আজ ইয়াসমিন দিবস


স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কিত একটা দিন ২৪ আগস্ট। ১৮ বছর আগের এই দিনে দিনাজপুরে রক্ষক হয়ে অসহায় কিশোরী ইয়াসমিনের সম্ভ্রম আর বিশ্বাসের ভক্ষক হয়েছিল কিছু মানসিক বিকৃত পুলিশ সদস্য।

এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে সেদিন ফুঁসে ওঠেছিল দিনাজপুরসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ।

বিএনপি সরকারের নির্দেশে পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে সামু, সিরাজ, কাদেরসহ ৭ জন নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় প্রায় ৩ শতাধিক।



স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কিত একটা দিন ২৪ আগস্ট। ১৮ বছর আগের এই দিনে দিনাজপুরে রক্ষক হয়ে অসহায় কিশোরী ইয়াসমিনের সম্ভ্রম আর বিশ্বাসের ভক্ষক হয়েছিল কিছু মানসিক বিকৃত পুলিশ সদস্য।

এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে সেদিন ফুঁসে ওঠেছিল দিনাজপুরসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ।

বিএনপি সরকারের নির্দেশে পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে সামু, সিরাজ, কাদেরসহ ৭ জন নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় প্রায় ৩ শতাধিক।

সেই থেকে দিনাজপুরসহ দেশব্যাপী ২৪ আগস্ট দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘ইয়াসমিন’ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ ইয়াসমিন দিবস।

সেই ১৯৯৫ থেকে ২০১৩। দীর্ঘ ১৮ বছরে নিহতের পরিবারগুলো সময় পার করছে বিচারের দাবি নিয়ে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার নিহতের স্ত্রীদের চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন করেনি।

প্রসঙ্গত, ঘটনাকাল ১৯৯৫ সালের ২৪ আগষ্ট। ঢাকায় থাকা ইয়াসমিন দীর্ঘ কয়েক মাসের ব্যবধানে ব্যাকুল হয়ে ওঠে মাকে দেখার জন্য। সেই ব্যাকুলতায় মায়ের টানে দিনাজপুরগামী কোচে ওঠে। ঠাকুরগাঁ-পঞ্চগড়গামী কোচ। ফলে কোচ সুপারভাইজার একটি চা দোকান মালিকের কাছে জিম্মা রেখে নামিয়ে দেয় অবুঝ ইয়াসমিনকে।

আর সেদিনেই ভোরে মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় দোকানিসহ স্থানীয়রা। আর এতেই ঘটে বিপত্তি। পুলিশ রক্ষক হয়ে ভক্ষক সেজে পথিমধ্যে কিশোরী ইয়াসমিনকে উপর্যুপরি ধর্ষণ শেষে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দেয়।

পরবর্তীতে পুলিশ তার লাশ দিনাজপুর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে ব্র্যাক অফিসের পাশে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুরের মানুষ। প্রতিবাদেও আন্দোলন ধীরে ধীরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ বাইরে চলে যায় ঘটনা।

এরপর ২৬ আগষ্ট রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা কোতয়ালী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা কোতয়ালী থানার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে।

পরদিন বিক্ষুব্ধ জনতা রাজপথে দোষী প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ মিছিলটির উপর নির্বিচারে গুলি চালায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইয়াসমিন হত্যা মামলা দিনাজপুর থেকে রংপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেই বিশেষ আদালতে মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে দোষী প্রমানিত ৩ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে দিনাজপুরবাসী। তার মধ্যে নিহতের মা শরিফা বেগমের গোলাপবাগের বাড়ীতে কুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

৯ thoughts on “আজ ইয়াসমিন দিবস

  1. ১৮ বছর আগের এই দিনে দিনাজপুরে

    ১৮ বছর আগের এই দিনে দিনাজপুরে রক্ষক হয়ে অসহায় কিশোরী ইয়াসমিনের সম্ভ্রম আর বিশ্বাসের ভক্ষক হয়েছিল কিছু মানসিক বিকৃত পুলিশ সদস্য।

    কি লাভ হয়েছে? সেই দিন পুলিশ করেছে, আজ অন্য কেউ করছে। সমাজ থেকে, নারীদের উপর থেকে সেই কলংক কেউ দূর করছে? কারো উপর ভরসা নাই। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে পরলে সেই মহামান্য আইন প্রণেতাদের আদেশেই আমাদের উপর গুলি চালায় পুলিশ। বিচার দিবেন কার কাছে?

    তবুও এদের সমাজ থেকে উৎখাত করতে হবে।

  2. আচ্ছা আমাদের এই শোক কেন জানি
    আচ্ছা আমাদের এই শোক কেন জানি পঞ্জিকা মেপে আসে। ১৫ আগষ্ট কাছে আসলে বঙ্গবন্ধু নিয়ে লিখা শুরু।স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবস কাছে আসলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা শুরু। কোন নারী অত্যাচারিত হবার কথা শুনলে নারীর অধিকার নিয়ে লেখা শুরু। আমরা আসলে সাময়িক দেশপ্রেমীক। বলা যায়, আমরা লেখকরাও যেন এই সব থেকে ফয়দা লুটি…

    আমি আপনার লেখার বিরোধিতা করছি না ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ এই নিয়ে লিখার জন্য। উত্তর বাংলা ভাই এর পোস্টে বিস্তারিত পড়েছি। তবুও আপনার এটা পড়েছি।

    1. সারা বছর একটা বিষয় নিয়ে আপনি
      সারা বছর একটা বিষয় নিয়ে আপনি পড়ে থাকতে পারেন না। সব কিছুকে নিয়েই আমাদের সমউ যাপন। সামনে আসা বিশেষ দিনগুলোতে স্মরণের মানে ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নেয়া…
      ধন্যবাদ…

      1. ইয়াসমিন ধর্ষন ও হত্যার
        ইয়াসমিন ধর্ষন ও হত্যার প্রতিবাদে যেভাবে জনতা ফুঁসে উঠেছিল, সেভাবেই প্রতিটি অন্যায়ে ফুঁসে উঠুক বাঙালি।

  3. একটু যোগ করি। আসলে ইয়াসমিন
    একটু যোগ করি। আসলে ইয়াসমিন দিবস নয়। দিনাজপুরবাসী দিনটাকে ইয়াসমিন হত্যা দিবস হিসেবে পালন করলেও জাতীয়ভাবে দিবসটা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *