মওদূদী কথন – ১

মওদূদীর জন্ম হয়েছিল ১৯০৩ সালে। অল্প বয়সেই তার পিতা মারা যাওয়াতে তাকে জীবিকার সন্ধানে, দু’বেলা খাবারের সন্ধানে রাস্তায় বেরিয়ে পড়তে হয়। তার মূল কর্মজীবন শুরু হয় ১৯১৮ সালে উর্দু সাময়িকী এবং সংবাদপত্র দিয়ে। দীর্ঘদিন পত্রিকায় কাজ করে একসময় সে কাজ ছেড়ে দিয়ে হায়দারাবাদে চলে যায় মওদুদী। হায়দারাবাদের নিজামের অনুবাদ বিভাগে কাজ করত তার এক ভাই, সেই ভাইয়ের সুবাদে কিছু অনুবাদের কাজ করে ৫০০০ টাকা পেলে সেই অর্থ দিয়ে খুলে বসে “তরজমানুল কোরআন” আর এই পত্রিকা দিয়েই শুরু হয় তার পা চাটামি, ধর্মীয় লেবাশের তলে।


মওদূদীর জন্ম হয়েছিল ১৯০৩ সালে। অল্প বয়সেই তার পিতা মারা যাওয়াতে তাকে জীবিকার সন্ধানে, দু’বেলা খাবারের সন্ধানে রাস্তায় বেরিয়ে পড়তে হয়। তার মূল কর্মজীবন শুরু হয় ১৯১৮ সালে উর্দু সাময়িকী এবং সংবাদপত্র দিয়ে। দীর্ঘদিন পত্রিকায় কাজ করে একসময় সে কাজ ছেড়ে দিয়ে হায়দারাবাদে চলে যায় মওদুদী। হায়দারাবাদের নিজামের অনুবাদ বিভাগে কাজ করত তার এক ভাই, সেই ভাইয়ের সুবাদে কিছু অনুবাদের কাজ করে ৫০০০ টাকা পেলে সেই অর্থ দিয়ে খুলে বসে “তরজমানুল কোরআন” আর এই পত্রিকা দিয়েই শুরু হয় তার পা চাটামি, ধর্মীয় লেবাশের তলে।

একজন লেখক যার নাম রইস আহমদ জাফরী তার ‘দিদা ও শানীদ‘ গ্রন্থে মওদুদী সম্পর্কে লিখেছিলেন- “১৯৩৭ সালের এক হিমেল সন্ধ্যায় বোম্বাইয়ে খেলাফত হাউসের অতিথি শালায় একজন নবাগুকে দেখতে পেলাম। …. দাড়ি-গোঁফ কামানো এবং ইংলিশ কাটিং-এর চুল। সুদর্শন ও ডাগর ডাগর চোখওয়ালা।

মওদুদী যখন “তরজমানুল কোরআন” বের করে তখন সে হায়দারাবাদের নিজামের রাজতন্ত্রে বসবাস করত। তার পত্রিকার একটা বিশাল অংশ সেই রাজতন্ত্রের ধর্ম সংক্রান্ত বিভাগ ক্রয় করে নিতো, কেননা মওদূদী সেখানে রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বৈধতা ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ করে তুলত। এমনকি সে ঘোষণা করেছিল – “জনগনের সরকার, জনগনের দ্বারা, জনগনের জন্য – মুসলমান হিসাবে আমি এ নীতির সমর্থক নই।” [সিয়াসী কাশমকাশ, মাওলানা মওদুদী, ৩য় খন্ড, ৬২ পৃঃ]

একইসাথে ব্রিটিশদের পা চাটতে গিয়ে মওদুদী, সিয়াসী কাশমকাশ, ৩য় খন্ডের ১০৮ পৃষ্ঠায় বলেছে- “বিশ্বের অন্যান্য জাতির মত আমাদের স্বাধীনতার অর্থও কি এই যে, বিজাতির শাসনমুক্ত হওয়া? স্বজাতির শাসন কিংবা স্বদেশীর শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া কি আমাদের লক্ষ্যের জন্য প্রয়োজন?

আবার একই গ্রন্থের প্রথম খন্ডের ৫৬ পৃষ্ঠাতে সে দাবী করেছিলো- “যে আজাদী জাতীয়বাদীদের লক্ষ্য তার সমর্থনে সংগ্রাম করার কোনো অর্থ নেই। …… তাদের সমর্থক মুসলমানরা কোন অবস্থায়ই মীর জাফর মীর সাদেক থেকে ভিন্নতর নয়।

একই গ্রন্থে কংগ্রেসের বিরোধিতা করে ১০৫ পৃষ্ঠায় লিখেছিল- “… অনুরুপ এই আন্দোলন আমাদের জাতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এর সাথে শরিক হওয়ার অর্থ আমাদের নিজেদের জাতীয়তা ও তাহজিব-তমদ্দুন নিশ্চিহ্ন করায় অংশগ্রহন করা।

অথচ এই মওদুদী আশ্চর্যজনকভাবে কংগ্রেসের পক্ষেই গান দেওয়া শুরু করে তাও আবার “ইসলামিক ব্যাখা(!!)” দিয়ে, যখন উপমহাদেশের আলেমরা কংগ্রেসকে সমর্থন জানায়। মাওলানা মাওদুদী আউর জামায়াতে ইসলাম নামক গ্রন্থের ১৮ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে- “খেলাফত ও সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হলে আমি এ দুটো আন্দোলনের পক্ষে কাজ করি। সে সময় আমি গান্ধীজির জীবন চরিত লিখি। আমার এক বন্ধু পুলিশ সুপারকে জানিয়ে দেয়। ছাপা অবস্থায় বইটি বাজেয়াপ্ত হয়। …. জব্বলপুরের মুসলমানদেরকে কংগ্রেসে উৎসাহদানকারীদের নিধ্যে আমিও একজন ছিলাম।…… এখন দেশের জন্য দুটো পথ রয়েছে। প্রথমটি হলো, নিজেদের আবেগ – অনুভুতির বশবর্তী হয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা এবং যেদিকে ইচ্ছা পা বাড়ানো। দ্বিতীয়টি হলো, কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত মেনে চলা। এক মুহুর্তের জন্যও এর বিরোধিতার মনোভাব পোষণ না করা। প্রথম পথ অনুসরণের পরিণতি আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। দ্বিতীয় পথ যদিও আমাদের আবেগ – অনুভুতি বিরোধী, তবু এটাই হচ্ছে ঐক্য ও সংহতির পথ।

এখানে তার ইসলামিক ব্যাখাটি হচ্ছে “প্রথম পথ অনুসরণের পরিণতি আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী” লাইনেই আছে। কেননা তার আগের কথাবার্তা এবং চালচলনে সর্বদাই কোন কিছুকে ধর্মীয় দৃষ্টি থেকে জায়েজ করতে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এই দুই শব্দের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষণীয়।

পরিশেষে নিজ থেকে আর কিছুই বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা উপরিউক্ত তথ্যাদি থেকেই মওদুদীর চরিত্র কিরুপ তা স্পষ্টতই প্রমাণিত হয়। আগামী পর্বে পাকিস্তান জন্মের বিরোধিতা পরে আবার পাকিস্তানেরই পা চাটার তথ্য তুলে ধরা হবে।

[তথ্যসুত্রঃ- জামাতের আসল চেহারা – মওলানা আবদুল আউয়াল]
পূর্বে প্রকাশিত

৮ thoughts on “মওদূদী কথন – ১

  1. মউদুদির জীবনী আরও একটু
    মউদুদির জীবনী আরও একটু বিস্তারিত হলে ভাল লাগতো। তার পরবর্তী কর্মকাণ্ড বুঝতে সহায়ক হত। জামাতের মত জারজ সংগঠন এর ভাব দার্শনিক এর সমন্ধে জানানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. ভাইরে আমি যেই তথ্যসুত্র
      ভাইরে আমি যেই তথ্যসুত্র দিয়েছি সেখান থেকে পড়ে কেটে ছেঁটে নিজের মত করে লিখেছি। চেষ্টা করেছি উল্ল্যেখযোগ্য অংশ তুলে ধরার যা নিজের ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে গুরুত্বপূর্ণ লেগেছে। তারপরেও বলব পাঠকের ক্ষুধা নিবারণে পাঠকের মন্তব্য, পরামর্শ এবং দিক নির্দেশনা অনুযায়ী যথাসাধ্য চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

      কয়েকদিনের মধ্যেই পাকিস্তান পর্ব তুলে ধরবো। অল্প অল্প করে দেয়ার কারণ হচ্ছে একসাথে অনেক বড় করে, অনেক কিছু দিয়ে ভরিয়ে পোস্ট দিলে অনেকের মাথাতেই তা থাকে না। বিশেষ করে আমার মত মূর্খদের মস্তিষ্কে তো থাকেই না, তাই ছোট ছোট করে দেয়া যাতে মনে থাকে।

  2. জারজ মওদুদী…
    সুমিত

    জারজ মওদুদী… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:
    সুমিত চৌধুরী ভাই,
    ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি পোস্টের জন্য।
    আপনার পরবর্তি পর্বগুলোর আপেক্ষায় রইলাম,তবে সেগুলো আরো বেশি তথ্যপুর্ণ ও গোছানো হলে খুশি হবো।
    :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা:

    1. তবে সেগুলো আরো বেশি তথ্যপুর্ণ

      তবে সেগুলো আরো বেশি তথ্যপুর্ণ ও গোছানো হলে খুশি হবো।

      আরো কি তথ্য দেয়া যেতে পারে আরো কিভাবে গুছিয়ে লেখা যেতে পারে সেই বিষয়ে যদি একটু জানাতেন।

  3. মউদুদী হল ছাগুদের নবী ।তার যত
    মউদুদী হল ছাগুদের নবী ।তার যত কুকর্ম আছে সব একে একে তুলে ধরতে হবে ।মউদুদীর অনুসারীদের কাছে তার আসল চেহারা তুলে ধরতে হবে ।ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও কাজটি আমাদেরই করা উচিৎ ।ধন্যবাদ সুমিত ভাই ।হাত যখন দিয়েছেন তখন মউদুদীর আরো কিছু অসংগতি তুলে ধরবেন আশা করি ।

    1. মওদুদীর যা কিছু জানি তুলে
      মওদুদীর যা কিছু জানি তুলে ধরবো। আগেই বলেছি অল্প অল্প করে দেওয়ার কারণটা কি। তবে মওদূদীর ইসলাম ধর্মাবমাননা নিয়ে আমার আগেই লেখা দুটি পোস্ট আছে চাইলে সেগুলোও দেখে নিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *