অসমাপ্ত ঠিকানা

তাড়াতাড়ি করে স্টেশনে এসে বসে আছে মেয়েটি।সে স্টেশনে
সময়মতই পৌঁছেছে।কিন্তু ট্রেন বাবাজির
দেখা নেই।কিছুক্ষণের মধ্যে খবর দিল স্টেশন মাষ্টার,
বরাবরের মত এবারও ট্রেন এক
ঘণ্টা লেইট।কি আর করা!
মেয়েটি ওয়েটিং রুমে চুপচাপ বসে এক
ঘণ্টা পার করল।ট্রেন তবুও আসছেনা।
অনেক লোকের ভীড়ে বেশ কিছুক্ষণ
ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে সে।অবশেষে দূর



অসমাপ্ত ঠিকানা
______________

তাড়াতাড়ি করে স্টেশনে এসে বসে আছে মেয়েটি।সে স্টেশনে
সময়মতই পৌঁছেছে।কিন্তু ট্রেন বাবাজির
দেখা নেই।কিছুক্ষণের মধ্যে খবর দিল স্টেশন মাষ্টার,
বরাবরের মত এবারও ট্রেন এক
ঘণ্টা লেইট।কি আর করা!
মেয়েটি ওয়েটিং রুমে চুপচাপ বসে এক
ঘণ্টা পার করল।ট্রেন তবুও আসছেনা।
অনেক লোকের ভীড়ে বেশ কিছুক্ষণ
ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে সে।অবশেষে দূর
থেকে ট্রেন হুইসেল
দিতে দিতে আসছে।
দৌঁড়ে গিয়ে ট্রেনে উঠে বসেছে মেয়েটি।
তার পাশের
সিটে বসেছে মোটাসোটা এক
খালাম্মা।খালাম্মার যে কত প্রশ্ন!!
হাসিমুখে সব প্রশ্নের উত্তর
দিয়ে চলেছে মেয়েটা।সময় ভালই
কাটছে।

মোটাসোটা খালাম্মা সামনের
স্টেশনে নেমে গেলেন।তখন তার
পাশে এসে বসল একটা সুদর্শন পুরুষ।
দেখতে ভালই লাগছে ছেলেটাকে।
অদ্ভুত সুন্দর।তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।নিষ্পাপ চেহারা। ছেলেটা খুব
বেশি ভদ্রতা নিয়ে চুপচাপ বসে আছে।
কোনো কথা বলছেনা।মেয়টিরও
একা একা ভাল লাগছে না।
লং জার্নি একা একা করলে মেয়েটি খাওয়ার
উপর ব্যস্ত থাকে।এটা সময় কাটানোর
একটা অভিনব উপায় তার।
সে ব্যাগে করে অনেক খাবার
পুরে এনেছে।ছেলেটার
বিপরীতে ঘুরে মেয়েটা খাওয়া শুরু
করে দিয়েছে।মনে মনে ভাবছে পাশের
মানুষটি যেহেতু অপরিচিত ছেলে সেহেতু আগ বাড়িয়ে খাবার সাধলে ভাল
হবেনা।আবার
এইভাবে পাশে বসা একজনের
সামনে খেতেও লজ্জা লাগছে।তারপরও
সে তার খাওয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
মেয়েটি দেখল ছেলেটি বারবার
তাকে দেখছে।ইশ!খাওয়াকালীন সময়
এভাবে গজগজ করে তাকাতে হয় নাকি!!
মেয়েটি খাওয়া শেষ
করে তার মোবাইলে মুভি দেখা শুরু করেছে।
তার সাথে ছেলেটিও মুভি দেখছে।
মেয়েটি মনে মনে বলছে,
‘আরে আজব!
কথা বলে না অথচ কেমন করে আমার
পাশ ফিরে তাকিয়ে আছে।’

তাদের ট্রেন জার্নির অনেক্ষণ
হয়ে গেছে।একসময় মেয়েটি চাচ্ছিল
ছেলেটি যেন তার সাথে কথা বলে।
সে নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে কিছু বলবে না।
ছেলেটি একবার কথা শুরু করলেই আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে সময়
কেটে যেত।কিন্তু
ছেলেটি তাকিয়ে থাকে,কথা বলেনা।দেখতে দেখতে তারা গন্তব্যে পৌঁছুল।সবাই
ট্রেন থেকে একে একে নামতে লাগল।
ছেলেটি বসে আছে।মেয়েটি তার কিছুই
বুঝতে পারছেনা।একটু পর
ছেলেটি উঠে দাঁড়ালো।এরই
মাঝে সেখানে একটি লোক এসেছে।
ছেলেটিকে নিয়ে নামছে ট্রেন থেকে।
মেয়েটি তবুও কিছু বুঝলনা।
ছেলেটি হেঁটে যাচ্ছে।মেয়েটি দেখছে তাকে।
সে সাহায্য নিয়েছে একটি বস্তুর।যা ছেলেটি ট্রেনে বসার সময় মেয়েটি খেয়াল করেনি।তার হাতে একটি সাদাছড়ি।মেয়েটির
হঠাৎ খুব কান্না পাচ্ছে
ছেলেটিকে এই অবস্থায় দেখে।এতক্ষণ এই
ছেলেটির পাশে বসে থেকেও
সে বুঝতে পারেনি ছেলেটি অন্ধ।তার কেন যেন
খুব মায়া হচ্ছে ছেলেটির জন্য।
জানতে ইচ্ছে করছে ছেলেটির
সম্পর্কে।


ছেলেটি চলে যাচ্ছে,ঝাপসা হয়ে আসছে মেয়েটির চোখে।অসমাপ্ত ঠিকানা নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ছেলেটি।
আর মেয়েটি দাঁড়িয়ে,অনেক অনেক
দূরে দাঁড়িয়ে ••••••••••

১২ thoughts on “অসমাপ্ত ঠিকানা

  1. লেখাটি কি আপনি মোবাইল থেকে
    লেখাটি কি আপনি মোবাইল থেকে লিখেছেন ?
    দুর্বল লেখনী তবে গল্পটা চমকপ্রদ !
    শুভকামনা !!!

  2. প্রথমে বুঝতে পারিনি শেষে এমন
    প্রথমে বুঝতে পারিনি শেষে এমন একটি টুইস্ট থাকবে। ভাল লিখেছেন বটে। :তালিয়া: :তালিয়া:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *