তত্ত্বাবধায়ক সরকার : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত ভাবনা

১৯৭০ সালের নির্বাচনে “আওয়ামী লীগ’’ জয়ী হলেও ক্ষমতাসীন হতে পারেনি তৎকালীন শাসকদের কূট অপরাজনীতির কারণে। জনমনের সেই দ্রোহ অকাতরে প্রাণ দেবার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলো স্বাধীনতা প্রিয় কোটি জনতাকে। বিগত দিনের অনাচার, অপশাসন সে জলে আগুন দিয়েছিলো মাত্র। জনগণের রায় পাওয়া আওয়ামী নেতৃত্বের বঞ্চিত হওয়াকে বাঙালীরা নিজেদের “বোধে’’ আঘাত হিসেবে বুজেছিলো। ফলতঃ দাবিয়ে রাখার রক্তচক্ষু দমাতে পারেনি স্বাধিকার, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে।


১৯৭০ সালের নির্বাচনে “আওয়ামী লীগ’’ জয়ী হলেও ক্ষমতাসীন হতে পারেনি তৎকালীন শাসকদের কূট অপরাজনীতির কারণে। জনমনের সেই দ্রোহ অকাতরে প্রাণ দেবার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলো স্বাধীনতা প্রিয় কোটি জনতাকে। বিগত দিনের অনাচার, অপশাসন সে জলে আগুন দিয়েছিলো মাত্র। জনগণের রায় পাওয়া আওয়ামী নেতৃত্বের বঞ্চিত হওয়াকে বাঙালীরা নিজেদের “বোধে’’ আঘাত হিসেবে বুজেছিলো। ফলতঃ দাবিয়ে রাখার রক্তচক্ষু দমাতে পারেনি স্বাধিকার, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। হাজারো প্রত্যাশা, আকাঙ্খা নিয়ে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত একটি রাষ্ট্র দাড়াবার আগেই আসময়োচিত এক সংবিধান চাপিয়ে দেওয়া হলো রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। ৭২ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হলো তার গুণগত মান বিশ্লেষণ করলে তা নিঃসন্দেহে বিশ্বসেরা বিবেচিত হবে কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত জাতি রাষ্ট্র গঠনে সেই সংবিধান সময়োচিত বা যুগোপযুগি ছিল কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর খুজে নেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ৭৪ সালে সংবিধান সংশোধন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৃত পক্ষে যা করতে চেয়েছেন তাও সময়োপযোগী ছিল না। কেননা ততদিনে বুড়িগঙ্গার পানি অনেকদূর প্রবাহিত হয়েছিলো। মানুষ অতি গণতান্ত্রিক সংবিধানের সুযোগে স্বেচ্ছাচারি হয়ে গিয়েছিল, বাক স্বাধীনতার কথা বলে সমাজে কুৎসা, হিংসা ছড়ানো হয়েছিল তৃণমূলে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক সংবিধান, চাওয়া পাওয়ার দ্বন্ধ, রাজনীতি ও অপশাসনের যে শৃঙ্খলে আবর্তিত ছিল বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়েই তা থেকে মুক্তির পথ বাতলে দেয়। মাত্র চার বছরের মধ্যে জাতীয় বীর ও তার দল জাতীয় শত্র“তে পরিণত হয়ে যায় এবং আপামর জনসাধারণ মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দলটি ও তার কর্মীদের অবদানের কথা বেমালুম ভুলে যায়। এই ভুলে যাওয়া যদি ইচ্ছাকৃত বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হয় তবে জাতি রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের ভবিষ্যত যে মাইক্রোস্কোপের বিষয়বস্তু হবে তা শতভাগ নিশ্চিত।

৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্থান, সামরিক শাসন, ধর্মীয় উন্মাদনা ইত্যাদির মধ্যেও জনসাধাণকে খুব একটা বিরক্ত হতে দেখা যায়নি। দুর্ভিক্ষ, অপশাসন, নির্যাতনকে ইস্যু করে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করার মত জনমত গঠন (কোন উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ সংঘটিত না হওয়া) করা গেলেও তিরিশ লক্ষ স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষদের হত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠনকারীদের বিরুদ্ধে মানুষ খুব একটা বিরক্ত হয়না। বাকশাল করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে ধানমন্ডীর ৩২ নং বাড়ীকে কামান, ট্যাংক, গোলাবারুদের মুখোমুখি হতে হলেও বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ভ্রুনে হত্যা করার আপ্রাণ চেষ্টার কারণে মগবাজারকে একটা ফুলের টোকারও সম্মুখিন হতে হয়নি। ৭৩ সালের নির্বাচনের অনিয়মকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করা হলেও জিয়ার তত্ত্বাবধানে শতভাগ ভোট পাওয়া বা ৯৬ এর ভোটার বিহীন নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়না বিএনপি কে !

স্বাধীনতার ২০ বছরের মধ্যে মাত্র তিন বছর আওয়ামীলীগ শাসন ক্ষমতায় থাকলেও বাকী সময়টা ছিলো সামরিক, ছদ্মবেশী সামরিক ও সৈরাচারী সামরিকের শাসনাধীনে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করে সৈরাচারের বিরুদ্ধে তিন জোটের রূপরেখার রোডম্যাপ ধরে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয় “তত্ত্বাবধায়ক সরকার’’ নামক এক নতুন ব্যবস্থাপনার সাথে। ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজনীতিবিদের অসততা এই ব্যবস্থাকে পরবর্তীকে গণদাবীতে পরিণত করে। ৯০-তে এই সরকার স্বচ্ছতার সাথে নির্বাচন পরিচালনা করায় এবং সরকারী নির্বাচন কমিশন মাগুরা ইলেকশন উপহার দেওয়ায় আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ইস্যু করে গণ আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের ফলাফলস্বরূপ ভোটার বিহীন ৯৬ নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সংস্কারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরাজয়ের ক্ষোভ থাকা সত্বেও সাবেক সরকারী দল নির্বাচন মেনে নেয় এবং নতুন সরকার ইতিহাসের প্রথম বার দলীয় আনুগত্যের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। গণতন্ত্রের পথচলায় সুবাতাস নিশ্চয়ই গণতন্ত্রকামীদের আশান্বিত করেছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাপনার ভিতার দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুবিধাজনক উপায় বের করা হলেও মোহ কাটতে বেশীদিন সময় লাগে নি রাজনীতিবিদদের। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কর্মকান্ড পরিচালনা করে তা কতটুকু সংবিধান সম্মত ছিলো বিজ্ঞজনেরা নিশ্চয়ই সে বিষয়ে অবগত আছেন। রেফারীর ভূমিকা থেকে সরে এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিজেই খেলোয়াডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়েই “তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায়’’ ত্র“টি পরিলক্ষিত হওয়া শুরু করে। আওয়ামী পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানের ফাঁদে পড়া আওয়ামী নেতৃত্বের তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। নির্বাচন হলো। আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়ে বিএনপি জোট ক্ষমতায়িত হলো। নির্দলীয় রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়কের বাড়াবাড়ি আওয়ামীদের মনে যে ক্ষত তৈরী করে তা প্রায়শই দলীয় প্রধানের মুখ নিসৃত বানী থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়।

রাজনীতির মাঠের চৌকষ সেনাপতি মওদুদ আহমেদ আইনমন্ত্রী হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সুশাসন, নির্বাচন ইত্যাদি নিয়ে আওয়ামী পক্ষের এক ধরণের উৎকন্ঠা তৈরী হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভোট কারচুপি এবং রমনা-১০ উপনির্বাচনে প্রকাশ্যে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার দৃশ্য নির্বাচনকালীন ব্যবস্থা নিয়া আওয়ামীদের ভাবিয়ে তোলে। এই অনিশ্চয়তায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করে কে.এম. হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধান হিসাব করে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচাপতিদের বয়স বৃদ্ধি । বিএনপি’র চাপে পড়া ২০০১ তত্ত্বাবধায়কের অসাংবিধানিক কার্যকলাপ ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসাবে তত্ত্বাবধায়ককে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বি.এন.পি কে উৎসাহিত করে তোলে। মওদুদ আহমদ দায়িত্বে থাকায় কুট কৌশলে “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’’ বিষফোঁড়া হিসেবে আবির্ভুত হয়। সরকারের গোয়ার্তুমী, ভোট ডাকাতির স্পৃহা তত্ত্বাবধায়কের স্পিরিটকে এলোমেলো করে দেয়। বর্তমান বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের নির্দেশে দলীয় রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ইতিপূর্বে আওয়ামীলীগ দলীয় চেতনার বাইরে গিয়ে জনাব সাহাবুদ্দীন সাহেবকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করলেও বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেনি। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব জনাব বদরুদ্দোজা-কে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন বেগম জিয়া। সেই রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করলে তাকে অভিসংসন এর মুখোমুখি হতে হয় এবং রেল লাইনের উপর দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে তাকে চলে যেতে হয় মুন্সিগঞ্জে। ইয়াজউদ্দিন আহমদকে রাষ্টপতি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রে উত্তোরণের যাবতীয় আয়োজনে পানি ঢেলে দেয়া হয়। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এই প্রয়াস চলমান থাকে ইয়াজ উদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দানের প্রক্রিয়াতে। ইয়াজ উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক ঝামেলা পোহাতে না পোহাতে বিষফোঁড়া হিসেবে আবির্ভুত হয় জলপাই সমর্থিত ফখরুদ্দীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই সরকার নির্বাচনকে প্রলম্বিত করে দুই বছর । আইন, রাষ্ট্রীয় বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে ভয়ের শাসন জারীকরা এই সরকার মানুষের আস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।

আলোকবর্তিকা হিসেবে তত্ত্বাবধায়কের আগমন হলেও মুলত ২০০১ সালেই তত্ত্বাবধায়ক বিতর্কিতরূপে ধরা দেয়। বিএনপি’র শাসনামলে এই ব্যবস্থার যাবতীয় সৎকার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সর্বশেষ সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে প্রাথমিক স্থিতিশীলতা আনলেও তার স্পিরিট থেকে চলে যায় অনেক দুরে। একথা সত্য যে, রাজনৈতিক দলগুলোর দলাদলিতে এই পদ্ধতি নির্বাচনী পদ্ধতিতে কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরী করলেও বিএনপি’র অপতৎপরতা এর সৌন্দর্য্যকে নষ্ট করেছে শতগুণ। মূলতঃ আওয়ামী আন্দোলনের ফসল হওয়ায় বিএনপি এই পদ্ধতিটিকে যেনতেন ভাবে বিতর্কিত করে নানান কুট কৌশলে। সামরিক তত্ত্বাবধায়কের অনির্দিষ্ট মেয়াদ, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অবিরাম শাসন ইত্যাদির টানাপোড়েনের ভিতর দিয়ে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এই ব্যবস্থাটিকে অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। বর্তমান সরকার আগপিছ না ভেবে সংবিধান সংশোধন করে এই ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দেয়। তার পরের ইতিহাস সবারই জানা।

এখন আসি ভবিষ্যৎ প্রশ্নে। বাংলাদেশের রাজনীতি বাস্তবতায় “তত্ত্বাবধায়ক সরকার’’ পদ্ধতি নির্বাচনের জন্য একটি উপযুক্ত ব্যবস্থা। বিশেষ করে যেখানে বিএনপি এর মত রাজনৈতিক শক্তি ক্রিয়াশীল। এই দলটি সবসময়ই ক্ষমতা হস্তান্তরে অনাগ্রহী একটি দল। ৯১-৯৬ মেয়াদ শেষে এবং ২০০১-২০০৬ ইং সালে নির্বাচন নিয়ে দলটির টালবাহানা সবারই মনে থাকার কথা। পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন করে, মেয়াদ শেষে ক্ষমতা হস্তান্তর করে যে ইতিহাস তৈরী করে সেই ইতিহাসের পথ ধরে বিএনপি’র না হাটাকেই ভবিষ্যত তত্ত্বাবধায়কে প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে। আওয়ামী সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও পরবর্তী সরকার যে পথে হাটবে এমন কোন পূর্ব নজির নেই। বরং ভোট কারচুপির মহোৎসবের জন্য প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় যে নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হবে তা থেকে তত্ত্বাবধায়কই পারে কিছুটা কুল রক্ষা করতে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সূদুর প্রসারী হবেন এমন প্রত্যাশা করছি। তত্ত্বাবধায়কের অতীত কিছুটা কুলষিত হলেও গণতন্ত্রের ভবিষ্যতকে নিস্কন্টক করতে এ ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই।

১৪ thoughts on “তত্ত্বাবধায়ক সরকার : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত ভাবনা

  1. আপনার শেষ কথাটি মানতে পারলাম
    আপনার শেষ কথাটি মানতে পারলাম না ।তত্ত্বাবধায়ক কোন সঠিক সমাধান নয় ।ইহা স্বল্প মেয়াদী অস্থায়ী একটা মাধ্যম ।তাছাড়া এই মাধ্যমটিও প্রভাব মুক্ত নয় ।গণতন্ত্রের মূল দ্বারা বজায় রাখতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই ক্ষমতা হস্তান্তর হোক ।

  2. আপনার সাথে একমত পোষন করেই
    আপনার সাথে একমত পোষন করেই বলছি যে দেশে বিএনপির মত রাজনৈতিক দল থাকে সেই দেশে তত্ত্বাবধায়কের কোন বিকল্প নাই। মাথামোটা লীগাররা সত্য কথাই ঠিক মত বলতে পারেনা, মিথ্যা তো বহুদূর…

  3. অগোছালো লেখা । লেখা পড়তে পড়তে
    অগোছালো লেখা । লেখা পড়তে পড়তে যে কারো ধারণা হবে লেখক তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বলছেন । কিন্তু শেষ প্যারার শেষে এসে আবিস্কার করা গেল লেখক সাহেব উক্ত ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছেন । কিন্তু কারণ হিসেবে যা বললেন আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে তা বোধগম্য নয় । আপনারা কিছু বুঝলেন কিনা জানান ।

    অনেক বিষয় এবং ঘটনার অবতারণা করলে মূল প্রসঙ্গ দূরে সরে যায় বা কম গুরুত্ব পায় । এই লেখাটির ক্ষেত্রে আমার তেমন মনে হল । আরও ভালো লেখার ক্ষমতা ব্রহ্মপুত্র রাখেন বলেই আমার ধারণা । এই ব্লগে ইদানিং আপনাকে কম দেখা যায় । কাহিনী কি ? মান – অভিমান এখনো ভুলতে পারলেন না !!!

  4. প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ কষ্ট
    প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ কষ্ট করে অগোছালো লিখাটা পড়া এবং মন্তব্য করার জন্য।
    আমার মনে হয় কোন বিষয়ে লিখা অগোছালো লাগতে পারে ঘটনা বা বিবরনের ধারাবাহিকতার অভাবে এবং হেডিং এর সাথে না গেলে… আপনার মন্তব্য পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে আবার লিখাটা পড়লাম। অনেক সময় নিজের ভুল নিজের চোখে ধরা না পড়ার বাস্তব কারনে একাধিক বার পড়লাম।
    লিখার ধারাবাহিকতা আমার অগোছালো চোখে পড়লো না। শুরুতে সূচনা,সংবিধান, এদেশের মানুষের দ্বীচারীতা এবং মধ্যাংশে তত্ত্বাবধায়কের অতীত আলোচনা করি। তারপরে আসে বর্তমান অবস্থা এবং সবশেষ প্যরায় ভবিষ্যত বিষয়ে ভাবনা । এই ধারাবাহিকতায় অগোছেলো কিছু নজর এড়ালে জানাবেন দয়া করে।
    তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে অবস্হানের কারন আপনার কাছে বোধগম্য না হওয়াটা আমার বোধগম্য হলোনা। আপনার বুজতে না পারার ২টি কারন থাকতে পারে। ক্ষমতা হস্তান্তরে বিএনপির অনীহা বিষয়ে আমার এই লিখার অতীত অংশ না পড়া বা হৃদয়ঙ্গম না করা।
    ফেসবুক না বলেই হেডিং এর ধারাবাহিকতায় অনেক বিষয় অবতারনা করতে হয় এবং আমি তাই করেছি তবে মূল প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করেই তা করা হয়েছে।
    আমার সম্পর্কে আপনার ধারনা জেনে প্রীত হলাম।
    ব্লগে ইমোকটিনের ব্যবহার কমিয়েছি বাট বার্ডস আই ভিউ চলমান…
    কাহিনী খোজার জন্য ভিন্ন লিঙ্গের আবেগানুভুতিতে জোর দেওয়ার কোন কারন নেই।

  5. শেষ প্যারায় আপনার বক্তব্য আরও
    শেষ প্যারায় আপনার বক্তব্য আরও বিস্তারিত বললে ভালো হতো। মূল বক্তব্যের অবতারণায় ভুমিকাই প্রধান হয়ে গেছে।

  6. আদালতের কথামত যদি আরো দুই
    আদালতের কথামত যদি আরো দুই টার্ম তত্তাবধায়ক রাখাও হয় তবে পরবর্তীতে কিন্তু পরিস্থিতি আজকের অবস্থানেই এসে দাড়াবে।অর্থ্যাৎ আজ শেখ হাসিনা যা চাচ্ছেন তাই করতে হবে । দুই টার্ম পরে যে কাজটি করতে হবে তা এই টার্মে করে নিলে সমস্যা কি?একজনকে তো এই চর্চাটা শুরু করতেই হবে, সে হাসিনা হোক আর খালেদা হোক ।

  7. যখন আমার সরকার, রাষ্ট্র বিষয়ক
    যখন আমার সরকার, রাষ্ট্র বিষয়ক জ্ঞান হওয়া শুরু বা বুঝতে শিখলাম সে সময় জেনে আমি খুব অবাক হলাম যে পৃথিবীর অন্য দেশে তত্ত্বাবধায়ক এর মাধ্যমে নির্বাচন হয় না। আমি মনে মনে বললাম কি বলে এ কেমন ব্যবস্থা তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কি নির্বাচন হয়।!

    বাংলাদেশ এখনও প্রস্তুত না কিন্তু আমাদের এই সাময়িক পাটাতন ব্যবস্থার বাইরে আস্তে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মানসিক অবস্থায় হয়ে গেছে উপরের মত।

  8. বিএনপির মত দল যতদিন এদেশে
    বিএনপির মত দল যতদিন এদেশে থাকবে ততদিন সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক লাগবে। গনতন্ত্রে উত্তরনের দায়িত্ব একা হাসিনার না। বিএনপির অবস্থান পরিস্কার। ক্ষমতার জন্য ২১ আগষ্ট তাদের সিড়ি। আজিজ, ইয়াজুদ্দিনরা চোখ বন্ধ করে জাতীয়তাবাদী মিশন চালায়। সুশীলরা তখন নামরদ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক পারে কিছুটা সেফ গার্ড হতে। হাসিনা অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠ হয় এবং এই কমিটমেন্ট লীগ করে। কিন্তু হাসিনা বা লীগ কি চিরস্থায়ি? পালাবদলে খালেদা ক্ষমতায়িত হলে তার অধীনে কি নির্বাচন করবে লীগ? বিএনপির অধীনে কখনো কোন সময় কি নির্বাচন সুষ্ঠ হইছে? যে বিএনপি তত্ত্বাবধায়করে ইউজ করে ফেলছে তার জন্য এ কি অস্ত্র রেখে যাচ্ছে লীগ! বিশেষ ক্ষমতা আইন কে বানাইছে আর কে ব্যবহার করছে তা ভুইলা গেলে কিচ্ছু বলার নাই

    1. ঠিক উল্টাটাও তো বলা যায়।
      ঠিক উল্টাটাও তো বলা যায়। পরস্পরের প্রতি বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই এই দুই দলের। তাই নির্দলীয় সরকার ছাড়া আসলেই বিকল্প নাই যদি এই দুই দলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে চান।

    2. ঠিক উল্টাটাও তো বলা যায়।
      ঠিক উল্টাটাও তো বলা যায়। পরস্পরের প্রতি বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই এই দুই দলের। তাই নির্দলীয় সরকার ছাড়া আসলেই বিকল্প নাই যদি এই দুই দলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *