একজন যাযাবর অথবা একটা মাতাল রাত

শহর মাঝে ক্লান্ত ধুলোয়
ব্যস্ত দাবার ঘুঁটি ,
খুব চেনা ঐ স্ক্রীণের আলোয়
অসার হুটোপুটি ।
অবসরেই ব্যস্ত সবাই
ভুলেই গেছে ‘ ছুটি’ ,
অবাক হয় , “দেখবো কেনো
ঝলসানো সেই রুটি ?”

জ্যোত্স্না রাত জিনিসটা খুব একটা সুবিধার জিনিস না । খুব কম কিছু জিনিস আছে যেগুলা পাশাপাশি বসে থাকা দুইজন মানুষের মনে পুরোপুরি আলাদা প্রভাব ফেলতে পারে । এই জ্যোত্স্না রাত জিনিসটা এইরকম । একটু আগে একটা কোকের বোতল খালি করতে করতে রাস্তায় হাঁটার সময় বেশ দূরে চলে গেছিলাম । তারপরে আরো কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর একটা জিনিস মাথায় আসলো ।

জ্যোত্স্না একটা নেশা ।

শহর মাঝে ক্লান্ত ধুলোয়
ব্যস্ত দাবার ঘুঁটি ,
খুব চেনা ঐ স্ক্রীণের আলোয়
অসার হুটোপুটি ।
অবসরেই ব্যস্ত সবাই
ভুলেই গেছে ‘ ছুটি’ ,
অবাক হয় , “দেখবো কেনো
ঝলসানো সেই রুটি ?”

জ্যোত্স্না রাত জিনিসটা খুব একটা সুবিধার জিনিস না । খুব কম কিছু জিনিস আছে যেগুলা পাশাপাশি বসে থাকা দুইজন মানুষের মনে পুরোপুরি আলাদা প্রভাব ফেলতে পারে । এই জ্যোত্স্না রাত জিনিসটা এইরকম । একটু আগে একটা কোকের বোতল খালি করতে করতে রাস্তায় হাঁটার সময় বেশ দূরে চলে গেছিলাম । তারপরে আরো কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর একটা জিনিস মাথায় আসলো ।

জ্যোত্স্না একটা নেশা ।
জ্যোত্স্না একটা আধিভৌতিক মোহ । এইকাঁচা রূপা প্রতিটা মানুষেরমনে আলাদা নেশা ধরায় । এই নেশায় বুঁদ হয়ে পাঁচটা নটা করে বেড়ানো ছাপোষা লোকটা
যুদ্ধের অর্ধসমাপ্ত হিসেব খোঁজে । এই নেশায় সারা জীবন অপূর্ণতায়
থাকা গৃহিণী মা হাতড়ে বেড়ান প্রিয় কোন স্মৃতি । এই নেশা খুব
কষ্টে থাকা কারো চোখে মুক্তো ঝড়ায় । কাউকে কাতর করে , কাউকে প্রেমিক করে , কাউকে মাতাল করে ।

আর আমি এক বোতল কোক হাতে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে রাত দশটা বাজার সময় মামারে খুঁজে বের করে দশ টাকার ঝালমুড়ি বানাইতে বলার পর , তার মুখের
অবাক হয়ে যাওয়া হাসিটা দেখি । তার জীবনের কাহিনী শুনতে শুনতে তার বদলাতে থাকা চেহারার ছাপ গুলো দেখি । জীবনের হিসাবে ছেঁড়া ফাটা দুই টাকা পাঁচ টাকার পসরা নিয়ে বসা মানুষটার হিসাবে একটা হাসি যোগ করে দেই ।

আমি জানি , এই রকম কোন এক জ্যোত্স্না রাতে ঐ লোকটার মন যতই খারাপ থাক , তার মনে পড়বে এই যাযাবর টাইপের ছেলেটার কথা । দশ টাকার ঝালমুড়ির সাথে ঐ স্মৃতিটাও দিয়ে দিলাম । টাকার বিনিময়ে ঝালমুড়ি নিলাম , স্মৃতিটার
বদলে নিলাম একটু বিষন্নতা আর একটু অবচেতন হাসি ।

আমার জ্যোত্স্নায় আলাদা কোন অনুভূতি হয় না । জ্যোত্স্নাকে উপলক্ষ করে অনুভূতি সৃষ্টি করতে ভালো লাগে । স্মৃতি সৃষ্টি করতে ভালো লাগে । সেটা চোখের কোণার মুক্তোয় হোক আর ‘ অদ্ভুত একটা …’ এর সাথের হাসিটাই হোক ।

টুক করে কারো জীবনের খুব কাছাকাছি গিয়ে একটা ছোট্ট ছাপ ফেলে আসাতে একটা বিষন্ন আনন্দ আছে । কোন একটা কারণে জ্যোত্স্না আসলেই আমার এই বিষণ্ন আনন্দটা ধরতে ইচ্ছা করে ।

২ thoughts on “একজন যাযাবর অথবা একটা মাতাল রাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *