চাঁদ কেন আসেনা আমার ঘরে

মেয়েটার সাথে ছেলেটার প্রথম দেখা একটা শপিং মলে। দ্বিতীয়বার দেখা একটা রেস্টুরেন্টে। তারপর ৩য় বারের মত দেখা হয় একটা বাসস্টপে। ছেলেটা এবার ভাবে বার বার কেন মেয়েটার সাথে তার দেখা হয়ে যাচ্ছে? এটা কি কারো ইচ্ছায় হচ্ছে? সে এবার কথা বলার জন্য এগিয়ে যায় মেয়েটার সাথে। মেয়েটাও ওকে দেখে একটু চমকে যায়, কারন মেয়েটাও তাকে আগের তিনবারই লক্ষ্য করেছিলো।
-আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি? ইতস্তত হয়ে জিজ্ঞেস করে ছেলেটি
-হ্যাঁ অবশ্যই। বলুন।


মেয়েটার সাথে ছেলেটার প্রথম দেখা একটা শপিং মলে। দ্বিতীয়বার দেখা একটা রেস্টুরেন্টে। তারপর ৩য় বারের মত দেখা হয় একটা বাসস্টপে। ছেলেটা এবার ভাবে বার বার কেন মেয়েটার সাথে তার দেখা হয়ে যাচ্ছে? এটা কি কারো ইচ্ছায় হচ্ছে? সে এবার কথা বলার জন্য এগিয়ে যায় মেয়েটার সাথে। মেয়েটাও ওকে দেখে একটু চমকে যায়, কারন মেয়েটাও তাকে আগের তিনবারই লক্ষ্য করেছিলো।
-আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি? ইতস্তত হয়ে জিজ্ঞেস করে ছেলেটি
-হ্যাঁ অবশ্যই। বলুন।

এভাবেই তাদের পরিচয়। তারপর ফোন নাম্বার বিনিময়। প্রতিরাতে তাদের দুজনের অনেক কথা হত, রঙ নিয়ে,ফুল নিয়ে, ভাল লাগা নিয়ে, আবেগ নিয়ে, অনুরাগ নিয়ে। এভাবে কখন যে দুজন দুজনকে ভালবেসে ফেলেছিলো তারা খেয়ালই করেনি। এভাবে ২ মাস কেটে যায়। এর মাঝে তারা দুইবার দেখা করে।

যেদিনের কথা বলছি, সেদিন শ্রাবনের শেষ দিন। তাদের দেখা করার কথা। মেয়েটি অনেক সাজুগুজু করে, কপালে টিপ দিয়ে, খোঁপায় ফুল দিয়ে নিজেকে সাজায়। জিয়া উদ্যানের সামনে মেয়েটি আধ ঘন্টা আগে এসেই অপেক্ষা করতে থাকে। সময় পেরিয়ে যায়, ছেলেটা আসেনা। ফোন দিয়ে মেয়েটি ফোন বন্ধ পায়। এভাবে বিকেল গড়িয়ে যায়। মেয়েটির চোখ ভেঙ্গে কান্না আসে রাগে, দুঃখে, হতাশায়। শেষবারের মত মেয়েটা ফোন দিয়ে তখনও ছেলেটার ফোন বন্ধ পায়। হঠাৎ চারদিক আঁধার হয়ে আসে। ঝুপ করে বৃষ্টি নামে আকাশের কোল বেয়ে। মেয়েটির চোখের জল ধুয়ে নিয়ে যেতে থাকে বৃষ্টির জল। আর মেয়েটি মাথা নিচু করে হাটতে থাকে ফুটপাত ধরে।

ওইদিকে ছেলেটি যে বাড়িতে থাকে সে বাড়িতে তার আরেক বন্ধু থাকতো। ছেলেটি যখন বাথরুমে ছিলো তখন তার বন্ধু ছেলেটাকে দেখতে না পেয়ে ভাবে সে হয়তো বেরিয়ে গেছে। তাই সে বাইরে থেকে দরজা তালা দিয়ে চলে যায়। আর ছেলেটার ফোন ডেড হয়ে যাওয়ায় সে ফোন ও করতে পারেনি। রাতে বন্ধু বাসায় আসলে ছেলেটা অনেক চিৎকার চেঁচামেচি করে। বন্ধুর ফোনে সিম লাগিয়ে যখন মেয়েটিকে ফোন দেয় তখন সে মেয়েটির ফোন বন্ধ পায়। সারারাত একটানা চেষ্টা করেও সে আর মেয়েটাকে ট্রেস করতে পারেনা। মেয়েটার বাসার ঠিকানাও সে জানেনা, অফিসের ঠিকানাও না। সে পরদিন উদ্ভ্রান্তের মত পরদিন খুজতে থাকে বাসস্টপে, রেস্টুরেন্টে, রাস্তায় শপিং মলে সবখানে। দিন যায়, রাত যায় -বয়ে যায় সময়। এভাবে ৩ মাস কেটে যায়। ছেলেটাকে দেখলে এখন আর চেনা যায়না। মুখভরতি দাড়ির জঙ্গল, মাথায় লম্বা চুল। সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় খুজে বেড়ায় সেই মুখ আর ভাবে এত অভিমান কেন করলো মেয়েটা? কেন এভাবে হারিয়ে গেল?

চাঁদ কেন আসেনা আমার ঘরে
সে অভিমানিনী আজো তো বলেনি-
আসবে কিনা সে ফিরে…
দিন যায় রাত যায়, বয়ে যায় সময়
ম্লান মুখ তার আজ সেই
চোখ চায় মন চায় তবু ভাঙ্গা হৃদয়
সবই আছে চাঁদ শুধু নেই।
মেঘেরা যদি গিয়েছে দূরে সরে-
চাঁদ কেন আসেনা আমার ঘরে।

একদিন বিকালে পার্কে বসে চানাচুর খাচ্ছিলো ছেলেটি। চানাচুর খেয়ে শেষ হলে যেই ঠোঙ্গাটা ফেলতে যাবে হঠাত তার চোখ আটকে গেল ঠোঙ্গার ছবিটিতে। আরে, এইতো ছেলেটির অভিমানি মেয়েটি। খবরের শিরোনাম টি দেখে তার চারপাশে যেন ধুপ করে অন্ধকার নেমে আসে- “বাস চাপায় নগরীতে তরুণীর মৃত্যু”

৩২ thoughts on “চাঁদ কেন আসেনা আমার ঘরে

  1. ভালোভাবেই কষ্ট দিতে পেরেছেন,
    ভালোভাবেই কষ্ট দিতে পেরেছেন, ভাইয়া… :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:
    তার মানে, দারুন লিখেছেন…ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  2. হৃদয় ছুয়ে গিয়েছে ভাই!!!
    আসলেই

    হৃদয় ছুয়ে গিয়েছে ভাই!!!
    আসলেই কবি মানুষ যখন গল্পে হাত দেয় তা ভাল হবেই। লেখার ভাষায়ই এক কি যেন গুণ।
    অনেক সুন্দর।

    1. রায়হান ভাই, এটা ঠিক বলেছেন।
      রায়হান ভাই, এটা ঠিক বলেছেন। ব্যাক্তিগত ভাবে লেখক হিসেবে আমি খুনী। বেশিরভাগ চরিত্র কে মেরে ফেলি 😀

      1. দুই একটারে বাঁচান। বেচারারা
        দুই একটারে বাঁচান। বেচারারা অবলা জীব। নির্বিবাদে আপনার কলমের আঘাতে মারা যাচ্ছে।

        আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি, বারুদ হয়ে জ্বলছি
        এবং বোমা হয়ে বিস্ফোরিত হব।

        “Dil se…” সিনেমাটার কথা মনে পড়ে গেল।

        1. এই ছবিটা এখনো কেন জানি দেখা
          এই ছবিটা এখনো কেন জানি দেখা হয়নাই/ মাঝে মাঝে দেখার সুযোগ হলেও দেখতে পারিনা 🙁

  3. হায়রে! লেখকেরা বড়ই নির্দয়!
    হায়রে! লেখকেরা বড়ই নির্দয়! খালি নিরীহ মানুষকে মেরে ফেলে।

    :দীর্ঘশ্বাস:

      1. সফিক ভাই, আপনারা লেখকেরা
        সফিক ভাই, আপনারা লেখকেরা আসলেই নির্দয়। মানুষের দুঃখে এমনে হাসে কেউ?

        😀

  4. কী হৃদয় বিদারক !!!
    সাবলিল

    কী হৃদয় বিদারক !!!
    সাবলিল লেখা, পড়তে ভালো লেগেছে । ব্যবহৃত কবিতা টি আপনার লেখা ?

    1. অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
      অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। না, এটা আসলে একটা গান। রাঘব এর ‘চাঁদ কেন আসেনা আমার ঘরে’ অসাধারন অসাধারন অসাধারন একটা গান। আসলে গানটা থেকেই লেখার প্রেরণা পেয়েছি। এই নিন গানের লিঙ্ক http://www.youtube.com/watch?v=vYa6yn3bg_s

          1. একটু বেশি চমৎকার গানটা ।
            একটু বেশি চমৎকার গানটা । সুরের যাদু আছে গানটিতে । আগে কোথায় যেন শুনেছিলাম । আজ আবার তন্ময় হয়ে শুনলাম । ধন্যবাদ আপনাকে !

  5. মৃত্যু দিয়ে শেষ করলেন
    মৃত্যু দিয়ে শেষ করলেন কেন????? মৃত্যু একদম অসহ্য লাগে।
    আসলে মৃত্যুর খবর শুনলেই ভয় পাই… :মনখারাপ:

  6. আমি কমেন্ট করতে আসলেই দেখি
    আমি কমেন্ট করতে আসলেই দেখি কেউ না কেউ আমার কমেন্ট করে ফেলেছে!
    :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:

    পাবলিক এতো ফাস্ট ক্যান!!! :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

    আমার মন্তব্য আতিক ভাইয়ের মন্তব্যে দ্রষ্টব্য!

    মন ভরলো না? তাইলে আরো কয়েক লাইন বাড়াইয়া কই-
    এতো তাড়াহুড়ো করেন ক্যান? মানলাম কবিতার চেয়ে গল্প সাইজে বড় হয়! তাই বলে এতো আলসেমী করলে চলবে? এমনিতেই মোস্ট কমন কাহিনি… তার ওপর আবার শুরুর আগেই শ্যাষ! ট্রেইলর দেখালেন যেন…

    সর্বপরি একটা রিকোয়েস্ট- আপনে গল্পই আর লেইখেন না। প্লী-ই-ই-জ! আপনের তো তবু কবিতা আছে- আমাগো আর কিছু নাই… লিখিই ২/১টা গল্প! আমারে ভাতে মাইরেন না ভাই…!
    :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

    :হাসি: :হাসি: :হাসি:

      1. জ্বি ভালো আছি… আপনি ভালো
        জ্বি ভালো আছি… আপনি ভালো তো?

        গল্প খারাপ লাগছে কখন বললাম? :খাইছে:

        আরেকটু ডিটেইলে লিখলেই তো আমার ভাত শেষ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *