“সহিহ্‌ সুন্দরবননামা”

(ছোট্ট ভূমিকা : এটি মূলত আমার ফেসবুকের একটি পোস্ট। ২৩ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে এই স্ট্যাটাস আপডেট দিয়েছিলাম। আর ইস্টিশনে আমার প্রবেশ গত মে মাসের শেষের দিকে। ভাবলাম ইস্টিশনের বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করি।)

আদিবাসীগন………

বাঘ = বাঘ একটি অপকারী প্রাণী। বাঘ হাগু করে বন নোংরা করে। বাঘ কামড় ও আঁচর দেয়। বাঘের দুধ দোয়ানো যায় না। তবে হ্যাঁ, বাঘের চামড়া পাপোষ হিসেবে চমৎকার।

হরিণ = হরিণও একটি অপকারী প্রাণী। হরিণ হাগু করে বন নোংরা করে। হরিণের লম্বা শিঙে গুতা খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হরিণের দুধও দোয়ানো যায় না। তবে হ্যাঁ, হরিণের চামড়াও পাপোষ হিসেবে চমৎকার এবং হরিণের মাংস খেতে ভালো।


(ছোট্ট ভূমিকা : এটি মূলত আমার ফেসবুকের একটি পোস্ট। ২৩ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে এই স্ট্যাটাস আপডেট দিয়েছিলাম। আর ইস্টিশনে আমার প্রবেশ গত মে মাসের শেষের দিকে। ভাবলাম ইস্টিশনের বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করি।)

আদিবাসীগন………

বাঘ = বাঘ একটি অপকারী প্রাণী। বাঘ হাগু করে বন নোংরা করে। বাঘ কামড় ও আঁচর দেয়। বাঘের দুধ দোয়ানো যায় না। তবে হ্যাঁ, বাঘের চামড়া পাপোষ হিসেবে চমৎকার।

হরিণ = হরিণও একটি অপকারী প্রাণী। হরিণ হাগু করে বন নোংরা করে। হরিণের লম্বা শিঙে গুতা খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হরিণের দুধও দোয়ানো যায় না। তবে হ্যাঁ, হরিণের চামড়াও পাপোষ হিসেবে চমৎকার এবং হরিণের মাংস খেতে ভালো।

সাপ = সাপ একটি অত্যন্ত অপকারী প্রাণী। বাংলায় প্রবাদ আছে “দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষা”। সাপের কিলবিলানো দেখলে অনেকের গা গুলায়। সাপও হাগু করে বন নোংরা করে। সাপ বিষাক্ত ও ছোবল দেয়। সাপের দুধ দোয়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। তবে হ্যাঁ, সাপের চামড়া দিয়ে তৈরি ব্যাগ ও জুতা চমৎকার।

পাখি = পাখিও অপকারী প্রাণী। পাখি হাগু করে বন নোংরা করে। চ্যাঁচামেচি করে বনের শান্ত পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায়। তবে বেশ কয়েক ধরনের পাখির মাংস বেশ মজা।

কুমির = কুমিরের কথা কি বলবো, চেহারাটাই তো বিচ্ছিরি। তার উপর হাগু করে নদী-ডাঙ্গা দুটোই দূষণ করে। কুমির কামড় দেয়। কুমিরের ভয়ে নদীতে শান্তিতে গোসল করা যায় না। কুমিরের ডিম পোচ বা অমলেট, কোন ভাবেই খাওয়া যায় না। তবে হ্যাঁ, কুমিরের চামড়া দিয়ে তৈরি ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি চমৎকার।

বানর = বান্দরের কথা আর কি কহিব? বান্দর তো বান্দরই। শহুরে বান্দরদের জালায় বাঁচি না, আর জঙ্গলের বান্দর……., মাফও চাই দোয়াও চাই।

অতঃপর সুন্দরবন……….

সুন্দরবন = সুন্দরবন একটি খুব নোংরা জায়গা। পশু পাখির হাগুতে ভরপুর। ঘন জঙ্গল, ঝোপঝাড়। মশা মাছির আস্তানা। সুন্দরবন নানা প্রকার বিভ্রান্তিতে ভরপুর। সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি এর নামে। ঘন জঙ্গলের জন্য সুন্দর কোন কিছুইতো ভালমতো দেখা যায় না। খালি গাছ আর গাছ। তার উপর জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। কে যাবে মরতে? আরেকটা বিভ্রান্তির উদাহারন গোলপাতা। গোলপাতা কখনই গোল হয় না। আর ভিতরে ঢুকলে তো কথা নাই, রাস্তা ঘাট কিছু নাই। পুরা হারিয়ে যেতে হবে, এমন বিভ্রান্তিকর। কোন মানে হয়? পুরো এলাকায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা কিচ্ছু নাই। হাই কমোড ওয়ালা বাথরুম নাই, ATM নাই, ডিশের লাইন নাই। সবচেয়ে বড় কথা ELECTRICITY নাই!!!!!!

তো এখন কি করণীয়…….?

SIMPLE, মানব সভ্যতার প্রধান হাতিয়ার কি? ELECTRICITY …!!!! বৈদেশিক বন্ধু রাষ্ট্রের দয়া ও সহযোগিতায় সুন্দরবনে বিদ্যুতের FACTORY বসাইতে হইবে ভাইজানেরা।

এতে আমাদের কি উপকার হবে?

এতে আমাদের বহুমুখী উপকার হবে। তো কি কি উপকার হবে? জঙ্গল কেটে পরিষ্কার হবে, সৌন্দর্য ঠিক দেখা যাবে। ১ নম্বর, ১ নম্বর। জংলী জানোয়ার পালিয়ে যাবে, পালিয়ে যাবে। ২ নম্বর, ২ নম্বর। খাম্বায় খাম্বায় বাত্তি জ্বলবে। ৩ নম্বর, ৩ নম্বর। …….. ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি। লেকিন ইয়ে তো সীরফ সুরুয়াত হ্যায়….. আমাদের সবচেয়ে বড় পাওনা হচ্ছে “পরশি এবার বন্ধু হবে”। সুগভীর বন্ধুত্ব!!!! এ গভীর সে গভীর নয় দাদা। এ গভীরের না পাবেন তল খুঁজে, না পারবেন বন্ধুত্বের দড়ি বেয়ে ফের উপরে উঠতে। ভারত আমাদের আমাদের হৃদয় এবং (……) একেবারে ভরে দেবে। কি সবাই খুশি তো? সুতরাং যারা সুন্দরবন নিয়ে উল্টাপাল্টা কল্পনা করে, মিছে মিছি সন্দেহ করে রাম গরুরের ছানা হয়ে আছেন, তারা একটু মিষ্টি করে হাসুন তো দেখি আর আমার সাথে গান ধরুন,

তাক ধুমা ধুম ধুম,
বেগুন খেতে ফুটল নাকে বেগুন কাটা জম
তাক ধুমা ধুম ধুম।
কাঁটা তুলতে কাটল নাক ব্যথা নয় তার কম
তাক ধুমা ধুম ধুম।
নাকের বদলে নরুন পেলাম
তাক ধুমা ধুম ধুম।
নরুনের বদলে হাঁড়ি পেলাম
তাক ধুমা ধুম ধুম।
হাঁড়ির বদলে কনে পেলাম
তাক ধুমা ধুম ধুম।
কনের বদলে ঢোল পেয়েছি
তাক ধুমা ধুম ধুম।

তো যারা যারা ইতিমধ্যে নিজ নিজ ঢোল বুঝে পেয়েছেন তারা “তাক ধুমা ধুম ধুম” করতে করতে বাড়ি যান, আর নিজের চরকায় তেল দিন। সুন্দরবন নিয়ে আজাইরা তিরিং তিরিং করার জন্য আপনার BOSS আপনাকে বেতন দেয় না।

উপসংহার………..

নটে গাছটিও মুড়লো, আমার গল্পও ফুরলো। এবার লক্ষ্মী সোনার মতো ঘুমিয়ে পর বাছা আমার। কালকে সকালে আবার অফিসে যেতে হবে না?

বিঃদ্রঃ দয়া করে কেউ আমাকে (……) এর মানে জানতে চেয়ে বিব্রত করবেন না। আমি “অশ্লীলতাকে না বলুন” ক্লাবের সক্রিয় সদস্য।

২৪ thoughts on ““সহিহ্‌ সুন্দরবননামা”

    1. সেরকম একটা “অপচেষ্টা” অবশ্য
      সেরকম একটা “অপচেষ্টা” অবশ্য ছিল, বলা বাহুল্য| তবে সময় নিয়ে পরার জন্য ধন্যবাদ|

    1. বুঝাতে না পারার দায়ভার আমার,
      বুঝাতে না পারার দায়ভার আমার, এটা আমারই ব্যর্থতা| তবে আমার মনে হচ্ছে আপনি ভালই বুঝেছেন, অন্তত শহীদ ভাইয়ের মন্তব্যের বিপরীতে আপনার প্রতিমন্তব্য পড়ে তাই মনে হচ্ছে| :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল:

  1. ভাইজান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি
    ভাইজান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবরের উপর কিংবা শেখ হাসিনার বাসায় বাতি জালানোর জন্য নির্মান করা হচ্ছে না, আমাদের মত ভুক্তভোগীদের বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে করা হচ্ছে ।আজ যদি আমার মত আপনিও ১ কিলোমিটার পায়ে হেটে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে মোবাইল চার্জ করে নিয়ে এসে নেট চালাতেন তবেই বুঝতে পারতেন, সুন্দরবনের ঝিকিমিকি পরিবেশ দরকার নাকি বিদ্যুৎ বেশি দরকার ।

    1. আজ যদি আমার মত আপনিও ১

      আজ যদি আমার মত আপনিও ১ কিলোমিটার পায়ে হেটে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে মোবাইল চার্জ করে নিয়ে এসে নেট চালাতেন তবেই বুঝতে পারতেন

      শহিদ ভাই, ঘটনা সত্য নাকি?

      ভাই বিদ্যুৎ অবশ্যই লাগবে, তাই বলে সুন্দরবন ধ্বংস করে নয় নিশ্চয়ই?

    2. আপনার বা আমার বিদ্যুত সুবিধা
      আপনার বা আমার বিদ্যুত সুবিধা পাওয়ার চেয়ে অনেক অনেক বেশি প্রয়োজন সুন্দরবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা| এই বয়সে এসেও যদি আপনার মনে হয় যে সুন্দরবনের মত অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে বিদ্যুত তৈরী করা দরকার, তাহলে আমার কিছু বলার নেই| তবুও বলব এই প্রস্তাবিত বিদ্যুত কেন্দ্র সম্পর্কে পত্র-পত্রিকা বা নেট ঘেঁটে একটু পড়াশুনা করতে| নিদেনপক্ষে এই ব্লগের সাক্ষাত্কার বিভাগে শ্রদ্ধেয় প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লা সাহেবের সাক্ষাত্কারটা পরে দেখতে পারেন| আর আমি আপনার কোনো এক মন্তব্যের বিপরীতে বলেছিলাম “যদ্যাপী আমার গুরু সুরিবাড়ি যায়, তদ্যাপী আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়” জাতীয় মানসিকতা (অন্ধ ভক্তি) চরম ক্ষতি বই লাভ বয়ে আনে না| তা সে আওয়ামীলীগের পক্ষেই হোক বা বি.এন.পি’র পক্ষেই হোক| প্রিয় দল কোনো খারাপ কাজ করলে দলের স্বার্থেই তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে হবে| তাতে আখেরে লাভই হবে| এতটুকু বোঝার মত বোধ-বুদ্ধি থাকাটা খুব দরকার| “দস্যু বনহুর” ভাই খুব অল্প কথায় আপনার মন্তব্যের বিপরীতে সুন্দরবনের গুরুত্বটা বুঝিয়ে দিয়েছেন| যাই হোক আপনার মন্ত্যব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ|

    3. ভাই যেখানে অক্সিজেন দিন দিন
      ভাই যেখানে অক্সিজেন দিন দিন কমে যাচ্ছে সেখানে বিদ্যুতের জন্য বিপুল অক্সিজেনের আধার সুন্দর বন ধংস্ব করা টা কি বোকামি নয়? বিদ্যৎ ছাড়াও মানুষ বাচবে কিন্তু অক্সিজেন ছাড়া?

  2. শহীদ ভাই, আপনার জ্বালাতন
    শহীদ ভাই, আপনার জ্বালাতন বুঝতেছি। কিন্তু তাই বলে সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সমর্থন করতেছিনা। অন্য কোনো যায়গাতে পাওয়ার প্লান্ট বসানো যাইতে পারে। সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ।

  3. শহীদ ভাই,বিদ্যুতের সমস্যা
    শহীদ ভাই,বিদ্যুতের সমস্যা আমরা কম বেশি সবাই ভোগ করি। তাই বলে সুন্দরবনের মতো এমন গৌরবের বিষয়কে বিসর্জন দিয়ে বিদ্যুৎ চাই না।
    রামপালের পরিবর্তেও বিদ্যুৎ স্থাপন করা যায়। সেটা নিয়ে সোচ্চার হোন। এভাবে ছেলেমানুশি কথা বইলেন না।

  4. চমৎকার স্যাটায়ার করেছেন।
    চমৎকার স্যাটায়ার করেছেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    তবু যদি অন্ধদের চোখ খুলত… :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস:

    1. আপনিতো ভাই দেখি আমার চেয়েও বড়
      আপনিতো ভাই দেখি আমার চেয়েও বড় নিশাচর!!! আমি নিজে রাত ০২:৩০ পর্যন্ত নেটে ছিলাম। তারপর রণে ভঙ্গ দিয়েছি। আর আপনার মন্তব্য তারও পরে দেয়া। ধন্য, ধন্য। কষ্ট করে পড়ার জন্য আবারো ধন্যবাদ।

  5. আপনার ‘সে-টায়ার্ড’ ধর্মী
    আপনার ‘সে-টায়ার্ড’ ধর্মী লেখাগুলো মজা দেয়, ভাবায়। একটি কথা জানতে ইচ্ছে করে, প্রতি মন্তব্য দীর্ঘায়িত করে হুদাই নিজের আঙ্গুলকে কষ্ট দেন কেন? আপনার লেখার মর্মার্থ যারা বোঝার তারা বুঝবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *