*** রক্ত চেয়ে যারা পোস্ট দেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ***

যুগটা এখন ডিজিটাল। আমাদের জগৎটাও তাই (অনেকাংশেই) ভার্চুয়াল! দৈনন্দিক জীবনের মধ্যেও ভার্চুয়াল জগৎটাকে এখন আর তাই উপেক্ষা করার উপায় নেই… সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যখন অনেক জরুরী তথ্য সরবারহের শক্তিশালী মাধ্যম তখন কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা জরুরী। বিশেষ করে পোস্টটা যদি হয় রক্তের মত গুরুত্বপূর্ণ ও অতি জরুরী একটা বিষয় নিয়ে…


যুগটা এখন ডিজিটাল। আমাদের জগৎটাও তাই (অনেকাংশেই) ভার্চুয়াল! দৈনন্দিক জীবনের মধ্যেও ভার্চুয়াল জগৎটাকে এখন আর তাই উপেক্ষা করার উপায় নেই… সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যখন অনেক জরুরী তথ্য সরবারহের শক্তিশালী মাধ্যম তখন কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা জরুরী। বিশেষ করে পোস্টটা যদি হয় রক্তের মত গুরুত্বপূর্ণ ও অতি জরুরী একটা বিষয় নিয়ে…

অনেক সময় আমরা রোগি নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত, ঝামেলা বা তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকি যে ফেজবুকের বিভিন্ন গ্রুপে বা পেজে গুছিয়ে একটা পোস্ট দেবার মত সময় থাকে না। তাড়াহুড়োর চোটে ২ মিনিটের মধ্যে কোন রকমে একটা পোস্ট লিখে আপলোড করে দিই। কিন্তু এর ফলাফল সম্পর্কে অনেকেই অবগত নই…!

বাস্তবতা হলো- এধরনের পোস্ট অনেকেই লাইক/শেয়ার করে ঠিকই কিন্তু অপূর্ণাংগ তথ্যের কারণে বেশীর ভাগ ডোনারই পোস্টগুলোকে “ইগনর” করে বা এড়িয়ে যায়! অনেকেই কমেন্টের ঘরে রোগীর বিস্তারিত অবস্থান জানতে চায়… দেখা যায় পোস্টকারীকে তখন কমেন্ট পড়ে পড়ে আবার সেগুলোর উত্তর দিতে হয়! এতে আগের চেয়েও বেশী সময় লাগে কিন্তু রেজাল্ট আসে অনেক কম! কারণ, সবাই পোস্টটাই দেখে- প্রতিটা কমেন্ট ধরে ধরে পড়ার মত ধৈর্য, সময় বা সুযোগ বেশীর ভাগেরই থাকে না। তারচেয়ে বড় কথা সেসব কমেন্টগুলো শুধু ঐ নির্দিষ্ট পেজেই দেখা যায়। কিন্তু মূল পোস্ট থেকে যেসব শেয়ার হয়েছে সেগুলোতে দেখা না যাবার কারণে ফলপ্রসূ হয় না। অর্থাৎ, আপনি যথা সময়ে পর্যাপ্ত ডোনার পান না!
কাজেই তাড়াহুড়োর ২ মিনিটের খেসারত পরবর্তিতে ১০ মিনিট খরচ করেও কাজে আসে না! এর চেয়ে প্রথমেই একটু সময় নিয়ে ৫ মিনিট খরচ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি?

এখন কথা হচ্ছে- ডিটেইল কেন প্রয়োজন?
এই প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পেজের এডমিনরা দিয়েছেন। তবুও আবার বলছিঃ
লক্ষ্য করুন- একজন ডোনার কিন্তু প্রফেশনাল রক্ত বিক্রেতা না! তিনি কখনোই চাইবেন না তার বিনামূল্যে দান করা রক্ত কোন অসাধু প্রতারকের ব্যাবসার পণ্য হোক। এখন ফেসবুকের পেজগুলোতে চাইলেই রক্ত পাওয়া যায়। কী গ্যারান্টি আছে যে একজন অসাধু রক্ত ব্যবসায়ী ফেক একটা পোস্ট দিয়ে নিরিহ কিছু লোকের রক্ত সংগ্রহ করে টাকার বিনিময় সেগুলো বিক্রি করে দিবে না?
এমন কি অনেক সময় রাত-বিরাতে রক্ত দেবার জন্য ডেকে নিয়ে উল্টা হাইজ্যাকিং এর শিকার হয়েছেন- এমন নজিরও নাকি পাওয়া গেছে! আমরা কেউই নিশ্চয়ই চাই না এধরনের কিছু নরপিচাশের জন্য স্বহৃদয়বান ডোনাররা নিরুৎসাহী হয়ে পড়ুক।
তাই আপনি যদি সত্যি কোন মূমুর্ষূ রোগীর জন্য রক্ত চেয়ে থাকেন তবে (তার প্রমাণ স্বরূপ) স্বচ্ছতার জন্য অবশ্যই পোস্টে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো উল্যেখ করুনঃ

১. রোগীর সমস্যা (ও যদি সম্ভব হয় তাহলে- বয়স)
২. রক্তের গ্রুপ কী?
৩. কোথায় রক্ত লাগবে? (হাসপাতালের নাম, ঠিকানা*, বেড নাম্বার*)
৪. কত তারিখ ও কয়টার মধ্যে লাগবে? (সর্বচ্চো সময় বেধে দেয়া যেতে পারে)
৫. কত ব্যাগ লাগবে?
৬. যে ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে হবে তার নাম* সহ মোবাইল নাম্বার
(গুছিয়ে বেশী কথা বলতে না পাড়লেও অন্তত এই ৬টা তথ্য দেয়া খুব জরুরী…)

*ঠিকানা দেয়াটা জরুরী কারণ অনেকেই ঐ হাসপাতাল কোন জেলায় বা কোন লোকেশনে তা জানে না!
*বেড নাম্বার ও নাম সহ মোবাইল নাম্বার দেয়াটা একটা স্বচ্ছতার লক্ষণ ও ডোনারের জন্য বিশেষ সহায়ক।

এবারে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ডিটেইল না জেনে রক্তের আবেদন করা ও দান করতে যাওয়াটা যে কত বড় বোকামী তার একটা ব্যতিক্রমী উদাহরণ এটিঃ
গত ৯ জুলাই ‘১৩ আমার এক ক্লোজ ফ্রেন্ড হঠাৎ ফোন করে বলল- ওর এক পরিচিত লোকের ইমার্জেন্সি O+ রক্ত লাগবে। আমি ডিটেইল জানতে চাইলে বলল, ডেটেইল ও নিজেও জানে না!
আমি বিশ্বস্ততার কারণে আর কোন প্রশ্ন না করে রওয়ানা হলাম শান্তি নগর “কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন”-এর রক্তদান কেন্দ্রে। সেখানে রক্তদানের ফরম ফিল-আপ করার পর নিয়ম মাফিক একজন ডাক্তারকে “ইন্টার ভিয়্যু” দিতে হয়। তো সেই ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- লাস্ট রক্ত দিয়েছেন কবে?
আমি প্রতি বছরই গড়ে ২/৩বার রক্ত দেই। তাই তারিখ মনে করতে পারলাম না। বললাম ৩/৪ মাস আগে!
উনি বললেন- ঠিক করে বলুন কত মাস? কারণ আপনি যে রোগিকে রক্ত দিতে এসেছেন তার জন্য মিনিমাম চার মাস মেচ্যুরিটি প্রয়োজন! এর কম হলে আপনার রক্ত তার কোন কাজেই আসবে না, শুধু শুধু নষ্ট হবে!
আমি সাথে সাথে আমার এক বন্ধুকে ফোন দিলাম (যার আত্মীয়কে শেষ বার রক্ত দিয়েছিলাম)।
সে জানালো তারিখটা ছিল- ৫ এপ্রিল ‘১৩! তার মানে তিন মাস ৬ দিন আগে!
ডাক্তার আমাকে রিফিউজ করে দিলেন।
পাংশু মুখে আমি চেম্বার থেকে বের হয়ে এসে আমার বন্ধুকে জানালাম সে কথা। শুনে তো রোগীর ছেলের মাথা খারাপ! কারণ আমি রক্ত দিবো বলে উনি আর কোন ডোনার মেনেজ করে রাখেননি! অথচ ডাক্তার বলেছে এক ঘন্টার মধ্যে রক্ত লাগবে! এখন কি হবে?
আমি এতো কষ্ট করে বেহুদাই উত্তরা থেকে তিন ঘন্টা জ্যামে বসে থেকে শান্তি নগর গেলাম। তারচেয়ে বড় কথা- রক্ত না পেলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না!

সামান্য একটু অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য জানা হয়নি, যার ফলে এই দুর্ভোগ! আমি অবশ্য সাথে সাথেই নিকটস্থ এক বন্ধুকে ফোন দিয়ে আনিয়ে যথা সময়ের মধ্যে রক্ত মেনেজ করে দিয়েছিলাম বলে রক্ষা! নইলে কি হতো- একবার ভাবুন!
তাই রক্ত গ্রহীতা হিসেবে এই ব্যাপারগুলো বিবেচনায় আনা খুব জরুরী…

সর্বপরি একটা কথা মনে রাখা দরকার- একজন ব্লাড ডোনার নিঃসন্দেহে একজন হিরো!
তার প্রতি আমাদের সহজাত সম্মান প্রদর্শন করা উচিৎ। একজন ডোনার কাউকে রক্ত দিতে বাধ্য নন। তবুও তিনি সম্পূর্ণ অচেনা একজন ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য রক্ত দিতে এগিয়ে এসেছেন!
তাই তার রক্তের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ আপনার নৈতিক দায়িত্ব! এতে করে একজন ডোনারের মধ্যে আত্মতৃপ্তি কাজ করে এবং পরবর্তিতে আরেকবার রক্ত দানে উৎসাহী করে তোলে…

আসুন- সবাই মিলে নিরাপদ রক্তদান নিশ্চিত করি। একটি জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখি…

[রক্ত দান সম্পর্কিত আরো পোস্ট পড়ুন এই লিঙ্কেঃ http://istishon.blog/node/4313 ]

– সফিক এহসান
(২ অগাস্ট ২০১৩ ইং)
https://www.facebook.com/weareblooddoner

২০ thoughts on “*** রক্ত চেয়ে যারা পোস্ট দেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ***

    1. ধন্যবাদ…
      গ্রুপ আরো অনেকই

      ধন্যবাদ…
      গ্রুপ আরো অনেকই আছে। আমি যে গ্রুপে বেশী সময় দেই ( https://www.facebook.com/groups/roktodhin/ ) সেখানে ২১,৫০০+ সদস্য। ওদের ফ্যান পেজেও ৩০ হাজারের মত লাইক আছে…

      ভালো কাজে সবাই আগ্রহী এবং ভালো কাজ আসলেই হচ্ছে। তবে একটু সতর্ক থাকলে এবং কিছু বিষয় মাথায় রাখলে কাজটা আরো সহজ হয়…
      :ধইন্যাপাতা:

  1. বিষয়টা ব্লগে তুলে ধরে ভালো
    বিষয়টা ব্লগে তুলে ধরে ভালো করেছেন। অনেকেই উপকৃত হবেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

        1. আল্লায় বাঁচাইছে… এই যাত্রায়
          আল্লায় বাঁচাইছে… এই যাত্রায় বড় বাঁচা বেঁচে গেলাম…!
          :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :হাসি: :হাসি: :হাসি:

          1. পার্টিতে ওইসবের ব্যবস্থা
            পার্টিতে ওইসবের ব্যবস্থা থাকতে হবে কিন্তু … :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :তালিয়া: :থাম্বসআপ:

          2. আরে মিয়া বোঝেন না ক্যান, ওই
            আরে মিয়া বোঝেন না ক্যান, ওই যে ওই ওই ওইসব … এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন ????

          3. যাক, আজকাল লোকে পার্টি দিতে
            যাক, আজকাল লোকে পার্টি দিতে বললেই কেটে পড়ে। আপনি তো অ্যাট লিস্ট দেবেন বলেছেন!

  2. আমি অন্তত বাস্তবে সফিক ভাইয়ের
    আমি অন্তত বাস্তবে সফিক ভাইয়ের দাড়াই উপকৃত হয়েছিলাম রক্তের জন্য। ধন্যবাদ সফিক ভাই।

    1. It’s My Pleasure Bro…
      আমি

      It’s My Pleasure Bro…

      আমি বরাবরই এটা বিশ্বাস করি- (শুধু রক্ত নয়, যে কোন ব্যাপারেই) আমি একাও যদি অন্যের বিপদে এগিয়ে আসি- আমার বিপদে না চাইতেই দশজন এগিয়ে আসবে…
      এটা প্রকৃতির নিয়ম… কারো ভাঙ্গার সাধ্য নেই।
      :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি: :ভালাপাইছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *