রুপসী মেয়ের হাসি

– তোমার বৃষ্টি ভালো লাগে ?
– না
– জ্যোৎসনা ভালো লাগে ?
– না
– তোমার কি ভালো লাগে তাহলে?
– জানি না

ইরা বিরক্ত হয়ে চুপ করে রয়ল। তার মনে হচ্ছে সে কোনো ছেলের সাথে নয় রোবটের সাথে দাড়িয়ে আছে।ইচ্ছে করে দাড়িয়ে নেই বাধ্য হয়ে দাঁড়াতে হয়েছে।আজ ভার্সিটি বন্ধ্ ছিলো।অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে আসা । এসেই পরেছে বিপদে। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বের হওয়ার উপায় নেই তাই দাড়িয়ে আছে।


– তোমার বৃষ্টি ভালো লাগে ?
– না
– জ্যোৎসনা ভালো লাগে ?
– না
– তোমার কি ভালো লাগে তাহলে?
– জানি না

ইরা বিরক্ত হয়ে চুপ করে রয়ল। তার মনে হচ্ছে সে কোনো ছেলের সাথে নয় রোবটের সাথে দাড়িয়ে আছে।ইচ্ছে করে দাড়িয়ে নেই বাধ্য হয়ে দাঁড়াতে হয়েছে।আজ ভার্সিটি বন্ধ্ ছিলো।অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে আসা । এসেই পরেছে বিপদে। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বের হওয়ার উপায় নেই তাই দাড়িয়ে আছে।

রাতুলের মন ভালো নেই।কেনো ভালো নেই সে কারন খুজে পাচ্ছে না।পাশে থাকা মেয়েটি বেশ সুন্দর।চেহারায় কেমন যেনো মায়া মায়া ভাব আছে। বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে এই সময় সুন্দরি কোনো মেয়ে পাশে থাকলে মন এমনিতেই ভালো হয়ে যাওয়ার কথা।মেয়েটিকে সে আগে ক্যাম্পাসে দেখেনি আজি প্রথম দেখেছে।

রাতুলের জগৎটা সম্পূর্ণ আলাদা।সে জগতের মানুষ গুলো খুব সীমিত। আপন বলতে একজনি আছে তার মা। বাবার সাথে তেমন মিশেনি তাই বাবাকে আপন ভাবতে তার খারাপ লাগে। ছোটোবেলা থেকে পড়ালিখা নিয়ে ছিলো ।তাই বাহিরের কোনো কিছুর মায়ায় নিজেকে জড়াতে পারিনি। এই জন্য বন্ধু গুলো তাকে রোবট মানব ডাকে। রোবট মানব শুনতে রাতুলের খারাপ লাগে।রাতুলে ইচ্ছে কোনো এক সময় কোনো কেউ তার জীবনে এসে এই রোবটকে সাধারণ মানুষ বানাবে। তাকে বাহিরের জগৎটি চিনাবে। যার বৃষ্টি ভালো লাগবে। জ্যোৎসনা দেখতে ইচ্ছে হবে। যে জ্যোৎসনায় এক রুপসী এসে তার পাশে বসব।যার সপ্ন সে প্রতিরাতে দেখে।সে রূপসীর পড়নে থাকবে নীল শাড়ি তারা সারারাত বসে জ্যোস্না দেখবে আর গল্প করবে । রুপশিটি মাঝে মাঝে হাসবে রাতুল মুগ্ধ হয়ে সে হাসি দেখবে |

রাতুল ইরা পাশাপাসি রিকশায় বসে আছে।বৃষ্টির দিন রিক্সা পাওয়া রিতিমতো ভাগ্যের বেপার।রাতুল আর ইরার ভাগ্য ভালো।অনেক কষ্টে রিক্সা পেয়েছে।

রাতুল রিক্সায় জড়সরো হয়ে বসে আছে।এই প্রথম সুন্দরি মেয়ের পাশে বসেছে তাও আবার রিক্সায়।কোনো ছেলের পাশে কোনো মেয়ে বসলে স্বভাবতই ছেলেটির ভালো লাগার কথা কিন্তু রাতুলের লজ্জা লাগছে। যাদের গায়ের রঙ ফর্সা কিংবা সুন্দর তারা লজ্জা পেলে তাদের চেহারা লাল হয়ে যায়। তখন তাদের বাবু বাবু লাগে। রাতুলকে এখন বাবু বাবু লাগছে কিনা তার জানা নেই।আয়না থাকলে চেক করে দেখত।তার কাছে আয়না নেই। থাকলে চেক করে দেখা দেখতো |

রাতুল এখন আর লজ্জা পাচ্ছে না তাকে নার্ভাস দেখাচ্ছে। আকাশ আবার মেঘলা হচ্ছে চারদিকে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব এই অবস্থায় সে ঘামাচ্ছে|কপালে মিদু মিদু ঘাম জমছে | এটা আরেকটা দুশ্চিন্তার কারণ। তার মনে হচ্ছে তার বডি ফাংশনে ত্রুটি আছে |লজ্জা পেলে কেউ ঘামায় তার জানা ছিলো না |

রিক্সাওয়ালার উপর সে বিরক্ত এতো আস্তে কেউ রিক্সা চালায়? রিকশা দ্রুত চালানোর জন্য বলতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না |কথা জড়িয়ে যাচ্ছে , জরিয়ে কথা বলা সুন্দরী মেয়েরা পছন্দ করে না | ক্ষেত ক্ষেত লাগে|রাতুল ক্ষেত না সে স্মার্ট ছেলে |তার মা বলেছে সে স্মার্ট । মেয়েটির সামনে হঠাৎ কেন সে সাজতে চাচ্ছে তা ও বুঝে উঠতে পারছে না। তবু ও সে স্মার্ট ভাব নিয়ে রিকশা ওয়ালাকে বলে

– চাআচ্চু একটু জোরে চালান

রাতুল আবার লজ্জা পাচ্ছে | রিক্সাওয়ালাকে স্মার্টদের ভাষায় কেউ চাচ্চু ডাকে কিনা সে জানে না. মনে হয় ডাকে না|ডাকলে মেয়েটি হাসতো না ।রাতুল অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ।মেয়েটি হাসচ্ছে ।মেয়েদের হাসি এতো সুন্দর হয় ? মেয়েটির হাসি তার স্বপ্নের রুপসী মেয়েটির মতো। মেয়েটির হাসি শব্দ শুনতে তার ভাল লাগছে |গুরি গুরি বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে |অলক চাইছে বৃষ্টি হোক ।সুন্দরী মেয়ের সাথে বৃষ্টিতে ভিজেনি সে |সে ভিজতে চায় |হঠাৎ ভুর কুচকাল সে| কদম ফুলের গন্ধ পাচ্ছে কেনো | এখানা কদম ফুল আসার কথা না |হতাশ হয়ে ভাবলো তার বডি ফাংশনটা সত্যি গেছে

– চকলেট খাবেন ?

রাতুল অবাক হয়ে তাকালো বৃষ্টির দিনে কেউ চকলেট খায় কিনা সে জানে না |সুন্দরী মেয়েরা খেতে পারে|স্মার্ট ছেলেরা খায় না।

– জি না থ্যাঙ্কস …

রাতুল আবার লজ্জা পেল মেয়েটি মুচকি হাসছে।

– চকলেট না খেলে হাসতে হয় ?
– না তো
– তাহলে হাসছেন কেনো?
– আপনার চাচ্চুর কথা ভেবে

রাতুল অন্য দিকে তাকালো । সে হাসছে সুন্দরী মেয়েটির সাথে | ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে | বৃষ্টি আর হাসির শব্দ মিলে পরিবেশ আরও সুন্দর করে তুলছে .

ইরা রাতুলের দিকে তাকালো। ছেলেটার চেহারায় কেমন বোকা বকা ভাব। হাসলে বোকা ভাবটা ফুটে উঠে। বোকা ছেলেরা ভালো হয়। তারা তাদের ভালবাসার মানুষ গুলোকে ভালবাসা দিয়ে আগলিয়ে রাখে। তাদের কোনো চাঅওয়া থাকে না তারা শুধু ভালবাসা চায়।

ইরা এমন একটি ভালবাসার মানুষ চায়। যে তাকে শুধু ভালবাসা দিবে কখন রাগ করবে না। ঝগড়া করবে না। যখন ইরা রাগ করবে সে এসে রাগ ভাঙ্গাবে। বাবুদের মতো মুখ গুম্‌রা করে রাগ ভাঙ্গাবে।

– তুমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজেছ ?
– না
– কেনো ?
– এমনি
– আজ ভিজবে
– কার সাথে ?
– আমার সাথে , আমরা দুজন বৃষ্টিতে ভিজব সারাদিন। তার পর কোনো এক দীঘির পাড়ে বসে গান গাইবো , তুমি গান গায়তে পারো?
– না
– আমি পাড়ি , আমি গাইবো তুমি শুনবে , কি হল শুনবে না ?

ঝুমু ঝুমিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। রাতুল রিকশার হুট খুলে দিল। বৃষ্টির ফোঁটা তাদের গায়ে পড়ছে। তারা ভিজছে।

ইরার দিকে তাকালো রাতুল। ইরা হাসছে। রাতুল অবাক হয়ে সা হাসি দেখছে। কারো হাসি এতো সুন্দর হয় ? অবাক হল রাতুল। ইরার হাসি একেবারে স্বপ্নের রুপসী মেয়েটির মতো। রাতুল মুগ্ধ দৃষ্টিতে সে রূপসীর হাসি দেখছে |

১২ thoughts on “রুপসী মেয়ের হাসি

      1. হুম, বুঝতে পেরেছি
        হুম, বুঝতে পেরেছি ।
        ট্রেনিংরুম, ইষ্টিশন বিধি ভালো করে পড়ুন, অনেক তথ্য পাবেন ।
        আর ইংরেজিতে পোস্ট বা কমেন্ট করা ইষ্টিশন বিধির পরিপন্থি ।

  1. নতুন ব্লগার হিসেবে স্বাগতম।
    নতুন ব্লগার হিসেবে স্বাগতম। আসুন, বসি, এক কাপ কড়া লিকারের চা খাই, দেখি……….
    ইস্টিশনবিধি গুলো পড়ে আসলে খুব ভালো হয়। শুভ কামনা রইলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *