╚»★ বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২) ★«╝ কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী সেই দিন গুলো?? :((:((

বাংলা সিনামার একটা খারাপ সময় পার করে অনেক ধুকে ধুকে যখনই দাড়াতে শুরু করেছি আমরা তখনই আমাদের সোজা হয়ে দাড়াতে না দেয়ার ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি প্রথমেই। আসুন আমরা সবাই অনলাইন আন্দলনে যোগ দেই।

বাঁচাও বাংলাদেশী চলচ্চিত্র


বাংলা সিনামার একটা খারাপ সময় পার করে অনেক ধুকে ধুকে যখনই দাড়াতে শুরু করেছি আমরা তখনই আমাদের সোজা হয়ে দাড়াতে না দেয়ার ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি প্রথমেই। আসুন আমরা সবাই অনলাইন আন্দলনে যোগ দেই।

বাঁচাও বাংলাদেশী চলচ্চিত্র

অনেক সময়েই পুরোনো বাংলা সিনেমা গুলো আবার দেখতে ইচ্ছা করে। আজ হঠাৎ দেখার ইচ্ছা হল এই সিনেমাটি। দেখতে বসে পরলাম। “বড় ভালো লোক ছিল” এর আগেও বিটিভি তে বোধহয় দেখেছিলাম। সবাই মিলে। শেষ অংশ তখন দেখার সৌভাগ্য হয় নি। মনে করতে পারছিলাম না শেষে কি হয়েছিল। সেই আকর্ষণ থেকেই দেখতে বসা; এবং পূর্ণ তৃপ্তির সাথে আড়াই ঘন্টা সময় অতিবাহিত করলাম।

এই সিনেমাটি যতটা না পরিচিত সিনেমা হিসেবে, তারচেয়েও বেশি পরিচিতি পেয়েছে তার প্রতিটা গানের জন্যে। অসাধারণ সুন্দর সব গান সিনেমার প্রতিটি অংশেই ছড়িয়ে রয়েছে। এখনকার বাংলা সিনেমার গান গুলো কেমন যেন সবার অন্তস্পর্শি হতে পারে না। মনে রাখে না কেউ গান গুলো। অথচ কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় “হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুষ” অথবা “দেখ তোরা দেখ তোরা দেখরে চাহিয়া” এই গান গুলো শুনেছে কিনা? আশা করি শোনেনি এমন মানুষ খুজে পেতে বেশ বেগ পেতেই হবে।

সিনেমার কাহিনী যদিও বাস্তবের সাথে মিলবে না। তারপরেও রাজ্জাক, প্রবীর মিত্র, আনোয়ার হোসেন, গোলাম মোস্তফা, অঞ্জু ঘোষ সহ সকল অভিনেতা অভিনেত্রীর অভিনয়ে যে কেউ সিনেমার শেষ না দেখে উঠে যেতে পারবেন না, এইটুকু বলতে পারি। গল্প যাই হোক, চিত্রায়ন আর পরিচালনার দিক থেকে অসাধারণ করে তুলেছেন সিনেমাটিকে পরিচালক।

গ্রামের এক পীরের ছেলে থাকে রাজ্জাক। শহরে থেকে শহুরে জীবন-যাপনে অভ্যস্থ। পীর ফকিরের অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাসী নয়। তার বাবার অপমৃত্যুর পর সে তার বাবার হত্যাকারীকে খোজ করার উদ্দেশ্যে থেকে যায় গ্রামে। তাকে গ্রামের মানুষ আলাদা ভাবে ভক্তি করলেও কোন ভাবেই সে মেনে নিতে পারেনা তার কোন অলৌকিক ক্ষমতা থাকতে পারে। তারপর?? শেষ পর্যন্ত কি হয় তা নিজেই দেখুন।

মুক্তি যুদ্ধও পরবর্তী কালীন সিনেমা গুলো হয়তো তখনো যুদ্ধের ভয়াবহতা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেনি, তাই এই সিনেমাতেও তার কিছুটা ছাপ দেখতে পাবেন। তবে খুব বেশি সময়ের জন্যে নয়।

১৯৮২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে এই সিনেমা ৬টি পুরষ্কার জিতে নেয়- সেরা পরিচালক (মোহাম্মদ মহিউদ্দিন), সেরা অভিনেতা (রাজ্জাক), সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা (প্রবীর মিত্র), সেরা সঙ্গীত পরিচালক (আলম খান), সেরা সংলাপ রচয়িতা (সৈয়দ শামসুল হক) ও সেরা সঙ্গীতশিল্পী (এন্ড্রু কিশোর)।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকারদের প্রথম দিকের একজন। তার আরো কিছু সিনেমা হল: মাটির পাহাড়, তোমার আমার, রাজা এলো শহরে, গোধূলির প্রেম, শীত বিকেল ইত্যাদি। এর কোনটাই দেখা হয় নি। দেখবো অবশ্যই।

আর দেরী না করে যারা যারা এখনো দেখেননি তাদের অবশ্যই দেখার জন্যে অনুরোধ করবো।

সিনেমার নাম : বড় ভালো লোক ছিল
কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনাঃ মোহাম্মদ মহীউদ্দিন
সঙ্গীত পরিচালনাঃ আলম খান
পরিবেশনা : শাওন সাগর ফিল্ম
শ্রেষ্টাংশে: রাজ্জাক, প্রবীর মিত্র, অঞ্জু ঘোষ, গোলাম মোস্তফা এবং আরো অনেকেই।

এই সিনেমাটির বোধহয় কোন ডিভিডি পাবেননা, তাই ইয়ুটিউবের লিঙ্ক দিলাম সাথে। বড় ভালো লোক ছিলঃ https://www.youtube.com/watch?v=d39cYe0Uwu0

আর এর চেয়ে ভালো কোন পোষ্টার পাইনি। কেউ পেয়ে থাকলে দয়া করে শেয়ার দেবেন।

✘✘✘ দয়া করে কোন বাংলাদেশী মুভির ডাউনলোড লিংক শেয়ার করবেন না। বাংলা মুভি সিনেমাহলে গিয়ে অথবা অরিজিনাল ডিভিডি কিনে দেখুন। দেশের চলচ্চিত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করুন।

আমরা ɯoʌıǝ পাগল বোইন qɹoʇɥǝɹ

১৫ thoughts on “╚»★ বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২) ★«╝ কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী সেই দিন গুলো?? :((:((

    1. পুরোপুরি রিভিউ বলতে যদি আপনি
      পুরোপুরি রিভিউ বলতে যদি আপনি পুরা কাহিনী মিন করেন, তবে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। কারণ আমি সংবাদপত্রের লেখকদের মতন পুরা কাহিনী লেইখা সবার সিনামা দেখার অর্থকে অর্থহীন করতে চাই না।

      মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

  1. সিনেমাটা অনেক আগের দেখা।
    সিনেমাটা অনেক আগের দেখা। গানগুলা আসলেই চমৎকার। তবে প্রবীর মিত্র আর আনোয়ার হোসেনের যুগলবন্দী আসলেই দেখার মতো।

  2. আমার তো বাসার সাথে সিনেমা হল
    আমার তো বাসার সাথে সিনেমা হল তাই এই সিনেমা অনেকবার দেখা। একথা স্বীকার করতেই হবে যে এক সময় এমনকি আশির দশক পর্যন্ত বাংলা সিনেমাগুলো অনেক মান সম্পন্ন ছিল। বেশ কিছু ভালো সিনেমাও আমরা পেয়েছি। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়নি। একদিকে আকাশ সংস্কৃতির আগমন অন্যদিকে ভিসিআর ভিসিপির কারণে সারা বিশ্বের হিট ছবিগুলো হাতের মুঠোয় চলে আসায় পিছিয়ে যায় আমাদের চলচিত্রগুলো। সেই থেকে শুরু হয় নকল করার প্রবণতা। এবং এটা করতে গিয়েই নিন্মমানের সিনেমা নির্মাণের কারণে বাংলাদেশী চলচিত্র পতিত হলো অন্ধকারের পথে। ধন্যবাদ, পুরনো সময়কে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।

  3. এই সিনেমাটা দেখা হয় নাই। তবে
    এই সিনেমাটা দেখা হয় নাই। তবে আপনাদের মত আমিও এক সময় বাংলা সিনেমার পাগল ছিলাম। বিটিভির অ্যাড সহ্য করেও দেখতাম। এখন অশ্লীল মুভি আর থার্ড ক্লাস গল্পের জন্য দেখা বাদ দিয়ে দিয়েছি।

    1. দেখা বাদ দিছেন, কিন্তু ভাল
      দেখা বাদ দিছেন, কিন্তু ভাল জিনিষ আসলে অবশ্যই মিছ করবেন না। অনেক খারাপ মেকিং, আর গল্পের ভীরে এখনো ২-১ টা ভাল সিনামা আসে।

  4. রিভিউর সাথে কিছু প্রয়োজনীয়
    রিভিউর সাথে কিছু প্রয়োজনীয় কথাও বলেছেন ।আসলেই বাংলা সিনেমা তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে ।বাংলা সিনেমাকে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে কিছু একটা করা প্রয়োজন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *