কাতারে আনার সুকর্ম করার কৃতিত্ব (!) আমাদেরই ।

সমাজ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে ঘৃণা করতে শেখায় । সমাজ বলে কেবল কিছু মেকী অনুষ্ঠানের দ্বারা সঙ্গী ঠিক করতে হবে । তোমার তাকে ভালো লাগুক আর নাই লাগুক । সমাজের এই বিধি নিষেধের গ্যারাকলে পিষ্ট হয়েও মানুষ তার অন্যতম মৌলিক চাহিদার কথা ভুলে না । এজন্যই জৈবিক প্রয়োজনে কিশোরেরা বেছে নেয় মাস্টারবেশান , যুবকেরা কোনো বান্ধবীকে ; বিবাহিতরা অন্য নারীকে আর অবিবাহিতরা পতিতালয়কে ;
আর লোলুপ দৃষ্টির কোনো কদাকার পুরুষ বেছে নেয় ধর্ষণ ।
আদিম সমাজে যৌনতা কোনো বলপ্রয়োগের বিষয় ছিলো না , আমাদের কথিত সভ্য সমাজে ধর্ষণ একটি সাধারণ নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার ।

যৌনতাকে আজ ব্যাবসার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি আমরা । অমুক বডিস্প্রে , তমুক ফেসওয়াশ , অমুক কদুর তৈল আর তমুক স্নো পাউডারের ব্যাবসা বেশ জমিয়ে তুলেছি আমরা যৌনতাকে পুজি করে । আরো আছে পর্নব্যাবসা । পৃথিবীতে প্রতিদিন যত টাকার পর্ন ভিডিও ডাউনলোড হয় , তত টাকা দিয়ে একটা দেশ মোটামোটি বছর পার করতে পারবে । সবাই মুখে বলে অন্য কথা , অথচ গোপনে ঠিকই দেখে ।
এর কারণ আর কিছু না , আমাদের তৈরী দু হাজার বছরের নিয়মের বিরুদ্ধে আমরাই যুদ্ধ করছি । যুদ্ধ করছি নিজেদের সাথে । নিজের আকাঙ্খার সাথে ।

আমরা দুজন ফিরিশতার কথা জানি যারা পৃথিবীতে নিজেদেরকে মানুষের চেয়ে মহত্তর প্রমাণ করতে এসে এক নারীর জন্যে নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করে ।
অথবা সেই হিন্দু ঋষিদের কথা যাদের হাজার বছরের তপস্যায় অর্জিত পূণ্য এক সামান্য নারীর দেহের খাঁজ দেখে ধূলিস্যাত হয়ে যায় । বোকাসিওর ডেকামেরন এর একটা অসাধারণ গল্প আছে –

এক গুহায় তপস্যারত তরুণ সন্যাসী এক নিষ্পাপ তরুণীকে দেখে ভয়ে কেপে উঠে । তরুণী জানতে চায় , কি হয়েছে সন্যাসী ? সন্যাসী বলে , শয়তান জেগে উঠছে , তাই আমি কাঁপছি ।
তরুণী জানতে চায় , কোথায় শয়তান ? সন্যাসী শয়তানকে দেখায় । তরুণী জানতে চায় , এখন কি করতে হবে ? সন্যাসী বলে শয়তানকে পুড়তে হবে নরকে । তাহলেই আমি সুখী হবো , খুশি হবেন ক্রাইস্ট ! তরুণী বলে , নরক কোথায় পাবো প্রভু ?
সন্যাসী বলে , নরক আছে তোমার নাভীমূলের নীচে । তরুণী বলে , তাহলে আপনি শয়তানকে নরকে পুরুন !
সন্যাসী আর তরুণী শয়তানকে নরকে পুরতে থাকে । দাউদাউ করে নরকে পুড়তে থাকে শয়তান । অবিরাম নরকে পুড়ে নিস্তেজ হয়ে যায় শয়তান কিন্তু তরুণী আবেদন জানাতে থাকে , হে সন্যাসী , আপনার শয়তান তো শাস্তি পেয়ে শান্ত হয়েছে , কিন্তু আমার নরক তো এখনো জ্বলছে !

কামনা কে মানুষ যখনই নৈতিকতা মানদন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে , সে নিজের সাথে প্রতারণা করা শুরু করেছে । আজ মানব সন্তানেরা জন্ম নেয় কথিত পাপের মধ্য দিয়ে ।

পবিত্র সম্পর্ক ফিরে আসুক মানুষের মাঝে ।

৩৩ thoughts on “সেক্স

  1. সমালোচনা: আরো কিছু তথ্যাদির
    সমালোচনা: আরো কিছু তথ্যাদির দরকার বলে মনে হল। যাই হোক, তাও ভালোই লিখেছেন।

    ক্রেডিট: অত্যন্ত সহজ ভাষায় মেসেজ দিয়ে দিতে পারলেন। এইটা আপনার ক্রেডিট। অনেকেই সেক্সুয়াল কন্টেন্ট লিখতে গিয়ে সেটাকে চটি বানিয়ে দেয়। আপনি তা করেন নি। বিয়ে এমন একটি হাস্যকর অনুষ্ঠান যার উপর আমার এক বিন্দু পরিমাণ আস্থা নেই। যৌনতাকে আমরা অবশ্যই লজ্জাজনক বানিয়ে ফেলছি। আর অপরিচিত বিপরীত লিঙ্গের নর নারীর মাঝে ভালোবাসার অনুভূতি পুরোই যৌনতা কেন্দ্রিক। এখানে আমার অমত নেই। তবে কথাটা আমরা এভাবেও বলতে পারি, ভালোলাগার ফলে যৌনতা সৃষ্টি আর যৌনতা হতে ভালোবাসা। এইটা শুধুই অপরিচিত নর নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে আশার কথা হল আধুনিক সমাজ সেক্সকে আস্তে আস্তে ইতিবাচক চোখে দেখা শুরু করেছে। ধর্মেও যৌনতা প্রভাব লক্ষণীয়। ধর্মীয় উপাখ্যান গুলো তার প্রমান। তাছাড়া পরকালে উন্নত বক্ষা হুর পরীর লোভ দেখানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, বিকৃত যৌনতা পরিত্যাজ্য কিন্তু স্বভাবিক যৌনতা লজ্জার বিষয় নয়। বরং মানুষের নিত্যকর্মের অপরিহার্য অংশ বটে।

    কানে কানে কথা: স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড হওয়ার জন্য অভনন্দন।

  2. “আজ মানব সন্তানেরা জন্ম নেয়
    “আজ মানব সন্তানেরা জন্ম নেয় কথিত পাপের মধ্য দিয়ে ।”
    ভালোই বলেছেন।
    আমাদের মন মানসিকতার প্রকাশটা এরকমই…
    কিন্তু,ব্যাখ্যাটা খুব কঠোর মনে হচ্ছে।
    এতটা কঠোর ব্যাখ্যা মনে হয় না বাস্তবসম্মত।
    যাই হোক,
    আপনার সাথে সম্পুর্ণ একমত পোষণ না করতে পারলেও,অনেকটাই একমত।
    আমিও মনে করি,
    “পবিত্র সম্পর্ক ফিরে আসুক মানুষের মাঝে ।”

  3. ভালো লিখেছেন।
    শারীরিক সম্পর্ক

    ভালো লিখেছেন।
    শারীরিক সম্পর্ক মানব জীবনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এই অপরিহার্যকেই মানুষ যত পারে আবদ্ধ করে রাখতে চায়। একে পাপ মনে করে, একে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মনে করে, অথচ এই নিকৃষ্ট কাজের জন্যই নতুন সৃষ্টির জন্ম হয়।
    হাস্যকর লাগে যখন দেখি যাকে নিকৃষ্ট বলা হয়, সেটা ছাড়া কিন্তু চলতে পারে না। নিকৃষ্ট বলে এ থেকে কিন্তু কেউ দূরে থাকতে পারে না।

  4. সবাই শুধু বলছে ভাল লিখেছেন।
    সবাই শুধু বলছে ভাল লিখেছেন। কিন্তু কেউ তার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে নারাজ। এই বিষয়টা নিয়ে আমি ফেসবুকে এর আগে বেশ কয়েকটা লেখা দিয়েছি। কবিতাও আছে। যৌনতা কি কোনো লুকোনোর বিষয়? এটা স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় ঘটনা। আমাদের খিদা পেলে যদি সেটা জানাতে পারি, তৃষ্ণা পেলে যদি জানাতে পারি, তাহলে এই জৈবিক ব্যাপারটার জন্য এত লুকোচুরি আর মেকি অভিনয় এর কি প্রয়োজন? খুব ভাল লাগলো পোস্ট

  5. সেক্সকে আমরা খুন করার চেয়েও

    সেক্সকে আমরা খুন করার চেয়েও খারাপ কিছু মনে করি । মনে করি প্রতারণার চেয়েও নিকৃষ্ট কিছু । আমরা জানি যে আমরা কি চাই । যৌনতা মানুষের আদিমতম এবং বিশুদ্ধতম অনুভূতিগুলোর একটি হওয়া সত্তেও আমরা এটাকে খুব খারাপ কিছু মনে করি । আমরা দিনের আলোতে যৌনাচারকে ট্যাবু ঘোষণা করেছি । গত দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের মগজে একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে , সঙ্গম করতে হয় রাতের অন্ধকারে ; যেনো তা চুরি করতে যাওয়ার মতোই লজ্জার কিছু !

    মানতে পারলাম না। সেক্স জনিত প্রতারনা তো অহরহ হচ্ছে।
    আর সেক্স এমন একটা ব্যাপার যেটা মাঠে ঘাটে করা যায় না। তাছাড়া আমার মনে হয় না সেক্সের সময় কেউ ডিস্টার্ব পছন্দ করে। দিন হল কাজের সময়। সম্ভবত একারনেই দিনের সময়টুকুতে এই কাজটা সবাই এড়িয়ে চলে।

    কোথায় যে যাই। বিয়ের পর এখন সুন্দরী কোন মেয়েকে একবারের বেশী দু বার দেখলেই বন্ধুরা উল্টা পাল্টা কথা বলা শুরু করে।

    1. নাভিদ ভাই, আপনার এই কথাটা
      নাভিদ ভাই, আপনার এই কথাটা বুঝলাম না।
      “”আর সেক্স এমন একটা ব্যাপার যেটা মাঠে ঘাটে করা যায় না।””

      সেক্স মাঠে ঘাটে করা যায়না কথাটা আমাদের দেশের জন্য কতটুকু ঠিক? মাঠে ঘাটে করলে ধর্ষণ আর ঘরে ঢুকে দরজা জানালা বন্ধ করলে সেক্স! উঁহু। মানতে পারিনাই। ইউরোপীয় কয়েকটি কান্ট্রিতে লোকালয়ে জনসম্মুখে সেক্স করা লিগ্যাল করা হয়েছে। আসলে মূল সমস্যা হল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী তে। দিনে দুপুরে সবার সামনে আমরা গালাগালি করতে পারি, অন্যসব অপরাধ করতে পারি, কিন্তু সেক্স করা যাবে না কেন? সেক্স কী অপরাধ? এইটা আঙ্গুল ফুটানোর মতই নিত্যনৈমিত্ত্যিক ব্যাপার বলে ভাবলে হয়না?

      1. হ্যাঁ এটা ঠিক বলেছেন, আসলে
        হ্যাঁ এটা ঠিক বলেছেন, আসলে মূল সমস্যা হল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী তে।

        তবে “দিনে দুপুরে সবার সামনে আমরা গালাগালি করতে পারি, অন্যসব অপরাধ করতে পারি” === অন্যায় তো অন্যায়ই, দিনে করি আর রাতে। উদাহরন ঠিক হয় নাই।

        1. আমার কথাটা বুঝতে পারেন নাই।
          আমার কথাটা বুঝতে পারেন নাই। আমি বুঝাতে চেয়েছি যে,মানুষ দিনে দুপুরে সেক্স করতে পারবেনা কেন? সেক্স কী অপরাধ?

          1. তাহলে বলুন!! আপনি যে বলছেন
            তাহলে বলুন!! আপনি যে বলছেন মানুষ দিনে সেক্স করতে পারবেনা।দিনে মানুষ ভাত খেতে পারলে সেক্স করতে পারবেনা কেন? দুইটাই তো জৈবিক কাজ!!!

          2. পারবে না, সেটা কিন্তু বলিনাই।
            পারবে না, সেটা কিন্তু বলিনাই। বলেছি প্রচলিত না। জৈবিক কাজ হলেও দুটো কাজের মধ্যে পার্থক্য আছে। সেজন্যই হয়তো দিন রাতের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

          3. প্রচলিত না বলে প্রচলিত করা
            প্রচলিত না বলে প্রচলিত করা যাবে না এ কেমন কথা? দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তনের মাধ্যমে সারা পৃথিবী আধুনিকতার জোয়ারে গা ভাসাচ্ছে। জীবনটা খুবই ক্ষুদ্র। যতদিন আছি উপভোগ করে যেতে হবে। এখানে নেতিবাচক,ঋণাত্মক মনোভাব ঝেড়ে ফেলে মানুষকে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। কেউ কারো তৈরী করে যাওয়া পথে হাঁটবে না। সবাই নিজেই নিজের পথ তৈরী করে নেবে। আর কুসংস্কার হতে যতদিন না মানুষ মুক্ত হবে, ততদিন সূর্য যতই আলো দিক, নতুন দিন আসবে না। সব আলো রিফ্লেক্ট হবে কৃষ্ণ গহবরে লীন হয়ে যাবে।

            শুভ বুদ্ধির জয় হোক।

          4. আসলে কথা বার্তা কোন দিকে
            আসলে কথা বার্তা কোন দিকে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না। পরিবর্তন তো আসবেই। সেটা ঠেকাবে কে? কিন্তু পরিবর্তন সব কি ভালো? যতদিন আছি উপভোগ করে যেতে হবে। হ্যাঁ, কিন্তু উপভোগটা নষ্ট পথে করলে তো সমস্যা! তারমানে টা কি? তারমানে হল একটাই যে যত কথাই বলুক, মাথা পরিষ্কার রাখতে হবে। সংস্কারে বা আবেগে গা ভাসালে চলবে না।

          5. আবেগে গা ভাসাবো না ঠিক,
            আবেগে গা ভাসাবো না ঠিক, কিন্তু সংস্কার কী অপরাধ করছে? আর আমি উপভোগ বলতে নীতিগত ভালোদিক উপভোগের কথাই বুঝিয়েছি।

    2. আমি ঠিক বুঝলাম না আমার পুরো
      আমি ঠিক বুঝলাম না আমার পুরো লেখার সাথে সেক্সজনিত প্রতারণার কি সম্পর্ক ।

      আমার মনে হয় না সেক্সের সময় কেউ ডিস্টার্ব পছন্দ করে । দিন হল কাজের সময়। সম্ভবত একারনেই দিনের সময়টুকুতে এই কাজটা সবাই এড়িয়ে চলে

      সেক্স বিষয়টা এরকম যে আপনি চাইলেই ফোন বন্ধ করে দরজা আটকিয়ে করতে পারেন । দিনে হোক বা রাতে । আমাদের এই উপমহাদেশে একশত বছর আগেও এমন অবস্থা ছিলো যে দুই তিনটা বাচ্চা হওয়ার আগে স্ত্রীরা স্বামীর মুখটাও ভালো মত দেখতো না ।

      এমনকি রাতের বেলাও , আমরা আলো জ্বালাতে ভয় পাই । আমরা স্পর্শ করতে ভয় পাই

      1. আমাদের এই উপমহাদেশে একশত বছর

        আমাদের এই উপমহাদেশে একশত বছর আগেও এমন অবস্থা ছিলো যে দুই তিনটা বাচ্চা হওয়ার আগে স্ত্রীরা স্বামীর মুখটাও ভালো মত দেখতো না ।এমনকি রাতের বেলাও , আমরা আলো জ্বালাতে ভয় পাই । আমরা স্পর্শ করতে ভয় পাই

        কী ভয়ানক দিন ছিল সেসব।দিনগুলোর দূর হওয়াটা খুশির বিষয়।কিন্তু দিনগুলোর প্রেতাত্মা দূর হয়নি।এখনও অনেক মানুষ এই মানসিকতা ধারণ করে।তাদেরকে যত্ন সহকারে এভয়েড করা দরকার।

    3. দিন হল কাজের সময়। সম্ভবত

      দিন হল কাজের সময়। সম্ভবত একারনেই দিনের সময়টুকুতে এই কাজটা সবাই এড়িয়ে চলে।

      – অদ্ভুত যুক্তি দিলেন !!!

        1. হেহ, খুব মজা পাইলেন!
          আমি যে

          হেহ, খুব মজা পাইলেন! :ভেংচি:
          আমি যে কথাটা বলেছি সেটা একটা সমীক্ষার ফলাফল। সমস্যা হল, কোথায় পরেছিলাম মনে পড়ছে না। :মাথানষ্ট:

          বাদ দেন। খুঁজে পেলে জানাব।

  6. প্রেমের আবেগে খেলে চুমু

    প্রেমের আবেগে খেলে চুমু প্রেমিকার ঠোটে,
    হয়ে যায় তা গণ্য ব্যাভিচার,
    কত নারী সাতপাকে বন্দী হয়ে ধর্ষিত হয় প্রতি রাতে,
    কে করবে সেই সভ্য ধর্ষণের বিচার?—অমিত লাবণ্য

  7. বিশ্লেষনটা ভালোই ছিল বাট কোথা
    বিশ্লেষনটা ভালোই ছিল বাট কোথা থেকে একটি গল্প জুড়ে দিয়ে পুরো লিখাটাকে কেমন যেন করে ফেললেন ।

  8. চমত্‍কার পোস্ট।মূল বক্তব্য হল
    চমত্‍কার পোস্ট।মূল বক্তব্য হল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।মুক্তচিন্তার অধিকারী হতে হবে।আর শেষের গল্পটা তো হুমায়ূন আজাদ স্যারও তার ‘আমার অবিশ্বাস’ বইটিতে ব্যবহার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *