পথশিশু

ছোট ছেলেটি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার হাত পিছন দিক থেকে বাঁধা।বয়স কতোই বা হবে বরো জোড় ১২বছর।১২ বছরের ছোট্ট কিশরের গোলাপী ঠোঁটটি লাল হয়ে আছে।সে ঠোঁট দিয়ে বেয়ে রক্ত ঝড়ছে।সে রক্ত দেখে কারো মায়া হচ্ছে না।চোরদের প্রতি মায়া দেখাতে নেয়।একটু আগে সে চুরি করেছে।বেশী কিছু চুরি করেনি একটি সামান্য পাওরুটি। ইচ্ছে কিংবা শখের বশে করেনি বাধ্য হয়ে করেছে। নিজের জন্য না তার ছোট্ট বোনটির জন্য।অন্য যা কিছু সহ্যকরা যাক খুদার জ্বালা সহ্য করা যায় না।তবুও এই ছোট্ট শিশুটি করেছে।দুইদিন ধরে না খেয়ে ছিলো।যখন আর পারেনি তখন সাহাজ্জের হাত বাড়িয়ে ছিলো ।সাহায্য পায় নি।সমাজের সবার অনেক ব্যাস্ত তাদের সাহায্য করার সময় নেই।শেষমেস খুদার জ্বালা আর বোনের কষ্ট দেখে সহ্য হয়নি।চুরি করতে এসেছিল ।কাঁচা হাত তাই ধরা পড়েছে।

অনেক দর্শক উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।চোর ধরা পরায় তাদের চোখে মুখে আনন্দ।কারো মনে এমন প্রশ্ন জাগেনি কেনো সে চুরি করেছে। একটু আগে যে ছেলেটি যাদের কাছে সাহাজ্জের হাত পেতে ছিলো সে এখন চোরের মঞ্চে।আর তার দর্শক । তাদের এইসব জানার প্রয়োজন নেয় । সে চুরি করেছে বাস।অনেকদিন পর এরকম মজার দেখতে পারছে তাতে সবাই খুশি।শুধু শুধু উটকো চিন্তা আনন্দটা কেউ হাড়াতে চায় না ।

ছেলেটি এখন দাঁড়িয়ে নেয় বসে পরেছে।এটুকু শরীরে আর কতই বা মার খাওয়ার শক্তি থাকে।যে এসেছে সেই মেরেছে।কেউ কেউ কারণ জানা ছাড়া মেরেছে।একটু আগে একজন না এসে কয়েকটি চড় বসিয়ে দিয়েছে তারপর জিগ্যেস করেছে “ভাইজান ছেরা তারে বাইন্ধা রাখছে কেন করোঁছেটা কি ?” ।তাদের অবশ্যই ওতো কিছু জানার প্রয়োজন নেয় । রাস্তার এক টোকায়কে মারতে এতো কিছু ভাবা লাগে না |

রাস্তার ভিড় ধীরে ধীরে কমছে।মজার দৃশ্য দেখা শেষ কেউ খুশি হয়েছে আর কেউ হতাশ চোর বেটাকে মারতে না পেরে।তবে সবাই মোটামুটি খুশি হয়েছে ফ্রীতে এত মজা নিতে পেরে ছে কারো বিবেকে ছেলটার জন্য এততুকু মায়া জন্মায়নি ।

ছেলেটি উঠে দাঁড়ালো তার বাঁধন খুলে দেওয়া হয়েছে।না লোক গুলোকে যতটা খারাপ ভেবেছিল তারা ততটা নয়।তাকে তারা পুলিশে দেয়নি।আরেকটি ভালো দিক আছে যে রুটির জন্য এতো কিছু সে রুটিটি অক্ষত আছে।ভাল হয়েছে বোনটির জন্য কিছু নিতে পারছে এই অনেক।

ছেলেটি ঢুলে ঢুলে হাটছে। রুটিটি শক্ত করে ধরা।চুরি করেছে তার শাস্তিও পেয়েছে এখন কি তার পাপ হবে ? তার জানা নেই।

রাস্তায় অনেক জেম।পুলিশ গুলো ছুটাছুটি করছে।সব গাড়ি থেমে গিয়েছে শুধু একটি গাড়ি সামনে এগুচ্ছে বোধয় বিরাট মাপের মানুষ হবে।হয়তবা মন্ত্রী মিনিষ্ঠার এই জাতীয়।পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে তার নিরাপত্তা দিতে।পথশিশু গুলোর কোনো নিরাপত্তা নেয়।তাদের সব চিন্তা নিজেদের ।সমাজে তারা উটকো ঝামেলা ।সেই ঝামেলা গুলো নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেয় |

আকাশের দিকে তাকালো ছেলেটি।সন্ধ্যা হয়ে আসছে আরেকটি নতুন সকাল আসবে এই পথশিশু গুলো জীবন আলোকিত করে নতুন সূর্য উঠবা না।দীর্ঘ শাস ফেলল ছেলেটি| উপরে যে বসে আছে তার উপর অনেক অভিমান তার।জমেছে অনেক প্রশ্ন কখনো দেখা হলে জিগ্যেস করবে|

১২ thoughts on “পথশিশু

  1. কাহিনীটা কিছুটা সিনেমাটিক মনে
    কাহিনীটা কিছুটা সিনেমাটিক মনে হলে অবাস্তব নয় ।
    পথশিশুদের জন্য এনজিও সংস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও আরো বেশি কিছু করা উচিৎ ।

  2. কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম কলেজের
    কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম কলেজের প্যারাড গ্রাউন্ডে প্রায় অনুরূপ ঘটনা ঘটে। একটি টোকাইকে সবাই মিলে প্রায় মেরেই ফেলছিলো। আমি এবং আরো কয়েক জন বন্ধু অনেক কষ্টে ম্যানেজ করি। টোকাই টা আমার হাত ধরে রেখেছিল ভয়ে। বিশ্বাস করুন, আমার উপর এতো দৃঢ় নির্ভরতা নিয়ে আর কেউ কখনো এভাবে হাত ধরেনি।

  3. সমাজের এই নির্মম পরিহাস নগ্ন
    সমাজের এই নির্মম পরিহাস নগ্ন চোখে আমরা প্রতিদিনই দেখতে পাই। আমাদের আনন্দের বলি হয় এই নিস্পাপ শিশুদের। অথচ কাউকে সাহায্য করতে গেলে আমাদের দুঃখের সীমা থাকে না!!!!!

    ভাল লিখেছেন। কয়েকটা বানান ভুল বাদে। চালিয়ে যান। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. নিঃসন্দেহে কারো কিছু চুরি বা
    নিঃসন্দেহে কারো কিছু চুরি বা ছিনতাই হওয়া দুঃখজনক। কিন্তু এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটলে বাঙালির মনে হয় ঈদ লেগে যায়। এইরকম উৎসব উৎসব ভাব শুরু হয়ে যায়। ক্যামনে কি? হিসাব মেলেনা।

  5. একটা ভিডিও দেখেছিলাম ফেসবুকে।
    একটা ভিডিও দেখেছিলাম ফেসবুকে। চোখে পানি এসে গিয়েছিলো।
    কতো অহেতুক টাকা খরচ করি আমরা। কিন্তু এদের জন্য খুব অল্প পরিমাণ খরচ করলে এমন কোন ক্ষতি হয় না।
    কি নির্মম এদের জীবন…।

  6. ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়

    ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় / পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি

    —এই শিশুরাই সুযোগ ও অধিকার বিহীন ভাবে একদিন বড় হবে । পাকা চোর, বাটপার, ছিনতাইকারী হবে, হবে ডাকাত কিম্বা ভয়ানক খুনী । আচ্ছা এই সমাজ, এই ব্যবস্থাই কি প্রকারন্তরে একজন ছিনতাইকারী বা ডাকাত বা খুনী তৈরি করছেনা … ???

  7. বাংলাদেশের সামনে যে কী
    বাংলাদেশের সামনে যে কী অপেক্ষা করছে! এই টোকাইরা কি বড় হয়ে চোর-ডাকাত হবে না! কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *